কখনো কখনো মনে হতো লাশটি কথা বলছে!-তৌকীর আহমেদ, পরিচালক

কখনো কখনো মনে হতো লাশটি কথা বলছে!-তৌকীর আহমেদ, পরিচালক

1220
SHARE

এই ছবিতে একটি কফিন নিয়ে আমরা ঘুরেছি অনেকটা পথ। আমরা যেখানে গেছি কফিনটাও আমাদের সাথে সাথে গেছে। এই ছবিতে যে কফিনটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে একজনের লাশ বয়ে নিয়ে এসেছিল। স্যুটিং চলাকালে কফিনটি যখনই দেখতাম তখনই একটা উপলব্ধি হতো এই কফিনে বিদেশ থেকে একটি লাশ এসেছে। আমরা হয়তো তারই কথা ছবিতে বলছি। কফিনটি যখন আমরা বয়ে নিয়ে যেতাম বিশেষ করে সড়ক পথে ট্রাকে নদী পথে ট্রলারে তখন আমার সর্বদাই মনে হতো এটি খালি নয়। এর ভেতরে লাশ আছে। কখনো কখনো মনে হতো লাশটি আমার সাথে কথা বলছে…

একটা বাসত্মব ঘটনা বলি। আমাদের বাসায় একজন মহিলা কাজ করতেন। তার কাছেই আমার স্ত্রী বিপাশা শোনে যে তাদের (মহিলা) গ্রামে মধ্যপ্রাচ্য থেকে একটি লাশের কফিন এসেছিল। কফিন খোলার পর দেখা যায় যার লাশ আসার কথা ছিল এ লাশ তার নয়। অন্য কারও লাশ। একদিন বিপাশা কথা প্রসঙ্গে আমাকে ঘটনাটি জানায়। আমি যার পর নাই অবাক হয়ে যাই। বিস্ময়ে তাকে প্রশ্ন করি- লাশটির শেষ পর্যনত্ম কি হয়েছিল? বিপাশার উত্তর ছিল- শেষ খবর আমি জানিনা।

ঘটনা ঐ পর্যনত্মই। কিন্তু আমার মাথার ভেতর এই ঘটনাকে সরাতে পারিনা। মাঝে মাঝেই সেই লাশটির প্রসঙ্গ ভাবনার জালে আটকে যায়। দিন যায়, মাস যায়, বছরও যায় ভাবনা থেকে লাশটাকে সরাতে পারি না। একটাই প্রশ্ন- শেষ পর্যনত্ম লাশটার কি হলো? এটা কার লাশ? সে কোন দেশের মানুষ। এইসব ভাবতে ভাবতে একদিন সিদ্ধানত্ম নিলাম- এই লাশের পরম্পরা সাজাব।

প্রথমে এই ঘটনার ওপর একটি মঞ্চ নাটক লিখলাম। নাম দিলাম ‘অজ্ঞাতনামা’। নেরেটিভ ফর্মে লেখা নাটক। সিন্ধানত্ম হলো নাট্যকেন্দ্র নাটকটি মঞ্চস্থ করবে। মঞ্চে ‘অজ্ঞাতনামা’ মঞ্চস্থ হলো। একুশে বইমেলায় এটি বই হিসেবে প্রকাশও হলো। এক সময় আমার মনে হলো ‘অজ্ঞাতনামা’ নিয়ে আসলে একটি চলচ্চিত্র হতে পারে। তাহলেই দেশে বিদেশে অসংখ্য মানুষের কাছে এই মানবিক বিষয়টি তুলে ধরা সম্ভব হবে। আমার ইচ্ছের কথা শুনে বন্ধু-বান্ধবদের কেউ কেউ বলল- যে ভাবে মঞ্চের জন্য নাটকটি লেখা হয়েছে সেভাবে তা চলচ্চিত্রে দেখানো খুব কঠিন কাজ হবে। ‘অজ্ঞাতনামা’র ওপর চলচ্চিত্রের জন্য নতুন করে স্ক্রীপ্ট লিখলাম এবং সেটা প্রথম পড়তে দিলাম আমার পরম বন্ধু, আমার স্ত্রী বিপাশাকে। সে স্ক্রীপ্ট পড়ে কিছু নতুন আইডিয়া দিল। সেই আইডিয়া নিয়ে স্ক্রীপ্ট সংশোধন করার পর আমার চলচ্চিত্রের কিছু জুনিয়র বন্ধু যেমন আবু শাহেদ ইমন… তাকে পড়তে দিলাম। আমরা একসাথে ভারতের জয়পুর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাচ্ছিলাম। সাথে একজন সাংবাদিকও ছিল। সেও স্ক্রীপ্ট পড়লো। আমরা ‘অজ্ঞাতনামা’ নিয়ে রীতিমত একটা ওয়ার্কশপ করে ফেললাম আর কী। আমাদের ১৮/২০ ঘন্টার পুরো জার্নিতে আলোচনার বিষয় বস্তু ছিল শুধুই অজ্ঞাতনামা। সেখান থেকে ফিরে অজ্ঞাতনামার চূড়ানত্ম স্ক্রীপ্ট লিখলাম। মনে হলো এবার কাজটা শুরু করা যায়। এ জন্য কে আমাকে সহযোগিতা করতে পারেন? ভাবতেই সবার আগে চোখের সামনে ভেসে উঠল আমাদের অভিভাবক ফরিদুর রেজা সাগরের মুখ। তাকে গিয়ে বললাম- সাগর ভাই আমি ভালো স্ক্রীপ্টের অভাবে অনেক দিন ছবি বানানো থেকে বিরত ছিলাম। সম্প্রতি একটি ভালো স্ক্রীপ্ট লিখেছি। নতুন একটি ছবি বানাতে চাই।

