নতুন জার্সি নব উদ্যমে জয়ী বাংলাদেশ

নতুন জার্সি নব উদ্যমে জয়ী বাংলাদেশ

3105
SHARE

রবি অদম্য জার্সি গালা রাউন্ড

সৈয়দ ইকবাল: সত্যিই এ এক অসাধারণ মুহূর্ত! বাংলাদেশের ওয়ান ডে ও টি-২০ দলের সফলতম ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মতর্ুজা মঞ্চের আলো আধারিতে হেঁটে যাচ্ছেন। তার গায়ে জড়ানো জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন জার্সি। নেপথ্যে তখন বেজে চলেছে ‘জিতবে এবার জিতবে ক্রিকেট…’ গানটি। দর্শকের আনন্দ চিৎকারের কোনো কমতি নেই। হাততালি আর বিরামহীন বাদ্যযন্ত্রের সূর মূর্ছনায় পরিবেশ তখন অন্যরকম। একজন তো পাশ থেকে বলেই দিলেন-‘গানের সাথে মাশরাফির মিল রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একের পর এক বিজয় এনে দিয়ে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মাশরাফি। ’ পুরো আয়োজনে যে কারোরই মনে হবে এ যেনো এক টুকরো বাংলাদেশ। হেমন্তের মন মাতানো সন্ধ্যায় নগরীর পাঁচ তারকা হোটেলে বর্ণিল সব আয়োজন ও চোখ ধাঁধানো পরিবেশনায় পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিরামহীন সাফল্য তুলে ধরার চিত্রটি ছিল সত্যিই অসাধারণ। যে আয়োজনের মূলে ছিলো ‘রবি অদম্য জার্সি ডিজাইন কনটেস্ট’ নামক অসাধারণ উদ্যোগ। প্রায় তিন মাস ধরে চলা প্রতিযোগিতামূলক এই অনুষ্ঠানটির গালা ইভেন্ট হয়ে গেলো ৫ নভেম্বর। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টাইগারেরা নতুন জার্সি উপহার পায়। পাশাপাশি ক্রিকেট পাগল ভক্তরাও পায় নতুন এক উদ্যমের গল্প। অনুষ্ঠানের ঠিক একদিন পরেই ৭ নভেম্বর সেই জার্সি পরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৩ দিনের ওয়ানডে খেলতে নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং আবারও বাংলাওয়াশ করে জিম্বাবুয়েকে। নতুন জার্সি পরে নব উদ্যমে জয়ী বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুরু হলো নতুন আরেক অধ্যায়।

রবি অদম্য জার্সি ডিজাইন কনটেস্টের গালা আয়োজনে এসেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, আইসিসি-এর সিইও ডেভিড রিচার্ডসন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর (বিসিবি) পরিচালক এবং ওয়ার্কিং কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ; পরিচালক ও মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনস এর চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান কোচ হাথুরে সিংহে, সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর, রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে, চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, হেড অব এন্টারপ্রাইজ বিজনেস (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) আদিল হোসেন নোবেলসহ অনেকে।

04_1১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৫: পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁও-এর বলরুমের চারদিকে সাজ সাজ রব। অনুষ্ঠানের মূলমঞ্চে ঢোকার আগে প্রবেশ মুখের ঠিক ডান পাশে বাংলাদেশের ক্রিকেটের গৌরবময় সব ইতিহাস ফটো ফিচারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। যা ছিল উজ্জ্বল অতীতকে একবার দেখে নেয়া। ১৯৯৭ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেটদল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আকরাম খানের ছবি, সেই ম্যাচে খেলার স্ট্যাম্প, ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর ছবি, আমিনুল ইসলাম, নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের রেকর্ড করা ছবি, ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে অলোক কাপালির রেকর্ড, সাকিব আল হাসানের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হওয়ার ছবি, তার খেলার ব্যাট, নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের ছবি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টেস্ট সিরিজ জেতার অনিন্দ্য সুন্দর মুহূর্তসহ সর্বশেষ পাকিস্তান, ভারত ও সাউথ আফ্রিকাকে হারানোর নানান মূহূর্তের ছবিগুলো গ্যালারিতে ঠাঁই পেয়েছিল। দুর্লভ এসব মুহূর্তের ছবিগুলো আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে ভিন্ন এক আনন্দের সৃষ্টি করে। যারাই গ্যালারির দিকে তাকিয়েছেন মুহূর্তেই যেনো হারিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের এসব গৌরবময় অধ্যায়ে। আর তাই তো বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্র-পত্রিকার ফটোগ্রাফাররা এসব দুর্লভ ছবি ক্যামেরা বন্দি করতে ভুল করেননি। ঘড়ির কাঁটা তখন ৭.৪২ মিনিট: সোনারগাঁও হোটেলের বলরুম কানায় কানায় পূর্ণ। আমন্ত্রিত অতিথিরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন জার্সি দেখার জন্য। ১১টি জার্সি থেকে কোন জার্সিটা সেরা হবে সেটাই দেখার পালা। অনলাইন ও মোবাইলে ভোটিং-এর পর গালা ইভেন্টের মাধ্যমে সেরা জার্সির নাম ঘোষণা করার জন্যই এই আয়োজন। এরইমধ্যে অনুষ্ঠানে চলে এসেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়সহ সদ্য বাংলাদেশ সফরে আসা জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দল, আইসিসি-এর সিইও ডেভিড রিচার্ডসন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে, চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদসহ রবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মাশরাফি, সাকিব, মুশফিকদেরকে কাছে পেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্হিত অতিথিরা সেলফি তোলায় ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। মঞ্চের পেছন থেকে ঘোষণা এলো অনুষ্ঠান শুরুর। মুহূর্তেই সুনশান নীরবতা। মঞ্চ একেবারেই অন্ধকার। খানিক পরেই মঞ্চে রাখা কাঠের কাঠামোয় গড়া প্রতীকী ক্রিকেটারের শরীরে আলো এসে পড়লো। মিউজিক আর লেজারের আলোতে প্রতীকী ক্রিকেটারের শরীরে একটার পর একটা ক্রিকেটের নতুন জার্সি যাচ্ছে। চার মিনিটের রিদমিক সঙ্গীতের পর মঞ্চে আসেন সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও কণা।

‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১৬ কোটি প্রাণ/ বাংলাদেশ বাংলাদেশ একটাই নাম’ শিরোনামের গানটি গায় দু’জনে। এরপর মঞ্চে আসেন উপস্হাপিকা নাবিলা ও মারিয়া নূর। এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের গর্বিত পথচলা নিয়ে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল দেখানো হয়। যেখানে উঠে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নব সূচনার দিন ১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিলের কথা। ১ বলে ১ রানের সেই উৎকণ্ঠার দিনটির কথা। যেদিন থেকে বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে যোগ হয় নতুন এক মেধাবী বাংলাদেশ। কোটি বাঙালির গর্জে ওঠার দিন ছিলো সেটা। লাল-সবুজের পতাকায় সেদিন যোগ হয় আরো একটি বিজয়। সেই বিজয়ের পর বাংলার ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা তুলে ধরা হয় অডিও-ভিজ্যুয়ালটিতে। এতে আরো তুলে ধরা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়াসহ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিজয়ের বিভিন্ন গৌরবের চিত্র। বিজয়ের বিভিন্ন চিত্রের পাশাপাশি ছিলো পরাজয়ের কিছু তথ্যও। সেই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে ক্লান্ত হয়নি তাও তুলে ধরা হয় তথ্যচিত্রটিতে।

01_4যেনো এক টুকরো বাংলাদেশ: স্টেজে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ান ডে ও টি-২০ ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মতর্ুজা। তাকে মঞ্চে দেখা মাত্রই দর্শক সারি থেকে তুমুল করতালি শুরু হয়ে যায়। উপস্হাপিকা নাবিলা ও মারিয়া নূরের কৌতুকময় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মাশরাফি। নতুন জার্সি পরে জিম্বাবুয়ে দলকে বাংলাওয়াশ করা হবে কিনা নাবিলার এমন প্রশ্নে মাশরাফি বলেন, ‘প্রশ্নটি বাংলায় করাতে বেঁচে গেছেন। কারণ অনুষ্ঠানে জিম্বাবুয়ে দলও রয়েছে। তারা যদি বুঝতে পারে তাদেরকে বাংলাওয়াশ করা নিয়ে কথাবার্তা চলছে তাহলে কিন্তু শেষ!’ মাশরাফির এমন মজার কথায় উপস্হিত সবাই তখন অট্টহাসিতে টইটম্বুর। মাশরাফি বলেন, ‘বাংলাওয়াশ শব্দটার মধ্যে এক ধরনের প্রেসার কাজ করে। আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি ভালো খেলার। যখনই খেলতে মাঠে নামি, সবগুলোতেই জিততে চাই। সবসময় হয়তো জেতা হয় না। তবে দেশের সবার দোয়া নিয়ে আমরা জেতার চেষ্টা অবশ্যই করি। ’

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মঞ্চে ১১টি জার্সি নিয়ে র্যাম্পে একঝাঁক র্যাম্প মডেল হাজির হন। যাদের সাথে ১১জন প্রতিযোগীও মঞ্চে আসেন। মডেল ইমি, রশুমা, হিরা, রাখী, শাওন, জনিসহ একঝাঁক মডেলকে মিউজিকের তালে তালে লাল সবুজের জার্সি পরে হাঁটতে দেখে এক পলকেই মনে হলো- এ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। এবার ১১জন প্রতিযোগী থেকে বেছে নেয়া হয় ৫ জনকে। মনিরুল ইসলাম রাজু, রিয়াজ পারভেজ, অণিকেত ভট্টাচার্য, নাদিম হোসেন ও জাহিদুর রহমান থেকে যান সেরা ৫-এ। এই সেরা ৫ জনকে নিয়ে আরেকবার র্যাম্পে চক্কর দেন মডেলরা। এরপর একটি স্বপ্নময় মুহূর্ত স্ক্রীনে উপস্হাপন করা হয়। যেখানে দেখানো হয় বাংলাদেশ আইসিসি কাপ জিতে গেছে। পুরো দেশ আনন্দে মাতোয়ারা। কল্পনার ঠিক এমন একটি দৃশ্য গল্প-গানে ও নৃত্যে তুলে ধরা হয়। নেপথ্যে তখন বেজে ওঠে- ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’। বেশ আবেঘন ভাবেই দৃশ্যটি উপস্হাপনা করা হয়। যা উপস্হিত সকলের মাঝে ভিন্ন একটি ভালো লাগার আমেজ ছড়িয়ে দেয়। এরপর রবির থিম সং ‘জ্বলে উঠো বাংলাদেশ’ শিরোনামের গানটি নিয়ে মঞ্চে আসেন সঙ্গীতশিল্পী মিলন, কোনাল, লিজা ও পলাশ।

3এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ: একটু ভিন্নভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত এই পর্বটি ঘোষণা করেন। তবে সেটা একদম ক্রিকেট খেলার ধারাভাষ্যের মতোই। সেরা ৫ জনের নাম্বার ও জার্সি স্ক্রীনে প্রেজেন্ট করা হয়। সেখানে থার্ড অ্যাম্পায়ারের ডিসিশন পেন্ডিং থাকার মতো পাঁচ জনের জার্সির উপর লাল ও সবুজ বাতি শো করতে থাকে। যে আউট হয়ে যাবে তার জার্সির পাশে লাল বাতি জ্বলে উঠে। এমনিভাবে পর পর চারটি জার্সি আউট হয়ে যায়। সর্বশেষ ৫ নম্বর জাসির্টিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। যার ডিজাইন করেছিল অনিকেত ভট্টাচার্য। মুহূর্তেই অনিকেত ভট্টাচার্যের ডিজাইন করা জার্সিটি পরে মঞ্চে আসেন মাশরাফি বিন মতর্ুজা। তার পাশে হাঁটতে থাকেন অনিকেত। দৃশ্যটি ছিল সত্যিই অসাধারণ। সোনারগাঁও হোটেলের বলরুম তখন আনন্দ উৎসবের ঢেউ খেলে যাচ্ছিলো। উপস্হিত সকলে করতালি দিয়ে অনিকেতকে অভিনন্দন জানান। এবার মঞ্চে আসেন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ও বিজয়ী অনিকেত ভট্টাচার্য। শুরু হয় ফটো সেশন পর্ব।

01_5মঞ্চে আসেন আইসিসি-এর সিইও ডেভিড রিচার্ডসন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনস এর চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ ডেভিড হোয়াট মোর, রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে, চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদসহ আরো অনেকে। সবার হাতে নতুন জার্সি তুলে দেন রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে।

৩ মাসের জার্নি: অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে রবি অদম্য জার্সি ডিজাইন কনটেস্টের পুরো জার্নিকে একটি ভিডিও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। যেখানে দেখানো হয় কিভাবে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গিয়ে অদম্য জার্সি ডিজাইন কনটেস্টে বিভিন্ন ছাত্রছাত্রী অংশ নেন। সারা দেশের রবি এবং বিসিবি শীর্ষ ফ্যাশন ইনস্টিটিউটগুলোতে অনন্য এ প্রতিযোগীতায় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালায়। প্রচারণামূলক কার্যক্রম চলাকালে ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের করা জার্সির ডিজাইনও জমা দেন। এ ছাড়াও রবির কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার ও অনলাইনেও ডিজাইন জমা দেন প্রতিযোগীরা। জার্সির ডিজাইন গ্রহণ শেষে বিসিবি কর্মকর্তা, সাবেক ক্রিকেটার, খ্যাতিমান শিল্পী, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ফ্যাশন আইকনদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারক প্যানেল প্রতিযোগীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি হয়। প্রায় ৫ হাজার ডিজাইনারদের থেকে ৮ হাজারেরও বেশি জার্সি সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেটাকে সংক্ষিপ্ত একটি লিস্ট করে ১ হাজারটি ডিজাইন বাছাই করা হয় এবং পরবর্তীতে ঠাঁই পায় ৫০টি জার্সি। এরপর নানান ধাপ পেরিয়ে ১১টি জার্সির ডিজাইন বিচারকরা নির্বাচন করেন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর (বিসিবি) পরিচালক এবং ওয়ার্কিং কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ, বিসিবি’র পরিচালক এবং মিডিয়া এবং কমিউনিকেশনস এর চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এবং হেড অব এন্টারপ্রাইজ বিজনেস (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মো. আদিল হোসেন নোবেল। নির্বাচিত জার্সিগুলো নিয়ে চলে ভোটিং পর্ব। আয়োজকদের দেয়া কোড নম্বর অনুসারে সেরা জার্সি নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের কাছে ভোট আহ্বান করা হয়। আগ্রহীরা এসএমএস এবং অনলাইনে ভোট দিয়ে সেরা জার্সিটি নির্বাচন করেছেন। পুরো আয়োজনের টেলিভিশন পার্টনার চ্যানেল আই। তাই তো চ্যানেল আইতে ৬ নভেম্বর রাত ৯.৩০ মিনিটে রবি অদম্য জার্সি গালা রাউন্ডের অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হয়।

