কষ্ট করে পাওয়া নিজের জায়গা ছেড়ে দিব না-বুবলী

কষ্ট করে পাওয়া নিজের জায়গা ছেড়ে দিব না-বুবলী

31
0
SHARE
Bubli-(14)

ঢাকাই ছবির আলোচিত নায়িকা তিনি। চলচ্চিত্রে তার আগমন একটু অন্যরকমভাবেই হয়েছে। সংবাদ পাঠিকা থেকে সরাসরি মেইনস্ট্রিম সিনেমার নায়িকা। তাও আবার ঢাকাই ছবির কিং খান খ্যাত নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে। ঈর্ষণীয় ব্যাপার। সে যাই হোক। শুধু কী ছবি করেই শেষ! ঈদ মানেই এখন তার নতুন সিনেমা মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঠক, বলছি এই সময়ের দেশীয় সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত ও গø্যামার নায়িকা বুবলীর কথা। গত বছর ঈদুল আজহায় তার দুটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল আর এবারও আসন্ন কোরবানি ঈদে তার দুটি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। তাই তো ঢাকাই সিনেমা বুবলীকে এখন জোড়া সিনেমার নায়িকাও বলছে। গত বছর কোরবানি ঈদে বুবলী অভিনীত মুক্তি পেয়েছিল ‘বসগিরি’ ও ‘শ্যুটার’ নামে সিনেমা। আর এবার ঈদে ‘রংবাজ’ ও ‘অহংকার’ নামে দুটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে বুবলী অভিনীত এই চারটি সিনেমারই নায়ক ঢাকাই ছবির নাম্বার ওয়ান নায়ক শাকিব খান। তাই তো বুবলী মনে মনে বেশ খুশীও বটে। কথায় কথায় তো বলেই ফেললেন- ‘শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমা করাটা এবং সেটা ঈদে মুক্তি পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।’ আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যায় বুবলী কথা বলেছেন বাংলা সিনেমার নানান দিক নিয়ে। কথা বলেছেন নিজের ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও। বর্ষা ¯œাত এক বিকেলে আনন্দ আলো কার্যালয়ে বসে বলেছেন সে সব কথা। তারই চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল।

আনন্দ আলো: গত ঈদুল আজহার মতো এবার ঈদেও আপনার অভিনীত দুটি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। অনুভূতি জানতে চাই-
বুবলী: এটা সত্যিই অসাধারণ এক অনুভূতি। আমার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল ঈদে ছবি মুক্তি পাওয়ার মধ্যদিয়ে এবং একসঙ্গে দুটি সিনেমা। আর সেই ধারাবাহিকতা এবার ঈদেও বজায় থাকছে। তাই তো নিজের ভেতর কেমন জানি একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। পাশাপাশি টেনশনও কাজ করছে। কারণ ‘রংবাজ’ এবং ‘অহংকার’ দুটি সিনেমাই আমার অভিনীত সিনেমা। এখন দর্শক কোনটা বেশি নিবেন এবং কোনটা কম গ্রহণ করবেন সেটা নিয়ে একপ্রকার ¯œায়ু চাপ তো আছেই। তবে দর্শকদের কাছে আমার এক প্রকার ভালোবাসা আছেই। তারা আমাকে হতাশ করবে না বলে বিশ্বাস। তারা আমাকে গত ঈদেও হতাশ করেনি। এবার করবেন না আশা রাখি। কেননা আমি খুব আন্তরিকভাবে এবং কাজটাকে ভালোবেসে শুধু দর্শকদের জন্যই অভিনয় করে যাচ্ছি। নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে এই দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছি। তাই আশা করছি অন্যরকম এক বুবলীকে এবার ঈদে দুটি সিনেমায় দর্শক দেখতে পাবেন।
আনন্দ আলো: কখনও কি ভেবেছিলেন সিনেমায় ব্যস্ত তারকা হবেন?
বুবলী: এমন ভাবনা ছিল না। তবে সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছি অনেক। আমি যখন সংবাদ উপস্থাপনা করছিলাম তখন প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ নাটক-টেলিফিল্ম এবং সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আসলেই কীভাবে যেন পরবর্তীতে ‘বসগিরি’ সিনেমায় কাজ করার মধ্যদিয়ে আমার সিনেমার যাত্রাটা হয়ে গেল।
আনন্দ আলো: সিনেমায় কাজ করার সেই শুরুর গল্পটা কেমন ছিল?
