আবেগ নয় পেশাদারিত্ব জরুরি

আবেগ নয় পেশাদারিত্ব জরুরি

114
0
SHARE
Liakot-Ali-Lucky

-লিয়াকত আলী লাকী

মহাপরিচালক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, চেয়ারম্যান গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশন, দল প্রধান লোকনাট্য দল

তিনি হতে পারতেন একজন ডাক সাইটে রাজনৈতিক নেতা, এমপি অথবা মন্ত্রী। কিন্তু তিনি হয়েছেন একজন সংস্কৃতিকর্মী, নাট্য সংগঠক। এক্ষেত্রে একটা কমিটমেন্ট কাজ করেছে। ১৯৮১ সাল। আজকের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে তাকে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন একটা নাটকের দল তৈরি কর। রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনটাও জরুরি। প্রিয় নেত্রীর অনুপ্রেরণায় গঠিত হলো মঞ্চ নাটকের সংগঠন- লোক নাট্যদল। সেই থেকে একটানা ৩৬ বছর নাটকের সঙ্গে, সাংস্কৃতিক কর্মকাÐের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন তিনি। তবে শিশু বয়স থেকেই তিনি সংস্কৃতিক কর্মকাÐের সঙ্গে জড়িত। সেই হিসেবে তিনি প্রায় ৫৩ বছর ধরে সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছেন।

তাঁর নাম নিয়াকত আলী লাকী। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে সারাদেশের মঞ্চ কর্মীদের কাছে তার একটাই পরিচয় প্রিয় লাকী ভাই। শুধু দেশে নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিশেষ করে মঞ্চ নাটকের ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে নিরলস কাজ করে চলেছেন। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লিয়াকত আলী লাকীর ভ‚মিকা ছিল বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। শুধু ৯০ এর গণআন্দোলন নয় দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে লোকনাট্য দলকে রেখেছেন সক্রিয়। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎÑ আমরা অনেকে একথা ¯েøাগানের মতো করে বলি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে অনেকে তা পালন করি না। বিশিষ্ট নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। লোক নাট্যদলের সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন পিপলস লিটল থিয়েটার ও পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশনকে। স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ক্লাসরুম থিয়েটারের প্রচলন করেছেন। এর ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকশিত হবার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রেরণা সঞ্চারিত হচ্ছে।

লোকনাট্যদলের তিনযুগ পালন উপলক্ষে সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন হলে ৪ দিন ব্যাপি নাট্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসব শুরুর আগের দিন তেজগাঁওস্থ চ্যানেল আই ভবনে আনন্দ আলো কার্যালয়ে এসেছিলেন প্রিয় নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। লোকনাট্য দলের তিনযুগ এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ- পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর।

আনন্দ আলো: কেমন আছেন?

লিয়াকত আলী লাকী: ভালো… খুব ভালো।

আনন্দ আলো: লোক নাট্যদলের তিনযুগ পার হলো। আপনার অনুভ‚তি জানতে চাই।

লিয়াকত আলী লাকী: অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। আজ থেকে ৩৬ বছর আগে ধানমন্ডিতে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে আমাদের এই নাটকের দলটি গঠিত হয়েছিল। সেদিন আজকের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের বলেছিলেনÑ একটা নাটকের দল গঠন করো। রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনও জরুরি। প্রিয় নেত্রী কথা অনুযায়ী ঐ যে নাটকের সঙ্গে যুক্ত হলাম এখনও নাটকের সঙ্গেই আছি। তবে আমার সাংস্কৃতিক কর্মকাÐ শুরু সেই শিশু বয়সেই।

আনন্দ আলো: তিনযুগ অর্থাৎ ৩৬ বছরে লোকনাট্য দলের প্রযোজনা সংখ্যা কত?

