মিনি অ্যালবাম

মিনি অ্যালবাম

1193
SHARE
akhi-alamgir

এক সময় ১০-১২টি গান দিয়ে অ্যালবাম সাজানো হতো। কিন্তু আজকাল দুই একটি গান নিয়ে অ্যালবাম বের করছেন কেউ কেউ। এসব মিনি অ্যালবাম নিয়ে কথা বলেছেন কয়েকজন সঙ্গীত শিল্পী। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক।

এছাড়া কোনো উপায় নাই -আঁখি আলমগীর

মিনি অ্যালবামের ব্যাপারটা সময়ের প্রয়োজনেই চলে এসেছে। শ্রোতাদের কথা বিবেচনা করলে ব্যাপারটা অবশ্যই ভালো নয়। কারণ অ্যালবামে প্রিয় শিল্পীর যত বেশি গান থাকে শ্রোতারা ততই খুশি হয়। বেশি গানের মধ্য থেকে পছন্দের গানটি যেমন খুঁজে নিতে পারে, তেমনি বিভিন্ন রকমের গান শোনারও সুযোগ পায়। কিন্তু শিল্পীর কথা চিন্তা করলে বিষয়টি আরো কষ্টের। একটি অ্যালবাম প্রকাশ করতে গেলে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা উঠে আসে না। তার ওপর একটি গান প্রচার করতে গেলে মিউজিক ভিডিও করতে হয়। ভিডিওর ব্যয়ও অনেক। সব মিলিয়ে বাধ্য হয়েই সিঙ্গল ট্র্যাক বা কম গান নিয়ে  অ্যালবাম প্রকাশের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। এই সিস্টেমের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

শ্রোতারা বঞ্চিত হচ্ছে-এসডি রুবেল

SD-Rubelএকটা সময় অডিও অ্যালবামের চাহিদা ছিল। তখন শ্রোতাদের অনুরোধ থাকত, প্রতি অ্যালবামে যেন কমপক্ষে ১২টি গান রাখা হয়। সিডির যুগে প্রবেশ করার শুরুর সময়ও এটা অব্যাহত ছিল। বলা যায়, এটা নিয়মের মতো হয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ খরচ কমানোর জন্য ১০টি গান নিয়েও অ্যালবাম করতেন। কিন্তু আজকাল এক থেকে পাঁচটি গান দিয়েও অ্যালবাম হচ্ছে। আমি মনেকরি এর ফলে শ্রোতারা গান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কম গান দিয়ে অ্যালবাম করলে সে ক্ষেত্রে শ্রোতার পছন্দের গানটি বাছাই করার সুযোগ থাকে কম। সংখ্যা বেশি থাকলে প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক, গজল বিষয়ভিত্তিক নানা ধরনের গান রাখা সম্ভব হয়। সংখ্যা কম হলে সেই সুযোগ থাকে না। অ্যালবাম শব্দটি শুনলেই মনে হয় ১০ থেকে ১২টি গান থাকবেই। এটাও ঠিক, গান তৈরির খরচ এখন অনেক বেশি। টাকা তুলে আনাও খুব কঠিন। তারপরও বলব, প্রতিটি অ্যালবামে অন্তত সাত-আটটি গান যেন রাখা হয়।

শিল্পীরা নিরুপায়-বিউটি

beautyআগে গানের গ্রহণযোগ্যতা বা বাণিজ্যিক ব্যাপারটা অনেক বেশি ছিল। মানুষ গানের অ্যালবাম কেনার জন্য মুখিয়ে থাকত। এখন শোনার পাশাপাশি গান দেখারও একটা বিষয়। অটো টিউনার বা যন্ত্রের প্রভাব এত বেশি যে, কে গাইছে সেটাও নির্দেশ করছে মিউজিক ভিডিও। ১০-১২টি গানের অ্যালবাম করলে যে  খরচ, সেটা তোলাও কঠিন। তাই শিল্পীরা দু-একটি গান করে সেগুলো মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ করছেন। নিজেদের স্ক্রিনে ধরে রাখছেন। এটা অবশ্য স্টেজ শোর ক্ষেত্রে কাজে লাগছে। শ্রোতারা বঞ্চিত হলেও এখানে  শিল্পীরা নিরুপায়।

