সজলের এই কান্নার অর্থ কী!

সজলের এই কান্নার অর্থ কী!

SHARE

সৈয়দ ইকবাল: কাঁদছেন অভিনেতা সজল। তাও আবার অভিনেত্রী উর্মিলার সামনে। সজলকে কাঁদতে দেখে লোকজনের ভিড় লেগে গেলো। ভীড় লাগারই কথা। জনপ্রিয় একজন অভিনেতা কাঁদছেন। বিষয়টা অনেকের কাছে বেশ আগ্রহের জন্ম দিলো। সজল যে শুধু কাঁদছেন তা কিন্তু নয়, উর্মিলার কাছে নিজের কিছু আকুতির কথাও জানাচ্ছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! মানুষের ভিড় বাড়ছে। সজলের কান্নাও বাড়ছে। উর্মিলার কিছুটা সহানুভূতি দেখা গেলো। ঠিক এমন সময় একটা ‘কাট’ শব্দ শোনা গেলো। পরিচালক ইকবাল ইব্রাহিম পলাশ সজল আর উর্মিলার কাছে এগিয়ে এলেন। কেউ একজন পাশ থেকে বলে উঠলো-‘ ও এটা শুটিং…’।

হ্যাঁ, পাঠক মাহবুব করিমের গল্প ভাবনা ও হাসি ইকবালের রচনায় ‘অবশেষে’ নাটকের শুটিংয়ের একটি দৃশ্য। উত্তরায় দিয়া বাড়িতে নাটকের একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় এমনটাই চোখে পড়ে। পরিচালক দৃশ্যটি সজল আর উর্মিলাকে আবার বুঝিয়ে দিলেন। আরেকবার নেয়া হলো দৃশ্যটি। একই জায়গায় আরও একটি দৃশ্য নেয়া হবে। এবারের দৃশ্যে দু’জনে রোমান্টিক পরিবেশে কথা বলবেন। প্রথম শট ট্রলি করে নেয়া হলো। এরপর ক্লোজ শর্ট নেয়া হলো। পুরো শুটিং ইউনিট এবার দিয়াবাড়ি থেকে শুটিং হাউজে চলে আসবে। তাই ইউনিট প্রস্তুতি নিলো শুটিং প্যাকআপ করার জন্য। প্রচন্ড রোদে পুরো ইউনিটের অবস্থা কাহিল। তারপরও শুটিং বলে কথা। রোদ আর গরমকে উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে সবাইকে। এরই মধ্যে পরিচালকের সঙ্গে কথোপকথন।

নাটকটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত পরিচালক ইকবাল ইব্রাহিম পলাশ। কথায় কথায় বললেন, ‘নাটকের গল্পটা চমৎকার। গল্পে ভিন্ন ধরনের ভালোবাসার সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। গল্পটা হচ্ছে- অনন্য আর দীপ্ত দু’জন দু’জনকে ভালোবাসে। দীপ্ত অনেক বড় লোকের ছেলে আর অনন্যা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তাদের ভালোবাসার কথা একসময় দুই পরিবারে জানাজানি হয়। দীপ্তর বাবা শরাফত অনন্যার বাবাকে দেখা করতে বলে তাদের বিয়ে পাকাপাকি করার জন্য। অনন্যার বাবা জাহাঙ্গীর দীপ্তর বাবার সাথে দেখা করার জন্য তার অফিসে যান। কিন্তু অফিসে গিয়ে দীপ্তর বাবাকে দেখে চমকে উঠেন জাহাঙ্গীর । কেননা তাদের মধ্যে পূর্ব পরিচয় ছিলো। দীপ্তর বাবার সাথে অনন্যার ফুফুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিন্তু দীপ্তর বাবা তাকে ফেলে যাওয়ার কারনে সে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল। অনন্যার বাবা দীপ্তর বাবাকে দেখার পর তার সেই পুরোনো কথা মনে পড়ে যায়। তিনি অনন্যাকে দীপ্তর সাথে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। দীপ্তর বাবা ভয়ে থাকেন যদি দীপ্ত তার অতীত অপকর্মের কথা জেনে যান তাই তিনি তার সহকর্মী মিজানের মাধ্যমে অনন্যাকে অপহরন করেন। অন্যানার বাবা বাধা দেয়াতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দীপ্ত অনন্যাকে পাগলের মত খুঁজতে থাকে। অনন্যাদের ভাড়া বাসা থেকে শুরু করে যেসব জাগয়ায় তারা দেখা করতে যেত সে জায়গাগুলোতে সে খুঁজতে থাকে অনন্যাকে। কিন্তু অনন্যাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। একসময় দীপ্ত মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অবশেষে দীপ্তকে দেখা যাবে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে রাসত্মায় পড়ে থাকবে আর পাশে দেখা যাবে পতিতার বেশে অনন্যাকে কাস্টমারের সাথে কথা বলতে। এরপর? তা জানতে হলে ‘অবশেষে’ নাটকটি দেখতে হবে।’ প্রায় এক নিঃস্বাশে গল্পটা বললেন পরিচালক। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বললেন, ‘আসলে নাটকের শেষে একটা আলাদা চমক আছে। যা দেখে দর্শক বেশ আনন্দ পাবেন।’

ছাতার নীচে বসে আছেন সজল আর উর্মিলা। দু’জনে গরমে বেশ ঘামছেন। খুনসুটি করছেন দু’জনে। সজলের কাছে উর্মিলা জিজ্ঞাসা করলো, ‘সজল ভাইয়া আমার অভিনয় ঠিক ছিলো? মানে লুকটা ঠিক হয়েছে?’ সজল কিছুটা মজা করে বললেন, ‘হুম, হয়েছে মানে? একদম একশোতে একশ।’ এরইমধ্যে নাটকটি নিয়ে কথা হলো। সজল বললেন, ‘নাটকের গল্পে একটা টুইস্ট আছে। দর্শক দেখে বেশ আনন্দ পাবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমি আর উর্মিলা এই নাটকে ভিন্ন কিছু গেটআপে হাজির হয়েছি। যা দর্শক দেখে সত্যি অভিভূত হবে।’ উর্মিলা নাটক প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দর্শকদের উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘এই যে আমরা এতো রোদ আর গরম উপেক্ষা করে কাজ করছি কী লাভ বলেন? আমাদের নাটক দর্শকরা দেখছেন না। অথচ বর্তমানে আমাদের নাটকের মান বেড়েছে। কতো অল্প বাজেটে কী দারুণ সব গল্প নিয়ে নাটক নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু দর্শক আর আগের মতো টিভি নাটক দেখে না। ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের প্রতি দর্শকদের সব ভালোলাগা- ভালোবাসা। পাশ্ববর্তী দেশের মতো গল্প নিয়ে সিরিয়াল নির্মাণ করলে কিন্তু আমাদের পারিবারিক-সামাজিকভাবে যায় না। ফলে আমাদের দেশের দর্শক সেখানে নতুনত্ব পাচ্ছে বলে দেখছেন। কি আর বলবো!’ উর্মিলা কথাগুলো বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এরইমধ্যে ইউনিট থেকে ডাক আসলো গাড়িতে উঠার জন্য। গাড়িতে বসেই কথা হলো নাটক নিয়ে উর্মিলার সঙ্গে। বললেন, ‘ভিন্নধর্মী নাটক ‘অবশেষে’। আমার চরিত্রটাও ভিন্ন। কাজটা করে আনন্দ পেয়েছি। আশা করছি দর্শকরা নাটকটি দেখে হতাশ হবেন না।’

উল্লেখ্য, বিবেক মাল্টিমিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন্স লি থেকে প্রযোজিত ‘অবশেষে’ নাটকে সজল ও ঊর্মিলা শ্রাবনত্মী কর ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন আব্দুল হান্নান শেলী, শাহেলা আক্তার, লায়ন মোঃ জসিম উদ্দিন, মোঃ শাহজাহান (মিজান) প্রমূখ।