রাইজিং স্টার টিভি ২০১৬

রাইজিং স্টার টিভি ২০১৬

2395
0
SHARE
Safa-Kobir

দুষ্টু-মিষ্টি সাফা কবির

মিডিয়ায় সাফা কবিরের আগমন বিজ্ঞাপন নির্মাতা আদনান আল রাজীবের হাত ধরে। তারই নির্দেশনায় সাফা প্রথম অভিনয় করেন ‘এট এইটিন অলটাইম দৌড়ের উপর ’ টেলিফিল্মে। এরপর তিনি আতিক জামান পরিচালিত ‘একা মেয়ে ’ নাটকে অভিনয় করেন। দুটি নাটকেই তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। এরপর সাফা কবির আরো অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করেছেন। তবে তিনি রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘ভালোবাসা ১০১’ নাটকে অভিনয় করে বেশ আলোচনায় আসেন। সাফা কবির পড়ছেন ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ সেকেন্ড সেমিস্টারে। ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই মডেল কন্যা মিডিয়া জগতে পা রাখেন পরিচালক রাহাত খানের ‘প্রাণ পিনাট বার’ এর টিভি বিজ্ঞাপন দিয়ে। তবে মডেলিং চুক্তির দিক দিয়ে আশফাক বিপুলের পরিচালনায় এয়ারটেলের বিজ্ঞাপন হল সাফা কবিরের প্রথম বিজ্ঞাপন। এট এইটিন অলটাইম দৌড়ের ওপর টেলিফিল্ম এর পর সাফা অভিনয় করেন ইউনিভারর্সিটি, ব্ল্যাক ম্যাজিক, জোনাক পোকা, ভায়োলিন এবং ইচ্ছে ঘুড়িসহ বেশকিছু নাটকে। সাফা কবিরের ফেসবুক ফ্যান পেইজে বর্তমানে লাইকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখেরও বেশি। টুইটারেও রয়েছে অসংখ্য ভিউয়ারস ও ফলোয়ারস, যা একজন তরুণ তারকার ক্ষেত্রে সত্যিই বিস্ময়কর ব্যাপার! তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে ভরপুর এই তারকাকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের সেরা ‘ইউটিউব’ সংবেদনশীল অভিনেত্রী। রাহাত খানের নির্দেশনায় ‘প্রাণ পিনাট বার’-এর বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করে মূলত আলোচনায় আসেন তিনি। এই বিজ্ঞাপনের ‘ফেসবুকিং পারে না’ সংলাপটি সাফা কবিরের কণ্ঠে বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

সফল ছেলে জোভান

Jobanপ্রথম অভিনীত নাটক প্রচারের পরই আলোচনায় আসেন জোভান। ২০১৩ সালে আতিক জামানের ইউনিভার্সিটি ধারাবাহিকে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। এরপর বেশকিছু ধারাবাহিক ও খণ্ড নাটকে অভিনয় করেন জোভান। তবে গত বছরই ব্যতিক্রমধর্মী কিছু নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। তবে শুরুর পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। জোভান জানান, তার শুরুর দিকের কথা। ২০১১ সাল। প্রাণের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার আশা নিয়ে প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নেন। বাছাই শেষে চতুর্থ শ্রেণির মডেল হিসেবে তাতে কাজ করতে হয় তাকে। সেই থেকে টানা দেড় বছর কয়েকটি বিজ্ঞাপনে মূল মডেলের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে জোভানকে। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর বন্ধু সিয়ামের সহযোগিতায় একটা পরিবর্তন আসে। ইউনিভার্সিটি ধারাবাহিকের জন্য প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নেন জোভান। শতাধিক ছেলে-মেয়ের মধ্য থেকে এই বাছাইয়ে টিকে যান তিনি। ধারাবাহিকটিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। ধারাবাহিকের প্রচার শুরু হওয়ার পর একাধিক বিজ্ঞাপনে কাজের প্রসৱাব পান। এই ধারাবাহিকের পর এক বছর আর কোনো নাটকে অভিনয় করেননি। এই সময় তিনি কাজ করেছেন শুধুই বিজ্ঞাপনে। জোভানের মতে, বাংলালিংক সেলফি আর গাজী টিভির দুটি বিজ্ঞাপন শোবিজের ক্ষেত্রে তাঁকে মজবুত অবস্থান তৈরি করে দেয়। এছাড়াও ‘মোমেন্টস’ নামে একটি শর্ট ফিল্ম জোভানকে তরুণ সমাজের কাছে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এই শর্ট ফিল্মটি ইউটিউবে দশ লাখেরও বেশি ভিউয়ারস হয়েছে। এখন নাটক, বিজ্ঞাপন- দুই জায়গায় সমান তালে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে ঝালমুড়ি, হাউজ নম্বর ৪৪, নাইন অ্যান্ড অ্যা হাফ আর শূন্যতা নামে চারটি ধারাবাহিকে কাজ করছেন। চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন জোভান। অনন্য মামুনের অসিৱত্ব চলচ্চিত্রে তিশার ভাইয়ের চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।

