Home প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধের নাটক

মুক্তিযুদ্ধের নাটক

SHARE
Chancol-Chowdhury

সৈয়দ ইকবাল

কথা হচ্ছিল রেডিও টেলিভিশনে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা নাটক, টেলিফিল্ম নিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা একটি টেলিফিল্ম বানানো হবে। কাহিনী চ‚ড়ান্ত “৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছুটছে রুদ্ধশ্বাসে। এর মধ্যেও পাকহানাদার বাহিনীর কবজায় পড়ে গেল কিছু নারী-পুরুষ। যুবতী নারীদের আলাদা করা হলো। আর অন্য সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়েই ব্রাশ ফায়ার করা হলো। মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে গুলিবিদ্ধ আদম সন্তানেরা। তখন অন্যদিকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে যুবতী নারীদেরকে নিয়ে পৈশাচিক উম্মত্ততায় মেতে ওঠে পাক হানাদার বাহিনী…

এরচেয়ে করুণ বাস্তবতা ছিল’৭১ সালে। কিন্তু সেদিকে আর যেতে চাই না। লেখার শুরুতে গল্প ভাবনায় যা উঠে এসেছে তাই ক্যামেরায় ধারণ করতে চাইলেন কোনো প্রবীণ পরিচালক। তার পক্ষে কাজটা করা কি সহজ হবে? পরিচালক চান ‘খেটেখুটে’ একটা ভালো টেলিফিল্ম বানাবেন। ভালো এই অর্থে বলা যে, টেলিফিল্মটি দেখে যাতে দর্শকের মনে একটা উপলব্ধির জায়গা তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তারা যাতে টেলিফিল্মটি দেখে আমাদের যুদ্ধদিনের সেই ভয়াবহতা এবং আত্মত্যাগের কথা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারে।

ধরা যাক, পরিচালকের আন্তরিকতার সাথে প্রযোজকের আন্তরিকতাও যুক্ত হলো। যারা অভিনয় করবেন তারাও আশ্বাস দিলেন, একটি ভালো টেলিছবির জন্য আমরা সময় দিব। চলো এগিয়ে যাই। তবুও কি যুদ্ধদিনের সেই ভয়াবহতা ফুটিয়ে একটি ভালো নাটক অথবা টেলিফিল্ম নির্মাণ করা সম্ভব?

আসুন আমরা কয়েকটি বিষয়ে খোলামেলা কথা বলি। নাটকের প্রথম দৃশ্য। দাউ দাউ করে জ্বলছে গ্রামের বাড়ি-ঘর। এবাড়ি থেকে ওবাড়িতে ছড়িয়ে যাচ্ছে আগুনের লেলিহান শিখা। প্রাণ ভয়ে মানুষ বেড়িয়ে আসছে বাড়িগুলো থেকে। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, পোষা পাখিদের কেউ বেড়িয়ে আসার সুযোগ পেলেও বাকিরা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে… ঘটনার বর্ণনায় তো মাত্র কয়েকটি লাইন ব্যবহার করা হলো। কিন্তু ক্যামেরার চোখে দেখলে দৃশ্য অনেক। ধরা যাক, লংশটে বাড়ি পুড়ে যাবার দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। বাড়িটা যেন বাড়িই হয়। দেখে যেন মনে হয় এই বাড়িতে মানুষ থাকে। বাড়িতে আগুন লেগেছে। অসহায় মানুষজন প্রাণ ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছে। ছেলে বুড়ো সব বয়সের মানুষ। কেউ হয়তো শুধু লুঙ্গি পরে খোলা গায়ে বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। অলস মধ্যাহ্নে ঘরের দাওয়ায় বসে হয়তো বউ ঝিয়েরা সাংসারিক আলাপে মত্ত ছিল। অথবা ভবিষ্যৎ আশঙ্কায় উদাস ভরা মুখে ঘরের দাওয়ায় বসে ছিল তারা। অসুস্থ কেউ ঘরের বিছানায় শুয়ে আছে। এমনই পরিস্থিতিতে পাকহানাদার বাহিনী গ্রামে এসে হামলা করেছে। বাড়ি-ঘরে আগুন দিতে শুরু করলো। তখন বাড়িগুলো থেকে বেরিয়ে আসা মানুষগুলোর চেহারা কেমন হবে? খালি গায়ে বিশ্রামরত মানুষটি কোথায়? অসুস্থ বৃদ্ধকে কেউ বাড়ি থেকে বের করলো না। যারা হৈ চৈ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছে সবার পরনে দামি প্যান্ট, টিশার্ট। কেউ কেউ কোমরে গামছা পেঁছিয়েছে। অনেকের মাথার চুলে শ্যাম্পু করা। মহিলাদের কারও কারও মাথার চুলে রঙ করা। যিনি নাটকটি বানাচ্ছেন তিনি হয়তো ভাবছেন দারুণ একটা কাজ করেছেন। ৭১ এর ভয়াবহতা দেখানোর জন্য একটি কুড়েঘর বানিয়ে তা আগুনে পুড়িয়েছেন। অনেক মানুষকে বাড়ি থেকে প্রাণ ভয়ে বের হওয়ার দৃশ্যও ধারণ করেছেন। সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের একটা ফাটাফাটি নাটক বানিয়েছেন…

NAtokআসলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক বানানো কি এতই সহজ? মুখের থুঁতনিতে দাড়ি লাগিয়ে মাথায় টুপি পরিয়ে একজনকে রাজাকার বানানো হলো। তার কাজই হলো তরুণ ছেলেদের সন্দেহ করা। আর কাঠের বন্ধুক ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়ে কয়েকজন তরুণকে সাজানো হলো মুক্তিযোদ্ধা…

এতটা সহজ ছিল না আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল। যারা রাজাকার ছিল তারা যে কী নিষ্ঠুর নির্দয় ছিল তা ভাবলেই ভয়ে গা শিউরে ওঠে। আর পাকহানাদার বাহিনী যে কতটা পাশবিক ছিল তার বর্ণনা দেওয়াও মুশকিল। আর আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা শুধুমাত্র দেশের মায়া বুকে জড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের অধিকাংশ নাটক, টেলিফিল্মে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের বাস্তবতা ফুটে ওঠে না। অনেকেই প্রাণপণে তা করার চেষ্টা করেন কিন্তু বাজেট স্বল্পতায় কখনও কখনও শিল্পীদের অসহযোগিতার কারণে শেষ পর্যন্ত সফলকাম হন না।

তবুও দেশের টেলিভিশন মিডিয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের নাটক, টেলিফিল্ম নির্মাণ হচ্ছে এবং তা প্রচারও হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ নাট্যপরিচালক বললেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা নাটক, টেলিফিল্ম নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যয় করি। তবুও সব নাটকই ভালো নাটক হয়ে ওঠে না। প্রথম অন্তরায় নাটকের বাজেট। ধরা যাক, নাটকের প্রয়োজনে একটি বাড়ি পুড়ে যাচ্ছে দেখাতে হবে। অসহায় মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে… এজন্য যেমন সময় দরকার তেমনি দরকার অর্থেরও। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাজেট স্বল্পতার কারণে অনেক পরিচালক একটি কুড়েঘরে আগুন দিয়ে ৭১ এর ভয়াবহতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। যা অনেক সময় হাস্যকর মনে হয়। কারণ ৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা যখন গ্রামে ঢুকেছে তখন শুধুমাত্র একটি ঘরে আগুন দেয়নি। এই বাড়ি থেকে ঐ বাড়িতে আগুন দিয়েছে। যুবতী নারীদের জোর করে ক্যাম্পে তুলে নিয়ে গেছে। যাদেরকে পছন্দ হয়নি তাদেরকে প্রকাশ্য গুলি করেছে। কাজেই ৭১ সালের ভয়াবহতা নাটকে তুলে আনতে হলে এর জন্য পৃথক আয়োজন দরকার। এক্ষেত্রে বাজেটের ব্যাপারটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীদের আন্তরিকতাও। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিল্পীদের আন্তরিকতা মিলে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণ নাট্য পরিচালক বললেন, মুক্তিযুদ্ধের নাটক বানাবো ভাবতে গেলেই বেশ অসহায় বোধকরি। দেখা গেল নাটকের কাহিনীর প্রয়োজনে নির্ধারিত একজন অভিনেতা অথবা অভিনেত্রী বেশ মানান সই। যোগাযোগ করা হলো তার বা তাদের সাথে। কাহিনী না শুনেই হয়তো বলে দিলেন, আমি তো ভাই একদিনের বেশি সময় দিতে পারব না। হয়তো জোরাজুরি করে তাকে দুই দিনের জন্য ‘ম্যানেজ’ করা হলো। নায়ককে বলা হলো ভাই নাটকের প্রয়োজনে আপনার মাথার চুল ছোট করতে হবে। ফ্রেঞ্চকাট দাড়িও রাখা যাবে না। ব্যস নায়ক সরাসরি না বলে দিলেনÑ আমি তো মাথার চুল ছোট করতে পারব না। আর দাড়িও কাটা সম্ভব নয়…

