Home ফিচার হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার খোঁজে-শাইখ সিরাজ

হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার খোঁজে-শাইখ সিরাজ

SHARE

হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা’ এই গল্পটি বাংলাদেশে শিক্ষিত পরিবারে বেশ জনপ্রিয়। একদা গল্পটি স্কুল পর্যায়ে পাঠ্যসূচির অনৱর্ভূক্ত ছিল। হ্যামিলিন শহরে একদা ইদুরের ব্যাপক উৎপাত শুরু হয়। শহরবাসী কিভাবে এই সংকট থেকে পরিত্রান পাবেন এই নিয়ে নিয়ে শুরু হয় হাহাকার। একদিন ‘এক যাদুকর শহরের মেয়রের কাছে এসে বলেন তিনি শহর থেকে ইদুর তাড়াতে পারবেন। এজন্য তাকে ১০০ স্বর্ন মুদ্রা দিতে হবে। মেয়র রাজি হয়ে যান। জাদুকর তার বাঁশির সুরে শহরের সকল ইদুরকে তাড়িয়ে নিয়ে যান। কিন্তু প্রতিশ্রুত স্বর্নমুদ্রা তাকে দেওয়া হয় না। সে কারনে আবার বাঁশিতে সুর তোলেন। এবার শহরের ছোট ছোট বাচ্চারা তার বাঁশির সুরে মোহিত হয়ে তার পিছু নেয় এবং অজানার পথে হারিয়ে যায়।

সেই হ্যামিলিন শহরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন চ্যানেল আই এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান, কৃষি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। সেখান থেকে ফিরে তিনি লিখেছেন এই প্রতিবেদন।

২০১৪ সালের এক মধ্যদুপুর। চ্যানেল আইতে অফিস কক্ষে মিটিং-এ আছি। রিসেপশন থেকে ফোন এলো- স্যার আপনার সাথে একজন দেখা করতে চান? জার্মানী থেকে এসেছেন। পাঠাবো?

বললাম- একটু পরে পাঠাও।

কয়েকমিনিট পর একটি লোক আমার রুমে ঢুকলেন। মাঝারী গড়ন। ফর্সা চেহারা। মুখে আনৱরিক হাসি। হাতে একটি ব্যাগ ঝুলছে। আমার রুমে ঢুকেই সালাম দিয়ে বললেন- আমার নাম কাজল। জার্মানীতে থাকি। দেশে এসেছি কয়েকদিন হলো। কথা বলতে বলতে আমার টেবিরের সামনে রাখা চেয়ারে বসে ব্যাগ থেকে একটা স্ট্রবেরির চারা বের করলেন –

এটা আপনার জন্য এনেছি।

জানতে চাইলাম- এটা কি আপনি জার্মানী থেকে এনেছেন?

হ্যা, জার্মানী থেকে এনেছি।

আপনি সেখানে কি করেন?

আমি একজন কৃষক। জার্মানীর লিমবো শহরে থাকি!

Hamilioner-Bashiwala-3আমার চোখে-মুখে বিস্ময় খেলা করছে। ৮০র দশকে আমাদের দেশ থেকে অনেক তরুণ জার্মানীতে পাড়ি জমিয়েছিল। তারা ভালো-মন্দ কাজে যুক্ত হয়েছে। শিক্ষিত কোনো তরুণ বিদেশে গিয়ে কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়েছে এই প্রথম দেখলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম-

আপনি তাহলে একজন কৃষক?

জ্বি।

কি ধরনের কৃষক আপনি?

উত্তরে কাজল বললেন- জার্মানীতে বিলিফিল্ড নামক এলাকায় সরকারী পর্যায়ে একমাত্র বিদেশী বাঙ্গালী রেজিস্টার্ড কৃষক আমি। ১০ হেক্টর জমির ওপর স্ট্রবেরি সহ বিভিন্ন ফলের চাষ করি। আপনার জন্য স্ট্রবেরির চারা এনেছি যাতে আপনি কৃষকদের এই চারাটি দিতে পারেন। আপনার অনুষ্ঠানে আমি দেখেছি বাংলাদেশেও স্ট্রবেরি চাষ হয়। কিন্তু একটি গাছে ১০/১৫টির বেশী ফল পাওয়া যায় না। আমার এই স্ট্রবেরি চারা বড় হলে কমপক্ষে ২৫০টি ফল পাওয়া যাবে।

কাজলের কথা শুনে আমার বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না। বললাম- চা খাবেন?

কাজল মৃদু হেসে বললেন- আমি চা-পান সিগারেট জাতীয় কোন জিনিস খাই না। আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। জার্মানীতে আমার খামারে আপনাকে নিতে চাই। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে আপনি জার্মানীতে আমার স্ট্রবেরি খামারে যাবেন। আমার খামারটা একটু দেখে আসবেন।

কাজলের কথা শুনে অমি আরও বিস্মিত। প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষকদের সুখ দুঃখ, কৃষির সম্ভাবনা নিয়ে টেলিভিশন  মাধ্যমে কাজ করে চলেছি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকদের অনেকেই আমার কাছে আসেন। তাদের খামার দেখাতে নিয়ে যান। এই প্রথম কোনো প্রবাসী বাঙ্গালী কৃষক আমাকে বিদেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।

কাজল আমাকে আশ্বস্থ করার জন্য বললেন- স্যার যাওয়া আসা থাকা খাওয়া এসব নিয়ে আপনি মোটেই ভাববেন না। সব আমি দেখবো। আপনি শুধু ‘হা’ বলেন। আমি অনেক আশা নিয়ে এসেছি।

কাজলের কথায় সত্যি সত্যি অভিভূত আমি। তবুও জিজ্ঞেস করলাম। আমাকে যে জার্মানীতে নিতে চাচ্ছেন। আমি তো একা যাব না। আমার টিমের সদস্য সংখ্যা কত জানেন?

কাজল দৃঢ়তার সাথে বললেন- কত হবে ৫ জন অথবা ১০ জন? কোন সমস্যা হবে না। আপনাদের সব খরচ আমার।

Hamilioner-Bashiwala-2এবার আরও বিস্ময়ের পালা। কথায় কথায় জানলাম কাজল জার্মানীতে গিয়ে হাতের কাছে যে কাজ পেয়েছে তাই লুফে নেননি। জার্মানীতে সে ৬ বছর কৃষির ওপর ডিপ্লোমা করেছে কেবল কৃষিকে পেশা হিসেবে নেয়ার জন্য। প্রবাসী বাঙ্গালীদের মধ্যে তার খ্যাতিও বেশ।

সেদিন বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করে চলে যায় কাজল। তারপর জার্মানী থেকে প্রায়শই মোবাইলে যোগাযোগ করে কাজল।

এক সময় কাজলের কথায় জানতে পারি জার্মানীর হ্যামিলিন শহরে তার স্ট্রবেরির খামার। একথা শুনে আবারও বিস্মিত হই। বাংলাদেশে শিক্ষিত মানুষের কাছে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা গল্পটি খুবই পরিচিত। যে শহরে একদা ইদুরের উপদ্রুব হয়েছিল। এক অদ্ভূত বাঁশিওয়ালা তার বাঁশির সুরে শহরের সব ইদুরকে সরিয়ে নিয়ে যায়। এক সময় আমাদের এটি স্কুল পর্যায়ে পাঠ্যসুচির অনৱর্ভুক্ত ছিল।