বুবলী: এটা বসগিরি সিনেমা শুরু হওয়ার আগের কথা। হঠাৎ করে একদিন আমার মোবাইলে একটা ফোন আসে। ফোনটা করেছিলেন শাকিব খান নিজেই। আমাকে ফোন করে তিনি বলেছিলেন তার প্রযোজনা হাউজ থেকে একটি সিনেমা হবে সেটাতে আমাকে নায়িকা হিসেবে কাজ করতে বলছেন। এর আগে কখনোই উনার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। এমনকি পরিচয়ও ছিল না। যে মুহূর্তে উনি আমাকে ফোন করেছিলেন তার নাকি টিভিতে আমার খবর পড়া দেখছিলেন। এটা অবশ্য পরে জেনেছিলাম। আমাকে ফোনে বলেছিলেন- আমার মতোই ফেস তাদের সিনেমার জন্য দরকার। আগে গল্প এবং অ্যারেজমেন্ট সব শুনে যদি আমার ভালো লাগে তাহলে যেন রাজি হই, না হয় বাদ। আমি তো প্রথমেই না করেছি। পরবর্তীতে আমার সঙ্গে ছবিটির পরিচালক শামীম আহমেদ রনি যোগাযোগ শুরু করলেন। উনি আমাকে ছবির গল্পসহ নানান বিষয় শেয়ার করতে থাকেন। সেটা ছিল অন্য একটি ছবি। ‘বসগিরি’ না। পরিচালক আমাকে জানান- প্রথম যে ছবি ‘পেয়ারি’ নিয়ে কথা হয়েছিল সেটা কয়েকদিন পরে করা হবে। আগে ‘বসগিরি’ সিনেমাটি করবে। তারপর আমাকে ‘বসগিরি’র কাহিনি, অ্যারেজমেন্টসহ অন্যান্য বিষয়গুলো শোনাতে থাকেন। আমার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে হ্যাঁ অথবা না জানাতে বলেন। আমি তো জানি আমার পরিবার থেকে এই বিষয়ে একদমই সাপোর্ট পাব না। তারপরও আমি আব্বা-আম্মার সঙ্গে কথা বলি। তারা রাজি হলেন না। কিন্তু আমি ভেতরে-ভেতরে ইন্টারেস্ট ফিল করতে থাকলাম গল্প এবং সিনেমার অন্যান্য অ্যারেজমেন্ট-এর কথা শুনে। আর ছবির প্রযোজক টপি ভাই থেকে শুরু করে উনার স্ত্রী রুমী ভাবী পর্যন্ত আমাকে ফোন করলেন। উনারা আমাকে বললেন- ভালো ফ্যামিলির মেয়েরা যদি ইন্ডাস্ট্রিতে না আসে তাহলে জায়গাটা পরিবর্তন হবে কীভাবে? সবার কথায় আমি মোটামুটি কনভিনসড হলাম। কিন্তু আমার ফ্যামিলি তো না, না-ই।
এরপর একদিন ছবির প্রযোজক, উনার স্ত্রী রুমী ভাবী, পরিচালক রনি ভাই বাসায় এলেন, আম্মা-আব্বুকে স্টোরি এবং কাজের পরিবেশের কথা বললেন। কারণ ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে এমনিতেই তো অনেক কথা প্রচলিত আছে। তারা তখন এটা পর্যন্ত বলেছেন যে, ছবির শুটিংয়ে যাওয়ার পর যদি আমার কোনো কিছু ভালো না লাগে তাহলে যেন মাঝপথে চলে আসি। তারপর আমার পরিবার খেয়াল করলো যে, টিমটা ভালো এবং ভালো কিছুই হবে। আর আমিও চাইছিলাম ভিন্ন কিছু একটা করতে। সবমিলিয়ে শুরু হলো ‘বসগিরি’ সিনেমা দিয়ে আমার ঢাকাই সিনেমার যাত্রা।
আনন্দ আলো: এখন জগৎটা কেমন দেখছেন?
Bubli-(3)বুবলী: সহজভাবে দেখলে সহজ আর জটিলভাবে দেখলে আসলেই জটিল। তবে নিজে ভালো তো সবই ভালো- একটা কথা আছে না বিষয়টা সেরকমই। শুরুর দিকে অনেককিছুতে আমার অনেক সমস্যা হয়েছিল, তবে এখন আর হয় না। মানিয়ে নিয়েছি। আমি যে পরিবেশে কাজ করি সেটা নিয়ে বললে বলবো- এক কথায় অসাধারণ। ভালো মন্দ তো সব জায়গায়ই আছে। কিন্তু মানিয়ে নেয়া কিংবা হ্যান্ডেল করাটা হলো বিষয়। প্রত্যেকটা জায়গার কিছু ভাষা থাকে। সেই ভাষা বুঝে কাজ করলেই হয়।
আনন্দ আলো: আপনি সিনেমা জীবনের শুরুতেই শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, এ ব্যাপারে অনুভূতি বলবেন?
