Home টি-২০ আড্ডা মাঝে মাঝে সত্যকথা বলতে পারিনা: মিশা সওদাগর

মাঝে মাঝে সত্যকথা বলতে পারিনা: মিশা সওদাগর

SHARE

আনন্দ আলো: সকালে ঘুম থেকে উঠে যে কাজটি প্রথম করেন?

মিশা সওদাগর: ঘুম ঘুম চোখে দৈনিক পত্রিকা দেখা শুরু করি । প্রথমেই দেখি খেলার খবর। তারপর বিনোদনের সব খবর এক নিঃশ্বাসে পড়ি। সঙ্গে থাকে আগুন গরম রং চা।

আনন্দ আলো: পৃথিবীতে এতো কাজ থাকতে ভিলেন হলেন কেন?

মিশা সওদাগর: আমার কাছে এটাই সেরা কাজ। কারন সমাজের সব ধরনের অসংগতি ভিলেনরা ফুটিয়ে তোলে পর্দায়। তবে ভিলেনের অভিনয় করা খুবই কঠিন।

আনন্দ আলো: ছবিতে অন্যের মাথা ফাটান, কান কামড়ে দেন… ছোটবেলায় কারো কান কামড়ে দেয়া বা কারো মাথা ফাটানোর ঘটনা ঘটিয়েছেন কখনো?

মিশা সওদাগর: কান কামড়ে দেয়া বা মাথা ফাটাইনি তবে ফুটবল খেলতে গিয়ে বন্ধু জুনায়েদের হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলাম বল মেরে।

আনন্দ আলো: ছবিতে মারামারির দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে নায়ক বা নায়িকার হাতে লাঞ্চিত হতে হয় প্রায়ই। এজন্য বিব্রত হন না?

মিশা সওদাগর: আমার কাজইতো নায়কদের হাতে…। তবে মাঝে মধ্যে বিব্রত হই যখন মারামারি জানেনা এমন কারো সঙ্গে ফাইটিং করতে হয়। তখন মনে হয় সত্যি সত্যি মুখে একটা মেরে বসি।

আনন্দ আলো: আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কখনো কখনো তো মনোমালিন্য হয়। কখনো কী ভিলেন বলে কটুক্তি করেছেন তিনি?

মিশা সওদাগর: কখনো যদি সে বা অন্য কেউ আমাকে ভিলেন বলে কটুক্তি করে সেটাকে আমি অলংকার বলে ধরে নেই।

আনন্দ আলো: অনেকেরই ধারনা বাংলাদেশে একদিন বড় ভ‚মিকম্প হবে। ঢাকা শহরের সব মানুষ সেই ভ‚মিকম্পে বিল্ডিং চাপায় মরে যাবে। তাই যদি হয় তখন কী করবেন?

মিশা সওদাগর: আমি মনে হয় বেঁচে যাবো। আমার নেতৃত্বে শুরু হবে ঢাকা শহরের পুণর্গঠনের কাজ।

আনন্দ আলো: ছবিতে এ পর্যন্ত কোন নায়কের হাতে বেশি মার খেতে হয়েছে?

মিশা সওদাগর: নায়ক শাকিব খানের হাতে। তবে মারামারির শুরুটা কিন্তু আমি করি।

আনন্দ আলো: আমাদের সিনেমা দর্শকরা আগের মতো হুমড়ি খেয়ে ছবি দেখে না এর তিনটি কারন বলুন?

মিশা সওদাগর: প্রথমত: বেঁধে দেয়া বাজেট, দ্বিতীয়ত ভালো স্টোরী ও সংলাপ লেখার লেখকের অভাব, তৃতীয়ত মানসম্পন্ন শিল্পীর সংকট।

আনন্দ আলো: খ্যাতিমান এক পরিচালক আপনাকে তার একটি ছবিতে নায়ক হওয়ার প্রস্তাব দিলেন এবং বললেন বাংলাদেশের যে কোনো নায়িকাকে পছন্দ করলে তাকে আপনার বিপরীতে নেয়া হবে। এবার বলুন কাকে নেবেন এবং কেন?

T-20-1-2মিশা সওদাগর: চোখ বন্ধ করে বলে দিব মৌসুমীকে নিন। কারন কবরী, ববিতা ও শাবানার পর মৌসুমী হচ্ছেন একজন পরিপূর্ণ নায়িকা যার বিপরীতে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবো।

আনন্দ আলো: যখন আপনার বয়সী ৮/১০ তখন বন্দুক কাঁধে পুলিশ দেখলে কী মনে হতো?

মিশা সওদাগর: ওই বয়সে পুলিশ দেখলে ভয়ে দৌড়ে বাসায় চলে যেতাম। বন্দুক কাঁধে থাকলে তো কথাই নেই মনে হতো এই বুঝি গুলি করবে।

আনন্দ আলো: কখন অস্বস্থিতে ভোগেন?