ঘড়ির কাঁটা তখন ৭.৪২ মিনিট: সোনারগাঁও হোটেলের বলরুম কানায় কানায় পূর্ণ। আমন্ত্রিত অতিথিরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন জার্সি দেখার জন্য। ১১টি জার্সি থেকে কোন জার্সিটা সেরা হবে সেটাই দেখার পালা। অনলাইন ও মোবাইলে ভোটিং-এর পর গালা ইভেন্টের মাধ্যমে সেরা জার্সির নাম ঘোষণা করার জন্যই এই আয়োজন। এরইমধ্যে অনুষ্ঠানে চলে এসেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়সহ সদ্য বাংলাদেশ সফরে আসা জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দল, আইসিসি-এর সিইও ডেভিড রিচার্ডসন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে, চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদসহ রবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মাশরাফি, সাকিব, মুশফিকদেরকে কাছে পেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্হিত অতিথিরা সেলফি তোলায় ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। মঞ্চের পেছন থেকে ঘোষণা এলো অনুষ্ঠান শুরুর। মুহূর্তেই সুনশান নীরবতা। মঞ্চ একেবারেই অন্ধকার। খানিক পরেই মঞ্চে রাখা কাঠের কাঠামোয় গড়া প্রতীকী ক্রিকেটারের শরীরে আলো এসে পড়লো। মিউজিক আর লেজারের আলোতে প্রতীকী ক্রিকেটারের শরীরে একটার পর একটা ক্রিকেটের নতুন জার্সি যাচ্ছে। চার মিনিটের রিদমিক সঙ্গীতের পর মঞ্চে আসেন সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও কণা।

‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১৬ কোটি প্রাণ/ বাংলাদেশ বাংলাদেশ একটাই নাম’ শিরোনামের গানটি গায় দু’জনে। এরপর মঞ্চে আসেন উপস্হাপিকা নাবিলা ও মারিয়া নূর। এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের গর্বিত পথচলা নিয়ে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল দেখানো হয়। যেখানে উঠে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নব সূচনার দিন ১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিলের কথা। ১ বলে ১ রানের সেই উৎকণ্ঠার দিনটির কথা। যেদিন থেকে বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে যোগ হয় নতুন এক মেধাবী বাংলাদেশ। কোটি বাঙালির গর্জে ওঠার দিন ছিলো সেটা। লাল-সবুজের পতাকায় সেদিন যোগ হয় আরো একটি বিজয়। সেই বিজয়ের পর বাংলার ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা তুলে ধরা হয় অডিও-ভিজ্যুয়ালটিতে। এতে আরো তুলে ধরা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়াসহ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিজয়ের বিভিন্ন গৌরবের চিত্র। বিজয়ের বিভিন্ন চিত্রের পাশাপাশি ছিলো পরাজয়ের কিছু তথ্যও। সেই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে ক্লান্ত হয়নি তাও তুলে ধরা হয় তথ্যচিত্রটিতে।

১৬ কোটি মানুষকে আন্দোলিত করবে বলে আমার বিশ্বাস

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও), রবি

Mahtab-uddinএমন একটি আয়োজন করার জন্য শ্রদ্ধেয় পাপন ভাই (নাজমুল হাসান পাপন) বেশ উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্য কৃতজ্ঞ তার প্রতি। এই আয়োজনে পুরো রবি সহ অন্যান্য এজেন্সির অদম্য একটি টিম কাজ করেছে। পাশাপাশি চ্যানেল আই থেকেও আমরা পেয়েছি অফুরান সহযোগিতা। অদম্য জার্সি ক্রিকেট ভক্তদের নিয়ে এসেছে রবি। একটি জার্সি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার প্রতীক। তাই তো এমন একটি জার্সি খুঁজে বের করার জন্য আমাদের অদম্য একটি টিম কাজ করেছে। আমরা আশা করছি এই অদম্য জার্সি ডিজাইন কনটেস্ট আয়োজনের মাধ্যমে যে জার্সিটি পাওয়া গেল তা নিঃসন্দেহে নতুন এক গৌরবগাঁথার সৃষ্টি করবে। এই জার্সি যে শুধু ক্রিকেটার কিংবা মাঠে থাকা দর্শকদেরই অনুপ্রেরণা জোগাবে তাই নয়। এটা ১৬ কোটি মানুষকে আন্দোলিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। এই জার্সির মাধ্যমে ১৬ কোটি বাঙালি, ক্রিকেটভক্ত তথা খেলোয়াড়দের জ্বলে উঠার শক্তিও বটে। আমরা জার্সিতে বাংলায় আমাদের স্পন্সরের নাম লিখেছি। এটা বিশ্বে প্রথম।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে জার্সিতে বাংলা লেখা রয়েছে

ফরিদুর রেজা সাগর, ব্যবস্হাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই

SAGOR-SIR-এমন একটি আয়োজন করায় রবি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি চ্যানেল আই এমন একটি আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে গর্বিত বোধ করছে। রবি চ্যানেল আইকে নানানভাবে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে। এজন্য অনেক কৃতজ্ঞতা রবির প্রতি। এমনিভাবে আগামীতেও চ্যানেল আই ও রবি একসাথে কাজ করবে এই আশাবাদ আমি ব্যক্ত করছি। রবি অদম্য জার্সি কনটেস্ট এর মাধ্যমে যে নতুন জার্সিটি নির্বাচন করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে ক্রিকেটারদের উন্মাদনা সৃষ্টির পাশাপাশি অনুপ্রেরণাও জোগাবে। কারণ এটা শুধু একটি জার্সিই নয়। এটা আমাদের জাতীয়তার প্রতীক, গর্বের প্রতীক, অহংকারের প্রতীকও বটে। জার্সি কনটেস্ট এর আগেও দেশে হয়েছে। তবে ‘অদম্য জার্সি’-এই কথাটির সাথে দেশের ১৬ কোটি মানুষের সম্পৃক্ততার কথাই প্রমাণ করে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে জার্সিতে বাংলা লেখা রয়েছে। যা নিঃসন্দেহে আমাদের গর্ব করার মতো ঘটনা।

নতুন এই জার্সিটি মাঠে ক্রিকেটারদের উৎসাহ যোগাবে

নাজমুল হাসান পাপন এমপি, সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড  

PAPONএমন একটি আয়োজনে আসতে পেরে নিঃসন্দেহে ভালো লাগছে। এতো গুণি মানুষকে এখানে পেয়ে বেশ ভালো লাগছে। বিশেষ করে আমাদের সবার প্রিয় সাগর ভাইকে (ফরিদুর রেজা সাগর) দেখে অনেক ভালো লাগছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে সাফল্য এর মূলে রয়েছেন এদেশের কোটি জনতা। সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে এই ক্রিকেটই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে। ঐক্যবদ্ধ জনগণকে কেউ কখনো নাড়াতে পারে না। সেই জনগণ একটি জার্সির ডিজাইন করেছেন এবং তা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা মানে অন্যরকম এক আনন্দ আমেজের ঘটনা। এজন্য ধন্যবাদ রবিকে। আগে দেখা যেতো আমরা বিসিবি থেকে একটি জার্সি ডিজাইন করে সেটা ফাইনাল করতাম। কিন্তু রবি এখন যে কাজটি করেছে তা নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি বিষয়। আগামীতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করছি। আমার বিশ্বাস নতুন এই জার্সিটি মাঠে ক্রিকেটারদের খেলায় উৎসাহ যোগানোর পাশাপাশি সাপোর্টারদেরও অনুপ্রেরণা যোগাবে।

ধন্যবাদ রবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে

মাশরাফি বিন মর্তুজা, অধিনায়ক বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দল

Mashrafeeনতুন জার্সি পরে খেলার মাঠে নামলে অবশ্যই অন্যরকম এক উন্মাদনা কাজ করে। তারমধ্যে জার্সিটা যদি হয় লাল-সবুজ তাহলে তো অন্যরকম ভালো লাগা থেকেই যায়। আর দর্শকদের কাছ থেকে ডিজাইন কালেক্ট করে সেটা ভোটের মাধ্যমে সিলেক্ট করাটা অন্যরকম একটি আনন্দের বিষয় হয়েছে বলে আমি মনে করি। কেননা, দর্শকরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি কেমন দেখতে চায়-এটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এমন একটি আয়োজন করায় অবশ্যই ভালো লাগা কাজ করছে। এজন্য ধন্যবাদ রবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। যারা এই পুরো আয়োজনের মধ্যে ছিলেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এই অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ!  

অনিকেত ভট্টাচার্য, অদম্য জার্সি ডিজাইনার, বিজয়ী

ONIKETঅনিকেত ভট্টাচার্য এড এজেন্সি ইন্টারস্পিড-এ সিনিয়র ভিজ্যুয়েলাইজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চট্টগ্রাম সরকারী চারুকলা কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চারুকলা) থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন। বিজয়ী হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে অসাধারণ অনুভূতি। আমি বিজয়ী হওয়ার পর মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, আল আমিন, ইমরুল কায়েসসহ প্রায় সকলেই অভিনন্দন জানায় এবং হ্যান্ডশেক করেন। রাতে বাসায় ফিরে খাবার খাওয়ার আগে হাত ধুতে ইচ্ছে হয়নি। কারণ আমার মনে হয়েছে হাত ধুলে আমাদের ক্রিকেটারদের অভিনন্দন চলে যাবে। এটা বেশ হাস্যকর হলেও সত্যি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার কখনোই মনে হয়নি বিজয়ী হবো। তবে আমার কলিগ সাদাত কাইয়ুম অপু সহ বেশ কয়েকজন ফেসবুকে রবির এই ক্যাম্পেনিংটা দেখে আমাকে অংশ নিতে বলে। কারণ আমি এর আগে এজেন্সির বেশকিছু কাজে টি-শার্ট ডিজাইন করেছি। তারা সেটা দেখেই সকলে আমাকে বেশ উৎসাহ দিতে থাকে। এরপর আমি বেশকিছু জার্সি ডিজাইন করতে থাকি। প্রায় পনেরটি জার্সি ডিজাইন করি এবং দশটা জমা দেই। সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে যে জার্সিটা সেরা হয়েছে আমি যখন এটা ডিজাইন করি এবং বন্ধু-কলিগদের দেখাই তারা সেটা দেখা মাত্রই আমাকে বলে যে, এটাই সেরা হবে। আর ফাইনালি যখন এই জার্সিটা সেরা ঘোষণা করা হয় তখন আমি তো অবাক। ’ অনিকেত বলেন, ‘আমি মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভীষণ দুর্বল। বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। তাই জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি ডিজাইন করার সুযোগ পেয়ে ভেবেছি এখানে মুক্তিযুদ্ধের ছোঁয়া রাখতেই হবে। সেই ভাবনা থেকে লালা-সবুজের মধ্যে আলাদা একটা শ্যাডো দিয়েছি। জাসিটাকে পাশ থেকে দেখলে দেখা যাবে স্মৃতিসৌধের মোটিফ রয়েছে। আর দুই কাঁধে লাল রেখেছি ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে। তবে লাল রঙের মধ্যে আবার একটা টেক্সার ব্যবহার করেছি যা লাল সূর্যের প্রতীক। সবচেয়ে আনন্দ হচ্ছে এই ভেবে এবং দেখে যে, ৫ নভেম্বর আমার ডিজাইন করা জার্সিটা সেরা ঘোষণা করার পর ৭ তারিখেই মাঠে খেলোয়াড়রা সেটা পরে খেলেছেন এবং ম্যাচটি জিতেছেন। এই অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ!