শারদ সাজে বিশ্বরঙ-এর চার দিদি

শারদ সাজে বিশ্বরঙ-এর চার দিদি

297
SHARE
Rong

সৈয়দ ইকবাল: বৃষ্টি, নিশাত, লগ্ন এবং লাবণ্য- এরা চারজনই এখন মিডিয়ায় আলোচিত নাম। তবে ক‘দিন আগেও তাদেরকে মিডিয়ায় সেভাবে কেউ চিনতো না। আর এখন তারা মোটামুটি পরিচিত। এর অবশ্য কারণও রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘শারদ সাজে বিশ্বরঙ-এর দিদি’ শিরোনামের প্রতিযোগিতায় এই চারজন বিজয়ী হন। আর তাই তো হাজার হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই চারজন শারদীয় দুর্গা পূজার এমন আয়োজনে তারকা বনে গেছেন। সম্প্রতি প্রতিযোগিতার মিডিয়া পার্টনার আনন্দ আলোর কার্যালয়ে আসেন চার বিজয়ী।

২০১০, ২০১১, ২০১৪ তিনবছর ধরে। রঙ পরিবার এই্ আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বরঙ এবার বেশ জমকালো আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে। যেখানে বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার তথা জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহার তত্ত¡াবধানে এ বছর শারদ সাজে বিশ্বরঙ-এর দিদির মুকুট ছিনিয়ে নেন সারওয়াত আজাদ বৃষ্টি। আর প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার্স আপ হন যৌথভাবে লগ্ন রানী দাস ও নিশাত প্রিয়ম এবং দ্বিতীয় রানার্স আপ হন লাবণ্য পূজা।

আনন্দ আলো কার্য্যলয়ে আড্ডার শুরুতে এই চারজনের কাছে বিশ্বরঙ-এর দিদি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। কে কীভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন সেই কথা প্রথমে শেয়ার করেন। বৃষ্টি বলেন, ‘অনলাইনের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার বিষয়ে জানতে পারি। অনলাইনে ফরম পূরণ করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। তবে বিজয়ী হবো এটা আমি চিন্তাও করিনি। ভাবতেই ভালো লাগছে বিশ্বরঙ-এর মতো এত বড় একটি ফ্যাশন হাউজ আয়োজিত এমন প্রতিযোগিতায় আমি বিজয়ী হয়েছি। এটা সত্যিই অনেক বড় পাওয়া।’

প্রতিযোগিতার প্রথম রানার্স আপ নিশাত প্রিয়ম জানান, ফেসবুকে বিশ্বরঙ-এর ফ্যান ক্লাবে এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং এতে অংশ নেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার শীর্ষ পর্যায়ে চলে আসবেন এটা ভাবতেও পারেননি তিনি। তাই তো প্রথম রানার্স আপ হতে পেরে খুব ভালো লাগছে তার। লগ্ন রানী দাস দুজনের কথা বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। এবার ময়মনসিংহ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া লগ্ন নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, চ্যানেল আই-এর টিভি পর্দায় তিনি প্রথম এই প্রতিযোগিতার সম্পর্কে জানেন। তারপর রেজিস্ট্রেশন করে প্রতিযোগিতার নানা ধাপ পেরিয়ে সেরা চারের মধ্যে স্থান পান। লাবণ্য পূজা বলেন,‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমি এই প্রতিযোগিতার কথা জানতে পারি। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার্স আপ হতে পেরে আমি সত্যিই নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি।’

বৃষ্টি জানান মূলত নাচের মেয়ে। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে ফার্স্ট ডিভিশন সার্টিফিকেট পেয়ে পাস করেছেন। বর্তমানে তিনি আনিসুল ইসলাম হীরুর কাছে ভরতনাট্যম শিখছেন। বৃষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। মিডিয়ায় ভালো কিছু কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার বৃষ্টির প্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। তার বাবা আবুল কালাম আজাদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং মা শিরিয়া খানম গৃহিণী।

প্রতিযোগিতার প্রথম রানার্স আপ নিশাত প্রিয়ম বর্তমানে টিভি মিডিয়ার নানান শাখায় কাজ করছেন। বিজ্ঞাপন, ফটোশ্যুটসহ নাটকেও অভিনয় করছেন। ঢাকা ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ করা নিশাত ভবিষ্যতে চাকরির পাশাপাশি মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। পথশিশুসহ বৃদ্ধাশ্রম নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা আছে তার। পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার নিশাতের প্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তার বাবা মৃত হুমায়ূন আলী পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। আর মা হামিদা খাতুন গৃহিণী।

যৌথভাবে প্রথম রানার্স আপ হওয়া লগ্ন রানী দাস ময়মনসিংহ থাকেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি গান নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ময়মনসিংহে জাতীয় পর্যায়ে দেশাত্মবোধক গানে তিনি বিজয়ীও হয়েছেন। পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার লগ্ন ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছেন। তার প্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। লগ্নর বাবা রঞ্জন দাস একজন ব্যবসায়ী এবং মা শিল্পী রানী দাস গৃহিণী।

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার্স আপ লাবণ্য পূজা সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করছেন। তাই তো ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হলেও শিল্প সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে তার অগাধ ভালোবাসা ও টান। তিনি ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি তালিম নিয়েছেন। গানের প্রতিও রয়েছে তার দুর্বলতা। ছায়ানট থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে সমাপনী সম্পন্ন করেছেন লাবণ্য। গান নিয়ে জাতীয় পর্যায়েও রয়েছে তার অর্জন। রেডিও টেলিভিশনে তিনি নিয়মিত গানের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করছেন। লাবণ্য ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হতে চান। পাশাপাশি মিডিয়ায় কাজ করতে চান। পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার লাবণ্যর প্রিয় অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম। তার বাবা গোপীনাথ দাস একজন ব্যাংকার আর মা কল্যাণী দাস শিক্ষক।

উল্লেখ্য, শারদ সাজে বিশ্বরঙের দিদি প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফাইনাল বিচারকের আসন গ্রহণ করেন বিউটি এক্সপার্ট  কানিজ আলমাস খান, হেয়ার স্টাইলিস্ট কাজী কামরুল ইসলাম, চিত্রনায়ক আরেফিন শুভ, অভিনেত্রী শম্পা রেজা, নিউজ২৪ এর হেড অফ কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সামিয়া রহমান এবং পারসোনার পরিচালক ও ক্যানভাস ম্যাগাজিন এর এ্যাসোসিয়েট এডিটর হোসনে নূজহাত খান। পুরো আয়োজনের মেকওভার পার্টনার ছিল পারসোনা। মিডিয়া পার্টনার ছিল আনন্দ আলো, মাছরাঙা টিভি, ৮৯.২ এফএম এবিসি রেডিও, বাংলা ট্রিবিউন। জুয়েলারী পার্টনার-ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লি:, এ্যারাবিয়ানস ও দি নিউ হ্যাভেন জুয়েলার্স। গ্রæমিং পার্টনার ছিল কিউবিক। সিলেকশন ও গ্রæমিং রাউন্ড-এর সার্বিক সহযোগিতায় ছিল যমুনা ফিউচার পার্ক।