সাগর ভাই মৃদু হেসে রসিকতার সুরে বললেন- ছবি বানাতে চাচ্ছ এটাতো খুশির খবর। কিন্তু তোমার ছবির ভাগ্যতো ভালো হয় না…

আমি তাকে বললাম- এবার আপনি তাহলে আমাকে আপনার ভাগ্যটা ধার দেন। হাসি, ঠাট্টা আর আনন্দের মাঝে আরও অনক কথা হলো। বরাবরের মতো সাগর ভাই সম্মতি দিলেন। বললেন- তুমি ছবি বানাতে চাও, এর চেয়ে আর আনন্দের খবর আর কী হতে পারে। যাও শুরু করো।

ব্যস আমি ‘অজ্ঞাতনামা’ নির্মাণের পথে হাঁটা শুরু করলাম। প্রি প্রডাকশনের কাজে সব চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিলাম। যাতে ছবির স্যুটিং করার সময় অহেতুক সময় নষ্ট না হয়। ছবির পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমি অভিজ্ঞজনদেরকেই বেছে নিলাম। এর একটাই কারন স্যুটিং চলাকালে যাতে অভিনয়ের জন্য ওয়ার্কশপ করতে না হয়। অভিনয়ের জন্য আমি তাদেরকেই বেছে নিলাম যারা আমাকে বোঝে ও জানে। নাম ধরেই বলতেই চাই- আবুল হায়াত, নাজমুল হুদা বাচ্চু, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মোশাররফ করিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, শাহেদ আলী সুজন এবং নিপুণ সবাই আমার এই ছবিতে শুধু অভিনেতা অভিনেত্রী হিসেবে নয় একজন সহযোগী বন্ধু হিসেবেও আনত্মরিক ভূমিকা রেখেছেন।

Unnamed-2ছবিটিকে তারা নিজেদের কাজ বলে ভেবে নিয়েছিলেন। সবাই বলেছেন- ছবিটি ভালো হবে। ভালো কাজে থাকতে পারটাই আনন্দের। তাদের আনত্মরিকতায় আমি আরও বেশী উৎসাহবোধ করেছি। সে কারনে কঠিন প্রতিকূলতাকেও সহজ মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস ছবির কলাকুশলীরা যেহেতু ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আনন্দ পেয়েছেন সেহেতু ছবি দেখার ক্ষেত্রেও দর্শক আনন্দ পাবেন।

অজ্ঞাতনামা’র বিষয়বস্তুটা আমি একটু তুলে ধরতে চাই। বিপাশার কাছ থেকে সেই গল্পটা শোনার পর থেকেই আমার মাথায় শুধুই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো- মধ্যপ্রাচ্য থেকে একটা লাশ এসেছে। এটি কার লাশ? কেনই বা বাংলাদেশে এলো? এর পেছনের কাহিনীটা কি? এনিয়ে রীতিমত গবেষনা শুরু করলাম। আমাদের বিশাল এক জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নানা পেশায় কাজ করে! এদের অধিকাংশই অশিক্ষিত। আর তাই তাদেরকে বিদেশে পাঠানের নামে নানা রকম ফাঁদ তৈরি করা আছে। অনেকেই এই ফাঁদে আটকা পড়ে। শেষ পর্যনত্ম সেখান থেকে বের হতে পারে না। সর্বশ্রানত্ম হয়। অনেকে কাঁদে পা দিয়ে জীবন খোয়ায়। কেউ গলাকাটা পাসপোর্টে বিদেশে যায়! জায়গা জমি বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়ে বিদেশ যাবার নামে প্রতারণার শিকার হয়। কেউ কেউ বিদেশে গিয়ে ফাঁদে আটকে যায়। অস্বাস্থ্যকর একটা ঘরে গাদাগাদি করে থাকে আর প্রহর গোনে কবে কোন দিন এই ফাঁদ থেকে মুক্ত হবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত ৬ বছরে শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে গিয়ে ১৪ হাজার মানুষ মারা গেছে। তাদের অনেকের লাশ বাংলাদেশে আসেনি। বিদেশে যারা যায় তারা পদে পদে লাঞ্ছিত হয়। পদে পদে তাদেরকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। চরম ভাবে তাদের মানবাধিকার লুণ্ঠন করা হয়।

এখানেই আমার তীব্র প্রতিবাদ। বিদেশে কাজের সন্ধানে মানুষ যাবে। জনশক্তি আমাদের সম্পদ। আমরা তাদেরকে বিদেশে পাঠাব। কিন্তু তারা যেন ভালো ব্যবহার পায়। তাদের প্রতি যেন ভালো ব্যবহার করা হয়। তাদের মানবাধিকার যেন লংঘিত না হয় এটি আমাদের নিশ্চিত করা জরুরি।

Towkir-Ahmedএবার একটা আনন্দের কথা বলি। আমি আসলে কখনই ভাবি নাই, আমার বানানো ছবি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের বিশেষ একটি শাখায় প্রর্দশিত হবে। কান ফেস্টিভ্যালের একটি বানিজ্যিক শাখা মার্শে দ্যু ফিল্ম এ আমার অজ্ঞাতনামার প্রিমিয়ার হবে এটা সত্যি দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য শুভ সংবাদ। বিশেষ করে আমার কাছে এটি স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আমরা স্বপ্ন পুরণের পথেই হাঁটছি। সেদিন বোধকরি বেশী দূরে না যেদিন কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল আসরে আমাদের দেশের ছবি স্থান করে নিবে। সেদিন নিশ্চয়ই আমরা ইমপ্রেসের ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’কেই প্রেরণার উৎস বলে ধরে নিব।

কান ফেস্টিভ্যালের যে শাখাটিতে আমাদের অজ্ঞাতনামা প্রর্দশিত হবে সেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্ধারিত ছবিও প্রর্দশিত হবে। অজ্ঞাতনামার প্রিমিয়ার উপলক্ষে সেখানে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এরপক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের নামী-দামী চলচ্চিত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রযোজক, চলচ্চিত্র সমালোচক, সাংবাদিক অভিনেতা-অভিনেত্রীর সহ বিশ্বের নানা দেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অজ্ঞাতনামার প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকবেন। এটা শুধু ইমপ্রেস টেলিফিল্ম নয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য একটি অনন্যা ঘটনা বলে বলে আমি মনে করি।

এবার ‘অজ্ঞাতনামা’ নির্মাণের কিছু অভিজ্ঞতা আনন্দ আলোর পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে চাই। এই ছবিতে একটি কফিন নিয়ে আমরা ঘুরেছি অনেকটা পথ। আমরা যেখানে গেছি কফিনটাও আমাদের সাথে সাথে গেছে। এই ছবিতে যে কফিনটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে একজনের লাশ বয়ে নিয়ে এসেছিল। স্যুটিং চলাকালে কফিনটি যখনই দেখতাম তখনই একটা উপলব্ধি হতো এই কফিনে বিদেশ থেকে একটি লাশ এসেছে। আমরা হয়তো তারই কথা ছবিতে বলছি। কফিনটি যখন আমরা বয়ে নিয়ে যেতাম বিশেষ করে সড়ক পথে ট্রাকে নদী পথে ট্রলারে তখন আমার সর্বদাই মনে হতো এটি খালি নয়। এর ভেতরে লাশ আছে। কখনো কখনো মনে হতো লাশটি আমার সাথে কথা বলছে…

একটি বিশেষ অনুভূতির কথা বলি। আমাকে অনেক প্রশ্ন করতেন ছবিতে অনেক বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়েছেন এদেরকে সামলাবেন কি করে? আমি উত্তরে বলেছি কাজটি যদি সত্যি সত্যি কাজের মতো কাজ হয় তাহলে আমি নিশ্চিত সকলেই আমাকে সহযোগিতা করবেন। আর একটি বিষয়কে আমি বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। তাহল যতটা সম্ভব শিল্পীদের প্রতি যত্ন নেওয়া। তাদের খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে রাতে থাকার ব্যবস্থা যেন স্বস্থিকর হয়। শ্যুটিং হয়েছে রাজবাড়ির পাংশায়। সেখানকার এক বাবুর্চি আমাদের জন্য রান্না করত। তার রান্না খেয়ে সবাই বেশ খুশি। পাংশা শহরে খুঁজে খুঁজে ৫টি এসি রুম যোগাড় করা হয়। সেই রুমগুলোয় ভাগাভাগি করে আমরা থেকেছি। কারও কোন অভিযোগ ছিল না। কাজ এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আমাদেরকে অনেক সহযোগিতা করেছে। আরেকটি মজার ঘটনা বলি। পদ্মা নদীর পাড়েই আমাদের ছবির লোকেশন ছিল। নদীপাড়ের মানুষগুলোই আমাদের ছবির পাত্র-পাত্রী। তাই পদ্মা নদীর পাড়কেই লোকশেন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। একদিনের ঘটনা বলি। স্যুটিং করছি। হঠাৎ দেখি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সবাই শরীর চুলকানোর জন্য অযথাই হাত উঠাচ্ছে আর নামাচ্ছে। অমি বার-বার বলছি হাত নামান… এভাবে হাত তুলছেন কেন? কিন্তু কেউ আমার কথা শুনছে না। শরীর চুলকাচ্ছে সবাই। এক সময় দেখলাম স্যুটিং দেখতে আসা দর্শকও শরীর চুলকাতে শুরু করেছে। তাদের দেখাদেখি আমিও শরীর চুলকাচ্ছি। ঘটনা কি? খোঁজ নিয়ে দেখা গেল একধরনের ছোট ছোট পোকা পঙ্গপালের মতো সারা এলাকা আক্রমণ করেছে। পোকার ভয়ে যে যেভাবে পারে দৌড়ে পালাচ্ছে। এক সময় দেখলাম ক্যামেরার সামনে ও পেছনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আমরা কয়েকজন ছাড়া ইউনিটের লোকজনও নিরাপদ দুরত্বে চলে গেছে। আমরা কোনো মতে দৃশ্যটি শেষ করে সেদিনের মতো স্যুটিং বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। সেদিনের কথা মনে হলে এখনও ভাবি মানুষ এত ক্ষমতাধর, এতো ক্ষমতা দেখায় অথচ ছোট্ট সেই পোকার কাছে মানুষ যেন কিছুই না। এক কথায় মানুষ প্রকৃতির কাছে খুবই অসহায়। একথা ভেবে মানুষের উচিৎ প্রকৃতি রক্ষায় আনত্মরিক থাকা।

এবার একটু পেছনের কথা বলতে চাই। আমার প্রথম ছবি ছিল ‘জয়যাত্রা’। সবার ক্ষেত্রেই প্রথম সব কিছুতেই একটা আলাদা প্রস্তুতি থাকে। বিশেষ করে ফিল্ম ডিরেক্টরদের ক্ষেত্রে তো বটেই। প্রথম ছবিতে অনেক যত্ন করার চেষ্টা করে সবাই। আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। বিশেষ করে ‘জয়যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি হওয়ার কারনে যত্নটা একটু বেশীই ছিল। কিন্তু ছবিটিতে বানিজ্যিক ভাবে আমি বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হই। তাই পরবর্তিতে ছবি প্রযোজনার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আমার এই দুঃসময়ে আমাকে সাহস যুগিয়েছেন চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও বিক্রয় ও বিপনন পরিচালক ইবনে হাসান খান। তাদের দু’জনের কাছেই আমি ঋনী। বিশেষ করে সাগর ভাইয়ের কথা বলতে হচ্ছে। মূলত: তিনিই আমাকে ছবি পরিচালনার ক্ষেত্রে বার-বার সাহস যুগিয়েছেন। তারকাছে আমার ঋনের শেষ নাই।