হ্যামিলিনে এখন ইদুরের উপদ্রুব আছে কিনা জানিনা। তবে আমদের দেশে ইদুরের উপদ্রুব আছে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি ধানের ক্ষেত, ধানের গোলায় ইদুর ধানের ক্ষতি করছে। গম ভুট্টারও ক্ষতি করে ইদুর। প্রতি বছর আমাদের দেশে উৎপাদিত পন্যের শতকরা ৫ ভাগ ইদুরের পেটে চলে যায়। মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যখন কৃষকেরা আমার সাথে দেখা করতে আসেন তখন অনেকেই হ্যামিলিনের সেই বাঁশিওয়ালার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, স্যার ইদুরের জ্বালায় তো আর বাঁচিনা। আমাদের দেশেও একজন বাঁশিওয়ালা দরকার। যার বাঁশির সুরে সব ইদুর হাওয়া হয়ে যাবে।

হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা। এই গল্প সত্যি কিনা এই নিয়ে মতভেদ আছে। তবুও আমাদের দেশের অনেক মানুষ এটাকে সত্যি বলে ধরে নেয়। শিক্ষিত লোকদের মধ্যে এমন মানুষ কম আছে যারা হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা সম্পর্কে জানেন না।

সেই হ্যামিলিনের উদ্দেশে আমরা রওয়না হলাম ২০১৬ সালের ১ জুন। আমাদের দলের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। আমি, আদিত্য শাহীন, তৌফিক ও আমার বড় ছেলে অয়ন। কেবলই আর্কিটেকচার পাশ করে বেরুল। অফুরনৱ সময় হাতে। অয়ন ফটোগ্রাফি করে। তাকে সাথে নেওয়া হলো হ্যামিলিনসহ আমার পুরো সফরের স্থিরচিত্র তোলার জন্য।

জার্মানীর লিমবো শহরে পৌছার পর আমরা টানা তিনদিন কাজলের খামারে কাজ করলাম। সে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। কাজলের খামারে ৬ জন বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করে। তাছাড়া ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের আর ৮জন বিশ্ববিদ্যালয়ের-এর ছাত্রী কাজ করে। করুণ কাহিনী হলো- ইউক্রেনসহ অন্য দেশের তরুণ-তরুণীরা বৈধভাবে জার্মানীতে কাজলের খামারে ফসল তোলার দুইমাস কাজ করার জন্য এসেছে। কিন্তু একই মাঠে কাজ করছে পৃথিবীর ভিন্ন দুই প্রানেৱর মানুষ। অথচ কুটনৈতিক দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশি ৬ তরুণের বিড়ম্বনা এখনও শেষ হয়নি।

কাজলের খামারে দৃশ্য ধারনের সময় অনেক কথা হয় তার সাথে। কাজলের কাছেই জানতে পারলাম জার্মানীতে পৃথিবীর যেকোন দেশের স্টুডেন্টরাই কাজ করতে আসতে পারে। জিজ্ঞেস করলাম ইউক্রেন আর পোলেন্ডের স্টুডেন্টরা যদি বৈধভাবে কাজের জন্যে আপনার এখনে আসতে পারে তবে বাংলাদেশীরা না কেন? আপনি কথা বলেন কর্তৃপক্ষের সাথে যাতে আগামী মৌসুমে আপনার খামারে যেন বাংলাদেশের কিছু স্টুডেন্ট আসতে পারে ২ মাসের জন্য।

৫ জুন ২০১৬ লিমগো জার্মানী। সকাল ১০.৩০ মিনিটে আমরা হ্যামিলিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। আমাদের এই দলে আমি, আদিত্য, তৌফিক, অয়ন, মুকুল, কাজল, আওলাদ ও কাজলের স্ত্রী কল্পনা।

কাজলের বাসা থেকে হ্যামিলিন শহরে পৌঁছাতে সময় লাগল প্রায় ৪০ মিনিট। শহরে ঢোকার মুখেই চোখে পড়ল হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার সেই বিশাল মূতি। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস হচ্ছিলো না। ছোটবেলায় যে গল্প পড়ে বড় হয়েছি সেই গল্পের নায়কের মূর্তির সামনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। গাড়ি থেকে নেমে শুরু হলো বাঁশিওয়ালার মূর্তির সাথে ছবি তোলার পর্ব।

