Home প্রতিবেদন ২০ বছরে শিরোনামহীন

২০ বছরে শিরোনামহীন

SHARE

মোহাম্মদ তারেক: দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’ সাফল্যের সাথে উনিশটি বছর পার করে বিশে পা দিয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় ব্যান্ডটি অসাধারণ কিছু গান সৃষ্টি করেছে। শিরোনামহীনের ২০ বছর পদার্পনের অনুভূতি প্রসঙ্গে দলনেতা জিয়া বলেন, ২০ বছর ধরে আমরা মিউজিকে আছি এটা অনেক ভালো লাগার একটা ব্যাপার। সবচেয়ে বড় কথা আমরা যখন দর্শক শ্রোতাদের সামনে যাই কিংবা স্টুডিওতে লাইভ শো করি তখন ভক্তদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাই তা দেখে মনে হয় ২০ বছরে আমাদের অর্জন অনেক। আমরা কিছু ভালো গান উপহার দিতে পেরেছি। দর্শক এখনো সেই গানগুলোর জন্য আমাদেরকে মনে রেখেছে। অসম্ভব ভালো লাগে এসব ভেবে গত ১৯ বছরে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে শিরোনামহীন ব্যান্ড গানের মাধ্যমে যে সুনাম ধরে রাখতে পেরেছে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় সার্থকতা বলে মনে করে। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কম্পোজার জিয়াউর রহমান ছোটবেলা থেকেই মিউজিকের সাথে জড়িত। ১৯৯৬ সালে জিয়ার সঙ্গে সহপাঠি হিসেবে যোগ দেন গিটারিস্ট জুয়েল। আর সঙ্গে ভোকাল হিসেবে ছিলেন ছায়ানটের বুলবুল। তিন বন্ধু সারাদিন একসঙ্গে থাকতেন আর আড্ডায় গান গাইতেন। জিয়ার লেখা জীবনবাদী কথার গান, সুর আর কম্পোজিশন আড্ডার মানুষেরা খুব সহজেই লুফে নেয়। শ্রোতাদের কাছ থেকেই তাড়না আসে যৌথভাবে আরো কিছু করার। হঠাৎ করেই ঢাকা পদাতিকের আমন্ত্রণে তাদের সাথে শিরোনামহীন প্রথম শো করে ঢাকা ইউনিভার্সিটির টিএসসি অডিটোরিয়ামে। তখন কিছুটা শ্রোতাদের মাঝে সাড়া ফেলে শিরোনামহীন। এর কিছুদিন পর চারুকলার বকুলতলায় প্রচুর দর্শকের সামনে প্রথম গান গায় তারা। শ্রোতাদের আগ্রহ দেখে শিরোনামহীন ব্যান্ড ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। চিনত্মাধারায় পরিবর্তন আসে তাদের মাঝে। আড্ডার গান ছেড়ে শ্রোতাদের সামনে টিভিতে গান করার ইচ্ছা জাগে। তখন তাদের মনে হয়েছে গানে পরিবর্তন দরকার। ২০০০ সালে শিরোনামহীন স্টারসার্চে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। এক সময় শিরোনামহীনের সাথে যোগদেন ভোকাল তানজীর তুহিন। সেই সঙ্গে বুয়েটে ক্যাম্পাসভিত্তিক ব্যান্ড হয়ে গেল শিরোনামহীন। এরপর ব্যান্ডের সাথে যোগ দেয় তুষার এবং আহমেদ শাফিন। বর্তমানে জিয়া ছাড়া প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের কেউ সাথে নেই।

