শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে

শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে

63
SHARE
Kafi

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেএএন এসোসিয়েটস, সাবেক সভাপতি বেসিস

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে আজকের যে বিকাশমান ধারা ডিজিটাল বাংলাদেশে শ্লোগানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে তার সূচনা পর্ব যে সব উন্নয়ন উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল আব্দুল্লাহ এইচ কাফি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। আইসিটি খাতের দেশী বিদেশী উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ এইচ কাফি বর্তমানেও নিরলস কাজ করে চলেছেন। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-বেসিস তথ্য প্রযুক্তি খাতের বিকাশে অপরিসীম ভুমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে- আইসিটি খাতের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং শীর্ষ এই সংগঠনেরও যাত্রা শুরু হয়েছিল আব্দুল্লাহ এইচ কাফি এর মাধ্যমে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-বেসিস এর সাবেক সভাপতি হিসেবেও তিনি রেখেছেন অনন্য ভুমিকা। আব্দুল্লাহ এইচ কাফির সেই সফলতার পথেই বর্তমানে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-বেসিস এর কার্যক্রম। এশিয়া ওশেনিয়া অঞ্চলের ২২ টি দেশের সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সংগঠন মিলে তৈরী হওয়া এশিয়ান ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাষ্ট্রি অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিও আন্তজার্তিক সংগঠন হিসেবে কাজ করছে সারা দুনিয়ায়। বিশে^র অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন এই এশিয়ান ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাষ্ট্রি অর্গানাইজেশন, অ্যাসোসিও  এর সভাপতি হিসেবে আব্দুল্লাহ এইচ কাফি রেখেছেন অনন্য ভুমিকা। সেই সূত্রে এখন তিনি সক্রিয় আছেন সংগঠনটির নেতৃত্বেও। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি বেসরকারি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটি উপ-কমিটি এবং সংগঠনের সাথে জড়িত এবং নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন আব্দুল্লাহ এইচ কাফি। উন্নত বিশ^, এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আইসিটি খাতের একজন পাইওনিয়ার বাংলাদেশী হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, ফেয়ার, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অংশ নিয়েছেন আব্দুল্লাহ এইচ কাফি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার পাশাপাশি আব্দুল্লাহ এইচ কাফি গড়ে তুলেছেন বিশাল শিল্প সা¤্রাজ্য জে. এ. এন অ্যাসোসিয়েটস। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন। বাংলাদেশে ক্যানন ব্র্যান্ড এর ডিষ্ট্রিবিউটর এর দায়িত্বও পালন করছেন এই উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম।

আনন্দ আলো: আপনি বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরের একজন পাইওনিয়ার ব্যক্তিত্ব। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে বর্তমানে আমরা কোন অবস্থায় আছি- আপনার বিশ্লেষণ কি?

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি: ধন্যবাদ। আমি খুব এক্সাইটেড হয়ে যাই যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা শুনি। ৪০ বছর আগে যখন এই বাংলাদেশে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যাপারে আমরা আলোচনা শুরু করি এবং এর প্রচলনের চেষ্টা করি, সেই দিনের তুলনায় বর্তমানে অবিশ^াস্য রকমের পরিবর্তন এসেছে মানতেই হবে। আর একটু আগে আপনি যা বললেন ডিজিটাল বাংলাদেশ- এটি অ্যাকচুয়ালি যদি ব্র্যান্ডিংয়ের কথা বলি, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সবাইকে বলবো এটির মাধ্যমে বড় ধরণের ব্র্যান্ডিং হয়েছে- ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে। বুঝেই হোক আর না বুঝেই হোক ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিংয়ে আমরা গেছি। এখন এতো মোবাইল বা কম্পিউটার দেখা যায়, আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করি তখন কম্পিউটার বলতে ওই বুয়েটের কম্পিউটার সেন্টার বা আদমজী কম্পিউটার সেন্টার। এর বাইরে কোন কম্পিউটার ছিল না।

আনন্দ আলো: তাও আবার ঢাউস ঢাউস সাইজের কম্পিউটার?

