Home প্রতিবেদন শাহ সিমেন্ট সুইট হোম সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ আজাদের কাছে

সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ আজাদের কাছে

SHARE
ashraful-azad

আশরাফুল আজাদ রাসেল। একজন উদীয়মান তরুণ মেধাবী স্থপতি। রাসেল নামেই তিনি বন্ধু মহলে পরিচিত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৮ সালে বুয়েট থেকে পাস করে বের হওয়ার পরই তিনি যোগদেন স্থপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদের অধীনে ‘সাব্বির আহমেদ আর্কিটেক্টস’ নামের একটি ফার্মে। চাকরির পাশাপাশি ‘আকর আর্কিটেকচার ওয়ার্কশপ’ নামের একটি স্থাপত্য ফার্ম গড়ে তোলেন। ২০১০ সালে চাকরি ছেড়ে পুরো উদ্যমে মনোনিবেশ করেন নিজ ফার্মে। বর্তমানে তিনি স্থাপত্য ফার্মটির কর্ণধার ও প্রিন্সিপ্যাল আর্কিটেক্ট। ২০১৩ সালে এই স্থপতির মিরপুর চিড়িয়াখানায় নির্মিত ‘অ্যানিম্যাল কোয়ারেনটেইন সেড’ ডিজাইনটি ষষ্ঠ বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন ইন আর্কিটেকচার প্রতিযোগিতায় অন্যান্য ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরষ্কার পেয়েছিল। এবার শাহ্‌ সিমেন্ট সুইটহোমে তাকে নিয়েই প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক।
shah-cmentস্থপতি আশরাফুল আজাদ রাসেল দুই ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। কিন্তু বেড়েওঠা ঢাকায়। রাসেলের বাবার নাম মোঃ আবুল কালাম আজাদ। তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। মা মোসাম্মৎ সালমা খাতুন গৃহিণী। স্কুলে পড়াকালীন রাসেলের ছবি আঁকাআঁকির প্রতি ছিল প্রচণ্ড নেশা। বই পড়া, মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা ছিল পছন্দের বিষয়। তবে ছবি আঁকার ঝোঁকটা ছিল অনেক বেশি। ছোটবেলা থেকেই আশরাফুল আজাদের ইচ্ছা ছিল স্থপতি হওয়ার। তার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আজ তিনি হয়েছেন সফল একজন স্থপতি। আজাদ মতিঝিল মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে। এ সময়ে তার সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে আছেন স্থপতি ইকবাল, মুনিম, অমি ও নাজলী। এরা সবাই প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেক্ট। প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় আছেন সামসুল ওয়ারেস স্যার, ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ ও মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ। স্থপতি আশরাফুল আজাদ ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন ২০০৮ সালে। বুয়েট থেকে পাস করে বের হওয়ার পরই তিনি যোগদেন স্থপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ- এর অধীনে ‘সাব্বির আহমেদ আর্কিটেক্ট’ নামের একটি ফার্মে। সেখানে তিনি তিন বছর চাকরি করেন। চাকরির পাশাপাশি ২০০৮ সালে নিজে গড়ে তোলেন ‘আকর আর্কিটেকচার ওয়ার্কশপ’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। ২০১০ সালে চাকরি ছেড়ে পুরো উদ্যমে মনোনিবেশ করেন নিজের ফার্মে। বর্তমানে তিনি স্থাপত্য ফার্মটির কর্ণধার ও প্রিন্সিপ্যাল আর্কিটেক্ট। খিলগাঁও তিলপা পাড়ায় খুব সুন্দর একটি অফিস সাজিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ স্থপতিসহ মোট ৬ জন কর্মী কাজ করছেন। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের নামকরা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ, অফিস কমপ্লেক্স, উইকেন্ড হাউস, মসজিদ, ডুপলেক্স বিল্ডিংসহ অসংখ্য আবাসিক বিল্ডিংয়ের ডিজাইন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে মিরপুর চিড়িয়াখানায় অ্যানিম্যাল কোয়ারেনটেইন সেড ডিজাইন, সিলেট মৌলভীবাজারের ইম্পেরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ বেডের হাসপাতাল, লক্ষ্মীপুরের উইকেন্ড হাউস, রামগঞ্জ বাজারের জামে মসজিদ, পাবনার মিল্লাত হোসেনের ডুপলেক্স বিল্ডিং, মিরপুর এভিনিউ-২ এ সুরাইয়া বেগমের আবাসিক ভবন, টাংগাইলের উইকেন্ড হাউস, কুমিল্লা শালঘরের উইকেন্ড হাউসসহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের ডিজাইন করেছেন। এছাড়া বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন তিনি।

shah-cementআশরাফুল আজাদ তার সব ধরনের কাজ স্থাপত্যনীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করি যে কোনো প্রজেক্টকে সব সময় নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে। সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আমাদের কাজ একটা সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে। ক্লায়েন্টের চাহিদাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমরা চেষ্টা করি তার চাহিদাগুলো পূরণ করে আরও বাড়তি কী দেয়া যায় সেটা দেখা। আর ডিজাইন করার সময় আমাদের মাথায় থাকে যেই জিনিসটা আমরা করছি সেটা আমাদের দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? আমাদের পুরনো সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, অর্থনীতি সবসহ কিছুকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমান সময়কে ধারণ করে এমন স্থাপত্য আমরা তৈরি করার চেষ্টা করি।

বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি আশরাফুল আজাদ রাসেল। এই স্থপতি তার কাজ, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে ভালোবাসেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থপতি আশরাফুল আজাদ বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো- স্থপতির সেবাকে আরও অধিকতর জনগণের মধ্যে পৌছে দেয়া, যাতে করে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হন এবং তাদের জন্য আমরা সুন্দর বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি।