সবার প্রিয় ছোটকাকু!

সবার প্রিয় ছোটকাকু!

612
0
SHARE

ছোটকাকু এই শব্দটি শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর যেখানেই, যে প্রানেৱই বাংলা ভাষাভাষি মানুষ আছে সেখানেই দারুন জনপ্রিয়। বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা এই রহস্য উপন্যাসটি একসময় ছিল বইয়ের পাতায়। পাঠক নন্দিত এই উপন্যাস টেলিভিশনের পর্দায় নাটক হিসেবে নতুন চেহারা পায়। এ যাবৎ ছোটকাকু সিরিজের ২৯টি উপন্যাস লিখেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। সেখান থেকে ৭টি উপন্যাসের নাট্যরূপ ইতিমধ্যে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় দেখেছেন সারাবিশ্বের কোটি কোটি বাংলা ভাষাভাষি মানুষ। ছোটকাকুকে ঘিরে কমিক্স গ্রন্থও বের হয়েছে। প্রাণ-এর সৌজন্যে বাজারে এসেছে ছোটকাকু নামের চকলেটও। গঠিত হয়েছে ছোটকাকু ক্লাব। সব মিলিয়ে যে ছোটকাকু একসময় ছিল শুধুমাত্র উপন্যাসের পাতায় সেই ছোটকাকু এখন টেলিভিশনে, কমিক্স গ্রন্থে আলো ছড়িয়ে একটি সামাজিক আন্দোলনেও রূপ নিয়েছে। নন্দিত অভিনেতা আফজাল হোসেন একসময় রোমান্টিক ইমেজের দুর্দানৱ এক অভিনেতা ছিলেন। টিভি নাটককে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। সেই প্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন এখন সবার পছন্দের চরিত্র ছোটকাকু। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মাঝে তিনি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছেন ছোটকাকুর মাধ্যমে।

একসময় আমাদের দেশে একটা হাহাকার ছিল। পাশের দেশে শিশু-কিশোরদের জন্য একাধিক জনপ্রিয় গোয়েন্দা কাহিনী ভিত্তিক উপন্যাস আছে। সিরিজ নাটকও আছে। অথচ আমাদের কিছুই নাই। ফরিদুর রেজা সাগর ও আফজাল হোসেন জুটির সম্মিলিত উদ্যোগ ‘ছোটকাকু’ সেই অভাব পূরণ করেছে। ছোটকাকু এখন শুধু শিশু কিশোরদের কাছেই জনপ্রিয় নয়, ব্যাপক জনপ্রিয় অগ্রসরমান প্রতিটি পরিবারে। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ঈদেও চ্যানেল আইতে ঈদের অনুষ্ঠানমালার আওতায় একটানা ৯ দিন ছোটকাকু সিরিজের নাটকটি প্রচারিত হয়। এই ৯ দিন সন্ধ্যে ৬টা ১০ মিনিট মানেই ছিল শিশু-কিশোরদের উৎসব করার মুহূর্ত। ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে তারা ছোটকাকু নাটকটি উপভোগ করেছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছিল পরিবারের অন্য সদস্যরাও। কারণ ছোটকাকু এখন তাদেরও প্রিয় বিষয়, প্রিয় চরিত্র।

উপন্যাস, টিভি নাটকের পর ছোটকাকুকে এবার পূর্ণাঙ্গ একটি চলচ্চিত্রে তুলে ধরার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সেই ছোটকাকুকে ঘিরে আনন্দ আলোর চলতি সংখ্যায় পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো বিশেষ প্রতিবেদন।

লিখেছেন রেজানুর রহমান

ছোটদের মতো আমারও আনন্দ হচ্ছে

-ফরিদুর রেজা সাগর, স্রষ্টা, ছোটকাকু

এতোদিন বইয়ের পাতায় ছিল ছোটকাকু। এখন তাকে দেখা যাচ্ছে টেলিভিশনের পর্দায়। ছোটকাকুকে নিয়ে কমিক্স গ্রন্থও বেরিয়েছে। বাজারে এসেছে ছোটকাকু নামের চকলেটও। গঠিত হয়েছে ছোটকাকু ক্লাব। অনেকের কাছে শুনি ছোটকাকু এখন একটা সামাজিক আন্দোলনেও রূপ নিয়েছে। আমি অতশত বুঝি না। তবে এটুকু বুঝি ছোটকাকু বইয়ের পাতায় যে আলো ফেলেছে সেই আলো আরো ছড়িয়েছে টিভি নাটকের মাধ্যমে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরাও যখন ছোটকাকুকে নিয়ে আলোচনা করে, অনেক কথা জানতে চায় তখন বুঝতে পারি ছোটকাকু আমাদের সমাজে পজিটিভ প্রভাব ফেলছে। অবশ্য এই কৃতিত্ব অনেকটাই বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিচালক আফজাল হোসেনের। যিনি এখন ছোটকাকু নামেও ব্যাপক পরিচিত।

ছোটকাকু সিরিজের আওতায় ২৯টি উপন্যাস এখন বাজারে রয়েছে। এর মধ্য থেকে ৭টি উপন্যাসের টিভি নাট্যরূপ চ্যানেল আইতে প্রচার হয়েছে। অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন ছোটকাকুকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণের। হ্যাঁ, এবার ছোটকাকুকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে আফজাল হোসেনের উপর। উপন্যাস থেকে টিভি নাটক, কমিক্স গ্রন্থ প্রকাশের পর বড় পর্দায় দেখা যাবে ছোটকাকুকে। ছোটদের মতো আমারও এজন্য আনন্দ হচ্ছে।

ছোটকাকুকে এবার চলচ্চিত্রে নিতে চাই

-আফজাল হোসেন

ছোটকাকু দেশ-বিদেশে বাঙ্গালী টিভি দর্শকের কাছে অত্যনৱ পরিচিত একটি নাম। বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের আলোচিত শিশুতোষ সিরিজ উপন্যাস ছোটকাকু অবলম্বনে টিভি সিরিজ নির্মাণ করছেন বিশিষ্ট নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন। তিনি এই গোয়েন্দা সিরিজটিতে ছোটকাকুর ভূমিকায় অভিনয়ও করছেন। ফরিদুর রেজা সাগর ছোটকাকু সিরিজের আওতায় এযাবৎ ২৯টি উপন্যাস লিখেছেন। তারই ২৫টি উপন্যাস নিয়ে শুরু হয় টিভি সিরিজ ছোটকাকুর শুভযাত্রা। এবার সিরিজিটির ৭ম উপন্যাসের নাট্যরূপ প্রচার হয়েছে যথারীতি চ্যানেল আইতে। এই নিয়ে আনন্দ আলোয় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নির্মাতা আফজাল হোসেন।

আনন্দ আলো: দেখতে দেখতে ছোটকাকুর ৭টি গল্পের নাট্যরূপ টেলিভিশনে দেখানো হলো। লাকী সেভেনে ছোটকাকু। আপনার অনভূতি জানতে চাই।

আফজাল হোসেন: প্রশ্নটার প্রেক্ষিতে দুটি সময়কে ব্যাখ্যা করতে হবে। কারণ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময় আমি দেখেছি, দেখে চলেছি। একটা হচ্ছে, যে অভিজ্ঞতা আমার পেছনে ছিল। অন্যটা হলো আমার বর্তমান। একটাকে নিয়ে যখন কথা বলব তখন অন্যটা পেছনে থেকেই যায়। এই প্রসঙ্গটা বলছি এই কারনে যে নাটক ও টেলিভিশন নিয়ে জনমনে এক সময় আগ্রহ ছিল অনেক। অতীতের অবস্থাটা আমার জানা। এটাই আমার কাছে সমস্যা। অতীত না জানলে বোধকরি ভালো হোত। একথা বলছি এই কারনে যে অতীতে টেলিভিশন এবং টেলিভিশন নাটক নিয়ে জনমনে যে আগ্রহ ছিল বর্তমান সময়ে তেমনটা আর দেখিনা। এর বিবিধ কারন হতে পারে। তখন টেলিভিশন চ্যানেল একটা ছিল। একটা থাকার কারনে প্রত্যেকে গুরুত্বের সাথে অনুষ্ঠান নির্মাণ করতো। এখন অনেক টেলিভিশন চ্যানেল থাকায় গুরুত্বের সাথে অনুষ্ঠান নির্মাণের চেয়ে নিয়মিত অনুষ্টান নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। যেহেতু দেশে এখন অনেক গুলো টেলিভিশন  চ্যানেল। কাজেই প্রতিযোগিতাও বেশী। টিকে থাকার জন্য অর্থের ব্যাপারটাই এখন সব চেয়ে গুরুত্বপুুর্ন। সুতরাং অর্থের কথা চিনৱা করতে গিয়ে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের মান আসলে যে ধরনের হওয়া দরকার প্রকৃতপক্ষে সে ধরনের হয় না। অথচ দর্শকের চাহিদা কিন্তু একটি ভালো অনুষ্ঠানের প্রতিই। তারা টেলিভিশনে একটি ভালো অনুষ্টান দেখতে চায়। ব্যতিক্রম কিছু দেখতে পছন্দ করে। টেলিভিশনে জীবনের ঘটনা দেখতে চায়। অনেকে হয়তো বলবেন দাঁত ব্রাশও তো জীবনের অংশ। হ্যা জীবনের অংশ। তা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু দেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কে বলবে! একথা বলার একমাত্র কারন হলো টেলিভিশনে যা কিছু হবে তা বিশেষই হওয়া উচিৎ। তা নাহলে দর্শক আলাদা আয়োজন করে টেলিভিশনের সামনে বসবে না। দর্শক সাধারন অসাধারন যেমনই হোন চমৎকৃত ও বিস্ময় সৃষ্টিকারী বিষয় না হলে টেলিভিশনের সামনে আগ্রহ নিয়ে বসতে চাইবেন না। টেলিভিশনকে বিশেষও বিবেচনা করবেন না। সে বিবেচনা না থাকলে টেলিভিশন সেট আর আলমারির পার্থক্য ঘুঁচে যায়। সে পার্থক্য আমরা কতটা প্রমাণ করতে পারছি সেটাই দেখার বিষয়।

ছোটকাকুর ওপর কথা বলতে গিয়ে এতকথা বলার কারণ হলো পরিস্থিতি বোঝানো। সময়টাকে বোঝানো। আগে যেমন আমরা বিশেষ কিছু বিষয়ের ওপর মানুষের আগ্রহ দেখতাম এখন আসলে তা দেখি না। এটাই বর্তমান। এমন একটা সময়ে ছোটকাকু কতটা আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে সেটাই হলো বড় প্রশ্ন। এটা যখন ভাবি তখন আমার সামনে অনেক গুলো বিষয় সামনে এসে দাঁড়ায়। একটা হচ্ছে এই গল্পটা পাঠকের কাছ অনেক জনপ্রিয়। শিশু-কিশোরদের খুবই প্রিয় উপন্যাস। ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। সুতরাং যেটি মানুষ আগে পড়ে সেটি টেলিভিশনের পর্দায় দেখার জন্য একটা আলাদা আগ্রহ থাকে। ছোটকাকুর ক্ষেত্রে এই আগ্রহ ব্যাপক। একই সাথে টিভিতে যারা নিয়মিত দেখছে তাদের অনেকেই বিজ্ঞাপনের যন্ত্রনার কথাও বলছেন। একটা গোয়েন্দা কাহিনীকে তারা কোনো বিরতি ছাড়াই দেখতে চায়। এই অভিযোগ প্রমাণ করে যে ছোটকাকু দেখার ব্যাপারে দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ছোটকাকুর ৭টি উপন্যাস নিয়ে টেলিভিশন নাটক নির্মিত হয়েছে। নাটকটি যখন টিভিতে প্রচার হয় তখন টিভিতে স্ক্রলে একটি ফোন নম্বর দেওয়া থাকে। এর ফলে আমরা দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটা দারুনভাবে বুঝতে পারি। ভালো-মন্দ উপলব্দি করতে পারি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- ইতিমধ্যে ছোটকাকুর ৭টি গল্পের নাট্যরূপ প্রচার হয়েছে। ছোটকাকু আসলে কোথায় দাড়াল? কোন অবস্থানে পৌছাতে পেরেছে? আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে এই নাটকটি নির্মাণ করি। যেমন কুয়াকাটার গল্পের জন্য কুয়াকাটায় গিয়েছি, রাঙ্গামাটির গল্পের জন্য রাঙ্গামাটিতে গিয়েছি। সাতক্ষীরার গল্পের জন্য সাতক্ষীরায় গিয়েছি। দিনাজপুরের গল্পের জন্য দিনাজপুর গিয়েছি। অর্থাৎ যে অঞ্চলের ঘটনা নিয়ে গল্পটি লেখা হয়েছে আমরা সেই অঞ্চলেই ছুটে গিয়েছি। প্রথম গিয়েছিলাম কক্সবাজারে। তারপর থেকে যে বিষয়টি খেয়াল করছি। তা হলো- সর্বসৱরের মানুষের আনৱরিকতা। একটা হলো- যারা প্রশাসনে জড়িত আছেন তাদের ব্যাপক আগ্রহ। অন্যদিকে এলাকার নাট্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া। রীতিমত উৎসব শুরু হয়ে যায় ছোটকাকুকে ঘিরে। এর কারণ হলো তারা ভাবে এবারের নাটক তাদের এলাকাকে ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই বিষয়টি সবার জন্য আনন্দ আর উৎসবের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। আমরা বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনেক সহযোগিতা পাই। যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। যারা সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসেন তাদের চোখে-মুখে যে আনন্দ দেখি তখন মনে হয় ছোটকাকু সত্যি সত্যি সবার মাঝে একটা সাড়া ফেলেছে। আলাদা একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ  মানুষ পর্যনৱ আমাদেরকে সহায়তা করার জন্য আনৱরিক ভাবে এগিয়ে আসে। এই তালিকায় স্থানীয় থিয়েটার কর্মীদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। নাটকটির জন্য আমাদের বিপুল সংখ্যক অভিনেতা-অভিনেত্রীর প্রয়োজন হয়। ঢাকা থেকে বিপুল সংখ্যক অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। আমরা উৎসাহের সাথে স্থানীয় দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরকে নাটকটিতে যুক্ত করি। এই ক্ষেত্রে পরিচালক হিসেবে আমার ভালো লাগার জায়গাটা অনেক বিসৱৃত। ৭টি নাটকেই পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীর সাথে অপরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সমান তালে কাধে কাধ মিলিয়ে অভিনয় করেছে। অপরিচিতদেরকে দেখে একবারেও মনে হয়নি তাদের অনেকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছে। তাদের অভিনয় শৈলী আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে একটি কথা বলতে চাই। আমরা যখন ছোটকাকু নাটকটি নির্মাণ শুরু করি তখন আমাদের সামনে অনেক গুলো চ্যালেঞ্জ ছিল। চ্যালেঞ্জ গুলো হলো- আমরা যেমন সবুজ সাথী, ঠাকুরমার ঝুলি, কাজলা দিদি পড়ে বড় হয়েছি। আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাটুজল থাকে- এই কবিতা পড়ে বড় হয়েছি। কিন্তু এখনকার জেনারেশন তো আর এইসব কবিতা এইসব অনুভব নিয়ে বড় হচ্ছে না। তারা পৃথিবীর অনেক চমৎকার জিনিস ভিস্যুয়াল মিডিয়ায় দেখে ফেলেছে। সুতরাং যখন আমি একটা গোয়েন্দা গল্পের নাটক বানাব তখন আমাকে অনেক সচেতন থাকতে হবে। আমি জানি ছোটকাকুর অনেক দর্শক শার্লক হোমস এর ভক্ত। সে কারনে শুরুর দিকে আমি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম যে এই জেনারেশন ছোটকাকুকে আসলে কিভাবে নিবে। কারণ একটা গোয়েন্দা গল্পের কিছু কঠিন দিক থাকে। সেটি আমাদের পক্ষে অনেক সময় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। টেলিভিশনের জন্য একটি প্রডাকশন বানানো হবে। কিছু প্রফেশনাল কিছু নন  প্রফেশনাল লোকজন এখানে জড়িত থাকবে। এই বাসৱবতায় দর্শকদের জন্য একটি ভালো নাটক নির্মাণ করা বড়ই কঠিন। কিন্তু আমরা বোধকরি কাজটি এযাবৎ সফলতার সাথে সহজ ভাবেই করতে পেরেছি। এর কারণ হলো আমরা গল্প গুলো বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চলমান সমাজ বাসৱবতাকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়েছি। এপর্যনৱ ছোটকাকুর ২৯টি গল্প লেখা হয়েছে। তবে আমরা ২৫টি গল্প নিয়ে কাজটা শুরু করেছি। গল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সহজে কমিউনিকেট করা যায় এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। জটিল বিষয়গুলোকে সহজ করার চেষ্টা করেছি। গল্পে ছোটকাকু তো আছেনই। কিন্তু তার সাথে আরও তিনটি চরিত্র যেমন অর্ষা, সীমানৱ ও শরীফ সিঙ্গাপুরী যাকে এখন এস এস বলে ডাকা হয় তারাও কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমাদের টিভি দর্শক অনেক গোয়েন্দা সিরিজের সাথে পরিচিত। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ছোটকাকুকে সহজ সরল ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। যাতে তারা সিরিজটির গল্পে আনন্দ খুঁজে পায়, সিরিজটির ব্যাপারে তাদের আগ্রহ তৈরি হয়। গল্পটিকে যেনো আমাদেরই গল্পে মনে হয়, আমাদেরই আনৱরিক অনুভব যেনো গল্পে বিকশিত হতে পারে এই চেষ্টাই ছিল। ছোটকাকুর ৭ম আয়োজন সম্পন্ন  করতে পেরে মনে হচ্ছে আমরা বোধকরি সফল হয়েছি। কারণ দর্শক ছোটকাকুকে আনৱরিকভাবে গ্রহণ করেছে। তারা যে শুধু প্রশংসাই করেছে তা নয়। অনেকে ভুল ত্রুটিও ধরিয়ে দিয়েছেন। এটাকে আমরা সফলতা বলেই ধরে নিচ্ছি। এচিভমেন্ট বলতে আমরা সহজ কথায় প্রশংসাকে বুঝি। কিন্তু আমি মনে করি কোন কাজের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটিও একধরনের এচিভমেন্ট। কারণ দর্শক ছোটকাকুকে পছন্দ করছে বলেই ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয়াটা দায়িত্ব মনে করছে। যেমন একটা ঘটনার কথা বলি। এবার চ্যানেল আইতে ছোটকাকুর ৫ম পর্বটি প্রচারের দিন সকাল বেলা দেশের দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তি আমাকে ফোন  করেন। যাদের ক্ষেত্রে আশা করাই যায় না যে ছোটকাকুর মতো গোয়েন্দা কাহিনীর নাটক সকালে বসে টিভিতে দেখবেন। কিন্তু তারা দেখেছেন। দু’জনই বেশ অভিভূত। একজন পরিচয়ে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক। অত্যনৱ উৎসাহের সঙ্গে আকাঙ্খা প্রকাশ করলেন ছোটকাকু সিরিজে তিনি অভিনয় করতে চান। উভয়ের মনৱব্য- এ ধরনের নাটক আরও হওয়া দরকার। এই নাটকে আমাদের পারিবারিক ভ্যালুজকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। যা এই সময়ে সমাজের সর্বসৱরে খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা যে সময়টা অতিবাহিত করছি সেই সময়ে এই ধরনের পারিবারিক বন্ধন সমৃদ্ধ নাটক আরও বেশী প্রচার হওয়া দরকার। তাদের মনৱব্য- ছোটকাকু গোয়েন্দা কাহিনী হলেও গল্পে পারিবারিক আবেগ অনুভব সহজেই অনৱর ছুঁয়েছে। আমি তাদের মনৱব্যকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। ছোটকাকুর ৭ নম্বর গল্পের নাটক নির্মাণের পর এখন মনে হচ্ছে হ্যা আমরা সঠিক পথেই হাঁটছি।

তবে একটা জরুরি বিষয় হলো বর্তমান সময়টাকে বিবেচনায় নিতে হবে। এখন সেখানে ২৪টা টিভি চ্যানেল। মানুষের মনযোগ একেবারে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন। তার মধ্যে আমরা কিছুটা জায়গা করতে পেরেছি এটাইবা কম কিসে। বহু দর্শকের দাবি, ‘ছোটকাকুকে দায়িত্ব নিয়ে যেমন টেলিভিশনে প্রচার করছেন তেমনি সময় এসেছে এটাকে বড় পর্দায় নেবার।’ অর্থাৎ ছোটকাকুকে সিনেমায় নেওয়ার সময় এসেছে। এই জন্য সিনেমায় আসা উচিৎ যে আরও বেশী সংখ্যক দর্শক এর সাথে যুক্ত হতে পারবেন। বর্তমান সময়ে ছোটকাকুর মতো পারিবারিক বন্ধন সমৃদ্ধ গল্পের ছবি নির্মাণ হওয়া জরুরি। অনেকেই এব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরাও যারা এই প্রযোজনাটির সাথে জড়িত আছি তারাও ভাবছি এমন কিছু একটা করার। নাটকে ছোটকাকুর ব্যাপারে আমরা সবটাই যে ভালো করছি এমন কথা বলা যাবে না। তবে একথা বলতে পারি ছোটকাকুকে নিয়ে আমাদের সিনসিয়ারিটির অভাব নাই। যারা বলছেন ছোটকাকুকে নিয়ে এখন সিনেমা বানানো প্রয়োজন আমরা তাদের সাথে একমত।

আনন্দ আলো: ছোটকাকু এই নাটকটিতে আমরা দেশাত্ববোধের কথাও গুরুত্বের সাথে উচ্চারিত হতে দেখি। এব্যাপারে কিছু বলবেন।

আফজাল হোসেন: হ্যা এই বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যাদের জন্য এই নাটকটি বানাচ্ছি তাদের জন্য আসলে কোন দিক নির্দেশনা ছিল না। ধরা যাক এই নাটকের অডিয়েন্সের বয়স ১৬ বছর। পাঁচ বছর বাদ দিলাম। কারন ৫ বছর পর মূলত: তার বুঝে ওঠার সময় শুরু হয়। অর্থাৎ ১১ বছরের একটি কিশোর অথবা কিশোরীকে আমরা আসলে কি শিখিয়েছি? কতটা দেশাত্ববোধে উদ্ধুব্দ করেছি? এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে আমরা নাটকটিতে দেশাত্ববোধের কথা তুলে ধরেছি। এর ফলে হয়েছে কি যারা নাটকটির প্রতি প্রথম দিকে তেমন আগ্রহী ছিল না দুই/একটি পর্ব যাওয়ার পর আগ্রহী হয়ে উঠেছে। নাটকটির প্রতি তাদের আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। কাজেই প্রাথমিক যে একটা চেষ্টা সে ব্যাপারে বলা যায় আমরা সফল হয়েছি। একথা বলছি এই কারণে যে ছোটকাকু নামটা যাচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা ঘটনা দেখার চেষ্টা করছে। এটা যে তাদের জন্যই বানানো হয়েছে এটা তারা অনুভব করছে। এটি আগে কখনও ঘটেনি। একথা বলার একটি কারন হলো যে গত দশ বছরে টেলিভিশনে এমন কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। গত ৩ বছরে আমরা বোধকরি একটা পরিবর্তন আনতে পেরেছি।

তবুও একটা সহজ প্রশ্ন থেকে যায়- তিন বছরে আমরা আসলে কি করতে পেরেছি। গল্প লিখেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। আমি তার নাট্যরূপ দিয়ে চলেছি, অভিনয়ও করছি। এই জন্য কি দর্শক টেলিভিশনের সামনে বসবে? ব্যাপারটা আসলে এত সহজ না। তবে দর্শকের মধ্যে যদি মিনিমাম একটু বাঙালী চেতনা থাকে তিনি ছোটকাকুকে পছন্দ করবেন এটা আমরা এখন সাহস করে বলতে পারি। নাটকটি বানানোর সময় আমরা অনেক কিছুই খেয়াল রাখি। প্রত্যেক পর্বে পারিবারিক সম্পর্কটাকে গুরুত্ব দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। ভাই-বোনের সম্পর্কটা যে কত মধুর তা এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মধ্যে খুনসুটি আছে, ঝগড়াও হয়। কিন্তু তারা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবাসে। এটা কিন্তু নাটকটিতে বেশ স্পষ্ট। আবার ছোটকাকুর সাথে তাদের একটা শ্রদ্ধার সর্ম্পক রয়েছে। পাশাপাশি তার সাথে রয়েছে গভীর বন্ধুত্ব। অন্য একটি চরিত্র শরিফ সিঙ্গাপুরী যে কৌতুকময় একটি চরিত্র। অথচ তার মধ্যেও আছে অনাবিল ভালোবাসার বন্ধন। অর্থাৎ চরিত্রগুলোর মাধ্যমে আমরা একটা পারিবারিক গভীর বন্ধন দেখানোর চেষ্টা করেছি। আমরা একটা জেনারেশনেক বোঝানোর চেষ্টা করছি। সম্পর্ক কি, কর্তব্য কি, মানুষের সাথে মানুষের আচরণ, ভাব-ভাবনা কি রকম হওয়া উচিৎ সেটা বোঝানোর চেষ্টা করছি। পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কি হওয়া উচিৎ তাও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হচ্ছে। যেমন এবারের ৭ম গল্পে বলা হয়েছে আমি দেশকে ভালোবাসি। এই ভালোবাসি কথাটা বলবার আগে অনুভব করতে হবে। আসলে দেশ কি, ভালোবাসাটাই বা কি? আমরা সেই উপলব্ধিটাই এবার আরও বেশী করে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করেছি। এবারের গল্পে আরও একটি ছোট সত্যি ঘটনাকে বেশ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। রোজার দিন একটা গ্রামের বাজারে ছোটকাকু সবাইকে নিয়ে ইফতার করতে গেছেন। গ্রামের বাজার মানে তো আর শহরের মতো না। শহরের বাজারে যা পাওয়া যায় গ্রামের বাজারে তা পাওয়া মুশকিল। ইফতারের জন্য একটা দোকানে বেগুনি বানানো হচ্ছিল। এক একটা বেগুনির আয়তন এতই বড় যে কেউ পুরোটা খাওয়া সম্ভব না। বেগুনির দাম দেওয়ার জন্য দোকানীর হাতে টাকা দেওয়া হলো তখন সে টাকা নিতে অপারগতা জানাল। তার মনৱব্য- আপনারা যেহেতু খাবারটা খেতে পারেননি কাজেই আমি টাকা নিব না। টাকা নেওয়া আমার উচিৎ হবে না। ছোটকাকু তখন দোকানদারকে বলছে আমরা একটা বেগুনি খাওয়ার চেষ্টা করেছি। ওটাতো নষ্ট করেছি। কাজেই দামটা আপনি নেন। দোকানদার তখন বলছে- আমি দাম নিতে পারব না। কারণ আমি খাবারটাকে খাবারের মতো যোগ্য করে বানাতে পারিনি। এই ঘটনার পর সবাই হাট থেকে গাড়িতে উঠেছে। সবাই ঘটনার আকস্মিকতায় বেশ চুপচাপ। হঠাৎ সীমানৱ বলে ওঠে- আমরা নিশ্চয়ই সবাই সেই দোকানদারকে নিয়ে ভাবছি। সাথে সাথে সবাই সরব হয়ে উঠল। একজন বললো একজন সামান্য মানুষ কি অসামান্য অনুভূতি ছড়িয়ে দিল। সাথে সাথে আরেকজন বলল- এরাই হচ্ছে দেশের আসল মানুষ। যাদের জন্য আমাদের দেশটা ভালো আছে। অর্ষা বলছে, একটা মানুষ অভাবে আছে। তার টাকা দরকার। অথচ সে টাকার মায়া সহজেই ত্যাগ করতে পারে। অথচ যার আছে প্রচুর সে আরও চায়। ছোটকাকু নাটকে এভাবই সমাজের অসঙ্গতি, বৈষম্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

আনন্দ আলো: নাটকটিতে অর্ষা আর সীমানৱ ভাই বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছে। নাটক দেখার পর অনেকেই ধরে নিয়েছেন ওরা আপন ভাই বোন। এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে?

আফজাল হোসেন: হ্যা এই বিষয়টি আমাদেরকে বেশ আনন্দ দেয়। অনেকেই ধরে নিয়েছে অর্ষা আর সীমানৱ আপন ভাই বোন। কারন তাদের সম্পর্কটা সেভাবেই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু অর্ষা আর সীমানৱ নয়, ছোটকাকু, শরীফ সিঙ্গাপুরী সহ নাটকের এই চারটি চরিত্রকে দর্শক অনেক আপন করে নিয়েছে। একটা নাটকের ৪টি চরিত্রকে দর্শক মনে করছেন এরা অভিনেত্রা-অভিনেত্রী নন এরা আসল মানুষ। নাটকে তাদেরকে নিজ নিজ চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। ভাইবোন রিয়েল চরিত্র। ছোটকাকু রিয়েল চরিত্র। শরীফ সিঙ্গাপুরী রিয়েল চরিত্র। এটাই নাটকটির মূল আকর্ষণ। প্রতিটি চরিত্র স্বমহিমায় উজ্জ্বল। প্রত্যেকের চরিত্রের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। অর্ষা বয়সে বড়। সীমানৱ বয়সে ছোট। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ব্যবধানটা দু’জনই মেইনটেইন করে। আবার দু’জনই ভালো বন্ধু। একজনকে ছাড়া অন্যজনের চলে না। ছোটকাকু দু’জনেরই প্রিয় মানুষ। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে নাটকের নাম ছোটকাকু। অথচ ছোটকাকুকে নাটকে বেশী দেখা যায় না। আমি তখন তাদের বলি ছোটকাকু কাদের ছোটকাকু? অর্ষা আর সীমানৱর। কাজেই ওরাই এই নাটকের গোয়েন্দা। ওদেরকেই তো নাটকে বেশী দেখাটাই স্বাভাবিক। কারণ আসল গোয়েন্দা তো ওরা দু’জন। গোয়েন্দাগিরিটা জমে আসলে ওদের জন্যই।

আনন্দ আলো: শোনা যাচ্ছে ছোটকাকুকে অচিরেই বড় পর্দায় দেখা যাবে। অর্থাৎ এবার নাটক থেকে সিনেমায় যাবে ছোটকাকু…

