শো-বিজ ফিউচার জেনারেশন

শো-বিজ ফিউচার জেনারেশন

245
SHARE
Cover-13-12-1

গত ঈদে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘বড়ছেলে’ নামে একটি টেলিফিল্ম প্রচার হয়েছিল। ইউটিউবে এই টেলিফিল্ম-এর ভিউয়ার সংখ্যা অনেক। বড়ছেলের অনুকরণে আরও কিছু কৌতুকপূর্ণ নাটিকাও ইউটিউবে সয়লাব হয়েছে। টেলিফিল্ম-এর বড়ছেলেকে নানামুখি পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়ে ‘ফানি’ টাইপের মিনি নাটকও বানিয়েছেন অনেকে। বাংলাদেশের টেলিভিশন দর্শকের কাছে ‘বড়ছেলে’ টেলিফিল্মটি এ যাবৎকালের সেরা পছন্দ বলে অনেকে মনে করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে চোখে চোখে, মুখে মুখে শুধু দেশে নয় বিদেশেও বাংলা ভাষাভাষি টিভি দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে বড়ছেলের ম্যাসেজ। বড়ছেলে প্রমাণ করেছে দেশের টেলিভিশন মাধ্যমে অনেক ভালো নাটক হচ্ছে এবং টিভি নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আনন্দের খবর হলো, এই যে বড়ছেলের এতো প্রশংসা হলো তার নির্মাতা একজন তরুণ পরিচালক। নাম মিজানুর রহমান আরিয়ান। সদা হাস্যোজ্জল মিষ্টিমুখের এই তরুণ নির্মাতা তার নির্মাণ ভাবনায় পরিবারকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা যে যাই বলি না কেন দিন শেষে তো পরিবারের কাছেই ফিরে যাই। পরিবারই হলো মানুষের আসল ঠিকানা। পরিবার টিকে থাকে ভালোবাসা ও মায়ার বন্ধনে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ হয়ে ওঠেন পরিবারের আইডল। কারও কারও ত্যাগ, তিতিক্ষার ফলেই পোক্ত হয় পরিবারের বাঁধন। এটাই বড়ছেলের কাহিনীর মূল সুর। বড়ছেলে টেলিফিল্মটি জনপ্রিয় হবার মূল কারণ কাহিনীতে কোনো ঘোরপ্যাচ নেই। সহজ সরল কাহিনী। অথচ দেখে মনে হবে এতো আমারই গল্প। আমার পরিবারেরই গল্প।

পরিবারের কথা যখন উঠলো তখন একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি। টেলিভিশন মাধ্যমকেও তো আমরা একটা পরিবার বলি। পরিচালক, নাট্যকার, প্রযোজক, অভিনেতা অভিনেত্রীসহ অন্যান্য সকল সেক্টর মিলে এই পরিবারের সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার। এই পরিবারেও বাবা মা, ভাইবোন, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন আছে। নিজ নিজ পরিবারের চাইতে শোবিজের এই বৃহৎ পরিবারের সাথেই রাতদিন ২৪ ঘন্টার বড় অংশ কাটান অনেকে। সে কারনে এই পরিবারের মায়া ও ভালোবাসার বন্ধনটা একটু অন্যরকম। অনেক বড় পরিবার বলে সহজেই বোঝা যায় না কে কতটা মেধা ছড়াচ্ছে। বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করেছি বলেই আনন্দ আলোর এবারের শীর্ষকাহিনী হয়েছে- শোবিজ, ফিউচার জেনারেশন।

পাঠক, একটু খেয়াল করলেই দেখবেন শুধু আরিয়ান নয় বর্তমান সময়ে উল্লেখযোগ্য তরুণ-তরুণী আমাদের শোবিজে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অভিনয়, গান, মডেলিং, খেলাধুলাসহ সব ক্ষেত্রেই তারুণ্যেরই জয় জয়কার। দেশের টেলিভিশন নাটকে একঝাঁক তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রীর উজ্জ্বল উপস্থিতি আমাদের শোবিজে আশার সঞ্চার করেছে। তাদেরই কয়েকজনকে নিয়ে এবারের শীর্ষকাহিনী সাজানো হলো।