Boro-Bari-Choto-Bariআরেকজন পরিচালক তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরলেন এভাবে। মুক্তিযুদ্ধের নাটক বানাব। দশ-বারোজনের মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করতে হবে। তরুণদের হাজির করা হলো। সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে এটা মুক্তিযুদ্ধের নাটক। কাজেই যুদ্ধদিনের সময়ে তরুণদের মাথার চুল ও পোশাকের রং ছিল আলাদা। এ ব্যাপারে সবাইকে স্টাডি করে আসতে বলা হয়। কিন্তু বারোজন তরুণের নয়জনই কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই শুটিং স্পটে হাজির। তিনজনের মাথার চুলে বিশেষ স্টাইল। দুই জনের মাথার দুই পাশে লম্বা চিপ। বলা হলো চিপ ছোট করতে হবে। কিন্তু তারা রাজি নয়। যাদের মাথার চুলে রং করা ছিল তারা বলল, মাথায় গামছা জড়িয়ে নেই। নির্ধারিত দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের দৃশ্য ধারণ করতে না পারলে ‘বড় নায়কের’ নতুন ডেট পাওয়া সহজ হবে না। নাটকটি হয়তো আর নির্মাণ করাই যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে কালার করা চুল ও লম্বা চিপের তরুণদেরকে নিয়েই নির্ধারিত দৃশ্যের শুটিং সম্পন্ন করি।

বিশিষ্ট নাট্যকার অভিনেতা মামুনুর রশীদ বললেন, আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হয়ে যাচ্ছে অথচ মুক্তিযুদ্ধের ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো সিনেমা বানাতে পারিনি। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা বানাতে হলে বড় বাজেট প্রয়োজন। আমাদের চলচ্চিত্রের বর্তমান যা অবস্থা তাতে অনেক প্রযোজকই বড় বাজেটে মুক্তিযুদ্ধের ছবি বানানোর চিন্তা ভাবনা করবেন না। তবে আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের ওপর বড় বাজেটের ছবি নির্মিত হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে আন্তরিকতাই প্রথম কথা। মুক্তিযুদ্ধের নাটক সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে বাজেট স্বল্পতার অভিযোগ উঠলেও অনেকে এক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করছেন। তাদের বক্তব্য হলোÑ শুধুমাত্র রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা যাবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের মনস্তত্তি¡ক বিশ্লেষণমূলক কাহিনী নিয়েও তো নাটক, সিনেমা হতে পারে। এজন্য প্রথম প্রয়োজন আন্তরিকতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর নাটক, সিনেমা বানানোর আগে জানতে হবে মুক্তিযুদ্ধকে। তাহলেই কাজটা সহজ হবে।

নির্মাতা ও নাট্যকারের চোখে মুক্তিযুদ্ধের নাটক

মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে দেশের প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ও টেলিফিল্ম। মুক্তিযুদ্ধের নাটক, টেলিফিল্ম নিয়ে কথা বলেছেন দেশের কয়েকজন গুণী নাট্যকার ও নির্মাতা।

পিতা’র কথা ভুলব না!

Abul-Hayatআবুল হায়াত

মুক্তিযুদ্ধের নাটক নির্মাণের মধ্যে ‘পিতা’ কে আমি এক নম্বরে রাখবো। এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত নাটকের মধ্যে এই নাটকটি আমার মনের মতো হয়েছে। এটি চ্যানেল আইতে প্রচার হয়। এছাড়াও আরেকটি নাটক রয়েছে যার নাম ‘মধ্যাহ্ন ভোজ কি হবে?’ এটি এটিএন বাংলায় প্রচার হয়। আমি মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রায় ১০/১৫টি নাটক নির্মাণ করি। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে ‘পিতা’র কথা। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানসিক দ্ব›দ্ব এবং ধর্মের নামে ভাগ হয়ে যাওয়া সবই রয়েছে নাটকটিতে।

স্পাটাকাসকেই আমি সামনে এগিয়ে রাখব!

FARUKIমোস্তফা সরয়ার ফারুকী

আমি এ যাবৎ যত নাটক নির্মাণ করেছি তার মধ্যে স্পাটাকাস ৭১’ অন্যতম। শুধু মুক্তিযুদ্ধের নাটক বলেই নয় আমার সবগুলো নাটকের মধ্যে এই নাটকটা মনের গভীরে প্রায়শই দাগ কাটে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটা অন্যরকম ঘটনা নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করা হয়। এক পরিবারের দুই জমজ ভাইকে নিয়ে নাটকের গল্প। দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই মুক্তিযুদ্ধে চলে যায়। তখন এলাকার রাজাকার এসে বারবার দেখতে চায় সেই ভাইকে। এক ভাই-ই বারবার পোশাক পাল্টিয়ে তার সামনে আসে। শেষমেশ আর সেই ভাই তার চোখটা ফাঁকি দিতে পারে না। এমন টান টান উত্তেজনা ও মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে নাটকের গল্প এগিয়েছে।