আফজাল হোসেন: হ্যাঁ, আমরা সেরকমই একটা সিদ্ধানৱ নিয়েছি। নাটকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অর্ষা ও সীমানৱর বয়স বেড়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়তো ওদেরকে দিয়ে ছোটকাকু নাটকটি বানানো যাব না। কাজেই সময় থাকতেই ছোটকাকুকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাই। তবে এই মুহূর্তে চূড়ানৱ কিছু বলা যাচ্ছে না।

Simanto-Orshaছোটকাকুর জয় হোক

-অর্ষা

ছোটকাকু আমার অভিনয় জীবনের একটি বড় প্লাটফরম। এই নাটকটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে অনেক কিছু শিখেছি। নাটকটিতে একটি পারিবারিক বন্ধন আছে। যা আমার খুবই ভালোলাগে। সবচেয়ে বড় কথা দেশের বিশিষ্ট নির্মাতা আফজাল হোসেনের ডিরেকশনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। নাটকে তিনি আমাদের ছোটকাকু। বাসৱবেও অনেকটাই তাই। এই নাটকে ভাই-বোনের একটি সুন্দর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। সীমানৱ আমার ছোটভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করছে। অনেকের ধারনা আমরা আপন ভাইবোন। আফজাল হোসেন আমাদের সত্যিকারের ছোটকাকু। বিষয়টি আমি বেশ এনজয় করি। ছোটকাকুর জয় হোক।

বিষয়টি ভাবলেই বুকে সাহস পাই

-সীমান্ত

একটি ধারাবাহিক নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে পারার সৌভাগ্য কয়জনের হয়। যখন ভাবি দেশের টিভি মিডিয়ায় একটি জনপ্রিয় সিরিজে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছি, সেই নাটকটি বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা। নাটকটি নির্মাণ করছেন দেশের বিশিষ্ট অভিনেতা, নির্মাতা আফজাল হোসেন তখন বুকে সাহস পাই। গর্বে বুকটা ভরে যায়। ছোটকাকুতে আমি কতটা ভালো অভিনয় করতে পারছি তা বলতে পারব না। সেটা বলবেন দর্শক। তবে এই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে আমি অনেক কিছু শিখেছি। যা ভবিষ্যত জীবনে আমাকে সুন্দর পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করবে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।

ছোটকাকুর মত নাটক আরো বেশি হওয়া দরকার

-তানভীর হোসেন প্রবাল

তানভীর হোসেন প্রবাল। ছোটকাকু সিরিজের অন্যতম এক আকর্ষন। ছোটকাকু, অর্ষা, সীমানৱ আর শরীফ সিঙ্গাপুরী এই ৪টি চরিত্রকে ঘিরেই মূলত ছোটকাকু সিরিজটি এগিয়ে যাচ্ছে। শরীফ সিঙ্গাপুরী চরিত্রে অভিনয় করছেন তানভীর হোসেন প্রবাল। যিনি এখন এস এস নামেই পরিচিত। প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ছোটকাকু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের টিভি মিডিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যয়বহুল টিভি নাটক। এটি একটি গোয়েন্দা সিরিজ হলেও পারিবারিক মূল্যবোধ ও পারস্পারিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার কথাও বলে যাচ্ছে। নাটকটিতে একটি চমৎকার পারিবারিক বন্ধন দেখা যায়। অর্ষা আর সীমানৱ ভাইবোন। তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়, খুনসুটি হয়। অথচ তারা বেশ ভালো বন্ধু। ছোটকাকুর সাথে তাদের একটা ব্যবধান থাকলেও আছে শ্রদ্ধা আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আর শরফি সিঙ্গাপুরী? এক মজার চরিত্র। সে হাস্যরসের মাধ্যমে সবাইকেই ভালো রাখতে চায়। দেশের বর্তমান সময়ে ছোটকাকুর মতো পারিবারিক বন্ধন সমৃদ্ধ টিভি নাটক আরো বেশি হওয়া দরকার।

আমরা কোনো কম্প্রোমাইজ করিনা

-খন্দকার আলমগীর, প্রযোজনা প্রধান

ছোটকাকু হালের জনপ্রিয় টিভি গোয়েন্দা সিরিজ। এ পর্যনৱ ৭টি উপন্যাস নিয়ে সিরিজ নির্মিত হয়েছে। সিরিজের প্রতিটি পর্ব উপভোগ্য করার চেষ্টা করেছি আমরা। নাটকটি গোয়েন্দা সিরিজ হলেও এতে আছে পারিবারিক সেন্টিমেন্ট এবং টান টান উত্তেজনা। নাটকটি নির্মাণে আমরা কখনো কোনো বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করিনা।

ছোটকাকুর আওতায় এ যাবৎ ৭টি উপন্যাস টিভি নাটকে রূপ পেয়েছে। নাটকটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে অঞ্চলের কাহিনী সেই অঞ্চলে গিয়েই স্যুটিং করা হয়। ৭টি উপন্যাসের টিভি নাটকে এ যাবৎ প্রায় দেড়শ অভিনেতা অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। যাদের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার থিয়েটার কর্মীদের সংখ্যাই বেশি। পরিচালক আফজাল হোসেন মনে করেন ছোটকাকুতে যারা অভিনয় করছেন তারা অভিনেতা, অভিনেত্রী হিসেবে বেশ মেধাবী। একটি দৃশ্যেও যিনি অভিনয় করেছেন তার মাঝেও অভিনয়ের বিশাল সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন। তাঁর মনৱব্য- এরাই হবে আগামী দিনের তারকা। তাদেরই ৪ জন যথাক্রমে এ কে আজাদ সেতু, সাজ্জাদ রাজীব, মুনিয়া ও আশীষ খানের সাথে আমরা আনন্দ আলোয় আড্ডা দিয়েছিলাম। সাথে ছিলেন ছোটকাকু সিরিজের প্রযোজনা প্রধান খন্দকার আলমগীর।

ছোটকাকু আমার ভালো কাজের প্রেরণা

-মুনিয়া

ছোটকাকুর এবারের পর্ব কুয়াকাটায় কাটাকাটিতে অভিনয় করেছেন মুনিয়া। তিনি এর আগে দিনদুপুরে দিনাজপুরেতেও অভিনয় করেছেন। প্রসঙ্গ তুলতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বললেন, ছোটকাকুতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি বেশ খুশি। বিশিষ্ট অভিনেতা, নির্মাতা আফজাল হোসেনের সাথে কাজ করতে পারাটা অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। কুয়াকাটায় যুক্ত হয়ে তার কাছ থেকে অভিনয়ের ক্ষেত্রে অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি। ইনফেক্ট এখনও শিখছি। ছোটকাকু এখন নাটকের বাইরেও একটি ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে। কাজেই এই ব্রান্ডের সাথে জড়িত হতে পেরেছি এটা আমার জন্য বড় এচিভমেন্ট। আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ভালো মানুষ হওয়া। ছোটকাকু আমাকে প্রতি নিয়ত সেই প্রেরণা দিয়ে চলেছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। উল্লেখ্য, কুয়াকাটায় কাটাকাটিতে মুনিয়া অহনা মুসৱাফিজ নামে একজন টিভি রিপোর্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

নিজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পাচ্ছি

-আশীষ খান

আশীষ খান দেশ নাটকের একজন কর্মী। বিটিভির আলেচিত অনুষ্ঠান সিসিমপুরে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ছোটকাকুর কুয়াকাটায় কাটাকাটি পর্বে এবার অভিনয় করেছেন। প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ছোটকাকুর মতো একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করতে পারাটা একজন অভিনেতার জন্য অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমি সেই সুযোগ পেয়েছি। এটি একেতো বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের উপন্যাস, পাশাপাশি দেশ বরেণ্য নির্মাতা আফজাল হোসেন এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। কাজেই এখানে কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারলেও অনেক কিছু শেখার আছে। ছোটকাকু আমার মাঝে ভালো কাজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আমি একজন সুঅভিনেতা হতে চাই। আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই।

ছোটকাকু সেই বিশ্বাস এনে দিয়েছে

-এ কে আজাদ সেতু

এ কে আজাদ সেতু। ছোটকাকুর কুয়াকাটায় কাটাকাটিতে এবার ফাদার বেনাস ডি গঞ্জালেস নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এর আগে ছোটকাকু সিরিজের দিন দুপুরে দিনাজপুরেতেও অভিনয় করেছেন। প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ছোটকাকুতে অভিনয় করতে পারা একজন অভিনয় শিল্পীর জন্য অনেক বড় ব্যাপার। একজন দক্ষ অভিনেতা ও পরিচালকের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে একটি ক্লাসরুমের সাথে তলুনা করা যায়। আফজাল হোসেন সে রকমই একজন গুণী মানুষ। যার কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছু শিখছি। যা আমার অভিনয় জীবনে অনেক কাজে দিবে। সেতুর ভবিষ্যৎ ভাবনা অভিনয়কে ঘিরেই। দৃঢ়কণ্ঠে বললেন- অভিনয় এবং অভিনয় ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারি না। অভিনয়ের ক্ষেত্রে শুধু দেশে নয় আনৱর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজেকে তুলে ধরতে চাই। ছোটকাকু আমাকে সেই সাহস ও বিশ্বাস এনে দিয়েছে।

ছোট কাকুতে যুক্ত হতে পারাটাই একটা অভিজ্ঞতা

-সাজ্জাদ রাজীব

সাজ্জাদ রাজীব। ছোটকাকুর কুয়াকাটায় কাটাকাটিতে এবার আলাউদ্দিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ছোটকাকুতে অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল অনেদিন থেকেই। এবার সেই ইচ্ছে পুরণ হয়েছে। ছোটকাকু’ এখন আর শুধু একটি নাটক নয়। এটি একটি ব্রান্ডও বটে। তাই এখানে যুক্ত হয়ে অনেক কিছুই শিখতে পারছি। যা ভবিষ্যতে আমার অভিনয় জীবনে অনেক কাজে দিবে। বিশেষ করে আফজাল হোসেনের মতো গুণী অভিনেতা ও পরিচালকের সাথে কাজ করতে পারার অভিজ্ঞতাই তো অনেক বড় ব্যাপার। আমি ঢাকা থিয়েটারের সাথে যুক্ত আছি। দীর্ঘদিন মঞ্চে কাজ করছি। ছোটকাকুর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমি অনেকদূর যেতে চাই।