Home বইমেলা প্রতিদিন মাতৃভাষায় পড়ার দক্ষতা বাড়াতে হবে

মাতৃভাষায় পড়ার দক্ষতা বাড়াতে হবে

SHARE
Boimela-Protidin

মাতৃভাষায় পঠনদক্ষতা মানবসম্পদ তৈরিতে ভ‚মিকা রাখে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়ে। মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে পড়তে না পারলে শিক্ষার ভিত শক্ত হয় না। তাই শিশুর প্রথম শ্রেণি থেকে এই পঠনদক্ষতা বাড়ানোর কাজ শুরু হতে হবে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে।

সম্প্রতি ‘মাতৃভাষায় পঠনদক্ষতা মানসম্মত শিক্ষার ভিত্তি’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইউএসএআইডি ও সেভ দ্য চিলড্রেন এর সহযোগিতায় বৈঠকটির আয়োজন করেছিল দৈনিক প্রথম আলো।

বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের উন্নয়নে মানবসম্পদ সবচেয়ে বড় শক্তি। আর মানবসম্পদ গড়ে তোলার ভিত্তি হল প্রাথমিক শিক্ষা। দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে একমুখি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যায়নি। প্রাথমিকে নানা ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা থাকায় কোথাও ভালো শিক্ষা পাচ্ছে, কোথাও আবার শিক্ষার মান বড়ই হতাশার। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থায় যত দ্রæত অভিন্নতা আনা যাবে ততই মঙ্গল। শিক্ষার্থীদের প্রথম শ্রেণি থেকে পঠনক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, পঠনক্ষমতা বাড়াতে পাঠ্যক্রমকে আকর্ষনীয় করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মাতৃভাষায় পঠনক্ষমতা বাড়াতে শব্দের ভাÐার বৃদ্ধি করা দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক জীনাত ইমতিয়াজ আলী। তিনি বলেন, আমরা যা পড়ি তা আমাদের স্মৃতি থেকে। তাই আমাদের মাতৃভাষায় পঠনক্ষমতা অর্জন করতে হলে শব্দ ভাÐার বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা দ্রæত শিখবেÑ এটি নিয়ে গবেষণা করতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক তাহমিনা আক্তার। তিনি বলেন, বর্ণানুক্রমিক না উচ্চারণÑ কোন পদ্ধতিতে শিশুদের ভাষা শিক্ষা শুরু হবে, সেটি বিবেচনায় আনা জরুরি। ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একজন শিক্ষক হলে প্রত্যেকের জন্য ভাষার পঠন দক্ষতায় আলাদা যতœ নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

মাতৃভাষায় মানসম্মত শিক্ষার ভিত্তি গড়তে হলে ভালো গবেষণা জরুরি বলে মনে করেন ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামের হেড অব পার্টনারশীপ অ্যান্ড প্রজেক্ট মো: মনোয়ার হোসেন খন্দকার। তিনি বলেন, পঠনদক্ষতা বাড়াতে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবেÑ এসব বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে হলে শিক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।