মুসত্মাফিজনামা

মুসত্মাফিজনামা

1451
SHARE

মামুনুর রহমান: আমাদের মুসত্মাফিজের সাথে কথা বলার জন্য বাংলা শিখতে শুরু করেছে বিদেশী সাংবাদিকরা। মুসত্মাফিজুরের সাথে কথা বলাটা কি খুবই জরুরি? হ্যাঁ, জরুরিতো বটেই। ক্রিকেট দুনিয়ায় এখন তো ঐ একটাই নাম- মুসত্মাফিজ। কাটার মাস্টার মুসত্মাফিজুর রহমান। হালকা শরীর। শানত্মশিষ্ট চেহারা। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে প্রতিপক্ষের আতংক। এই বুঝি মুসত্মাফিজের বলে আউট হয়ে গেলাম- এমনই ভয় থাকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের। আর তাই আমাদের মুসত্মাফিজ এখন ক্রিকেট বিশ্বে সেরা নাম। তার ব্যাপারে সারা বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তরা খুটিনাটি জানতে চায়। কিন্তু মুসত্মাফিজুর রহমানতো মাতৃভাষা বাংলা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানে না। অগ্যতা আর কি করা বিদেশী সাংবাদিকরাই বাংলা শিখতে শুরু করেছে। তাদেরই একজন নাম হেনরি ডগলাস। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার মুসত্মাফিজুর রহমানের মুখোমুখি হয়েছিল। ইংরেজিতে প্রশ্ন করেছে। উত্তরে মুসত্মাফিজ শুধু স্বভাবসুলভ হেসেছে। ছেলেটার হাসিটা খুব সুন্দর। নিষ্পাপ, নির্মল হাসি। আহ! তার সাথে যদি প্রাণ খুলে কথা বলা যেত। এদিকে অফিস থেকে বার বার তাগাদা আসছে- কাটার মাস্টার মুসত্মাফিজের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার পাঠাও… হারিয়াপ…

হেনরি ডগলাস ভেবেচিনেত্ম একটা বুদ্ধি বের করলেন। আইপিএলে বাংলাদেশের আরো একজন খেলোয়াড় আছে। সাকিব আল হাসান। বিশ্বনন্দিত ক্রিকেটার সাকিব। কে কে আর অর্থাৎ কলকাতা নাইট রাইডারের হয়ে খেলছে। তার সাথে যোগাযোগ করলে কেমন হয়।

হ্যালো… মিস্টার সাকিব…?

হ্যা বলেন…

আই অ্যাম হেনরি ডগলাস…

আপনি বাংলায় বলেন…

ইট ইজ নট ইজি ফর মি… আই কান্ট স্পিক বাংলা… হ্যালো সাকিব…?

ইয়েস?

আই নিড ইওর হেল্প!

ওকে… হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ…।

আই ওয়ান্ট টু টক উইথ মুসত্মাফিজ…

ওহ! নো! ইট ইজ নট পসিবল… সাকিব ফোন কেটে দেয়ার আগে হেনরিকে বোঝালেন মুসত্মাফিজুর রহমানের সাথে কথা বলতে হলে তোমাকে প্রথমে তার দল সানরাইজ হায়দারাবাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং তোমাকে অবশ্যই বাংলা শিখতে হবে। কারন মুসত্মাফিজ ইংরেজি বোঝে না।

হেনরি চরম বিপাকে পড়ে গেলেন। হেড অফিস থেকে বার বার মেসেজ আসছে মুসত্মাফিজুর রহমানের ওপর এক্সক্লুসিভ মেসেজ পাঠাও। হারিয়াপ…

হেনরির চাকরি যায় যায় অবস্থা। আইপিএল কাভার করতে ঢাকা থেকে আসা একজন সাংবাদিকের সাথে হেনরির পরিচয় হল। তাকে মুসত্মাফিজ বিষয়ক সমস্যার কথা জানাল। ঢাকার সাংবাদিক হেনরিকে কথা দিলেন মুসত্মাফিজুর রহমানের সাক্ষাৎকার নেয়ার ব্যাপারে তাকে হেল্প করবেন। কিন্তু শর্ত একটাই হেনরিকে বাংলা শিখতে হবে।

বাংলা শেখা কি এতই সহজ? কিন্তু চাকরিতো রক্ষা করতে হবে। ঢাকার সাংবাদিকের কাছে বাংলা শিখতে শুরু করলেন হেনরি। কিন্তু বিষয়টা যত সহজ ভাবা হয়েছিল ততটা সহজ হয়ে ধরা দিল না হেনরির কাছে। তবুও কাজ চালিয়ে নেয়ার মতো কয়েকটি বাক্য রক্ত করলেন হেনরি। যেমন মুসত্মাফিজ কেমন আছেন? আপনি তো এখন ক্রিকেট বিশ্বের হিরো… কেমন লাগছে? উইকেট নেয়ার পর আপনার মধ্যে কোনো উত্তেজনা দেখা যায় না। এটাই কি আপনার স্টাইল! আইপিএলে খেলতে এসে কেমন লাগছে…।

সানরাইজ হায়দাবাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সময় দিয়েছে। বিকেল ৪টায় যেতে হবে মুসত্মাফিজুর রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে। হেনরি বেশ খুশি। ঢাকার সাংবাদিক বন্ধুকেও সাথে নিয়েছে। বাংলা বলার সময় যদি আটকে যায় তাহলে ঢাকার সাংবাদিকের সাহায্য নিবে।

নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগেই একটা হোটেলে পৌছে যায় হেনরি। এই হোটেলেই মুসত্মাফিজুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হোটেলের লবিতে এ ব্যাপারে দিক নির্দেশনাও দেয়া আছে। লিফটের ১০ তলায় উঠে অবাক হয়ে যায় হেনরি। একি! তারই মতো আরো অনেক টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান মুসত্মাফিজুর রহমানের জন্য অপেক্ষা করছে। অনেকে বাংলায় কিভাবে প্রশ্ন করবে তার প্রাকটিস করছে।

অবশেষে মুসত্মাফিজুর রহমান এলেন। একসাথে অনেক ক্যামেরার ফ্লাস জ্বলে উঠল। প্রশ্ন শুরু হলো বাংলায়…

প্রিয় পাঠক, এটি একটি কাল্পনিক চিত্র। কিন্তু এর মধ্যে কিছুটা হলেও বাসত্মবতার রেশ আছে। সেটা হলো আইপিএলএ আমাদের মুসত্মাফিজুর রহমানের সাথে প্রাণ খুলে কথা বলার জন্য বিদেশী সাংবাদিকদের অনেকে বাংলা শিখতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সানরাইজ হায়দারাবাদ-এর অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার স্বয়ং বাংলা শিখছেন। মুসত্মাফিজের সাথে কথা বলার জন্য দলে একজন দোভাষীকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হ্যা এটাই সত্যি।

তার মানে কি দাড়াল? আমি যদি মেধা দিয়ে বিশ্ব কাঁপাই তাহলে আমার কাছেই আসতে হবে সবাইকে। মুসত্মাফিজুর রহমানের জন্য রইল অনেক শুভ কামনা।