এখন শিরোনামহীন ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে আছেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বেইজে জিয়া, ভোকাল তানজীর তুহিন, গিটারে দিয়াত খান, ড্রামসে শাফিন, কিবোর্ডে রাসেল কবীর। এর মধ্যে জিয়া ব্যান্ডের গান লিখেন, সুর করেন এবং মিউজিক কম্পোজিশন করেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে শিরোনামহীন ব্যান্ড বেশ কিছু ব্যতিক্রমধর্মী গান উপহার দিয়েছে শ্রোতাদের। তাদের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- হাসিমুখ, ক্যাফেটেরিয়া, বন্ধু জানালা, একা, ইচ্ছে ঘুড়ি, জাহাজি স্বদেশ, বাংলাদেশ, শুভ্র রঙিন, অন্য কেউ, নিঃসঙ্গ, বুলেট কিংবা কবিতা, শূন্য, লাল নীল গল্প, শহরের কথা, অবাক বড় মন, সুপ্রভাত, পরিচয়, সহসা, ঘুম ইত্যাদি।

২০০৪ সালে শিরোনামহীন ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম বের হয়। অ্যালবামের নাম ছিল জাহাজি। র‌্যাবিট কমিউনিকেশন থেকে অ্যালবামটি বের হয়। প্রথম সাউন্ড ট্র্যাক খারাপ হওয়ার কারণে কোনো বড় ক্যাসেট কোম্পানী শিরোনামহীনের ক্যাসেট নেয়নি।

এরপর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় কনসার্ট বেনসন এন্ড হেজেস অনুষ্ঠিত হলো। ঐ কনসার্টে শিরোনামহীনের গান শুনে জি-সিরিজের কর্ণধার খালেদের ভালো লাগে এবং জাহাজি অ্যালবামটি নতুন করে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধানত্ম নেন। তারপর তো ইতিহাস।

এখন তরুণ তরুণীদের মুখে মুখে শিরোনামহীনের গানগুলো। হাসিমুখ গানটি বিশেষ করে শ্রোতাদের মন জয় করে নেয়। এ গানটি ছিল শিরোনামহীনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। হাসিমুখ গানটি শুনেই তুহিন আর তুষার এ ব্যান্ড দলের সাথে যোগ দেন। শিরোনামহীনের প্রথম জাহাজি অ্যালবামটি জি-সিরিজের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবামগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরপর থেকে তাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সাফল্যের সাথে একের পর এক অ্যালবাম বের করে যাচ্ছে শিরোনামহীন। ২০০৬ সালে বাজারে আসে তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ইচ্ছেঘুড়ি।

২০০৯ সালে বাজারে আসে তৃতীয় অ্যালবাম বন্ধ জানালা। ২০১০ সালে রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিরোনামহীন বাজারে আনে চতুর্থ অ্যালবাম শিরোনামহীন রবীন্দ্রনাথ। পুরো অ্যালবামটি ছিল রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে সাজানো। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে পুরো অ্যালবাম করেছিল। ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয় শিরোনামহীন শিরোনামহীন।

শিরোনামহীন ব্যান্ড ব্যতিক্রমধর্মী গান বেশি করে। সব সময় গানে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করে। প্রতিটি অ্যালবামে তারা শ্রোতাদের নতুন কিছু দেবার চেষ্টা করে। ব্যান্ড সঙ্গীতের বর্তমান অবস্থা কী? এই প্রশ্নের জবাবে দলনেতা জিয়া বলেন, ভালো এবং মন্দ দুটো অবস্থাই আছে। ভালোর কারণ হচ্ছে এখন অনেক টিভি চ্যানেল, প্রিন্ট মিডিয়া, রেডিও স্টেশন থাকার কারনে ব্যান্ডের গানের একটা গতি হচ্ছে! আছে। আর দুঃখের বিষয় হচ্ছে কিছু প্রকাশনার মধ্যে আছে পাইরেসি। এ বিষয়টির কারণে ক্ষতি হচ্ছে অডিও বাজার। সবশেষে প্রশ্ন ছিল ‘শিরোনামহীন’ এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। তুহিন বললেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে নিজেদের মতো যতটা সম্ভব ভালো গান শ্রোতাদের উপহার দেওয়া। আমাদের গান গুলো সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।