শোবিজের এই তুর্কী তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে আমাদের ছোট্ট একটি প্রত্যাশা আছে। বন্ধুরা, প্রতিভার আলো ছড়িয়ে আপনারা আমাদের শোবিজকে এগিয়ে নিচ্ছেন এজন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। একটা কথা মনে রাখবেন, দেশের শোবিজের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কিন্তু আপনাদেরকেই দিতে হবে। এজন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন। সেটা কি রকম? সহজ উত্তর আছে। অনেকে মনে করেন পাশের দেশের টেলিভিশন আমাদেরকে গিলে খাচ্ছে। কাজেই তাদের ধারার নাটক বানিয়ে আমরাও তাদেরকে গিলে খাব। বিশেষ অনুরোধ এই মানসিকতাকে মোটেই গুরুত্ব দিবেন না। বরং এই মানসিকতার বিপরীতে ভূমিকা রাখবেন। একজন আরিয়ান তো প্রমাণ করেছেন আমরা আমাদের নাটকে আমাদের কাহিনী আমাদের মতো করে বলার সাহসতো রাখি। কাজেই অভিনেতা অথবা অভিনেত্রী হতেই হবে এই মানসিকতার নিজস্ব সংস্কৃতির পরিপন্থি কোনো উদ্যোগকে প্রশ্রয় দিবেন না। জয় হোক তারুণ্যের।

এগিয়ে যাচ্ছে সিয়াম

২০১২ সালে শোবিজে সিয়ামের যাত্রা শুরু হয়। সিটিসেলের একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে তার পথচলা। এরপর একে একে নাটক-টেলিফিল্ম এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করেন তিনি। ধারাবাহিক নাটকেও সিয়ামের উপস্থিতি ছিল। ‘নাইন এন্ড এ হাফ’, সুপারস্টারসহ বেশকিছু ধারাবাহিকে তিনি অভিনয় করেন। গত দুই ঈদে সিয়ামের অভিনীত বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের নজর কাড়ে। বর্তমানে সিয়াম ‘পোড়ামন-২’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে সিয়াম ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু পরের বছর ভর্তি হন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি আইন বিষয়ে ¯œাতক সম্পন্ন করে। কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্য থেকে বার অ্যাট ল পড়ে আসেন তিনি।

গ্ল্যামার কন্যা তানজিন তিশা

ফ্যাশন শুট ও র‌্যাম্প মডেলিংয়ের মাধ্যমে তানজিন তিশার মিডিয়ায় যাত্রা শুরু। বিজ্ঞাপন, টিভি নাটক, টেলিফিল্মসহ প্রায় সব জায়গায় কাজ করছেন তিনি। মিউজিক ভিডিওতেও তিশার রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। ইমরান, হাবিবসহ বেশ কয়েকজন নামিদামি সংগীত শিল্পীর গানে তিনি মডেল হন। ছোটবেলায় তানজিন তিশা নাচ শিখেছেন। তবে পরবর্তীতে নাচের দিকে তিনি আর যাননি। সিদ্ধেশ্বরী গার্ল হাইস্কুল ও কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ফিল্ম এন্ড মিডিয়া নিয়ে পড়াশোনা করতে চাচ্ছেন এই গø্যামার কন্যা। কিছুদিন আগে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে মিডিয়ায় বেশ সমালোচিত হন তিশা।

অভিনেতা হতে চান এলেন শুভ্র

ভালো গতানুগতিকের বাইরে সব চরিত্রে কাজ করার জন্য এলেন শুভ্রের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। অভিনয়ের উপর প্রাচ্যনাট থিয়েটার থেকে ছয় মাসের কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। তাঁর প্রথম টিভি নাটক ছিল অমিতাভ রেজা পরিচালিত ‘ইচ্ছে হলো’ এরপর একে একে প্রায় ১০০টিরও বেশি নাটকে তাকে দেখা গেছে তাকে। গত রোজার ঈদে ‘বিকেল বেলার পাখি’ নাটকে অভিনেতা ফজলুর রহমানের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করে শুভ্র বেশ প্রশংসা পান। শুভ্র নটর ডেম কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে এমবিএও করেছেন। বড় পর্দাতেও এলেন শুভ্র অভিনয় করেছেন। অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ ছবিতে একজন বোবা ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন।

