Home প্রতিবেদন শীতের সকালে আলো ছড়ানো এক জন্মদিন

শীতের সকালে আলো ছড়ানো এক জন্মদিন

SHARE

জন্মদিনটা আসলে কার সেটাই ধরা যাচ্ছিলো না। কখনো মনে হচ্ছিলো সংস্কৃতিমন্ত্রী বিশিষ্ট নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিন। সে কারণে মঞ্চে গান গাইছেন উপমহাদেশের বরেণ্য রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আবার বন্যার পাশে বসে যখন আবৃত্তি করছিলেন আসাদুজ্জামান নূর তখন মনে হচ্ছিলো জন্মদিন বুঝি বন্যারই। দর্শক সারীতে বসে নূরের আবৃত্তি আর বন্যার গান উপভোগ করছিলেন বিশিষ্ট নাট্যজন আফজাল হোসেন, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরসহ দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও সংস্কৃতি কর্মীরা। জন্মদিনটা কী তাদের মধ্যে কারও?
না ঠিক আন্দাজ করা যাচ্ছে না। শীতের সকাল। কুয়াশার চাঁদর মুড়ি দিয়ে চ্যানেল আই এর ছাতিম তলায় ইতিমধ্যেই হাজির হয়েছেন দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ। ছিমছাম খোলা মঞ্চে বসেছেন রবীন্দ্রকন্যা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও তাঁর সুরেরধারার নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা। চ্যানেল আই এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান গানে গানে সকাল শুরুর বিশেষ পর্ব উপলক্ষে চ্যানেল আই ভবনের সামনে খোলা চত্বরে এই আয়োজন। উপস্থাপক মৌসুমী বড় য়ার কথায় বোঝা গেল বিশেষ এই অনুষ্ঠানটি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে। সাথে রয়েছে এক্সিম ব্যাংকের সৌজন্যে ছোটকাকু ক্লাবের উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের বিশেষ পর্ব।
সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা হলো বন্যার জন্মদিন উপলক্ষে শীতের সকালে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রিয়জনদের ছুটে আসা। মঞ্চে বন্যা যখন গান গাইছিলেন তারই ফাঁকে ফাঁকে অতিথি, স্বজন বন্ধুরা মঞ্চে উঠে গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। হঠাৎ একজন ফোন করে বললেন- আমি আবুল হাসান মোহাম্মদ আলী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। মুহূর্তে দেশের পররাস্ট্রমন্ত্রীকে চিনে ফেললেন সবাই। বন্যা খুশী হয়ে বললেন- হাসান ভাই আপনি ফোন করেছেন, আমি খুব খুশি হয়েছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যাকে বললেন- আমি এখন দিনাজপুরে নিজের এলাকায় এসেছি। আপনাকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন। উল্লেখ্য, গত বছর বন্যার জন্মদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানা দু’জনেই চ্যানেল আই-এর এই অনুষ্ঠানে ফোন করে বন্যাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। সেই আনন্দ স্মৃতি তুলে ধরে বন্যা বললেন- আমার জন্য এ এক পরম পাওয়া।
অনুষ্ঠান চলছে। হঠাৎ একটা ফোন এলো। কলকাতা থেকে বন্যার এক ভক্ত, প্রিয়জন রূপা সেনগুপ্ত ফোন করেছেন। বন্যা বিস্মিত। কারণ কলকাতা থেকে রূপা ফোন করেছে… সত্যি এ এক আনন্দের ঘটনা। কিন্তু মুহূর্তে আসল ঘটনা ধরা পরলো। কলকাতার রূপা ফোন করেছেন ঠিকই। তবে কলকাতা থেকে নয়। ফোন করেছেন চ্যানেল আই ভবন থেকে। তিনি বন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে একদিন আগে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু সেকথা বন্যাকে জানাননি। চ্যানেল আই-এর মাধ্যমে প্রিয় শিল্পীকে জন্মদিনের সারপ্রাইজ দেন রূপা। এই ঘটনায় বন্যা খুবই আনন্দিত হন। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন মঞ্চে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বললেন- বন্যা আমাদের দেশের অহংকার। তাঁর জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা। বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সাদী মুহম্মদ মঞ্চে উঠে গিয়ে বন্ধু রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুর সাথেই গানে গলা মেলালেন। বিশিষ্ট লেখক ইফতেখারুল ইসলাম এসেছিলেন বন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। মঞ্চে বন্যার পাশে বসে তিনি বললেন- আমাদের অনেক সৌভাগ্য উপমহাদেশের বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী বন্যাকে আমরা খুব কাছ থেকে চিনি। জন্মদিনে তাকে অনেক শুভেচ্ছা। এরপর মঞ্চে গিয়ে বন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান বরেণ্য অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন। তিনি বললেন, বন্যা আমাদের গানের জগতকে আলোকিত, উদ্ভাসিত করেছেন। তাকে জানাই অনেক শ্রদ্ধা।
মঞ্চে বন্যা গান গেয়েই চলেছেন। উপস্থাপক মৌসুমী বড় য়া মাঝে মাঝে তার সামনে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিচ্ছেন। এক সময় বন্যার গানের গুরুমা কনিকা বন্দোপাধ্যায়ের কথা উঠলো। বন্যা মাথা নুয়ে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন।
অনুষ্ঠানের মাঝখানে শুরু হলো আনন্দের এক নুতন পর্ব। সংস্কৃতিমন্ত্রী বিশিষ্ট নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। তাকে ডাকা হলো মঞ্চে। বন্যার পাশাপাশি মঞ্চে বসলেন আসাদুজ্জামান নূর। শুরু হলো নূরের আবৃত্তি আর বন্যার গানের রোমাঞ্চকর এক পর্ব। নূরের আবৃত্তি শেষ হয়। বন্যার গান শুরু হয়। আবার আবৃত্তি আবার গান। এ যেন অবাক করা এক সকাল। কেননা বোধকরি ইতিপূর্বে আর কোনদিন এমন শীতমাখা সকালে খোলা মঞ্চে না বন্যা না আসাদুজ্জামান নূর কেউই গান, আবৃত্তি করেননি।
অনুষ্ঠান শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করলেন এভাবে- আমি সাধারণত: সকালে উঠতে একটু ঝামেলা করি। সহজে উঠতে চাই না। কিন্তু বন্যার জন্মদিন বলে কথা। ঘুম কাতুরে চোখে অনুষ্ঠানে এসেছি। পরিবেশ দেখে খুবই ভালো লাগল। মন খুলে আবৃত্তি শোনালাম বন্যাকে, চ্যানেল আই এর দর্শককে। অনেক দিন এই আনন্দ স্মৃতি মনে থাকবে।
জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশ করে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বললেন- আমি অসুস্থ ছিলাম। সে কারণে জন্মদিন নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে আসার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না। কিন্তু চ্যানেল আই-এর আয়োজন দেখে আমি মুগ্ধ। সত্যি আজকের জন্মদিনটা অনেক দিন মনে থাকবে।
জন্মদিনের গানের অনুষ্ঠান এক পর্যায়ে শেষ হলো। কিন্তু বিস্ময় আর আনন্দের মাত্রা তখনও শেষ হয়নি। ছোটকাকু ক্লাবের সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংকের উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণের আয়োজন ছিল পাশেই। সংস্কৃতিমন্ত্রী সহ বন্যা এবং উপস্থিত অতিথিবর্গ দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন। এর আগে বক্তৃতা করেন এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হায়দর আলী মিয়া।
এ যেন আরেক আনন্দ। সমগ্র আনন্দ আয়োজনে নেপথ্য কারিগর ছিলেন বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম, শাহীদুল আলম সাচ্চুসহ চ্যানেল আই-এর নিবেদিত প্রাণ একদল কর্মী।
বন্যার জন্মদিনের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড় ক সবখানে। আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা।

কলকাতায় থাকলে পায়েশ রান্না করে খাওয়াতাম

momota-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে ফোন করেছিলেন কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বন্যাকে বলেন, তোমার জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা। আজকের দিনে তুমি যদি কলকাতায় থাকতে তাহলে আমি নিজ হাতে পায়েশ রান্না করে খাওয়াতাম।