মাশরাফিদের জন্য শুভ কামনা

মাশরাফিদের জন্য শুভ কামনা

379
0
SHARE
BD-TEAM

মামুনুর রহমান

এক আড্ডায় অনেকগুলো মানুষ জড়ো হয়েছে। হঠাৎ খেলার কথা উঠতেই একবাক্যে সবাই মাশরাফির নামটাই বললেন। সবার অভিন্ন সুর। একজন পিতা বললেন- আমার ছেলেটা যদি মাশরাফির মতো হতো। একজন তরুণ বলল- আমি মাশরাফির মতো হতে চাই। একজন শিক্ষক বললেন- আহ! মাশরাফিকে যদি ছাত্র হিসেবে পেতাম তাহলে গর্ব করে অনেক কথা বলতে পারতাম।

কথায় কথায় মাশরাফিকে ঘিরেই আড্ডা জমে উঠল। হঠাৎ এক তরুণ প্রতিবাদের ভঙ্গিতে বলল- টি-২০ ক্রিকেট থেকে মাশরাফির ক্যাপ্টেনসি চলে যাওয়া আমি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। তাকে শুধরে দিতে চাইল একজন- আরে ভাই তাকে তো বাদ দেয়া হয় নাই। সে নিজেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। প্রতিবাদী তরুণ আরও প্রতিবাদী হয়ে উঠল। আপনি কিছুই জানেন না। মাশরাফির কাছ থেকে ক্যাপ্টেনসি কেড়ে নেয়া হয়েছে। আপনারা মাশরাফির শারীরিক অবস্থার খবর রাখেন। শ্রীলঙ্কায় খেলার সময় সে পায়ের ব্যান্ডেজ নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিল। তার পুরো পায়ে ব্যান্ডেজ দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। কেঁদে ফেলেছিলাম। এবার তরুণের কথায় সবাই শায় দিল। বলল- মাশরাফির নেতৃত্বে আমাদের ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রতিযোগিতা করার জন্য ইংল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। সাসেক্স, আয়ারল্যান্ড শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সফরটা প্রায় দেড় মাসের। আসুন সকলে আমাদের ক্রিকেট দলের জন্য সাফল্য কামনা করি।

একথা সত্য, ক্রিকেট একমাত্র ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এদেশের মানুষ কোনো শর্ত ছাড়াই ঐক্যবদ্ধ। ক্রিকেটের জয় মানেই বাংলাদেশের জয়। আর তাই আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দেশের মানুষের কাছে অনেক আদরের ধন। পত্রিকায় দেখলাম সেদিন আমাদের গর্বের ধন সেনাবাহিনীর একদল সদস্য মাশরাফিকে কাছে পেয়ে খুউব খুশি। মাশরাফির সঙ্গে তার গ্রুপ ছবি তুলেছে। ছবিটি দেশের মানুষের মাঝে অনেক আনন্দ আর উৎসাহের সঞ্চার করেছে।

মাজেদা বেগম একজন স্কুল শিক্ষিকা। ক্রিকেটের দারুণ ভক্ত। বাংলাদেশ দলের খেলা থাকলে তিনি সারাক্ষণ অস্থির থাকেন। শুধু মাশরাফিকে দেখার জন্য টিভির সামনে পায়চারী করেন। টি-২০ ক্রিকেট থেকে মাশরাফি যেদিন অবসরের ঘোষণা দিলেন সেদিন তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। প্রসঙ্গ তুলে বললেন- মাশরাফি আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তার হাসিমাখা মুখ দেখলে আমি কাজের অনুপ্রেরণা পাই।

Mashইদানিং এমনও হচ্ছে দৃষ্টান্ত অথবা অনুপ্রেরণার প্রসঙ্গ উঠলেই অনেকে মাশরাফির প্রসঙ্গ তুলছেন। কয়েকদিন আগে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে মাশরাফির সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়েছে। শিরোনাম ছিল ‘মানসিক যুদ্ধটাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ’। মাশরাফি যথার্থই বলেছেন। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় নেমে লড়াই করার আগেই হেরে যাই। ব্যাপারটা এমন- ওর সঙ্গে আমি পারব না। মাশরাফির এখানেই আপত্তি। বললেন- মানসিক দৃঢ়তা যে কোনো কাজেই সাফল্য বয়ে আনে। যুদ্ধে নামার আগেই যদি আপনি মনোবল হারিয়ে বসেন, যদি ভাবেন আমি পারব না, তাহলে তো আপনি পারবেনই না। আর যদি ভাবেন লড়াই করে তো দেখি। জিততেও তো পারি। তাহলে আজ হারলেও কাল নিশ্চয়ই জিতবেন। আমাদের মাশরাফির এমনই চিন্তা ভাবনা।

ইংল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে মাশরাফি সংবাদ সম্মেলনে যে কথা বলেছেন তার কিছু অংশ আনন্দ আলোর পাঠকদের জন্য। এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেছেন, এত লম্বা সফর আমরা এই প্রথম করছি না। একটা ভয় থাকে, সফরের শেষের দিকে আমরা হয়তো অবসাদে ভুগব। আগের ইতিহাস বলে, সফরের শেষের দিকে এমন হয়েছে, একটা সেশন খুব ভালো খেলেও পরের সেশনটা খুব খারাপ হয়েছে। আপনি গত বিশ্বকাপের দিকে তাকালে মনে হবে, আমরা হয়তো পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলতে পেরেছিলাম। জয়ের ভেতরে ছিলাম, পয়েন্ট টেবিলে সব সময় এমন একটা অবস্থায় ছিলাম যে, আমরা ভালো জায়গায় যেতে পারি। সে জন্য হয়তো ক্লান্তির ব্যাপারটা সেভাবে আসেনি। আমার মনে হয়, শুরুর জয় ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দিতে পারে। আয়ারল্যান্ডে এটা হতে পারে। জয়ের ভেতরে থাকলে অনুভূতিটা খুব ভালো থাকে। দলে একসঙ্গে ১৭-১৮ জন থাকবে, তাদের একসঙ্গে থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে সবার ভালো সময় যাবে না। যাদের খারাপ সময় যাবে, তাদের সমর্থন দেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

দলের মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু জায়গায় আমাদের আরও দৃঢ় হতে হবে। ঠিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে। খেলাটা ঠিকমতো বুঝতে হবে। ২৮০-২৯০ রান আমাদের ইংল্যান্ডে করতেই হবে। আবার যত ভালো বোলিংই করি, ২৮০ বা ৩০০ রানের লক্ষ্য আমাদের তাড়া করতে হবে। সেই মানসিকতা থাকতে হবে। খুব ভালো শুরুর পর নিজেকে সামলানো- এই ব্যাপারগুলো নিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিলে কাজটা সহজ হবে।

অধিনায়ক হিসেবে ভাবনাটা আসলে কেমন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অধিনায়ক হিসেবে আলাদা করে কোনো লক্ষ্য নেই। এখান থেকে আলাদা করে চাপ নেয়ারও কিছু নেই। তবে এটা জানি, একদিন ওয়ানডে থেকেও আমাকে অবসর নিতে হবে।

তিন স্তরে তিন অধিনায়ক!

Three-Captainক্রিকেটের তিন স্তরে বাংলাদেশে হয়ে এখন থেকে তিনজন ক্যাপ্টেন হিসেবে নেতৃত্ব দিবেন। মাশরাফি বিন মর্তুজা টি-২০র অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়া ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে টি-২০র অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজাই অধিনায়ক থাকছেন। টেস্টের অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকুর রহিমতো আছেনই।