লিয়াকত আলী লাকী: জীবন ঘনিষ্ঠ ও নিরীক্ষা ধর্মী নাটক মঞ্চায়নের অঙ্গীকারে বিশ্বস্থ থেকে লোকনাট্য দল গত ৩৬ বছরে ৬০টি নাটক প্রযোজনা করেছে। এর মধ্যে মঞ্চ নাটকের সংখ্যা ৫২, ৭টি পথ নাটক ও ১টি সংগীতাল্লেখ্য রয়েছে। লোকনাট্য দল মূলতঃ বাংলাদেশের নাটককে সামাজিক ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলায় নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও লোকনাট্য দলের রয়েছে তৃপ্ত পদচারণা। লোকনাট্য দল ও পিপলস লিটল থিয়েটার নাটক নিয়ে ভ্রমণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মোনাকো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া কিউবা, তুরস্ক, লাওস, নেপাল, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

আনন্দ আলো: ৩৬ বছরে ৬০টি নাটক মঞ্চে এনেছে লোকনাট্য দল। এর মধ্যে পদ্মা নদীর মাঝি, সোনাই মাধব এবং বিশেষ করে কঞ্জুস নাটকটি ব্যাপক ভাবে আলোচিত। এব্যাপারে কিছু বলুন।

লিয়াকত আলী লাকী: আপনি ঠিকই বলেছেন। কঞ্জুস নাটকটির ব্যাপারে আমার নিজের মধ্যেও মাঝে মাঝে বিস্ময় খেলা করে। এক নাগারে ৩০ বছর ধরে চলছে নাটকটি। অনেকবার ভেবেছি নাটকটি বন্ধ করে দেই। আর মঞ্চস্থ করবো না। কিন্তু দর্শকদের আগ্রহের কারণে তা পারি না। গত ৩০ বছরে সময়ের প্রয়োজনে কঞ্জস-এর ক্ষেত্রে অঙ্গিক গত অনেক পরিবর্তন এনেছি। আমার ধারণা কঞ্জুস আরও বহু বছর দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে। তবে কঞ্জুসের পাশাপাশি আমাদের দলের আরও কয়েকটি নাটক যেমনÑ বিধি ও ব্যতিক্রম, তপস্বী ও তরঙ্গিনী, হেলেন, সিদ্ধিদাতা, অত:পর হরেন মÐল ব্যাপক আলোচিত নাটক। পদ্মা নদীর মাঝি ও সোনাই মাধব এই দুটি নাটক আমাদের দলের শ্রেষ্ঠ অর্জনও বটে।

আনন্দ আলো: অনেকে বলেন মঞ্চ নাটকের ক্ষেত্রে দর্শকের আগ্রহ আগের মতো নাই। এব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?

Liakot-Ali-Lucky-1লিয়াকত আলী লাকী: যারা একথা বলেন তারা ভুল বলেন। মঞ্চে দর্শক আগ্রহ হারাচ্ছে একথা ঠিক নয়। ঢাকার মঞ্চে এখন অনেক ভালো নাটক মঞ্চস্থ হয়। যানজট, পথের দুরুত্বের কথা ভেবে, নানা অজুহাতে অনেকেই মঞ্চ নাটক দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন না। তাদের অনেকেই না বুঝে না দেখে মঞ্চ নাটক সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তবে হ্যাঁ ‘সময়’ বলে একটা কথা আছে। আমরা কথায় কথায় বেইলী রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চ নাটকের সুবর্ণ যুগের স্মৃতি আওড়াই। ছোট বড় প্রতিটি নাট্যদলের নাটকের দিন ‘হাউসফুল’ হতো। তখনকার দিনে মিরপুর থেকে বেইলী রোডে আসা ততটা কষ্টকর ছিল না। এখনকার দিনে মিরপুর অথবা যাত্রাবাড়ী এমনকি পুরানা ঢাকা থেকেও শিল্পকলার মঞ্চে নাটক দেখতে আসা কঠিন কাজ। সেজন্য আমি এলাকা ভিত্তিক মঞ্চ গড়ার ব্যাপারে জোর দিয়ে আসছি।

লিয়াকত আলী শুধুই একজন নাট্য সংগঠক নন। আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তাঁর প্রতিভার দ্যুতি ছড়ানো। তিনি একজন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, দক্ষ অভিনেতা। এক সময় টেলিভিশন নাটকে অত্যন্ত সরব ছিলেন। মঞ্চে এখনও সরব। পেশাগত ব্যস্ততাকে কাটিয়ে একজন তরুণের চেয়েও বেশি সময় দেন দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার নানা কার্যক্রমে। লোক নাট্যদলের তিনযুগ পূর্তি উৎসব উপলক্ষে ৪দিনব্যাপি অনুষ্ঠানমালার আওতায় শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। ‘লোক নাট্যদলের কর্মমুখর তিনযুগ’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধে কলকাতার বিশিষ্ট নাট্য সমালোচক ড. আশিস গোস্বামী বলেছেন, “লিয়াকত আলী লাকী একজন ভালো সংগঠক বলেই তার দলটিকে নানা অসুবিধার মধ্যেও সজীব রাখতে পেরেছেন। শুধু সংগঠক হিসেবেই দলটিকে টিকিয়ে রাখাই তার কাছে চ্যালেঞ্জ নয়, সেই দলের আওতায় আরও বহুবিধ কাজ করাটাই তার মূল উদ্দেশ্য। তার মধ্যে সব সময় নতুন নতুন কাজের আইডিয়া থাকে। কথা কম বলে, অন্যের কথা বেশি শোনে। ঠোঁটের কোনো হালকা হাসির রেশ আর অর্থবাধ্যে মতামত দিয়ে বলেÑ দেখি কি করা যায়।

এই লাকী অন্যের মতামতে প্রলুব্ধ হয় কম, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেয় কিন্তু নিয়ে ফেললে কাজ চলে তরতরিয়ে। এভাবেই নিজের নাট্যদলকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ধরনের কাজের সীমানা বাড়িয়ে দিয়েছে। আসলে, শুধু নিজের থিয়েটার নয় সামগ্রিক থিয়েটার পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়েই ওর ভাবনা। সেই উন্নয়ন শুধু দলীয় ক্ষেত্রে নয়, সামগ্রিক দেশের স্বার্থেও হবে, এমন ভাবনাই ভাবতে চায় সে। তাই অভিনয়-মহড়া-দলের সংগঠনের পাশাপাশি জননাট্য আন্দোলন, ড্রামা ফর ক্যাপাবিলিটি, পিপল্স লিটল থিয়েটার, জাতীয় শিশু কিশোর নাট্যোৎসব, পিপল্স থিয়েটার এসোসিয়েশন, শিশু নাট্য পদক, মঞ্চকুঁড়ি পদক, জাতীয় শিশু কিশোর নাট্যোৎসব, স্কুল থিয়েটার কর্মসূচি, যুব থিয়েটার কর্মসূচি, পিপল্স রেপাটরি থিয়েটার, নাট্যতথ্য ব্যাংকÑ এতসব কাজের বিস্তৃতি ঘটাতে পেরেছে সে, সব কাজ সার্থক বা সঠিক ভাবে করে উঠতে পেরেছে কি না তা নিয়ে কথা হতে পারে, সমালোচিত হতে পারে, কিন্তু থিয়েটার কেন্দ্রিক এত বিচিত্র ভাবনা বিচিত্র কাজের পরিধিকে অস্বীকার করার উপায় নেই। লাকী অনায়াসেই পারতো কেবলমাত্র লোকনাট্যদলের ব্যানারে একের পর এক থিয়েটার প্রযোজনা করেই ক্ষান্ত হতে। কিন্তু লাকী সেটা পারতো না, এখানেই লিয়াকত আলী লাকী ভিন্ন, এখানেই আমার গোপন গর্ব যে আমি তাকে চিনি, সে আমার পরিচিত জন। কর্ম পাগল একটা মানুষ।

এর কারণ সম্ভবত ওর রাজনৈতিক দীক্ষা। রাজনীতির পরিমÐলে বড় হওয়ার এক মস্তগুণ হলো, নিজের কাজকে ছড়িয়ে দেবার প্রবণতা, নিজের ভাবনাকে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। লাকী সেটা পারে বলেই ওকে কেউ এখনও কাজের ক্ষেত্রে নত করতে পারেনি। ঠিক সহযাত্রী জুগিয়ে এনে কাজগুলো করে গেছে। আজ যদিও সে ক্ষমতাবান কিন্তু তা নাহলেও তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা সে করতই। ক্ষমতা সহযোগী হয়েছে, অনেক কাজকে সহজে করতে পেরেছে। কিন্তু ক্ষমতাশালী হলে শত্রæর সংখ্যাও যে বাড়ে এটা লাকীর থেকে ভালো আমরা জানি না। ভয়ঙ্কর এক আড়াল নিতে হয় বন্ধু-স্বজন-পরিজনদের মাঝে থেকেও। আর এই বিপদটা শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক থাকে না নাট্যদলটির ওপরেও বর্তায়। এসবের মাঝে থেকেও লোকটান্যদল সক্রিয়, মাঝে মাঝে মনে হয় বেশি সক্রিয়, অন্য অনেক দলের তুলনায়।

তবে একথা সত্য লিয়াকত আলী লাকী এখন তো শুধু লোকনাট্য দলের অধিকর্তা নন তিনি সারাদেশের নিবেদিত প্রাণ সকল মঞ্চ কর্মীর অভিভাবকও বটে। শিল্পকলা একাডেমিতে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সারাদেশে মঞ্চ নাটকের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী কিছু পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। ইতোমধ্যে তারই পরিকল্পনায় ২০১২ সালে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশের ৬৪টি জেলায় ৭৬টি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মঞ্চ নাটক, পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের ওপর ৬৪টি জেলায় ৬৪টি নতুন মঞ্চ নাটক, ২০১৪ সালে ৬৪টি জেলায় সাহিত্য নির্ভর ৬৪টি মঞ্চ নাটক, ২০১৫ সালে মূল্যবোধের ওপর লেখা ৬৪টি জেলায় ৬৪টি মঞ্চ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এবছর ৬৪ জেলায় দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ৬৪টি লোকনাট্য ভিত্তিক নাটক মঞ্চায়নের কাজ চলছে।

প্রত্মনাটক কর্মসূচির আওতায় ইতোমধে ওয়ারী বটেশ্বরে, পাহাড়পুরে, সোনারগাঁও জাদুঘরে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। আগামীতে নভেম্বর মাসে লিয়াকত আলী লাকীর নির্দেশনায় মহাস্থানগড়ে প্রত্মনাটক মঞ্চায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া মহান ৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাÐের সেই করুণ স্মৃতিকে তুলে ধরার জন্য বিশেষ নাটক মঞ্চায়নের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে। ইতোমধ্যে মিরপুর, ফরিদপুর ও রংপুর টাউন হলে এই কর্মসূচির আওতায় নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। আগামীতে চুকনগর হত্যাকাÐের ওপর নাটক মঞ্চায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি। সকল কর্মসূচিই সফল করার ব্যাপারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিয়াকত আলী লাকী।

গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তার কাছে একটা প্রশ্ন রেখেছিলামÑ সারাদেশে মঞ্চের অবস্থা কি? কেমন চলছে দেশের মঞ্চ নাটক? তিনি একটু যেন ভাবলেন, তারপর বললেনÑ অতীতের তুলনায় সারাদেশে মঞ্চে অনেক নতুন নতুন কাজ হচ্ছে। তবে আবেগ দিয়ে বোধকরি আর থিয়েটার করা যাবে না।   পেশাদারিত্ব দরকার। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সবাইকে আধুনিক হতে হবে।

লিয়াকত আলী লাকীর কথার সঙ্গে আমরাও একমত পোষণ করছি। লোকনাট্য দলের ৩যুগ পূর্তিতে আমাদের অনেক শুভেচ্ছা। জয় হোক মঞ্চ নাটকের।