আর নয় ১০/১২-পুতুল

PUTULপুরো ১০/১২টি গান দিয়ে অ্যালবাম এখন আর করব না। কারণ অ্যালবামের সব গানের প্রচারণা সমানভাবে করা যায় না। তাছাড়া ১০টি গান নিয়ে পুরো অ্যালবাম করলে যে টাকা খরচ হয় সেটাও উঠে আসে না। এ কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে মিনি অ্যালবাম প্রকাশ করব। তাই তিনটি গান নিয়ে আমার পঞ্চম একক অ্যালবামের কাজ শুরু করেছি। এখন থেকে এভাবেই গান প্রকাশ করব।

সিঙ্গেলেই আমি হ্যাপি-হাবিব ওয়াহিদ

পুরো অ্যালবাম না সিঙ্গেলেই হ্যাপি আমি। কারণ একটি অ্যালবামের সব গান শ্রোতাদের কানে পৌঁছায় না। তাই সিঙ্গেল আকারেই গান প্রকাশ করে যাচ্ছি নিয়মিত। আর আমার এ সিদ্ধানেৱ শ্রোতারাও ভীষণ খুশি। তাদের আগ্রহে আমি সিঙ্গেলে আরো বেশি উৎসাহিত হচ্ছি। আর গান এখন শোনার পাশাপাশি দেখারও বিষয়। এটা সময়ের দাবি। সময়কে অস্বীকার করা যাবে না।

একক গানই আমার পছন্দ-বালাম

balamগান তৈরি করার ক্ষেত্রে এখন যেটা মনে হয়, এক সঙ্গে ৮/১০টি গান করার চেয়ে দুই মাস বা তিন মাস পর পর একটা করে গান করলে সেটা সময়ের চাহিদার জন্য মানান সই। এতে করে মানসিক চাপ কম থাকে। গানগুলোও ভালো হয়। একসঙ্গে ১০টি গান করতে গেলে মানুষ ৩/৪টি গান পছন্দ করে শুনতে থাকে আর বাকিগুলো তেমন একটা শোনে না। এদিক থেকে একক গান করাটাই আমি পছন্দ করছি।

ইন্ডাস্ট্রি ভালোর দিকেই যাচ্ছে-ন্যান্‌সি

Nancy-1অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন ভালোর দিকেই যাচ্ছে। কারণ সব কোম্পানি বিনিয়োগ করছে। ভালো ভালো গান তৈরি হচ্ছে। ভালো গানগুলোই শ্রোতারা গ্রহণ করছেন। আসলে সিডি এখন না চললেও গান কিন্তু ভালো চলছে। প্রযুক্তির কারণে গান শোনা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমরাও সেই সহজলভ্যতার বিষয়টি গ্রহণ করেছি। এভাবেই এখন কাজ হচ্ছে, হবে। মানুষ এখন মোবাইল ও ইউটিউবেই গান বেশি শোনে। বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক মনে করি।

ওটা করে লাভ নেই-পড়শী

porshi-1সত্যি বলতে এখন ১০/১২টি গান নিয়ে অ্যালবাম করে লাভ নেই। সব গান শ্রোতাদের কাছে পৌঁছায় না। তাছাড়া সব গানের ভিডিও করাও সম্ভব হয় না। এ কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে ইপি  আকারেই গান প্রকাশ করব। ৮/১০টি গান নিয়ে অ্যালবাম আর করছি না। এবার ৩টি গান দিয়ে অ্যালবাম করব বলে ঠিক করেছি। এটা আমার নতুন সিদ্ধান্ত। ইপি আকারে গান বাইরের দেশে অনেক আগে থেকেই প্রকাশ হয়। এরই মধ্যে আমাদের দেশে সেই ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে। নিজের মতো কিছু গান নিয়েই ইপি বের করব।

এটাই আয়ের উৎস-ইমরান

imranএখন ১০/১২টি গান দিয়ে অ্যালবাম করে লাভ নেই। কারণ এক অ্যালবামের সব গান ঠিকভাবে প্রচার হয় না। যে কারণে অনেকেই মিনি অ্যালবাম আকারে গান প্রকাশ করছে। এখন গান বিভিন্ন অ্যাপস এ বের হচ্ছে। এর সুবিধাটা হচ্ছে, নতুন একটা আয়ের উৎস সৃষ্টি হলো। আগে যেমন সিডি বিক্রি হয়ে আয় হতো। তারপরে রিংটোন, ওয়েলকাম টিউনের মাধ্যমে একটা আয় হতো। এখন ইউটিউবের মাধ্যমেও আয় হচ্ছে। আবার নতুন করে মোবাইল অ্যাপসে ডাউনলোডের মাধ্যমে গান শুনছে মানুষ। সেখান থেকেও আয়ের একটা উৎস চলে আসছে। আয়ের উৎস যে কোনো মাধ্যমেই হোক সেটাকে আমরা স্বাগত জানাব।

এটাই সময়ের দাবি-কনা

konaবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে আমাদের। তাই আমরা সেই পথেই এগুচ্ছি। কারণ সারা বিশ্বেই এখন শ্রোতারা ইউটিউবে অথবা মোবাইলে গান শুনছে। আমরা গত বছর থেকে এ ধারাটিতে অভ্যস্ত বেশি হয়েছি। এখন তো বেশির ভাগ গানই ডিজিটালি প্রকাশ হচ্ছে। সঙ্গীতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। এটাই সময়ের দাবি।

সময়ের চাহিদাই আসল-ডলি সায়ন্তনী

doly_shayontoniসত্যি বলতে আমি বেশ উচ্ছ্বসিত অডিও ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তনে। এর মধ্যে যে খারাপ অবস্থা পার করেছিলাম, তাতে ভেবেছিলাম এখান থেকে আর বের হতে পারবো না আমরা। কিন্তু চলতি বছর অনেক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। পুরনো কোম্পানিগুলো নতুন করে বিনিয়োগ করছে। ডিজিটাল মাধ্যমে থেকে আয় আসছে। সব মিলিয়ে অবস্থা বেশ ভালো মনে হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতাটা অব্যাহত থাকুক সেটা চাই। সেটা হলেই নতুন গান প্রকাশে শিল্পীরা আরও বেশি আগ্রহ ও উৎসাহ পাবে। সামনে আমি নিজেও দু’একটা নতুন গান ও অ্যালবাম করব। আমি মনেকরি সময়ের চাহিদাই আসল।

দায় চাপিয়ে লাভ নেই-সুজিত মুস্তাফা

আমাদের বাংলা গানের যে ঐহিত্য, সেখানে গান ছিল শ্রুতিনির্ভর বা শ্রবণনির্ভর। একটি গান শুনে মানুষ কল্পনার জগতে চলে যেত। নিজের মতো করে মনে মনে এটার ভিজ্যুয়াল চিন্তা করত। কিন্তু যখন থেকে গানকে ভিজ্যুয়ালে রূপ দেয়া শুরু হলো- মূল গানই যেন হারাতে থাকল। এখানে সেক্স আপিল, অল্প বয়স, বিশাল আয়োজন ব্যাপারগুলো সামনে চলে এলো। এখন গান হয়ে গেছে দেখা নির্ভর। এটা বলছি গানের পরিবর্তন প্রসঙ্গে। ঠিক তেমনিভাবে একটি অ্যালবামে আগে যখন এক সেট গান থাকত, এখন সেখানে একটি, দুটি, তিনটি কিংবা যে যার মতো করে বের করছেন। এবং মূল কারণ বিজনেস। ১০/১২টি গান নিয়ে অ্যালবাম করলে যে খরচ, সেটা ওঠানোও এখন কঠিন। তাই শিল্পীরা এই পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। একটি গান করে সেটাকে জনপ্রিয় করা কঠিনই বটে। কারণ সেই গানটি শ্রোতারা পছন্দ নাও করতে পারে। বেশি গান থাকলে সেখান থেকে হিট হওয়ার সুযোগও বেশি। তবে শিল্পীদের ওপর দায় চাপিয়ে লাভ নেই। সময়ই তাদের এই পথে নিয়ে এসেছে।

১০/১২ তে আমি রাজি নই!-সানিয়া সুলতানা লিজা

১০-১২টি গান নিয়ে অ্যালবাম করতে রাজি নই। কারণ এক অ্যালবামের সব গান সবাই শোনে না। সে কারণে তিন-চারটি নতুন গানের কাজ শুরু করেছি। এর মধ্যে থেকে একটি গান আগামী দুই মাসের মধ্যে ভিডিও আকারে প্রকাশ করব। এখন থেকে এভাবেই গান করার পরিকল্পনা করেছি।

এখনতো শিল্পীরা আর কোম্পানির উপর নির্ভর না। কারণ নিজেরাই স্বত্ব রেখে গান প্রকাশ করতে পারছে। যেমনটা আমি করেছি পাগলি সুরাইয়া’র ক্ষেত্রে। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে আমরা গান শোনায় অভ্যস্ত হওয়া শুরু করেছি। এখান থেকে শিল্পীদের আয়েরও সুযোগ রয়েছে বেশ। অবশ্য বিষয়গুলোতে আমরা আরও যত অভ্যস্ত হবো তত বেশি জানতে পারবো।