যার ভিতরে অনুপ্রেরণা আছে তিনি অবশ্যই পারবেন

যার ভিতরে অনুপ্রেরণা আছে তিনি অবশ্যই পারবেন

110
SHARE
Humayra

হুমায়রা আজম

ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ব্যাংক এশিয়া

হুমায়রা আজম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরের একজন অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব। ১৯৯০ সালে এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে তার প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু হয়। এই দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ড. রুমী আলী-এর সরাসরি তত্বাবধানে কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরে ছড়িয়ে পড়ে হুমায়রা আজম-এর সুনাম। এরপরে তিনি দীর্ঘ চার বছর কাজ করেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে। সেখানে কর্পোরেট ওবিইউ, কাস্টডিয়ান এবং ইন্সটিটিউশনাল ব্যাংকিয়ে চৌকস ভ‚মিকা রাখেন। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও আইপিডিসি লিমিটেড এ যোগদান করে কোম্পানির তাৎপর্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং বিজনেস এবং অপারেশনাল গ্রোথের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার নতুন মাইল ফলক তৈরি করেন। ক্রেডিট ডিসিপ্লিন এবং কম্পø্যায়েন্স মানেজমেন্টে দক্ষ একজন তুখোড় ব্যাংকার হুমায়রা আজম। ক্যারিয়ারে ১১টি দেশি-বিদেশি প্রফেশনাল ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ‘ব্যাংক এশিয়া’তে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড চিফ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং সফলতার সঙ্গে ব্যাংক এশিয়ার প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। সম্প্রতি এই শীর্ষ কর্পোরেট ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম

আনন্দ আলো: ঈদুল আযহার সময় চামড়া শিল্পে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করে। এই সময় আন্তঃব্যাংক লেনদেন বেড়ে কলমানি ইন্টারেস্ট বেড়ে যায়। বিশেষ সময়ে এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন আপনারা?

হুমায়রা আজম: ঈদ জাতীয় জীবনে অনেক বড় উৎসব। এই ঈৎসবের জন্যে সবার সেলারী, বোনাস পরিশোধ করতে হয়। চামড়া শিল্পেও এই সময় বিনিয়োগ করতে হয়। এই সব ছাড়াও একটা কথা বলতে হয়- ২০১২ সালের পর থেকে মার্কেটে এক্সসেস লিকুইডিটি আসা শুরু করেছে। অতিরিক্ত যে লিকুইডিটি মার্কেটে আছে তাই হলো এক্সসেস লিকুইডিটি। সেই লিকুইডিটি এখন পর্যন্ত মার্কেটে রয়ে গেছে। এত লম্বা সময়ের জন্যে এক্সসেস লিকুইডিটি বাংলাদেশে এর আগে কোনো সময় ছিল না। এটি ব্যাংকারদের জন্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। আগে এমন হতো ঈদের আগে কলমানি ইন্টারেস্ট রেট একশোর ঘরে চলে যেত। বাংলাদেশ ব্যাংক এটার প্রতি ইন্টারভেনশন করছেন। এখন যেটি হয়েছেÑ এই এক্সসেস লিকুইডিটির কারণে ইন্টারেস্ট রেট কোনোভাবেই বাড়ছে না। এখন ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এক্সসেস লিকুইডিটি মার্কেটে রয়েছে। তাই কোনো তারল্য সংকট নেই ব্যাংকে। তাই এই বছর কলমানি ইন্টারেস্ট রেট এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন পারসেন্টের উপরে ওঠেনি। ঈদের আগে বাকি এই কয়দিনে আর মনে হয় না বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এই পরিস্থিতি সবার জন্যেই ওয়েল ম্যানেজড মনে হয়।

আনন্দ আলো: চামড়া শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঈদের সময় ব্যাংকে আসেন লোনের জন্যে। ব্যাংক এশিয়া থেকে কীভাবে তাদেরকে ফ্যাসিলেটেড করেন?

হুমায়রা আজম: আমাদের আসলে ডিফারেন্ট কাইন্ড অব লোন ফ্যাসিলিটি আছে। ডিফারেন্ট সেগমেন্ট আছে কর্পোরেট আছে, মিডিল মার্কেট আছে, স্মল আছে এমনকি আমাদের মাইক্রো ফাইন্যান্সিংও আছে। এই সব ডিফারেন্ট সেগমেন্ট থেকে নরম্যালি কাস্টমার সার্ভিস দেয়া হয়। ঈদের সময় স্পেশাল কিছু হয় তা কিন্তু না। সব সময়ই একই ধরনের সেবা দেয়ার চেষ্টা করি আমরা। এই সময় একমাত্র সিজন্যাল রিকোয়ারমেন্ট যাদের থাকে তাদেরকে এক্সট্রা ট্রিটমেন্ট দিতে হয়।

আনন্দ আলো: বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। ব্যাংকগুলো গ্রামকে নিয়ে কতটা ভাবছে, কৃষি নির্ভর ব্যাংকিং কতটা হচ্ছে?

হুমায়রা আজম: কৃষি ক্ষেত্রে আসলে প্রতিটি ব্যাংকেই লেন্ড করতে হয়। সার্টেন পারসেন্ট আমাদের ইনভেস্ট করতে হয় কৃষিতে। আমি মনে করি কৃষি বাংলাদেশে অনেক বড় একটা জায়গা এবং সেটার জন্যে সরকারেরও বড় একটা প্রোগ্রাম আছে যার নাম ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। এই প্রকল্পের সঙ্গে ব্যাংকগুলো বিশেষভাবে জড়িত এবং আমাদের বিরাট  একটি অংশ এখানে বিনিয়োগ আছে। এই খানে কৃষকদেরকে আমরা ডিজিটাল কার্ডও দিয়েছি। রিয়েল সেন্স আমরা বলছি যে, পৌঁছাতে হবে এবং আমরা কতদূর পৌঁছাবো- এই যে একটা ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন যাকে বলে আমার কাছে মনে হয় এই ব্যাপারে আমরা অনেকদূর পর্যন্ত কাজ করে ফেলেছি। আমরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কথা বলি। আমাদের যতগুলো ইউডিসি আছে উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার যতগুলো আছে এই সব ডিজিটাল সেন্টারে আমাদের একসেস আছে। বর্তমানে ১০২০ টার মতো আমাদের টোটাল আউটলেট আছে। যেখানে আমাদের নিজেদের ১৭৫টা ইনডিভউজ্যুয়াল এজেন্ট আছে। তারপরে যতগুলো ডিজিটাল সেন্টার বললাম ১০২০টা সেন্টারের মাধ্যমে এবং তাছাড়া পার্টনারশীপের মাধ্যমেও আমরা কিন্তু একদম প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে গেছি। একটা মজার জিনিস বলবো যে, এমনকি আমাদের যে দ্বীপগুলো আছে- ভোলা স›দ্বীপ যেখানে যাওয়া যায় না রীতিমতো- এবারে যখন ঝড় আঘাত হানলো তখন আমরা যখন রেডক্রিসেন্টের সঙ্গে ওখানে কিন্তু প্রত্যেকের কাছে ক্রাইসিসের মধ্যে ৮ হাজার টাকা করে আমরা ডিসবারসমেন্ট করেছি। কথাটা হলো আমি পারবো কি না এবং পারলে কতক্ষণে পারব? এখন বাংলাদেশের যে কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আমরা যে কোনো কাজ বা সেবা পৌঁছে দিতে পারছি। আমার মনে হয় ইটস মোর লাইক এ ড্রিম। এখন আমরা ওই লেভেল থেকে ছোট ছোট অ্যাপ্লিকেশন পর্যন্ত দিস ইজ সামথিংক ইউ হ্যাভ টু ডু এ লিটিল সিস্টেম। এটি যদি আপনি ম্যানুয়ালি করতে যান ইট উড বি সো এক্সপেনসিভ। ইউ ক্যান নট ম্যানেজ ইট। কস্ট বেনিফিট অ্যানালাইসিস করেই প্রসেসিং করেন তার অ্যাকাউন্ট ওপেনিং এভরিথিংক ইউ হ্যাভ টু ডু লাইট দ্যাটস।

আনন্দ আলো: এজেন্ট ব্যাংক এই বিষয়গুলোকে অনেক সহজ করে দিয়েছে?

হুমায়রা আজম: এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে এজেন্ট শুধু জেনারেট করছে ব্যবসা। কিন্তু বাকি যে টেকনিক্যাল সাইডটা, সিকিউরিটি সিস্টেম এন্ড এভরিথিংক একটি ডিফরেন্ট রিজন আছে যার সবকিছু কিন্তু আমরা নিজেরা ম্যানেজ করছি বা কন্ট্রোল করছি।

আনন্দ আলো: ব্যাংকিং সেক্টরের মত এত চ্যালেঞ্জিং একটি প্রফেশনে আপনি কীভাবে এলেন?

হুমায়রা আজম: আমি জেন্ডারকে কখনো ডিফারেন্ট মনে করি না। আমি একজন মানুষ। ইচ্ছা, মেধাশক্তি, ব্রেন- সবাই আছে, আমি কতটা ব্যবহার করবো তার উপরে সবকিছু নির্ভর করবে। একটা ইমোশন আছে যে, মহিলা হলে পারবেন না। এই ব্যাপারটি মনে হয়, আমি কোনো সময় মনে করিনি। কারণ কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ে ফ্যাক্টরি ভিজিট আছে, এখানে ওখানে যেতে হবে, একা একা ট্রাভেল করতে হবে, হয়তো অনেক রাতে ফেরত আসতে হবে, উইকেন্ড এ কাজ করতে হবে- নানান প্রতিক‚লতা আছে। আমি নিজেকে যদি সীমাবদ্ধ করে ফেলি সেটি তো আমার নিজের প্রবেøম। আমি কখনো  এসব চিন্তা করিনি?

আনন্দ আলো: আপনি করেননি কিন্তু সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল বা আছে?

হুমায়রা আজম: যারাই উপরে গেছে তারাই সংগ্রাম করে গেছে। আমি যে একা তা তো নয়- এটি তো সেই ম্যারি কুরি মাদাম কুরির সময় থেকেই চলে আসছে। তারা দুইজন প্রথম নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। তারাও এই সব সমস্যার ভেতর দিয়ে এসেছিলেন এবং নিজেদের বিকশিত করেছিলেন। ইট ইজ এ ম্যাটার অব হোয়াট ইউ ওয়ান্ট টু ডু। যার ভেতরে অনুপ্রেরণা আছে যিনি চেষ্টা করবেন তিনি পারবেন।