Home প্রতিবেদন ফ্যাশন কর্নার লাল সবুজের মেলা!

লাল সবুজের মেলা!

SHARE
Fashion

সৈয়দ ইকবাল: বিজয়ের মাসে লাল সবুজের সাজে সেজেছে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো। গত কয়েক বছরের মতো এবারও তারা বিজয়ের মাসে এনেছে লাল আর সবুজ রঙের অনেক পোশাক। যেগুলোর ডিজাইন এবং রঙে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ এবং স্বাধীনতার চেতনা। মূলত সময়কে ধারণ করার জন্যই এমন আয়োজন বলে জানান দেশীয় ফ্যাশন ডিজাইনাররা। স্টাইল, স্মার্টনেস, আউটলুকিংয়ের সামগ্রিক কনসেপ্টে বৈচিত্র্য এলেও বিজয় দিবসের ফ্যাশনে দেশাত্মবোধের চিন্তাটা উন্মোচিত হয়। বাঙালির স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা, মমতা এবং এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের প্রতিটি মুহূর্ত রয়েছে এসব পোশাকে। যেখানে স্বাধীনচেতা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের মহিমান্বিত গৌরব গাঁথার বিষয়ই ফুটে ওঠেছে। বিজয়ের এই পুরো মাসে দেশের প্রায় প্রতিটি ফ্যাশন হাউজেই রয়েছে এই পোশাকগুলো।

বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও বিজয় দিবস কিংবা পুরো বিজয়ের মাস উপলক্ষে বাজারে এনেছে বাহারি ধরনের লাল-সবুজের পোশাক। বেশিরভাগ পোশাকেই রয়েছে জাতীয় পতাকার লাল সবুজের গর্বিত ছোঁয়া। শোরুমগুলোয় নানান ডিজাইন থাকলেও তরুণ-তরুণীদের আগ্রহটা লাল-সবুজের ডিজাইন করা টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবির দিকেই বেশি। বøক, এম্ব্রয়ডারি, স্ক্রিনপ্রিন্টসহ দুই তিন মাধ্যমকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে পোশাকগুলোতে। এছাড়াও পোশাকে বিজয়ের কথা, গান, কবিতাও প্রাধান্য পেয়েছে। আজকের তরুণ স্বাধীনতার স্বরূপ বা বিজয়ের আনন্দ অনুভব করতে চায় তাদের নিজস্ব ঢঙে। আর তাই তো তরুণদের এ চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে বিজয়ের মাসে পোশাকের সম্ভারে লাল-সবুজকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো। এসব পোশাকের মধ্যে স্কিনপ্রিন্টের মাধ্যমে ওঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, পোস্টার, যুদ্ধের কবিতা অথবা ¯েøাগান। কখনও স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি, গৌরবোজ্জ্বল বিভিন্ন মুহূর্ত, দেশাত্মবোধক গানের পংক্তি অথবা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উঠে এসেছে টি-শার্টের বুকে।

লাল-সবুজকে প্রাধান্য দিয়ে তরুণীদের সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, টপস পাওয়া যাচ্ছে। এই সময়ে শীতের প্রাদুর্ভাব থাকায় এই আয়োজনে শীত পোশাকের আয়োজনও রয়েছে। শীত শীত আবহাওয়ার জন্য পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে একটু মোটা কাপড়ে। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বিজয়ের এই উৎসবকে আরো বেশি সুশ্রী ও বিজয়ের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে তোলার জন্য ক্রেতাদের কাছে ব্যতিক্রমী সব পোশাক উপস্থাপন করে থাকে। রঙের বেলায় লাল-সবুজ তো আছেই সঙ্গে অন্য রংগুলোও বাদ পড়ছে না। বিজয় দিবসের পোশাকে কোনো কোনো হাউস বিজয় উৎসবের বিভিন্ন প্রতীক ও চিত্রও ফুটিয়ে তুলেছে। পোশাকে মোটিভ হিসেবে জাতীয় পতাকার রং ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশের-এর স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিক সাহা বলেন, ‘বিভিন্ন উৎসবে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো ভিন্ন ধরনের পোশাক নিয়ে ক্রেতার সামনে হাজির হন। তাই তো এবার বিজয় দিবসে লাল-সবুজের কম্বিনেশনে নানান ধরনের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ, টি-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক করেছি। তবে এই সময়ে শীতের প্রাদুর্ভাব থাকায় কাপড়ে সেই দিকটি খেয়াল রাখা হয়েছে। আর বিভিন্ন পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে চাদরও। এসব চাদরে স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধের নানান মোটিভ তুলে ধরা হয়েছে।’

