Home আরোও বিভাগ ইভেন্ট লাল সবুজের বিজয় মেলা

লাল সবুজের বিজয় মেলা

SHARE
Bijoy-Mela

মোহাম্মদ তারেক: চ্যানেল আই-এর প্রাঙ্গণে যে বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হলো আসলে এই মেলা সারা পৃথিবীর বাঙালির হৃদয়ের মেলা। পৃথিবীর যেখানে যতো বাঙালি রয়েছেন তিনি এই মেলা দেখে উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের আনন্দ। আমরা সেই জাতির প্রতিনিধিত্ব করি, যারা একটি বিজয়ী জাতি। যুদ্ধ করে যারা একটি দেশ পেয়েছে। এবার চ্যানেল আই ১২ বারের মতো বিজয় মেলার আয়োজন করল। কিন্তু আসলে বাংলাদেশের এই বিজয় প্রতিদিনের বিজয়। প্রতিদিন আমরা বিজয় অনুভব করি যে বাংলাদেশের একজন মানুষ হিসেবে, বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে সারা পৃথিবীর মানুষকে আমরা বলি, আমরা যুদ্ধ করে পাওয়া একটা দেশের নাগরিক। এই দেশের উন্নতির জন্য, এ দেশের ভালোর জন্য আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি।

সবার প্রতি আমাদের একটাই প্রত্যাশা দেশের জন্য এমন একটি ভ‚মিকা পালন করুণ যাতে সবাই গর্ব করে আপনাকে নিয়েও বলতে পারে, আপনি উন্নত বাংলাদেশের, ডিজিটাল বাংলাদেশের একজন সমান অংশীদার। দেশবন্ধু গ্রæপ-চ্যানেল আই বিজয় মেলা ২০১৭ এর উদ্বোধন ঘোষণার সময় কথাগুলো বললেন, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।

মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে চ্যানেল আই প্রতিবারের মতো এবারও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রাঙ্গণে আয়োজন করেছিল দেশবন্ধু গ্রæপ-চ্যানেল আই বিজয় মেলা ২০১৭। বিজয়ের ৪৬ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে এই বিজয় মেলাকে ঘিরে নেয়া হয়েছিল বিশেষ পরিকল্পনাও। এ মেলায় মিলিত হয়েছিলেন সব শ্রেণি পেশার মানুষের পাশাপাশি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারাও। বিজয় মেলায় এসে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, চ্যানেল আই-এর এ দিনটির জন্যই তারা অপেক্ষা করেন সারা বছর। এ মেলায় খুঁজে পান হারানো স্মৃতি। দেশবন্ধু গ্রæপ-চ্যানেল আই বিজয় মেলার মঞ্চ থেকে পরিবেশিত হয় একাত্তরের প্রেরণাদায়ী গণসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও আবৃত্তি। ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ পর্ব। মেলায় দেখানো হয় ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পঞ্চম সংস্করণ।

Bijoy-Mela-1এদিন সকাল ১০-৩০ মিনিটে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য ও চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ও বিভিন্ন সেক্টরের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নিয়ে লাল সবুজ রঙের বেলুন আকাশে উড়িয়ে আনন্দ মুখর পরিবেশে মেলার উদ্বোধন করা হয়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, আব্দুর রশীদ মজুমদার, মুকিত মজুমদার বাবু, দেশবন্ধু গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান, দেশবন্ধু গ্রæপের এমডি বিদ্যুৎ কুমার বসু, এসি আই মটরস ইয়ামাহার সেলস এন্ড মাকের্টিং-এর পরিচালক মো: আজম, ব্র্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের এজিএম জাহিদুল ইসলাম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক সুজেয় শ্যাম, সৈয়দ হাসান ইমাম, রবীন্দ্রনাথ রায়, ডা: অরূপ রতন চৌধুরী, ফকির আলমগীর, তপন মাহমুদ, শাহীন সামাদ, লিলু বিল্লাহ, সাদী মহম্মদ, আলাউদ্দিন আলী, নারী উদ্যোক্তা কনা রেজা।

সাইদুর রহমান প্যাটেলের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা, মেজর (অব:) কামরুল হাসান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা সুজেয় শ্যামের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ। আরও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বিজয় মেলা উদ্বোধনের পরপরই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিকরা গেয়ে শোনান, ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ গানটি। মেলায় সেক্টর কমান্ডার ও উপাধি প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ছিল মেজর (অব:) কামরুল ইসলাম ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় একটি বিশেষ পর্ব। মেলার এবারের টাইটেল স্পন্সার দেশবন্ধু গ্রæপ। পাওয়ার্ড বাই ইয়ামাহা ও সহযোগী পার্টনার নূর ইকোব্রিকস।

‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ গানটির সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিজয় মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, রবীন্দ্রনাথ রায়, তপন মাহমুদ, সাদী মহম্মদ, লিলু বিল্লাহ, কিরণ চন্দ্র রায়, তপন চৌধুরী, দিনাত জাহান মুন্নী, দিঠি আনোয়ার, সহশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে বাসুদেবের দলীয় সংগীত পরিবেশনা। এছাড়াও সংগীত  পরিবেশন করেছে সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ ও বাংলার গানের শিল্পীরা। আবৃত্তি করেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও আতাউর রহমান।

লাল সবুজে বর্ণিল মঞ্চ, তোরণ ও ফেস্টনে সুসজ্জিত ছিল বিজয় মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় ছিল সাত বীর শ্রেষ্ঠের নামে সাতটি স্মারক স্তম্ভ। এবং ১১ সেক্টরের স্মরণে ১১টি নির্দিষ্ট মেলার স্টলগুলোতে সজ্জিত ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র, মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থ, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র, মুক্তিযোদ্ধাদের ডায়েরির প্রদর্শনী, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পের সামগ্রী ইত্যাদি। মেলায় চিত্রশিল্পী আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের ওপর চিত্রাঙ্কন করেছে শিশু শিল্পীরা। মেলা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন অপু মাহফুজ, মৌসুমী বড়–য়া ও সাফি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন আমীরুল ইসলাম ও শহীদুল আলম সাচ্চু। দুপুর ২টা পর্যন্ত একটানা বিজয় মেলা সরাসরি সম্প্রচার করেছে চ্যানেল আই।