মিশা সওদাগর: মাঝে মধ্যেই সত্য কথা বলতে পারিনা বলে অস্বস্থিতে ভুগি। এটা বেশি ঘটে শুটিংস্পটে। কল অনুযায়ী সকাল ১০ টায় আমরা সবাই স্পটে হাজির হই। কিন্তু নায়ক নায়িকার দুপুর ১২ টায়ও দেখা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে সবাই চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছি। এমন সময় তারা এলেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে গেল। এরপর আমরা নায়ক নায়িকাকে জামাই আদর শুরু করতে করে দেই। এই অবস্থায় একজন আরেক জনের দিকে চোখ চাওয়া চাওয়ি করি কিন্তু কিছু বলতে পারিনা। এটা যে কতটা অস্বস্তিকর বলে বোঝানো যাবে না।

আনন্দ আলো: আপনাকে একদিনের জন্য ঢাকা উত্তরের মেয়র বানানো হলো। বলা হলো মাত্র দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা কাজ করতে পারবেন। কোন দু’টি কাজ করবেন এবং কেন?

মিশা সওদাগর: ভাই আমি এতো বোকা নই। কোনো ভাবেই মেয়র হতে যাবো না।

আনন্দ আলো: হলে বসে সন্তানদের নিয়ে নিজের অভিনীত সিনেমা দেখার সময় যখন নায়ক বা নায়িকার হাতে আপনার মার খাওয়ার দৃশ্য আসে তখন  ওরা কী বলে?

মিশা সওদাগর: আমার ছোট ছেলের নাম ওয়াইজকরনী। ওকে নিয়ে সিনেমা দেখার সময় নায়ক নায়িকার হাতে আমার মার খাওয়ার দৃশ্য দেখে ও বলে বাবা তুমি ওদের মারতে পারোনা কেন। এখন থেকে বেশি বেশি খাবে যাতে তোমার শক্তি হয়। এবং শক্তি হলেই ওদের হারিয়ে দিতে পারবে।

আনন্দ আলো: প্রথম প্রেমের স্মৃতি কম বেশি সবারই মনে পড়ে। আপনার মনে পড়েনা?

মিশা সওদাগর: আমার স্ত্রী মিতার সাথে তখন প্রেম করতাম। ওরা থাকতো ওই সময় এজিবি কলোনীতে। বাসার সিঁড়ি দিয়ে ওর হাত ধরে নামছি এমন সময় ওর বাবা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছেন। মুখোমুখী আমরা। সেই স্মৃতি এখনো মাঝে মধ্যে মনে পড়ে।

আনন্দ আলো: মিশা সওদাগর নামের অর্থ কী? মিসা সওদাগর: মি অর্থ মিতা, শা: অর্থ শাহিদ। সওদাগর আমার পৈত্রিক পদবী।

আনন্দ আলো: ঢাকার যানজটের কবলে পড়ে রাস্তায় ৩/৪ ঘন্টাও বসে থাকতে হয়। কেউ কেউ এই সময় আয়েশ করে ঘুমিয়ে নেন। আপনি কী করেন। কী মনে হয় তখন?

মিশা সওদাগর: তখন বোকার মতো গাড়িতে বসে থাকি। প্রতিটি মুহ‚র্তে বিব্রত হই এবং মনে মনে ভাবি এই পরিস্থিতির জন্য আমি বিন্দু মাত্র দায়ী নই।

আনন্দ আলো: বাজার করতে বা কোনো কিছু কিনতে নিশ্চয় দোকান বা সুপারস্টোরে যান। আশে পাশের লোকজন আপনাকে দেখে কি বলে?

মিশা সওদাগর: মোবাইল হাতে পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে থাকে। কেউ আবার বলে অমুক ছবির ডায়ালগ বলুন। তখন একটা হাসি দেই।

আনন্দ আলো: চলচ্চিত্রে আসার পর এই জগতের কোন শিল্পী আপনাকে প্রথম প্রেমের অফার দিয়েছিল তার নামের প্রথম অক্ষর বলুন?

মিশা সওদাগর: আমার সঙ্গে ছবিতে নায়ক নায়িকাদের বেশির ভাগ সময় মারামারি হয়। প্রেমের বলতেই দৃশ্য নেই। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। আমার প্রজন্মের সব নায়িকার সঙ্গেই মধুর সর্ম্পক। প্রেমের অফার কে দিয়েছিল সেটা বলা বোধ হয় ঠিক হবে না।

আনন্দ আলো: আপনার অনেক ভক্ত আছে। যাদের মধ্যে কেউ কেউ পাগলের মতো ভালোবাসে আপনাকে। তেমনি একজন পাগল ভক্তের কথা শুনতে চাই?

মিশা সওদাগর: আমার একজন পাগল ভক্ত আছে। সে বয়সে তরুণ। ফেসবুকে তার সঙ্গে কথা হয়। আমি অবাক হয়ে যাই এই ভক্তের কাছে আমার ছোটবেলার সব ছবি আছে এবং আমার অভিনীত প্রতিটি ছবির স্টিল রয়েছে তার কাছে। সে এগুলো কোথায় পেল সে কথাই মাঝে মধ্যে ভাবি।

আনন্দ আলো: ধরা যাক, এক যুবক আপনার বাসায় এসে বললেন আমি মিশা সওদাগরের মতো ভিলেন হতে চাই। আপনি বললেন ঠিক আছে। যুবককে প্রথমেই কি শেখাবেন?

মিশা সওদাগর: নায়ক বা অভিনেতা হওয়া যায়। কিন্তু ভিলেন কী বানানো যায়? বাস্তবে এবং পর্দায় প্রশিক্ষণ দিয়ে ভিলেন বানানো যায় না সে কথাই তাকে বোঝাবো।