বুবলী: এটা তো অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারে বিশাল এক পাওয়া। যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন- এই মুহূর্তে বাংলা সিনেমায় শাকিব খানের কোনো বিকল্প নেই। তার সঙ্গে সিনেমায় অভিষেক হওয়া এবং একসঙ্গে দুটি সিনেমা রিলিজ হওয়া- এটা তো ভাগ্যের ব্যাপারই বলতে হবে। আর গত বছর কোরবানি ঈদে আমার দুটি সিনেমা রিলিজ পাওয়া আবার এই ঈদেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকা- সত্যিই অন্যরকম অনুভ‚তি কাজ করছে। তবে সবকিছুর আগে মহান সৃষ্টিকর্তা এবং দর্শকদের ভালোবাসার কথাই আমি বলবো।
আনন্দ আলো: সহকর্মী হিসেবে শাকিব খান কেমন মানুষ?
বুবলী: অনেক ভালো একজন মানুষ। উনি এত সহযোগিতা করেন অভিনয়ে যা বলার মতো না। উনি সেটে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ইউনিট বদলে যায়। পরিচালক থেকে শুরু করে প্রোডাকশন পর্যন্ত সবার সঙ্গে উনি বেশ সহযোগী মনোভাব নিয়ে কাজ করেন। আর আমার অনেক সময় অনেক দৃশ্যের ডায়লগ ডেলিভারি দেয়া, মুভমেন্ট কিংবা নাচের সময় নানাভাবে হেল্প তিনি করেছেন। সত্যি কথা বলতে কী- আমি বেশ সহযোগিতা উনার কাছে পাচ্ছি।
আনন্দ আলো: কিছুদিন আগে আপনাকে নিয়ে শাকিব খানের পারিবারিক জীবনে নানান কথা শোনা গিয়েছে, এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য বলবেন-
বুবলী: দেখুন, আমি সিনেমায় কাজ করছি এবং আমার যোগ্যতা দিনে দিনে মানুষের সামনে উঠে আছে- তাই আমাকে যাতে সরিয়ে দেয়া যায় সে জন্য নানান ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে। এজন্য আমাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে অনেকেই অনেক ধরনের ফায়দা নিতে চাইছে। কিন্তু আমি আসলে কারো কথায় কিংবা কারো মানসিক চাপে এত কষ্ট করে পাওয়া নিজের জায়গাটা ছেড়ে দিব না। আমি এই মুহূর্তে সিনেমা থেকে পিছপা হওয়া মানে তাদেরকে সুযোগ করে দেয়া এবং তাদেরই জয় হওয়া। তাই আমি আমার কাজটা করে যাব। আমার বিশ্বাস দর্শক এবং শুভাকাক্সিক্ষরা যারা আছেন তারা অবশ্যই আমাকে বুঝবে। তাদের ভালোবাসার জন্যই আমি কাজ করছি। আর একজন মানুষ কখনোই সবার প্রিয় হয় না, হতে পারে না। তাই কে কী বললো কিংবা আমাকে নিয়ে কারা কি ধরনের কথা প্রচার করলো সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। শুরুর দিকে এসব কথা এবং এ ধরনের মন্তব্য শুনে বেশ হতাশ হতাম ও কষ্ট পেতাম। এখন এসব কানেই তুলি না। নিজের কাজটা করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস ভালো কাজ করলে এবং দর্শকদের ভালোবাসা থাকলে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। আর সাংবাদিক বন্ধুদের কথা না বললেই নয়, তারা যেন সবসময় সত্যি কথাটা তুলে ধরেন এবং তা দর্শকদের সামনে তাদের লেখনী দিয়ে প্রকাশ করেন। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ সাংবাদিকদের প্রতি। তাদের ভালোবাসা আছে বলেই আমি আজকের বুবলী। আর দর্শকরা তো আছেনই। কারণ তারা গ্রহণ করেছেন বলেই তো আমি কাজ করতে পারছি।
আনন্দ আলো: একটা মাধ্যম থেকে আরেকটি মাধ্যমে চলে আসা- আপনার প্রস্তুতির জায়গাটা কেমন ছিল?
বুবলী: সংবাদ নিয়ে যখন কাজ করেছি তখন তা নিয়ে এক রকম প্রস্তুতি ছিল। নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়, আরো কীভাবে সুন্দরভাবে সংবাদ পড়তে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি…। তবে সিনেমার ক্ষেত্রে একেবারেই অন্যরকম প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। আমার খুব একটা ছবি দেখা হতো না। তবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথাবার্তা ফাইনাল হওয়ার পর এই আমি অনেকখানি বদলে যেতে থাকলাম। প্রচুর ছবি দেখা শুরু করলাম, ইনফ্যাক্ট শাকিব খানের আগে ছবি দেখা না হলেও পরবর্তীতে দেখেছি। জিমে ভর্তি হলাম, খাওয়া-দাওয়ায় পরিবর্তন আনলাম। ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা সবকিছু রুটিন মাফিক চলছে এখনো। আমি যখন যে জিনিসটা করি সেটা খুব মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করি। এমনকি শতভাগ এফোর্ট দেয়ার চেষ্টা করি। আর এখন সিনেমার ভাষাটা বুঝে ফেলার চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়- একটি সিনেমায় নিজেকে একভাবে উপস্থাপন করার পর আরেকটি সিনেমায় কীভাবে নিজেকে বদলে ফেলা যায় সেই বিষয়েও কাজ করছি।
আনন্দ আলো: এখন তো যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
Shakib-Bubli-1বুবলী: আমি যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে নই। তবে আমি অনিয়ম কিংবা দেশের সিনেমার ক্ষতি হোক এমন বিষয়ের পক্ষেও নই। আমার কথা হচ্ছে- সব ধরনের নিয়ম ঠিক রেখে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা হলে এবং আমাদের সিনেমার লাভ হলে- এমন কাজ করা যেতেই পারে। কিন্তু যেই সিনেমা আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের ক্ষতি করবে আমি সেটার পক্ষে নই। তাই সবকিছু ঠিক রেখে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা হলে অবশ্যই আমি এর পক্ষে থাকবো।
আনন্দ আলো: ছবি মুক্তি পাওয়ার আগের বুবলী আর এখনকার বুবলীর মধ্যে পার্থক্য চোখে পড়ে?
বুবলী: আমার নিজের কাছে কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না। আগে যেমনি মিডিয়ায় কাজ করেছি এখনো তাই করছি। তবে মাধ্যমটা পরিবর্তন হয়েছে। আগে আমাকে মানুষ খবর পড়তে দেখতেন আর এখন আমারই ছবি দেখে নানান কমেন্টস করেন। আর পরিচিত বন্ধু-বান্ধব ও কলিগরা আমার ছবি দেখে ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে নানান মন্তব্য করছেন। ভালোই লাগে। এই পার্থক্যগুলো পাই। তবে ব্যক্তিগত বুবলী আগে যেমন ছিল এখনো তেমনটি আছে এবং সারাজীবনই তা থাকতে চাই। ব্যস্ততার কারণে অনেক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয় না কিংবা কথা হয় না। এখানে কিছু কথা না বললেই নয় তা হলো- আগে যেমন আমাকে কেউ ফোন দিয়ে না পেলে তেমন কোনো অভিযোগ থাকতো না। হয়তো আমি তখন খবর পড়ছিলাম কিংবা সংবাদ রিলেটেড কোনো কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আর এখন যদি কেউ আমাকে ফোন করে না পায় তখন সবাই বলে- ‘নায়িকা হয়ে যাওয়ায় কারো ফোন ধরি না’। আসলে বিষয়টা কিন্তু এমন না। কেউ যখন আমাকে এটার জন্য ভুল বোঝে তখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে। বরং এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ফোন রিসিভ করি, ম্যাসেঞ্জারে রিপ্লাই বেশি দেই। কারণ কেউ যেন বলতে না পারে নায়িকা হয়ে যাওয়ার পর আমি বদলে গেছি। আমি ঠিক আগের বুবলীই সবার কাছে থাকতে চাই। আর আগে আমাকে যারাই চিনতো সংবাদ পাঠিকা হিসেবে চিনতেন। আর এখন কেউ দেখলেই বলে- ‘বুবলী যাচ্ছে।’ মানে আমি তাদের কাছে এখন নায়িকা বুবলী। এই পার্থক্যটা আমার বেশ ভালো লাগে।
আনন্দ আলো: টিভি নাটক দেখেন? আমাদের দেশে টিভি নাটকের অবস্থা আপনার কাছে কেমন মনে হয়?
বুবলী: বাসায় থাকলে আমি টিভি দেখি। প্রচুর মুভি দেখি এবং টিভিতে আমাদের নাটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখা হয়। আর আমি যখন সংবাদ পড়তাম তখন কিন্তু টিভি মিডিয়ায়ই কাজ করেছি। সেইদিক থেকে অবশ্যই আমি টিভি দেখতে পছন্দ করি। আমাদের টিভি নাটক তো আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। কী সুন্দর সুন্দর গল্প নিয়ে কাজ করছেন নির্মাতারা। শুধু তাই নয় তাদের নির্মাণও অসাধারণ এবং ক্রিয়েটিভ।
আনন্দ আলো: বন্ধুত্ব আপনার কাছে কী? বন্ধুত্ব টিকে থাকে কিসে?
বুবলী: বিশ্বাস, আস্থা এবং কমিটমেন্টের নামই বন্ধুত্ব। বন্ধু হবে খোলা বইয়ের মতো। যখন ইচ্ছে পড়লাম আর যখন ইচ্ছে বন্ধ করে রাখলাম। যার কাছে ন্যায়-অন্যায় এবং সকল আবদার করা যায় সেই আসল বন্ধু। আর আসল বন্ধু অবশ্যই একজন আরেকজনকে বুঝবে। বন্ধুত্ব টিকে থাকার মূলমন্ত্র হলো বিশ্বাস। আস্থার জায়গা যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বন্ধুত্বও শেষ হয়ে যাবে।
আনন্দ আলো: পরিবার আপনার কাছে কী? পরিবার টিকে থাকার মূলমন্ত্র কী?
বুবলী: আপন মানুষদের সঙ্গে সুখ-দু:খ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকার নামই তো পরিবার। একটি পরিবারে একদিকে যেমনি কষ্ট থাকে অন্যদিকে তেমনি সুখও থাকে। পরিবারের প্রতিটি মানুষের কিছু না কিছু দায়িত্ব থাকে। সেই দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করলেই আসলে একটি পরিবার সুন্দরভাবে সমাজে মূল্যবোধ নিয়ে টিকে থাকে।
আনন্দ আলো: প্রেম আপনার কাছে কী?
বুবলী: এটা আসলে দিল্লিকা লাড্ডু (হাসি)। দুজন মানুষ দুজন মানুষের প্রতি যতœশীল, দায়িত্বশীল ও কমিটমেন্টের জায়গা থেকে যখন অনুভূতির মূল্যায়নটা হয় তখনই আসলে মনে প্রেম জাগে। আর যার জন্য প্রেম জাগে তাকে ভালোবাসাই তখন একমাত্র কাজ। সেই ভালোবাসাটা যে সবসময় শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বাবা-মার প্রতিও কিন্তু আমাদের একপ্রকার ভালোবাসা আছে। তাদের প্রতি প্রেমও আছে।
আনন্দ আলো: ফেসবুক ব্যবহার করেন? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
বুবলী: আমি ফেসবুক নিয়ে সত্যিই খুব বিরক্ত। আমার নামে এত এত আইডি আছে যে আমি মাঝে মাঝে নিজেই কনফিউজড হয়ে যাই যে আমার আসল আইডি কোনটা। কয়েকদিন আগে আমার নামে প্রায় ত্রিশটা আইডি পাওয়া গেছে। এটা সত্যিই বিরক্তিকর। এই বিষয়ে আসলে একটা উদ্যোগ নেয়া উচিত। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এমন ব্যবস্থা নেয়া উচিত যেন একটি মানুষ কখনোই একটির বেশি আইডি খুলতে না পারে। একবার তো শুনেছিলাম ন্যাশনাল আইডির নাম্বার ছাড়া ফেসবুক একাউন্ট খোলা যাবে না। সেটা হলে আসলেই ভালো হতো। এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হলো ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইউটিউবসহ আরো সকল যোগাযোগ মাধ্যম। আমাদের জীবনকে সত্যিই এগুলো সহজ করেছে। তাই প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো আমরা যদি নিতে না পারি তাহলে কিন্তু পৃথিবী থেকে আমরা পিছিয়ে পড়বো।
আনন্দ আলো: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলবেন-
বুবলী: জীবনে খুব পরিকল্পনা করে আমি কাজ করি না। ভালো লাগা এবং মনের সায় থেকেই কাজ করি। এই মুহূর্তে আমার আসলে সিনেমা নিয়েই ধ্যান-জ্ঞান। আমি এখন পর্যন্ত যা করেছি ভালোই হয়েছে। তবে চলচ্চিত্র নিয়ে আমার এই মুহূর্তে পরিকল্পনা হচ্ছে- দর্শকদের জন্য আরো কাজ করতে চাই। সংখ্যাতত্তে¡ আমি বিশ্বাসী নই। আমি কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী। দর্শকদের ভালোবাসাই আমার একমাত্র পাওয়া এবং চাওয়া। আমি তাদের জন্যই কাজ করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
ছবি: সাফাওয়াত খান সাফু