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি: একটি টেলিভিশন ষ্টেশনের ষ্টুডিও এর চাইতেও কয়েকগুণ বড় এবং তার মধ্যে ঢোকা যেত না। এমনকি বাইরে থেকে দেখতে হতো। সারাদিনের প্রোগ্রাম করে কোডিংটা এনে কম্পিউটারের সামনে দাঁড়াতাম আমরা। পাশে একজন অপারেটর থাকতো। কাগজের মধ্যে পাঞ্চ কার্ড ছিল ওইটা দেয়ার পরে একটা রিপোর্ট আসতো- সেখানে কতো ডাটা ভুল হয়েছে সেগুলো দেখে আবার পরের দিন এসে আমাদের আবার প্রোগ্রামিং করতে হতো, তারপরে ইনপুট আউটপুটের পর এইভাবে একটা প্রোগ্রাম ডেভলপড করতে হতো। এরপর সেই প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করা হতো। ন্যাচারালি দোজ ডেজ কম্পিউটার ওয়াজ নট ফর এভরিওয়ান। কম্পিউটার মানেই তখন ছিল ব্যবসা। কম্পিউটা মানেই ছিল যোগ,বিয়োগ,গুণ,ভাগ এই সব হিসাব রাখার যন্ত্র। এই সব ছিল ষ্পেসিফিক এরিয়ার মধ্যে। তখন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ছিল। আর এখন যারা আমরা কাজ করছি, যারা আমাদের সামনে আছে তারাতো আর ওইভাবে ল্যাংগুয়েজের ভেতরে যাচ্ছে না। আমাদের সময় যখন আমরা শুরু করি তখন বিজনেসে যে কাজ করতো তার জন্য কমন বিজনেস ওরিয়েন্টেড ল্যাংগুয়েজ ছিল, যারা সাইন্টিফিক কাজ করবে তাদের জন্যে ফর্মুলা ট্রান্সলেটর ছিল। এরপরে যখনই মাইক্রো কম্পিউটার আসা শুরু হলো গেøাবালি, এই যে শিফট এ একটা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ আসলো- যার নাম বেসিক। বেসিক হলো বেসিক অপারেটিং সিষ্টেম। বিগেনার্স অল পারপার্স লার্নিং ল্যাংগুয়েজ যেটা। পরবর্তীতে আমরা যারা পড়াশোনা করেছি তা সবই ভুলে গেলাম। এরপরে গেজেট চলে এলো।

আনন্দ আলো: আইটি সেক্টরের যেসব পণ্য বাংলাদেশে আমদানী করা হচ্ছে এই সব পণ্যের ডিউটি এবং ট্যাক্স বিষয়ে কিছু জানতে চাই?

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি:  এটি আসলে একটি বড় ধরণের ইস্যু। যেসব বাজার আমদানী নির্ভর। তা গোল্ড হোক আর কম্পিউটার রিলেটেড প্রোডাক্ট হোক- যেহেতু আমদানী নির্ভর, তার পরিমাণ অন্য দেশ বা পাশের দেশের মত একরকম না রাখি তাহলে কি বিপদই হয় এবং আল্টিমিটলি তা আমাদের ন্যাশনাল বাজেট এর উপরে এফেক্ট করবেই। আমরা মনে করি যে, বেশি ট্যাক্স দিয়ে রাখি বেশি ভ্যাট করি, যে কয়জন দিবে দিতে হবে। আমরা অন্য একটা পথ খুলে রাখছি- এই সব অপশনের মাধ্যমে অন্য পথ খুলে রাখা হয়েছে। আমি বলি এবার-কম্পিউটারের কথাই যদি আসি- কম্পিউটারের ডিউটি গতবছর ছিল এক পার্সেন্ট এবার সেটা ৫ পারসেন্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফেয়ার এনাফ- যারা কম্পিউটার আনবে তারা ৫ পারসেন্ট ডিউটিতে যাবে। এটি যেহেতু বড় আইটেম সেগুলো কিন্তু আমদানীর মাধ্যমে আসবে। বড়গুলো তো আর এইভাবে আনা যাবে না। এখানে কিন্তু প্রাইস ম্যানুপুলেশন এর ব্যাপার চলে আসবে। বিকজ আন্ডার ডিক্লিয়ার্ড ভ্যালু হবে। এটা একটা।

আনন্দ আলো: এটি তো হরহামেশাই হয়ে থাকে?

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি:  হ্যাঁ, হয়ে থাকে। কিন্তু তখন বুঝলাম ঠিক আছে ১ হাজার ডলারের জিনিসটা ১০০ ডলার দেখিয়ে আর ৯ শত ডলার অন্যভাবে টাকাটা পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। এটি কিন্তু আবার বø্যাক মানির দিকে চলে যাচ্ছে।

আনন্দ আলো: কিন্তু মাইক্রো যেসব চিপ আনতে হয়, সেগুলো?

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি:  রাইট। এই জায়গায় আসি। আরেকটি হলো- যেসব ছোট প্রোডাক্ট আছে গোল্ড এর মত অথবা গোল্ড এর থেকেও অনেক দামি জিনিস আছে এই ইনফরমেশন টেকনোলজি সেক্টরে। সেই সবের ক্ষেত্রেও ৫ পারসেন্ট বা আরও বেশি করা আছে। তাই আজকে আমি বলতে চাই- ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে কিন্তু শুধু একটি কম্পিউটারের বাক্স না। এই কম্পিউটারের বাইরে ইনফরমেশন টেকনোলজি বা ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি কিন্তু সেল ফোনও হয়। এর মধ্যে কিন্তু ক্যামেরাও পড়ে। অনেক কিছু মিলিয়েই কিন্তু ইনফরমেশন  এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি। আমরা যে ক্যামেরা আনছি তার ৯৯ ভাগই আসছে অন্য চ্যানেলে। আবার আমাদের রুলে আছে- ব্যাগেজ রুলে দেওয়া আছে, যে কেউ একজন প্রফেশনাল ক্যামেরা নিয়ে আসতে পারবেন। দেশ থেকে একটা মানি কিন্তু আউট ফ্লো হয়ে যাচ্ছে। যেটা আন একাউন্টেড মানি। কোন অ্যাকাউন্টেবল থাকছে না। সেই থিংক ওটা কিন্তু বাংলাদেশে চলে আসছে। এটি যদি ৩৭ পারসেন্ট না রেখে ইভেন যদি কম্পিউটারের সমান ৫ পারসেন্টও রাখা যায়, তাহলেও কিন্তু একটা কমন চ্যানেলের মধ্যে আসতো।

আনন্দ আলো: ইনফরমেশন টেকনোলজি বাংলাদেশের সোশ্যালাইজেশনের ষ্ট্রাকচার অনেকটাই চেঞ্জ করে ফেলেছে। যতটা আমরা বর্তমানে ফিজিক্যালি না সোশ্যাল তারচেয়ে বেশি আমরা সামাজিক মিডিয়ায় এখন অনেক বেশি সোশ্যাল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ যেমন বন্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামাজিক কাজে একত্রিত হচ্ছে তেমনি এর মাধ্যমে সামাজিক নিপীড়নও কিন্তু চলছে।  সামাজিক এই বিবর্তন আপনি কিভাবে দেখেন?

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি:  স্যোশাল মিডিয়ার কথাতে ষ্পেসিফিক্যালি গেলে- এই মিডিয়ার কতগুলো সাইডের কথা বললেন- এক্সচেঞ্জ অব ভিউজ, এক্সচেঞ্জ অব আইডিয়াস, এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন এগুলো আসছে। এগুলো জানার দরকার আছে। কোথায় বন্যা হচ্ছে? আমেরিকায় কি হচ্ছে? এই সব জানতে চাইলে সোশ্যাল মিডিয়ার ভুমিকা অনন্য। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো এই জায়গায়- ছেলেমেয়েদেরকে একটা সার্টেন এজের নীচে স্মার্ট ফোন এখন দেয়াই উচিত না। কারণ আপনারা যদি তাকে বেসিক এডুকেশনটা না দিয়ে দেন তহলে তা কিন্তু বুমেরাং হতে পারে। সবার কাছে আমার একটাই কথা যে কোন জিনিস ইউজ করার আগে, টেকনোলজি এখন এতো অপেন করে দিয়েছে সারা পৃথিবীকে যা সত্যিই ভাল কিন্তু এর ডেঞ্জারাস পার্ট হলো নিষিদ্ধ জগতের প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আগে শিখতে হবে ফ্যামিলি থেকে, প্যারেন্টসদের কাছ থেকে- এখন যে ইকুইপমেন্ট আমাদের সবার হাতে আছে এই ইকুইপমেন্ট দিয়ে যতটা না ভাল কাজ করা যায় তারচেয়ে বেশি খারাপ কাজও করা যায়। তাই শিক্ষা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে।