DACCA To DHAKA

DACCA To DHAKA

303
SHARE
biswa-Rong

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। অতীতে ইংরেজি ভাষায় উধপপধ বানানটি ব্যবহৃত হতো যা ১৯৮২ সালে পরিবর্তিত হয়ে উযধশধ হয়। ঢাকা একটি মেগাসিটি এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শহরও বটে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর। ঢাকা বিশ্বের নবম বৃহত্তম এবং সর্বাপেক্ষা জনবহুল শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঢাকা শহরটি মসজিদের শহর নামেও পরিচিত। এখানে বিশ্বের সেরা মসলিন উৎপাদিত হতো। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

৭০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলটিতে শহর গড়ে ওঠে। ঢাকার নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু  দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, তাই রাজা মন্দিরের নাম রাখেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। আবার অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মুঘল স¤্রাট জাহাঙ্গীর ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবাহ্ বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার,  উড়িষ্যার বেশকিছু অঞ্চল) রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন; তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশস্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্তির রূপ নেয় এবং তা থেকেই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, মুঘল সা¤্রাজ্যের  বেশ কিছু সময় ঢাকা স¤্রাট জাহাঙ্গীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর নামে পরিচিত ছিল।

ঢাকা বাংলাদেশের প্রধানতম বাণিজ্যকেন্দ্র। ঢাকা’র বেশিরভাগ স্থানীয় অধিবাসী আদি ঢাকাইয়া। এখানকার অধিবাসীগণ ঢাকা মহানগরীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অধিকতর রক্ষণশীল। পুরান ঢাকা’র সংস্কৃতির সঙ্গে দিল্লি’র স্থানীয় অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এখানকার সংখ্যাগুরু লোকের ধর্ম ইসলাম। তারা ঢাকা’র অন্য এলাকার মানুষের তুলনায় অধিকতর ধর্মসচেতন। প্রায় প্রতিটি মহল্লায় একটি অথবা দু’টি করে মসজিদ রয়েছে। এর কারণেই ঢাকাকে ‘মসজিদের নগরীও’ বলা হয়ে থাকে। ঢাকাইয়ারা ভোজনরসিক। মুঘল প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে অনেক আগে থেকেই উত্তর ভারতীয় খাবারগুলো এখানে জনপ্রিয়। পুরান ঢাকা’র প্রধান ভাষা ঢাকাইয়া বাংলা। এছাড়া আদি ঢাকাইয়া’রা উর্দুতে কথা বলে থাকে। ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আযহা ও শবে বরাত পুরান ঢাকা’র প্রধান ধর্মীয় উৎসব। পহেলা বৈশাখ এখানে সাড়ম্বরে পালিত হয়। পৌষ সংক্রান্তির দিনে লোকজন ঘুড়ি উৎসবে মেতে ওঠে। প্রতিবছর ১৪ বা ১৫ জানুয়ারি এ উৎসব পালিত হয়। উৎসবটিকে স্থানীয়রা ‘সাকরাইন’ নামে অভিহিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল ধরে তার পার্শ্ববর্তী এলাকা হচ্ছে ঢাকা শহরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, চারুকলা ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার ও জাতীয় জাদুঘর এলাকা সংস্কৃতি-কর্মীদের চর্চা ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর মূল ক্ষেত্র। এর বাইরে বেইলি রোডকে নাটকপাড়া বলা হয় সেখানকার নাট্যমঞ্চগুলোর জন্য। এছাড়াও নবনির্মিত শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল এবং অন্যান্য মঞ্চসমূহ নাট্য ও সংগীত উৎসবে সব সময়ই সাংস্কৃতিক চর্চাকে অব্যাহত ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বছরের বিভিন্ন সময়ে নাট্যোৎসব ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। একুশে ফেব্রæয়ারিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ফেব্রæয়ারি মাসের পুরোটা জুড়ে বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলার আয়োজন করা হয়। বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে পহেলা বৈশাখে রমনা পার্কে ছায়ানটের অনুষ্ঠানসহ সারাদিন গোটা অঞ্চলে সাংস্কৃতিক উৎসব চলে।

এছাড়াও স্থাপত্য শৈলীতেও রয়েছে অনন্য সব স্থাপনা এখানে-আহসান মঞ্জিল (১৯০৪), লালবাগ কেল্লা (১৬৭৮), কার্জন হল (১৯০৪), বড় কাটরা (১৬৪৪-১৬৪৬), ছোট কাটরা (১৬৬৩), ঢাকেশ্বরী মন্দির (১২০০) যা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের ধারক বাহক যুগ যুগ ধরে।

“বিশ^রঙ” দীর্ঘ ২২ বছরের সৃষ্টিশীল ভাবনায় নিরীক্ষামূলক কাজে এ দেশের ঐতিহ্য- শখের হাড়ী, নকশী পাখা, বাংলার পটচিত্র, রিক্সা মোটিফ, বাংলা পঞ্জিকা, ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দিরসহ টেরাকোটা, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী সময়ের ইতিহাস, ঐতিহ্যের ভিন্ন ভিন্ন স্থির চিত্রের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মতো মহামূল্যবান মোটিফকে পোশাকের বর্ণিল অলংকরণ হিসেবে ব্যবহার করে ফ্যাশনকে নিয়ে গিয়েছে সমৃদ্ধির সু-উচ্চতায়।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে এসে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে পোশাকে অলংকৃত মোটিফ হিসেবে। উঅঈঈঅ ঞড় উঐঅকঅ শিরোনামে ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, লালবাগের কেল্লা, ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু করে জলাবদ্ধতা, বুড়িগঙ্গা নদী, ঢাকা শহরের যানজট তুলে ধরা হয়েছে খুব স্বভাবিকভাবে শিল্প শৈলীতে চির চেনা রূপে। ১২০০ খ্রিস্টাব্দের সেই উঅঈঈঅ’র রূপ, মাধুর্য আজ কতটুকু অবশিষ্ট আধুনিক উঐঅকঅ তে, তা যেমন বিশ্লেষণ করা হয়েছে তেমনি জলাবদ্ধতাময় ঢাকার প্রতিও যে আমাদের প্রাণের টান অস্তিÍত্বের টান কতটুকু তাও ফুটে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উপস্থাপিত মোটিফে।

উঅঈঈঅ ঞড় উঐঅকঅ শিরোনামটি সময়ের পরিবর্তনকে প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে বর্তমান ফ্যাশনে। যেখানে আগামী ঢাকাকে সবুজের সমারোহে উপস্থাপিত হয়েছে বারংবার। আমাদের প্রত্যাশা আগামী প্রজন্ম যাতে আমাদের প্রাণের শহর ঢাকাকে বর্তমানের এই দুর্বিষহতা উপেক্ষা করে সবুজ ঢাকায় রূপান্তরের অনুপ্রেরণা পায় আগামী সময়ে।