যেটা চলতি না সেটাই আমার কাছে ফ্যাশন-মেহ্‌রীন

যেটা চলতি না সেটাই আমার কাছে ফ্যাশন-মেহ্‌রীন

966
SHARE
Mehreen

 

রেজানুর রহমান

প্রসঙ্গ তুলতেই মেহরীন বললেন, যেটা চলতি না নতুন এবং সুন্দর সেটাই আমার কাছে ফ্যাশন। বিশেষ কোনো স্টাইল হয়তো অন্যের পছন্দ নয় কিন্তু আমার কাছে তা পছন্দের, আমার কাছে স্টাইলটা মনের ভেতর গেথে গেল সেটাই আমার কাছে ফ্যাশন। অনেকে বলেন, আমি চলতি হাওয়ার বিপরীতে গান গাই। এটাই আমার ফ্যাশন। যে কোনো বিষয় নিজে আগে বুঝে নেই। ভালো লাগলেই তার পেছনে ছুটতে থাকি। যেমন, আমার চুলের কথা বলি। আমার চুল আমার মতো, আমার পোশাক আমার মতো। তাই বলে আমি মোটেও ট্রেন্ডের বাইরে না।

কথাগুলো বলছিলেন দেশ বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী মেহরীন। আনন্দ আলোর ঈদ ফ্যাশন অ্যালবামের প্রচ্ছদ মুখ হয়েছেন। স্বভাবতই ফ্যাশন এবং স্টাইল নিয়েই তার সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু হলো। মুখে স্বভাব সুলভ হাসি ছড়িয়ে নিজস্ব ফ্যাশন ভাবনা তুলে ধরলেন। বললেন, যুগে যুগে ফ্যাশন বদলায়। সেটা শুধু পোশাকের বেলায় নয়, খাবার-দাবার থেকে শুরু করে মানুষের আচার আচরণও বদলায়। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন মানুষের নামের বেলায়ও একটা বদল স্পষ্ট। কাউকে ছোট করার জন্য বলছি না। আজকাল রহিম, করিম, আব্দুল টাইপের নাম খুব একটা দেখা যায় না। ঘরের দরজা, জানালা এমনকি জানালার পর্দার ক্ষেত্রেও ফ্যাশন বদলে গেছে। তবে এই বদলটা হঠাৎ করে বোঝা যায় না। কোনো না কোনো উৎসবের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের দেশে ঈদ সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বছর ঘুরে রোজার ঈদে পোশাকের ক্ষেত্রে ফ্যাশনের বদলটা চোখে পড়ে। মূলত ঈদেই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো নিত্যনতুন ফ্যাশন আবিষ্কার করে। যার ফলে ফ্যাশনের বদলটা ঈদেই চোখে পড়ে বেশি। ফ্যাশন হাউসগুলোই ফ্যাশন বদলে দেয়। যার পোশাকের ফ্যাশন যত আকর্ষণীয় হয় সেই থাকে এগিয়ে। উৎসব মানেই তো সাজগোজের ব্যাপার স্যাপার। কাজেই উৎসব পার্বণেই ফ্যাশন ভাবনাকে গুরুত্ব দেয় সবাই। নিজেকে অন্যের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে চায় বলেই নতুন ফ্যাশনের দিকে ছোটে। আর সে কারণেই ফ্যাশন সব সময় বদলায়।

সব মানুষেরই ছোট বেলার স্মৃতি অন্যরকম। বড় বেলায় এসে ছোট বেলার স্মৃতিগুলো কখনও কখনও প্রেরণার আলো হয়ে দাঁড়ায়। মেহরীনের ছোট বেলার ঈদের স্মৃতি কেমন? প্রসঙ্গ তুলতেই একটু যেন ভাবলেন তিনি। তারপর বললেনÑ খুব একটা ভালো নয়। মা এমন সব কাপড় পরতে দিতেন যা হয়তো আমার পছন্দ হতো না। কিন্তু তবুও আমি পরতাম। জুতা পছন্দ না হলেও পায়ে দিতাম। একটা কথা বলে রাখিÑ সেই ছোট বেলা থেকেই আমি স্বাধীন চেতা মানুষ। তবে বড় কোনো চাহিদাকে কখনই গুরুত্ব দেয়নি। অমুকের অমুকটা আছে, আমারও সেটা চাই। কখনই এমন ভাবনাকে প্রশ্রয় দিতাম না। জীবনটাকে সহজ করে নিলেই অনেক অনেক আনন্দ ও স্বস্তি পাওয়া যায়। কাউকে ছোট করার জন্য বলছি না। অনেক মহিলাকে দেখি কোথাও বেড়াতে যাবার আগে দীর্ঘক্ষণ ধরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে নিজেকে সাজায়। আমি এসবের মধ্যে নাই। ঘর থেকে বের হতে সাজার জন্য বড় জোর পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় হয় আমার। টিভি শোয়ের জন্য সেটা গিয়ে দাঁড়ায় বড় জোর ১৫ মিনিট।

Mehreen-1সালোয়ার কামিজ আমার প্রিয় পোশাক। তবে ওয়েস্টার্ন ড্রেস আমার অনেক পছন্দের। টপস পরতে পছন্দ করি। শাড়ি তেমন একটা পরি না। তবে অন্যকে শাড়িতে দেখলে খুব ভালো লাগে। আমার ধারণা পোশাক হিসেবে শাড়িতে খরচ বেশি। শুধু  শাড়ি থাকলেই তো হবে না। শাড়ির সঙ্গে আনুষঙ্গিক আরও অনেক কিছুর দরকার হয়। সেই তুলনায় ওয়েস্টার্ন ড্রেসের ক্ষেত্রে খরচ কম। ঝামেলাও কম।

খাদি পোশাক আমার অনেক পছন্দের। খাদি কাপড় পরলে অনেক আরাম লাগে। ইদানিং বাজারে পাটের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। পোশাকের ক্ষেত্রে ফ্যাশনে যেমন বদল এসেছে তেমনি কাপড়েও বদল এসেছে।

সংগীত জীবনের ব্যস্ততা নিয়ে প্রশ্ন করতেই মেহরীন বললেনÑ গান নিয়েই তো আছি। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে নিয়মিত গানের অনুষ্ঠান করছি। ‘সেভেন’ নামে আমার গানের নতুন অ্যালবাম তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় অ্যালবামটি রিলিজ দেয়া যায় সে ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা চলছে। অ্যালবামটিতে ১০টি নতুন গান রয়েছে। গানের পাশাপাশি সংসারকে আমি খুবই গুরুত্ব দেই। ছেলে- মেয়েদের মুখের হাসি আমার সকল কর্মের প্রেরণা হয়ে ওঠে। এই তো সেদিন ইফতারীর আগে বাসায় ফেরার সময় রাস্তায় যানজটে আটকে পড়েছিলাম। ভাগ্য ভালো ইফতারীর ঠিক আগের মুহূর্তে বাসায় পৌঁছে যাই। বাসায় ঢুকে দেখি ছেলে ভুসির শরবত বানিয়ে রেখেছে। তা দিয়েই ইফতার করেছিলাম। সংসারের ছোট ছোট এই আনন্দগুলো আমি খুব উপভোগ করি।

কথায় কথায় একটা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন মেহরীন। আমার গানের একটা ফ্যানক্লাব আছে। এই ক্লাব থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে একটা বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। সেটা হলো নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার অভ্যাস করানো। নিজের স্কুলকে নিজে পরিষ্কার রাখো। শিশুদের মাঝে এই অভ্যাস ছড়িয়ে দিতে পারলে ভবিষ্যতে এরাই তো বড় হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের নেতৃত্ব নিবে। তখন হয়তো দেশে আর কোনো ময়লা থাকবে না। যে কেউ আমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। আমরা এই কাজে সৃজনশীল সকল মানুষের সহযোগিতা চাই। গানের মানুষ মেহরীন, গানের মাধ্যমেই প্রিয় মাতৃভূমিকে আরও বেশি আলোকিত করতে চান। তার জন্য রইলো আমাদের অনেক শুভ কামনা।

ভক্তদের যে কেউ মেহরীন এর সাথে যোগাযোগ করতে পারবে  এই ঠিকানায় www.mehreen.net, www.facebook.com/mehreenofficial