অন্যদিকে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, শর্ট পাঞ্জাবি, পাঞ্জাবি ও টপসের সঙ্গে মানানসই শীতের চাদর ও লাল-সবুজ অলঙ্কার। অনেক হাউজে শিশুদের জন্যও রয়েছে সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও টি-শার্ট। নিপুণ, রঙ বাংলাদেশ, কে-ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, নগরদোলা, কাজী ক্রাফট, নিত্য উপহার, বিবিআনা, ওজি, বাংলার মেলা, সমীকরণ, প্রবর্তনা, ফড়িংসহ অনেকগুলো ফ্যাশন হাউজ-ই বিজয়ের এই মাসে স্বাধীনতার থিম নিয়ে পোশাক তৈরি করেছে। ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশ বিজয়ের উদযাপনকে অন্য মাত্রা দিতে প্রস্তুত। ১৯৭১ সালের বিজয়ের ছবির বিষয়কে এবার ধরা হয়েছে তাদের কাপড়ের ক্যানভাসে। নির্দিষ্ট দুইটি রঙ লাল ও সবুজে ফুটেছে ১৯৭১ সালের বিজয়ের ছবি। সবুজ, লাল আর টিয়া কালারের নানা শেডও এক্ষেত্রে পরিপূরক হয়েছে। ট্রাডিশনাল পোশাকেই সাজানো হয়েছে বিজয় দিবসের সংগ্রহ। বিশেষত স্ক্রিনপ্রিন্ট করা শাড়ি আর পাঞ্জাবি এই কালেকশনের মূল আকর্ষণ। সূতি ও হাফসিল্ক শাড়িতে ১৯৭১ সালের বিজয়ের ছবি দিয়ে স্কিনপ্রিন্ট করার পাশাপাশি আঁচলে মূল ছবিটাকে ফ্রেমে বেঁধে আঁচলে তুলে ধরা হয়েছে। একই থিমকে ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সিঙ্গল কামিজে। সিঙ্গেল কামিজে সবুজের সেড এবং লাল দিয়ে কাজ করা হয়েছে। প্যার্টানে ভিন্ন কাটিং ব্যবহার হয়েছে। থ্রিপিসে লাল ওড়নাকে পতাকার আদলে তৈরি হয়েছে। ড্রেস এবং পায়জামায় সবুজের সেডে কাজ করা হয়েছে । বেবী ড্রেস এ সবুজ, লাল ও  টিয়া রংগুলো ব্যবহার করা হয়েছে । বাচ্চা পাঞ্জাবিতেও কাটিংএর পরিবর্তন করা হয়েছে ।

বিজয়ের পোশাক যেকোনো ফ্যাশন হাউজ থেকে কিনলে সাধারণত দাম পড়বে, টি-শার্ট ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ১৩০০ টাকা থেকে ২৪০০ টাকা, শাড়ি ১৮০০ টাকা থেকে ৩৪০০ টাকায়, ফতুয়া ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা, চাদর ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। এছাড়াও নগরীর নিউ মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেটে গেলে এসব পোশাকের দাম কিছুটা কমে পাওয়া যাবে। তবে আজিজ সুপার মার্কেটে বিজয় দিবসের পোশাকের বেশি কালেকশন রয়েছে। এই মার্কেটের প্রায় সবগুলো ফ্যাশন হাউজ-ই বিজয় দিবসকে উপলক্ষ করে লাল সবুজ থিম নিয়ে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করেছে। যা পাওয়া যাবে অনেক কম দামেই। এসব হাউজের মধ্যে রয়েছে বরুন, বার্ডস আই, ৭১, বালুচর, আরশিসহ আরো কিছু ফ্যাশন হাউজ।

পোশাক: রঙ বাংলাদেশ