সাগরের ‘বাড়ি’ আমার প্রিয় নাটক

Arun-Chowdhuryঅরুণ চৌধুরী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনেকগুলো নাটক নির্মাণ করেছি। যার মধ্যে বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর-এর লেখা ‘বাড়ি’ সিক্যুয়েল অন্যতম। প্রতিবছর বিজয় দিবসে এই গল্পের নাটকগুলো প্রচার হয় চ্যানেল আইতে। আমি এ পর্যন্ত ‘বাড়ি’ সিক্যুয়েল-এর ছয়টি নাটক নির্মাণ করেছি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সারাদেশে অনেক বাড়িতেই ঘটেছিল অনেক নৃশংস ও মানসিক নির্যাতনমূলক নানা ঘটনা। অনেক বাড়িকে ঘিরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের অনেক সত্য ইতিহাস। সেসব ঘটনা নিয়েই ‘বাড়ি’ নাটকগুলো নির্মিত হয়েছে। নাটকগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে বলে আমার ধারণা।

পতাকা ও মিনিস্টারকেই এগিয়ে রাখব

রেজানুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধের নাটক, টেলিফিল্ম নির্মাণ করা সহজ কাজ নয়। এজন্য যেমন জরুরি গল্পের গাঁথুনি, তেমনি প্রয়োজন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আন্তরিকতা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমি অনেকগুলো নাটক, টেলিফিল্ম বানিয়েছি। সংখ্যায় ৫০ এর অধিক হবে। এর মধ্যে ‘পতাকা’, ছায়াশরীর ও ‘মিনিস্টার’ নামে তিনটি নাটককে আমি এগিয়ে রাখব। মূল ভ‚মিকায় অভিনয় করেছিলেন দেশ বরেণ্য অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ ও ফজলুর রহমান বাবু। বিটিভি ও চ্যানেল আই-এর পর্দায় ‘পতাকা’ নাটকটি বহুবার প্রচারিত হয়েছে। ‘মিনিস্টার’ প্রচার হয়েছে এটিএন বাংলায়। পর্যাপ্ত বাজেট পাওয়া এবং অভিনেতাÑঅভিনেত্রীদের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল বলেই দুটি নাটকই পরিকল্পনা মাফিক নির্মাণ করা গেছে। ‘মিনিস্টার’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৪দিন। আর পতাকায় শুধুমাত্র পথে পথে ‘পতাকা’ বিক্রির জন্যই রাইসুল ইসলাম আসাদ সময় দিয়েছেন দেড় দিন।

ছয় নম্বর সাক্ষী আমার প্রথম পছন্দ

মাসুম রেজা

যেই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বেশ উত্তাল ছিল দেশ, গণজাগরণ মঞ্চসহ সারাদেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচারে মানুষ রাস্তায় নেমেছে ঠিক তখন আমার লেখা একটি নাটক প্রচার হয় চ্যানেল আইতে। যেটি নির্মাণ করেছিল তৌহিদ মিটুল। ‘ছয় নম্বর সাক্ষী’। এই নাটকটি একজন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে ছয় নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করার গল্প। খুব মানবিক আবেদন ছিল নাটকটিতে। নাটকটি প্রচার হওয়ার পর বেশ সাড়া পাই। আমার এমন আরেকটি নাটক ছিল ‘রক্ত নেশা’ এটিও অন্যরকম একটি গল্পের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক।

ফিরে পাওয়া ঠিকানা আমার প্রিয় নাটক

Brindabon-dasবৃন্দাবন দাস

আমি মুক্তিযুদ্ধের উপর ৫/৬টি নাটক লিখেছি। এর মধ্যে চ্যানেল আইতে প্রচার হওয়া ‘ফিরে পাওয়া ঠিকানা’ আমার প্রিয় নাটক। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অজানা গল্প বলা হয়েছে। নাটকটি এতটাই সাড়া ফেলে যে, নিউইয়র্কে হল ভাড়া করে বাঙালিরা নাটকটির প্রদর্শনীর আয়োজন করে। তারা পোস্টার করে নাটকটির ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এটি আমার জন্য সত্যিই আবেগে আপ্লুত হওয়ার মতো ঘটনা।

কাঁটা আমার প্রিয় নাটক!

Animesh-aicঅনিমেষ আইচ

অনেক নাটকই নির্মাণ করেছি। যার মধ্যে কিছু নাটক আছে যা সত্যিই মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে সারাজীবন। শহীদুল জহির-এর গল্প অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় নিয়ে নির্মিত হয় নাটকটি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, হিন্দু, মুসলমান দাঙ্গা সবই নাটকের গল্পে ফুটে উঠেছে। দুই. সময়ের দুই গল্প, যেটা আবার এক ফ্রেমে বাঁধা। নাটকটির নাম ছিল ‘কাঁটা’। এটি দেশটিভিতে প্রচার হয়। আমার নাটকের ক্যারিয়ারে এই নাটকটি সবসময় মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে।