সততা ও নিষ্ঠাই ইফতেখারের কাজের প্রেরণা

সততা ও নিষ্ঠাই ইফতেখারের কাজের প্রেরণা

102
SHARE
iftekhar

দেশ প্রেম, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে স্থাপত্য শিল্পে কাজ করে চলেছেন ইফতেখার হাসান। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পাস করে বের হওয়ার পরপরই তিনি যোগ দেন রূপায়ণ হাউজিং কোম্পানিতে। সেখানে দেড় বছর চাকরি করার পর সহকারী স্থপতি হিসেবে যোগ দেন স্থাপত্য অধিদপ্তরে। সেখানে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাঁচ বছর কাজ করেন। ২০১০ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজে গড়ে তোলেন ‘স্থাপনা কৌশল’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন তৈরি করেছেন। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেনÑ মোহাম্মদ তারেক

চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট স্থপতি ইফতেখার। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলায়। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। বাবার নাম মহিউদ্দিন আহমেদ। মা ইসমত আরা গৃহিণী। ইফতেখারের ছবি আঁকা আঁকির বীজটা ছোটবেলায় রোপণ হয়েছিল। যেখানেই ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা হতো সেখানেই তাকে দেখা যেত। ছবি আঁকার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল আর্কিটেক্ট হওয়া। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি হয়েছেন একজন সফল স্থপতি। রংপুর জেলা স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৫ সালে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। স্থাপত্য নিয়ে পড়াশোনাকালীন সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে আছেন স্থপতি লিমন, ফয়সাল, রাহাত, মহিউদ্দিন ও জাহিদ। এরা সবাই প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেক্ট। তার প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় আছেন স্থপতি সামসুল ওয়ারেশ ও মুস্তাফা খালিদ পলাশ। ইফতেখার হাসান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বিষয়ে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন ২০০৩ সালে। পাস করে বের হওয়ার পরপরই তিনি যোগ দেন ‘রূপায়ণ হাউজিং কোম্পানিতে’। সেখানে তিনি দেড় বছর চাকরি করেন। তারপর ২০০৫ সালে তিনি স্থাপত্য অধিদপ্তরে সহকারী স্থপতি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাঁচ বছর কাজ করেন। ২০১০ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজে গড়ে তোলেন ‘স্থাপনা কৌশল’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। খিলগাঁও চৌধুরী পাড়ায় খুব সুন্দর একটি অফিস সাজিয়েছেন। ইতোমধ্যে ইফতেখার দেশের নামকরা ফ্যাক্টরি বিল্ডিং, কমার্শিয়াল বিল্ডিং, হসপিটাল, গার্মেন্টস, অফিস বিল্ডিং, স্কুলসহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÑ আশুলিয়ার আলিফ গ্রæপের গ্রীণ ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স, নোয়াখালী মাইজদির এশিয়া হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার, গুলশান এভিনিউর বিএনএস গ্রæপের ইন্টেরিয়র ডিজাইন, বাসাবোর সিনা কমপ্লেক্স স্কুল, ধানমন্ডির জাভেদ মামুন-এর আবাসিক ভবন, আফতাবনগরের এএলজেড-এর আফতাবনগর, উত্তরার এনভয় গ্রæপের প্রজেক্ট, নারায়ণগঞ্জের রূপায়ণ হাউজিং-এর হুজাইফা অ্যাপার্টমেন্ট, আশুলিয়ার দেওয়ান ট্রেড সেন্টার, আলিফ গ্রæপের মেহনাজ গার্মেন্টস, ধানমন্ডির নগর হোমস-এর সপ্তডিঙ্গা, বাসাবোর ইবনেসিনা মডেল স্কুল, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদের তনু টাওয়ার, কাঁঠালগঞ্জের সোবহান টাওয়ার, Shah-cement-prমালিবাগের কমরউদ্দিন টাওয়ার, নবাবপুরের এসকেপিএল-এর কমার্শিয়াল ভবন, আশুলিয়ার আলিফ গ্রæপের অ্যাম্ব্রয়ডারি ভিলেজ, বাড্ডার মিলিনিয়ম স্কয়ার বাণিজ্যিক ভবন, বারিধারার ডোমেন্ট ড্রীম, চিটাগাং লাল খান বাজারের বিএনএস গ্রæপের কনডেমিনিয়াম প্রজেক্ট, বারিধারার মি: আকবরের আবাসিক ভবন, সার্কেল প্রপার্টিজের বিভিন্ন প্রজেক্টসহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র কাজ করেছেন। ইফতেখার তার সবধরনের কাজ স্থাপত্যনীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন। ২০০২ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম মারজিয়া হাসান। এই দম্পতি দুই সন্তানের জনক-জননী।

স্থপতি ইফতেখার বলেন, আমি ডিজাইনের শুরুতে ক্লায়েন্টের চাহিদা বিস্তারিত বুঝে নেবার চেষ্টা করি। সঙ্গে সাইটের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাটুকু সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য চলে সূ² হিসেব নিকেশ। শুরু হয় স্কেচ-সহজ সরল রেখার বিন্যাস আর বেসিক জিওমেট্রিক ত্রিমাত্রিক কম্পোজিশন। প্রকৃতির সঙ্গে নিখুঁতভাবে ভারসাম্য চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে নির্মিতব্য ভবনটির খাপ খাওয়ানোর প্রয়াস থাকে একই সঙ্গে। ভবনটির প্রতিটি পরিসরে প্রকৃতির আলো, বাতাস কিংবা জানালা বা ব্যালকনির ফ্রেমে সুন্দরতম দৃশ্যটি নিশ্চিত করাও আমার ডিজাইনের এক অপরিহার্য দিক। এরপর অন্যান্য গাণিতিক ডিটেইলের সঙ্গে চলে ব্যবহার কারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ, স্পেসগুলোর সুন্দরতম ব্যবহার উপযোগিতা আর সহজাত বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল নির্বাচন। ডিজাইন সম্পন্ন হলেও নির্মাণকালিন তত্ত¡াবধানের সঙ্গেও আমি সম্পৃক্ত থাকি।

বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি ইফতেখার। পাশাপাশি পেশার কাছে দায়বদ্ধ থেকে সেটাকে সততার সঙ্গে শেষ করতে তৎপর থাকেন সর্বদা। স্থাপত্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থপতি ইফতেখার বলেন, বিল্ডিং ডিজাইন এবং কন্সট্রাকশনে আরও উচ্চ প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটাতে চাই। আরও ভালো কাজ উপহার দিতে চাই।