ঈশিকা বৃত্তান্ত

Ishikha-Khanঈশিকার সঙ্গে দর্শকের প্রথম পরিচয় মূলত একটি টেলিকম কোম্পানির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি- তাকে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে নিয়েছে। হরলিকস, আরএফএল, বাংলাদেশি আইডলসহ অনেকগুলো বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ঈশিকা নাম লিখিয়েছেন নাটকেও। এডিকশন, ভালোবাসার চতুষ্কোণ, টু ড্রাইভার, একদিন ছুটি হবে, নাইন অ্যান্ড অ্যা হাফ, দোস্ত-দুশমন, সাইন আপসহ আরো বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি। খুলনার বাগেরহাটের মেয়ে ঈশিকা তিন ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। শৈশবের কিছুটা সময় গ্রামের বাড়িতে কাটালেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকাতেই। মডেলিং, অভিনয় আর উপস্থাপনার পাশাপাশি বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন তিনি। ঘরকুনো ঈশিকার সব সুন্দর ইচ্ছাই মাকে ঘিরে। বাসায় থাকলে বেশিরভাগ সময়টা মাকে দিতেই চেষ্টা করেন। ঈশিকা যেখানে যাই করুক না কেন ক্রিকেট খেলা তার দেখাই চাই। ভীষণ  খেলা পাগল মেয়েটি। ক্রিকেট তার জানপ্রাণ। বাংলাদেশের খেলা একদমই মিস করেন না। উপস্থাপনাও করেছেন ঈশিকা। আরটিভির বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান তিনি উপস্থাপনা করেন। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে ঈশিকা জানান, ‘ভালো ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে চাই।

কেয়া নামের সেই মেয়েটি

Keya-Rahmanশোবিজে তার যাত্রা শুরু গান দিয়ে হলেও অভিনয় করেই বেশি আলোচনায় আসেন কেয়া রহমান। সোলস ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান ‘হাজার বর্ষা রাত’-এর আ-কাপেলা সংস্করণে পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়ে আলোচিত হয়েছেন কেয়া। ২০১২ সালের কথা ‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় কেয়া অংশ নেয়ার সময় পার্থ ছিলেন মূল তিন বিচারকের একজন। এখান থেকেই মূলত কেয়ার পরিচিতি। গানের মেয়ে হিসেবে পরিচিতি এলেও কেয়ার সঙ্গে এখন অভিনয়শিল্পী পরিচয়টিই বেশি জনপ্রিয়। গত বছরের শুরুর দিকে পরিচালক তানিম রহমান অংশু ‘সুপার গার্লস’ ধারাবাহিক নাটকের অভিনয়ের প্রসৱাব পান কেয়া। এ নাটকে কেয়ার চরিত্রটি ছিলো- একজন কণ্ঠশিল্পীর। তাই বেশ ভালোই অভিনয় করেন তিনি। এর সূত্র ধরেই গেল রোজার ঈদে কয়েকটি নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এগুলো হলো- তানিম রহমান অংশুর ‘দুই অংশের শেষ এখানেই’, ফরহাদ হোসেন পরিচালিত ‘চেয়েছো যখন’, রুবাইয়াত মাহমুদের ‘দ্য জার্নি’ এবং মাহমুদুর রহমান হিমির টেলিছবি ‘ফ্রেন্ডজ’। ইদানীং সংগীতশিল্পীদের অনেকে অভিনয়ে এসেছেন। তাদের কারও অভিনয় দেখে কি অনুপ্রাণিত হয়েছেন কেয়া? তার ঝটপট উত্তর- ‘মূলত পার্থদাকে (পার্থ বড়ুয়া) দেখে অভিনয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। গান-অভিনয় সবক্ষেত্রে তিনিই আমার অনুপ্রেরণা।’ গান থেকে অভিনয়ে, তা-ও আবার প্রতিদিন প্রচার হওয়া ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে। কিছুটা ভয় কি লাগেনি? প্রশ্নটি শুনে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কেয়া বললেন, ‘বরাবরই নিজের ওপর আস্থা রাখি। আমার মনে হয়েছে প্রথমে হিমশিম খেলেও অভিনয়টা ভালোভাবে করতে পারবো।’

এক ঝটকায় নাদিয়া নদী

নাদিয়া নদীর মিডিয়ায় যাত্রা শুরু অনেক আগেই। প্রথমেই বাংলালিংকের টিভিসি। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম বন্ধু এফএনএফ প্যাকেজ নিয়ে নির্মিত বড় বাজেটের টিভিসি। আর এতে নিজেকে ঠিকঠাক মেলে ধরে ওয়ারীর সাধারণ মেয়ে থেকে এক ঝটকায় হয়ে উঠলেন তারকা নাদিয়া নদী। এরপর আসতে থাকে বড় বাজেট আর বড় নির্মাতার কাছ থেকে কাজের অফার। কাজ করেছেন পেপসোডেন্ট, ক্লোজ-আপ কাছে আসার গল্পসহ আরো বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে। তবে চলতি বছর নদীর বেশকিছু বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও এবং নাটক দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। জুঁই নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনটিই নাদিয়া নদীকে পরিচিতি এনে দেয় বেশি। তিনি বলেন, ‘গত বছরটা বেশ ভালোই কেটেছে আমার। বিজ্ঞাপনচিত্রের পাশাপাশি বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ‘উজান গাঙের নাইয়া’ ধারাবাহিকে কাজ করেছি। এছাড়াও রায়হান খানের ৫২ পর্বের নাটক ‘স্যাটারডে নাইট’সহ বেশকিছু ধারাবাহিক ও খণ্ড নাটকে অভিনয় করেছি। এছাড়াও গুণী নির্মাতা আবু সাইয়ীদের চলচ্চিত্র ‘ড্রেসিং টেবিল’-এর মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু হয় আমার। সব মিলিয়ে নতুন এক নাদিয়া নদীকে গত বছরই আবিষ্কার করা হয়। স্বপ্ন দেখি আরো ভালো ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে।’

অভিনয়ই সকল ধ্যান-জ্ঞান এলভিনের

Alvin২০১০ সালের ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা এই তরুণী এখন দেশের প্রতিশ্রুতশীল মডেল-অভিনেত্রীদের একজন। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ থেকে বের হওয়ার পরই বৈশাখী টেলিভিশনের ‘অন্য আলোর গান’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন তিনি। এরপর আর উপস্থাপনা করেননি। জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের বিপরীতে ‘জামাই শ্বশুর’ এবং রুম ডেট নাটক দুটিই তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। পড়াশুনার জন্য এলভিন মাঝে একটা দীর্ঘ বিরতি নেন। তবে দু বছর ধরে টানা কাজ করছেন এই গ্ল্যামার কন্যা। তার অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, জাহিদ হাসান পরিচালিত নাটক ‘উড়ামন’, সবুর খান পরিচালিত নাটক ‘দাগ’, তাহের শিপন পরিচালিত নাটক ‘ভেঙে যাওয়া স্বপ্নগুলো, ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড,’ ‘নস্টালজিয়া ক্যাথেড্রেল’, ‘তিনি একজন সেফসাইডওয়ালা’ ও ‘পরস্পরসহ বেশকিছু নাটকে তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনেরও মডেল হয়েছেন এলভিন। সেভেন আপ, প্রাণ, অ্যাপেক্স, বেঙ্গল প্লাস্টিকসহ বেশকিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হোন তিনি। তাসনোভা আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এইইউবি) থেকে বিবিএ শেষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় নতুন কুঁড়ি করতাম। অনেক পুরস্কার জিতেছি। নাচ, গান, অভিনয় সবই করতাম। ব্যস্ততার কারণে এখন কেবল অভিনয়টাই করছি। অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেতে চাই আমি। অনেক ভালো একজন অভিনেত্রী হতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা সৎ থেকে, ভালো থেকে, ভালো অভিনেত্রী হয়ে বাঁচতে চাই।’

এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে সুদ্বীপ

Sudip-Biswasবিকাশের একটিমাত্র বিজ্ঞাপন করেই শোবিজে আলোচনায় আসেন সুদ্বীপ বিশ্বাস। এরপর একে একে রবি, ওয়াশআউট, লাইফবয়, স্বপ্ন, প্রাণ চানাচুর, ফামা ক্যাশ, স্মার্ট কার্ডসহ বেশকিছু জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে পারফর্ম করে মিডিয়ায় পরিচিতি পান। প্রাচ্যনাটের সক্রিয় সদস্য সুদ্বীপ বর্তমানে টিভি নাটকেও রয়েছে তার সমান পথচলা। অভিনয় করেছেন ‘মোহর আলী’, ‘কলিং বেল’, ‘থার্ড আই’সহ বেশকিছু ধারাবাহিকে। আরো অভিনয় করেছেন ‘১৭-৭১’, ‘ফর্মূলা অব লাভ’, অপারেশন কিলোফাইড’সহ কিছু খণ্ড নাটকে। চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন সুদ্বীপ। ‘সুতাপার ঠিকানা’য় তাকে ভিন্ন একটি চরিত্রে দেখা যায়। শোবিজে নিজের যাত্রা সম্পর্কে সুদ্বীপ বলেন, ‘আমি প্রাচ্যনাট করতাম। দলের হয়ে বেশকিছু নাটকে পারফর্ম করি। পরবর্তী সময়ে বিটিভিতে ‘বিশ্বাস’ নাটকের শেষ তিন পর্বে ‘ডেবিল’ চরিত্রে অভিনয় করি। বলতে গেলে সেটাই ছিল আমার টিভি নাটকে প্রথম অভিনয়। এরপর ‘সাতকাহন’, ‘ক্ষণিকালয়’, ‘লোটা কম্বল’, ‘সাইন আপ’, ‘অপূর্বা’, ‘অ-এর গল্প’সহ বেশকিছু নাটকে অভিনয় করি। তারপর বিকাশের বিজ্ঞাপনটি ছিল আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিনেতা হওয়া আমার স্বপ্ন। ভালো কিছু কাজ দর্শকদের উপহার দিতে চাই। যে কাজ আমাকে দর্শকদের মাঝে ব্‌াচিয়ে রাখবে সারাজীবন।’

সুপারওম্যান শ্রাবণ্য তৌহিদা!

Towhida-Srabonnoমা-বাবার কাছে তৌহিদা শ্রাবণ্য হলেন সুপারওম্যান! তাদের মেয়ে চাইলে নাকি সবই করতে পারেন! ‘চাইলে সব করতে পারি’ কথাটা তিনি বিশ্বাস করেন। ছোটবেলা থেকে সেটা করে দেখানোরও চেষ্টা করেছেন। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল হওয়া থেকে শুরু করে নাচ-গান, আবৃত্তি এবং বিতর্ক সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করে ভালো করার চেষ্টা থাকতো তার। যেটা করার সিদ্ধান্ত নেন তা করতেই হবে তার, করেনও।

এত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা এবং মডেলিংয়ের পাশাপাশি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে অনার্স মার্কস নিয়ে পাস করা, একবারেই এফপিএস এবং বিসিএস পাস করায় বাবা-মা, পরিবার আর বন্ধুদের বিশ্বাস ইচ্ছা থাকলে সবই করতে পারেন তিনি। সুপারওম্যান খেতাবটা আছে বলেই পেশায় চিকিৎসক শ্রাবণ্য এই চ্যানেল থেকে ওই চ্যানেলে ছোটাছুটি করেন। শ্রাবণ্যর ছোটবেলা কেটেছে কুড়িগ্রামে। এখানে তার নানা বাড়ি, দাদা বাড়িও। খেলাধুলার বেলায় ক্রিকেট বরাবরই শ্রাবণ্যর বেশি প্রিয়। ক্রিকেট বোঝেন, খেলেছেনও। ক্রিকেট ভালো লাগে বলেই গাজী টেলিভিশনের ‘ক্রিকেট ম্যানিয়া’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন তিনি। এই কাজটি করেই শোবিজে পরিচিতি পান শ্রাবণ্য। তবে উপস্থাপনায় শ্রাবণ্যর পথচলা শুরু চ্যানেল২৪-এর ‘লাইফস্টাইল ২৪’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এর সুবাদে তিনি ডাক পেয়ে যান শাহরিয়ার শাকিলের পরিচালনায় ‘ট্রাভেলার্স স্টোরি’র (চ্যানেল নাইন) জন্য। আরো উপস্থাপনা করেন এনটিভির ‘মিউজিক ইউফোনি’ অনুষ্ঠানটি। উপস্থাপনা করেই শ্রাবণ্য তৌহিদা বর্তমানে শোবিজে বেশ আলোচিত।

এগিয়ে চলেছেন তাসনুভা তিশা

Tasnova-Trishaমডেল ও অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। খুব অল্প সময়েই যেন মিডিয়ায় নিজের এক জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ফ্যাশন ফটোশুট দিয়ে শুরু করা এই তারকা খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করেছেন জনপ্রিয় সব নির্মাতাদের সঙ্গে। নিয়মিত এখন টিভি পর্দায় দেখা যায় এই পরিচিত মুখকে। ‘বিবাহিত ব্যাচেলর’, ‘বউগিরি’, ‘১৩৮ কালাচাঁন লেন’, ‘বিটলাবাবুর বাম হাত’ ‘ক্রস কানেকশন’, ‘পাখির ডানায় ভর’, ‘গল্পের পেছনের গল্প’, ‘চোখ’, ‘আপনার গরুকে লাইক দিন’সহ বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।  ছোটপর্দায় নিয়মিত কাজ করা তাসনুভা তিশা বড়পর্দায়ও কাজ করতে চান, তবে আছে তার শর্ত। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের জন্য আমি প্রসৱুত না। অনেক বড় জায়গা এটা। ভালো পরিচালক, ভালো গল্প পেলে অবশ্যই চলচ্চিত্রে কাজ করবো’। কাজের ব্যস্ততা থাকার পরও সংসারে সময় দেন তিনি। বিষয়টি নিয়েবেশ গর্ব করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার সনৱান হওয়ার পর তো ছয় মাস পর্যন্ত কোনো কাজ করিনি। এখন সনৱান একটু বড় হয়েছে। এখন কাজ করছি বেশ। আর আমার স্বামী আমাকে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে। তাই এখন পর্যন্ত ভালো মতো মিডিয়ায় কাজ করতে পারছি।’ বিজ্ঞাপন, নাটক, মিউজিক ভিডিও সবকিছুতেই কাজ করছেন তাসনুভা। তবে ভালো লাগার বিষয় জানতে চাইলে তার জবাব, ‘সত্যি বলতে মডেলিং করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। তবে মা হওয়ার পর মডেলিং থেকে কিছুদিন দূরে ছিলাম। কারণ মডেলিং এ নিজেকে যেভাবে তৈরি করা দরকার সেইভাবে প্রসৱুত ছিলাম না তখন। তবে এখন আবার মডেলিং শুরু করেছি। ফটোশুট আমার খুবই ভালো লাগে। আর অভিনয় তো করছি। সামনেও করবো।’ বর্তমানে তাসনুভা তিশা ‘নয় ছয়’, ‘ব্যাকবেঞ্চারস’, তরুণ তুর্কিসহ বেশকিছু ধারাবাহিকে তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।

চাঁদ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেন মুন

Moonভিট চ্যানেল আই টপ মডেল ২০১৪-এর দ্বিতীয় রানার আপ মুন। বিজয়ী হওয়ার পর দুটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রথম নাটকটি প্রচারের পর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, ফেসবুক বন্ধুরা অনেক প্রশংসা করেছেন মুনের। নাটকটির নাম ছিল ‘অগোচরে ভালোবাসা’। নোয়াখালির মেয়ে মুন খুব অল্প ক’দিনের মধ্যেই বেশকিছু ভালো কাজ করে মিডিয়ায় আলোচিত হন। নাটক-টেলিফিল্ম এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন নিয়মিত। ‘প্রেম বোঝে না রসিক কালা চান’ নাটকটি তার একটি আলোচিত নাটক। নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ফটোগ্রাফিসহ বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি। ছোটবেলায় নাচ-গান-অভিনয় কিছুই শেখেননি পাঁচ ফিট সাত ইঞ্চির সুদর্শনা মুন। তবে বড় হয়ে শোবিজে কাজ করার ইচ্ছা এবং ভালোবাসাই তাকে আজকের এই পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। হাসলেই মুখে টোল পড়া মুন সবসময় হাসিখুশি থাকতেই পছন্দ করেন তিনি। সময় পেলে আকাশে চাঁদ দেখেন। চাঁদ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছোটবেলা থেকেই ছিল মুনের। তাহলে স্বপ্ন কি সত্যি হচ্ছে? এ প্রসঙ্গে মুন বলেন, ‘সফল অভিনেত্রী হতে চাই। সুবর্ণা মুসৱাফা এবং নুসরাত ইমরোজ তিশার অভিনয় দেখে সবসময় অনুপ্রাণিত হই।’ সম্প্রতি মুন বড়পর্দাতেও নাম লিখিয়েছে। বদরুল আনাম সৌদের পরিচালনায় ‘গহীন বালুচর’-এ চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে মুন বলেন, ‘এটা সত্যিই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। ছবির গল্প এবং আমার চরিত্রটি অসাধারণ। আশা করছি অন্যরকম কিছু একটা হবে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’