তাসনুভা তিশার ব্যস্ততা

বিজ্ঞাপন দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন তাসনুভা তিশা। এরপর টিভি নাটকে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে তিনি বেশকিছু খÐ নাটক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। মিউজিক ভিডিওতেও মডেল হয়েছেন তাসনুভা তিশা। মিডিয়ায় বিবাহিত মেয়ের অনেক সমস্যা হয় অনেকেই নেতিবাচক এই মন্তব্য করে থাকেন। কিন্তু তাসনুভা তিশার বেলায় এটা একেবারেই যায় না। তাসনুভা তিশা একজন বিবাহিত তার স্বামী একটি অ্যাড এজেন্সিতে কাজ করেন। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাসনুভা তিশা বলেন, আসলে অনেকেই মিডিয়ায় কাজ করলে স্বামী সন্তান্তের কথা লুকিয়ে রাখে। তারা মনে করে মিডিয়ায় তাদের কাজের মধ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু আমি বিবাহিত এই পরিচয় দিতেই গর্ব বোধ করি।

জোভানের পথচলা

ফারহান আহমেদ জোভান। সবার কাছে তিনি জোভান নামেই পরিচিত। প্রথম অভিনীত নাটক প্রচারের পরই আলোচনায় আসেন জোভান। জানালেন, ২০১৩ সালে আতিক জামানের ইউনিভার্সিটি ধারাবাহিকে প্রথম অভিনয় করেন। নাটকটি প্রচারের পর থেকে অভিনয়ে আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে। কিন্তু তাঁর শুরুর পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাঁকে। জোভানের মতে, বাংলালিংক সেলফি আর গাজী টিভি এই দুটি বিজ্ঞাপন তাঁকে মজবুত অবস্থান তৈরি করে দেয়। এখন নাটক, বিজ্ঞাপন দুই জায়গায় সমান তালে কাজ করছেন তিনি। নতুন সম্ভাবনাময় অভিনয়শিল্পী হিসেবে নির্মাতাদের কাছে আস্থার জায়গায় পৌঁছে যান জোভান। চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন জোভান। অনন্য মামুনের অস্তিত্ব চলচ্চিত্রে তিশার ভাইয়ের চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।  এক ভাই আর এক বোনের মধ্যে জোভান বড়। ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করবেন। কিন্তু বাবা-মায়ের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে এখন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) বিবিএ পড়ছেন তিনি।

সম্ভাবনাময়ী সাফা!

সাফা কবির, বলা যায় এই সময়ের সম্ভাবনাময় মডেল কিংবা অভিনেত্রীদের একজন। রাহাত রহমানের নির্দেশনায় ‘প্রাণ পিনাট বার’Ñএর বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করে মূলত আলোচনায় আসেন তিনি। এই বিজ্ঞাপনের ‘ফেসবুকিং পারে না’ সংলাপটি সাফা কবিরের কণ্ঠে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে সাফা কবির প্রথম বিজ্ঞাপনে মডেল হন আশফাক বিপুলের পরিচালনায় এয়ারটেলের বিজ্ঞাপনে। সর্বশেষ তিনি অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় ‘প্যারাসুট’-এর বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন গত বছরের শেষ দিকে। মিডিয়াতে সাফা কবিরের আগমন বিজ্ঞাপন নির্মিতা আদনান আল রাজীবের হাত ধরে। তারই নির্দেশনায় সাফা প্রথম অভিনয় করেন ‘এট এইটিন অলটাইম দৌড়ের উপর ’ নাটকে। এরপর তিনি আতিক জামান পরিচালিত ‘একা মেয়ে ’ নাটকে অভিনয় করেন। দুটি নাটকেই তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। এরপর সাফা কবির আরো অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করেছেন।  সাফা কবির পড়ছেন ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে সেকেন্ড সেমিস্টারে।