১২৮৪ সালের ২৬ জুন হ্যামিলিনে ইদুর তাড়ানোর সেই ঘটনা কি সত্যি ঘটেছিল? ৭৩২ বছর পর তারই নিদর্শন দাঁড়িয়ে এখনো। ছবি তোলা শেষ হলো। বাঁশিওয়ালার মূতি যতই দেখি ততই নিজ দেশের কথা মনে পড়ে। এই একটি চরিত্র আমাদের দেশে কত জনপ্রিয়।

এক সময় আমরা মূল শহরে ঢুকলাম। কিন্তু মনে হচ্ছিলো শহরটা যেন ঘুমাচ্ছে। দিনটি ছিল রোববার, ছুটির দিন। সাধারনত: ছুটির দিনে দিনের অর্ধেক ভাগ শহরবাসী বাসায় ঘুমিয়ে অথবা বিশ্রামে থাকে। দুপুরের পর শহরের ব্যসৱতা শুরু হয়।

হ্যামিলিন ছিমছাম গোছানো ঐতিহাসিক সুন্দর একটি শহর। বাড়িঘরের চেহরায় ইউরোপের সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট।

প্রতি রোববার শহরের চার্চ টাওয়ারের সামনে উম্মুক্ত মঞ্চে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা গল্পের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয়। সেটাই দেখানোর জন্যই রোববার দিনটিকে হ্যামিলিনে আসার জন্য ঠিক করে রেখেছিল কাজল। বেলা সাড়ে ১২টায় বিদেশী পর্যটকদের সামনে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা গল্পটির মঞ্চায়ন শুরু হলো। খোলা মঞ্চের ৩দিকে অসংখ্য বিদেশী পর্যটক। তাদের মধ্যে মিশে গেল ‘হৃদয়ে মাটি মানুষের’ অনুষ্ঠান ধারক দল।

Hamilioner-Bashiwala-1রুদ্ধর্শ্বাস মুহূর্ত। মঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ চার্চের ঘন্টা বেজে উঠতেই কিচির মিচির শব্দ তুলে অসংখ্য ইদুর মঞ্চে ঢুকে পড়ল। শিশুরা ইদুর সেজেছে। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে সত্যিকারের ইদুর। বড় ইদুর, ছোট ইদুর, ধেড়ে ইদুর। ইদুর কখনও বাড়ির জানালা দিয়ে, দরজার ফাঁক দিয়ে, ছাদ থেকে টুপ করে মেঝেতে পড়ে ঘরের খাবার খেয়ে জিনিস পত্র নষ্ট করে একটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে চলে গেল। মঞ্চে নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে অথচ মনে হল বাসৱবে সব কিছু দেখছি। ইদুরেরা চলে যেতেই মঞ্চে ঢুকলেন কয়েকজন নগরবাসী। তারা ইদুরের এই অত্যাচার থেকে রেহাই চান। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব? তাই বলাবলি করছেন। এক সময় নগরের সুশীল সমাজের কিছু লোক মঞ্চে ঢুকলেন। আলোচনা করলেন নিজেদের মধ্যে। অবশেষে মঞ্চে ঢুকলেন নগরপিতা। এখানে একটি বিষয় বলে নেওয়া ভালো বহু বছর ধরে সপ্তাহের প্রতি রবিবার চার্চের উম্মুক্ত মঞ্চে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। ঐ নাটকে নগরের প্রকৃত মেয়রই মেয়রের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এটাই রীতি।

সবাই নগর পিতার কাছে বুদ্ধি চাইছেন। ইদুরের উৎপাত থেকে বাঁচার পথ কি তা জানতে চাইছেন। নগর পিতা বেশ অস্থির। হঠাৎ অদ্ভুত রঙিন পোশাক পড়ে এক বাঁশিওয়ালা মঞ্চে ঢোকেন। তার মাথায় ঝুলনৱ টুপি। নগর পিতাকে জানায় সে শহর থকে ইদুর তাড়াতে পারবে। কিন্তু তাকে ১০০ স্বর্নমুদ্রা দিতে হবে।

নগর পিতা বাঁশিওয়ালার প্রসৱাবে রাজি হলেন। বাঁশিওয়ালা তার বাঁশিতে অদ্ভূত এক সুর তুললেন। সাথে সাথে ঘটতে থাকলো অদ্ভুত এক ঘটনা। শয়ে শয়ে ইদুর বাঁশিওয়ালার সুর শুনে মঞ্চে এসে জড়ো হলো এবং বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুরে মঞ্চের একটি অংশ দিয়ে বেরিয়ে গেল।

শহর জুড়ে শুরু হলো উৎসব আর আনন্দ। বাঁশিওয়ালা ফিরে এলো নগরপিতার কাছে। প্রতিশ্রুত ১০০ স্বর্নমুদ্রা চাইল। কিন্তু নগর পিতা তার কথা রাখলেন না। ১০০ স্বর্নমুদ্রার বদলে মাত্র ১টি স্বর্নমুদ্রা দিলেন।

বাঁশিওয়ালা ক্ষুব্দ হয়ে উঠল। তার ১০০ স্বর্ন মুদ্রা চাই। ফলশ্রুতিতে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হল।

এরপর ঘটলো সেই করুণ ঘটনা। বাঁশিওয়ালা এবার শুধু সবুজ রঙের পোশাখে মঞ্চে ঢুকে বাঁশিতে মায়াবী এক সুর তুললেন। সাথে সাথে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা ঘটতে থাকল। শহরের ছোট ছোট বাচ্চারা বাঁশির সুরে মোহিত হয়ে বাঁশিওয়ালার পিছু নিল এবং বাঁশিওলার সাথে হারিয়ে গেল।

কথিত আছে ১. বাঁশিওয়ালা শিশুদেরকে নিয়ে পাশের পাহাড়ে গেলে পাহাড় দুইভাগ হয়ে যায়। তখনই শিশুদের নিয়ে অদৃশ্য হয় বাঁশিওয়ালা। ২. পাহাড়ের পিছন দিক দিয়ে শিশুদের নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায় বাঁশিওয়ালা। ৩. সুউচ্চপাহাড়ের চূড়ায় উঠে এক কুপে অদৃশ্য হয়ে যায় বাঁশিওয়ালা সহ শিশুরা।

তবে দু’জন শিশু ফিরে এসেছিল। তাদের মধ্যে একজন বধির। অন্যজন দৃষ্টিহীন।

নাটকটি দেখার পর বারবার ছোটবেলার কথা মনে পড়ছিল। পাঠ্যপুসৱকে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা গল্প পড়ে কতই না স্বপ্ন দেখেছি। কল্পনায় বাঁশিওয়ালাকে খুঁজেছি! কেন? একটাই কারন যদি আমাদেরও এরকম একজন বাঁশিওয়ালা থাকতো। আমাদের ফসলের শতকরা ৫ ভাগ খেয়ে ফেলে ইদুরের দল। ইদুর তাড়ানোর জন্য একজন বাঁশিওয়ালার প্রয়োজন। কিন্তু বাসৱবতা ভিন্ন। কাজেই হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার সাথে আমাদের কৃষি উন্নয়নের যোগসূত্র খোজা মানেই বৃথা চেষ্টা করা। তবে হ্যা, গল্পটি একটি প্রেরনার জন্ম দিতে পারে।

নাটক শেষ হবার পর আমরা উইজার নদী দেখতে চাই। কথিত আছে এই নদীতে ইদুরেরা লাফ  দিয়ে স্রোতের টানে ভেসে যায়। আমরা সেই পাহাড়ের চূড়ায়ও উঠি। সেখান থেকে গোটা হ্যামিলিন শহর দেখা যায়। আরও দেখা যায় আমাদের কাজলের সেই খামার। যেনো এক টুকরো বাংলাদেশ।