তিনি ইউটিউবের সালমান

‘স্কুলের দশটা শ্রেণি টপকাতে সালমান মুক্তাদিরকে পাড়ি দিতে হয়েছে ১২টি স্কুল।’ এই একটি তথ্য সালমান মুক্তাদির সম্পর্কে যথেষ্ট নয়। তাঁর সম্পর্কে আরও অসংখ্য খবর আছে। যা শুনে চমকাতে হয়েছে বারবার। চমক অবশ্য হরহামেশাই দিয়ে থাকেন সালমান। যাঁরা ইউটিউবে নিয়মিত ঢুঁ মারেন তাঁদের কাছে সালমান পরিচিত মুখ। মজার মজার ভাবনা আর দারুণ সব ভিডিও নিয়ে হাজির হন তিনি। সমাজের নানা ধরনের অসংগতি উঠে আসে তাতে। সম্প্রতি প্রথম আলোর কার্যালয়ে যান তিনি। শোনান ইউটিউবের সালমান হয়ে ওঠার গল্প, ‘আমি পড়াশোনায় খুবই দুর্বল ছিলাম। স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভিন্ন পরীক্ষায় ২১ বার ফেল করেছিলাম। আর এইচএসসিতে হিসাব বিজ্ঞানে দুই বছরে ফেল করেছিলাম ২২ বার। আমার কাছে টেনেটুনে পাস করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় আনন্দ। অবশ্য পড়াশোনার জন্য পরিবার থেকে কম চাপ দেয়া হয়নি। এমনও হয়েছে মেঘনা নদীর পাশে বাবার অফিসের কাছে আমাকে আটকে রাখা হয়েছে শুধু পড়াশোনার জন্য। জানি এসব আমার ভালোর জন্যই করা হচ্ছে। কিন্তু পড়াশোনা মোটেও ভালো লাগত না। তো এভাবে ২০১২ সালে কোনোভাবে এইচএসসি পাস করে পুরা “হোপলেস” হয়ে গেলাম। গেলাম অস্ট্রেলিয়া। উদ্দেশ্য অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করা। কিন্তু হলো না। দেশে ফিরে এসেছি। তখনই ভিডিও বানানোর পোকা মাথায় ঢোকে। সালমান শুধু এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। ধীরে ধীরে হাত পাকাচ্ছেন নির্মাণেও। ১২টি বিজ্ঞাপনচিত্র বানিয়েছেন। যা অনলাইনে বিভিন্ন পণ্যের প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে। সমানতালে নাটকেও অভিনয় চলছে বর্তমানে সালমান মুক্তাদির চ্যানেল আই ইউটিউব চ্যানেলে চীফ কনসালটেন্ট, হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

Sabila

এগিয়ে যাওয়া সাবিলা নূর

মডেলিংয়ের মাধ্যমে তার মিডিয়া জগতে আগমন ঘটে। টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার পর তিনি কয়েকটি খÐ নাটকে অভিনয় করেন। সাবিলার প্রথম অভিনীত নাটক ইউটার্ন। সাবিলা ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই নাচের প্রতি ঝোক ছিল। সাবিলা বুলবুল ললিতা কলা একাডেমি থেকে নাচ শিখে পদ্মকুরি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল যখন যিনি প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। সাবিলা বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। সাবিলা ২০১৪ সাল থেকে মডেলিং-এর মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। তার জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনগুলোর মাঝে রয়েছে গ্রামীণফোন, নেস্কেফে, প্রাণ ফিট ইত্যাদি। সাবিলা অনেক জনপ্রিয় টেলিফিল্ম, নাটক, মডেলিং এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। তারমধ্যে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করেননি।

মডেল শাহতাজ!

ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় মডেলিংয়ের মধ্য দিয়ে। এর কিছুদিন পর দেখা যায় টিভি নাটকের পর্দায়। এখানেই শেষ নয়। সংগীতশিল্পীর খাতায়ও তিনি নাম লেখান। বলা হচ্ছে এ প্রজন্মের আলোচিত মডেল কন্যা শাহতাজ মুনিরা হাশেমের কথা। মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এখন গানে ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি।

বাংলালিংকের কলড্রপের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় একাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা মেলে তার। অবশ্য গেল বছর তৌসিফের কথায় ‘উড়ে যাই’ শিরোনামে একটি গানের মাধ্যমে সংগীতশিল্পীর খাতায়ও নাম লেখান শাহতাজ। এদিকে গেল বছর সংগীতশিল্পী ধ্রæব গুহর একটি গানের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন শাহতাজ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রীতমের ‘যাদুকর’ নামের একটি গানের ভিডিওতে মডেল হয়েছেন তিনি। গান, মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজও নিয়মিত করছেন শাহতাজ।

প্রকৌশলী থেকে অভিনয়ে

‘অভিনয়ে আমি একেবারেই নতুন। শিখতে শিখতে এগোচ্ছি। অনেক বই পড়ছি, ছবি দেখছি। বড় বড় অভিনেতার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করছি। নিজেকে প্রস্তুত না করলে এখান থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।’ বললেন তৌসিফ মাহবুব।  ফেসবুক ও ইতিকথা, যাযাবর, নিউ রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট, কালো মেকাপ, একটি অসমাপ্ত কবিতার গল্প, ফর গিভ মি, তুমি মেয়েসহ অনেকগুলো নাটকে কাজ করেছেন তিনি। নাটকে অভিনয়ের প্রথম সুযোগ হলো কীভাবে? তৌসিফ জানান, চাকরির পাশাপাশি আদনান আল রাজীবের কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালের ভালোবাসা দিবসের জন্য একই পরিচালকের অল টাইম দৌড়ের উপর নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। এরপর মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের প্যানাল্টি, আশফাক নিপুণের ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম, মাবরুর রশীদ বান্নার ইট ক্যান হেপেন, মিনার ও অতঃপর আমরা নাটকে কাজ করেন তৌসিফ। এই নাটকগুলো তাঁর যাত্রা শুরুর পথে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তৌসিফের বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হয়ে প্রকৌশলী হবেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন তৌসিফ। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। তৌসিফের ভাষায়, ‘প্রকৌশলী শব্দটি এখন কাগজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’ তৌসিফের সব স্বপ্ন ছোট পর্দাকে ঘিরে। একজন ভালো অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন তাঁর।

 

স্মরণের ব্যস্ততা

২০০৮ সালে মেরিডিয়ান চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগিতায় পঞ্চম হন। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ইমপ্রেস অডিও ভিশন থেকে প্রকাশিত হয় তার সলো অ্যালবাম স্মরণের জানালা। অ্যালবামের গানগুলোর কথা, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। অ্যালবামটি বেশ প্রশংসিত হয়। ২০১১ সালে ‘আমার মায়ের কপালে টিপ ঠাঁই নিয়েছে ঐ পতাকায়’ গানটি দিয়ে সংগীতানুরাগীদের নজরে আসেন। এরপর বেশ কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছেন।

২০১৫ সালে ১০ম সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এর ক্রিটিক বিভাগে ও পপুলার চয়েস ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী হিসেবে দুটি পুরস্কার জিতে নেন। ২০১০ সালে জীবনে প্রথম সিনেমায় প্লেব্যাক করেন। ছবির নাম ‘দ্য স্পীড’। এছাড়া ‘প্রিয় তুমি সুখী হও’ সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। ছবিতে তার গান রয়েছে। অ্যালবামের বাইরে টেলিছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। টেলিছবিগুলো হলোÑ চোখ গেল পাখি, আয় খুকু আয়, ঘরোয়া জামাই ইত্যাদি। কয়েকটি বিজ্ঞাপনের জিজ্ঞিলেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। জিঙ্গেলগুলো হলোÑ বসুধা গানের ডায়েরি, হিমতাজ তেল, বোটানিক এ্যারোমা, স্মার্ট মেহেদী।

নদীর স্বপ্ন

২০০৯ সালে চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হন নদী। ২০১৩ সালে মুগ্ধতা মিক্সড অ্যালবামের মুগ্ধতা গানটি দিয়ে সবার নজরে আসেন। এরপর বেশ কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামে কাজ করেছে নদী। অ্যালবামগুলো হলোÑ রঙিলা, নীলকণ্ঠ, জানি তুমি আসবে ফিরে, তৌসিফ উইথ লাভ বার্ডস ইত্যাদি। নদীর জলছায়া দেশী গার্ল মিউজিক ভিডিও দুটি দর্শক শ্রোতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অ্যালবামের বাইরে বেশ কিছু ছবিতে প্লেব্যাক করেছে নদী। উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলোÑ লাভ এক্সপ্রেস, এক পলকে দেখা, অবলানারী,  দ্যা ফাইট, প্রেম বলে কিছু নেই ইত্যাদি। এছাড়া বেশ কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে নতুন একক অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন নদী।

ঐশী আছেন তরুণদের হৃদয়ে

২০১২ সালে হৃদয় খানের সুর-সংগীতে হৃদয় মিক্স থ্রি অ্যালবামে দখিনা হাওয়া গানটি দিয়ে সংগীতানুরাগীদের নজরে আসেন ঐশী। এরপর বেশ কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম সলো অ্যালবাম ঐশী এক্সপ্রেস। ইমরানের সুর সংগীত পরিচালনায় অ্যালবামের তুমি চোখ মেলে তাকালে, মন জানে, মুঠো মুঠো ভালোবাসা গান গুলো শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। ঐশীর তুমি চোখ মেলে তাকালে, গানের ভিডিওটি শ্রোতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। অ্যালবামের বাইরে বেশ কিছু ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন ঐশী। এরই মধ্যে তার বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল গান প্রকাশ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলোÑ মায়া, পিরিতে ফল ইত্যাদি। বর্তমানে ঐশী বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করছেন।