Home ফিচার ভয় ছিল আনন্দ আলোকে নিয়ে

ভয় ছিল আনন্দ আলোকে নিয়ে

SHARE
Ananda-alo

মতিউর রহমান চৌধুরী

সত্যি কথা কি, ভয় ছিল আনন্দ আলোকে নিয়ে। আনন্দ আলো কি পারবে বিনোদন জগতে নয়া ইতিহাস তৈরি করতে। রেজানুর আমার প্রিয় সহকর্মীদের একজন। দৈনিক ইত্তেফাকে অনেক বছর কাজ করেছি। কত স্মৃতি ওর সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার থেকে যখন স্টাফ রিপোর্টার হলো তখন থেকেই ওকে জানি। নির্ভেজাল খাঁটি একজন মানুষ। কারো পেছনে নেই, সাথেও নেই। তবে রাজনীতিসচেতন। বিনোদনে প্রচÐ আগ্রহ। রিপোর্টার হিসেবে ও প্রতিষ্ঠিত। খেয়ালি নয়। যথেষ্ট আবেগপ্রবণ মানুষ অবশ্য। চ্যানেল আই যখন একটি বিনোদন পত্রিকা বের করতে যাচ্ছে তখন থেকেই জানতাম ভেতরের অনেক কিছু। বড় বাজেট। চমক দেয়ার আশা। শুধু নেতৃত্ব দরকার। রেজানুরকে দায়িত্ব দেয়া হলো। নেপথ্যে দুই কারিগর ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ। পত্রিকা চালানোর অভিজ্ঞতা তাদের নেই। তবে ফরিদুর রেজা সাগর যেখানে হাত দেন সেখানেই সোনা ফলে। তার মাথায় নতুন নতুন আইডিয়া কিলবিল করে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম একদিন চ্যানেল আই হবে কে জানতো বলুন। নানা চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে চ্যানেল আই বীরদর্পে এগিয়ে চলেছে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে। একটি প্রতিষ্ঠিত চ্যানেলের নাম বলতে গেলে প্রথমে চ্যানেল আই’র নামই আসবে আগে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর প্রকাশনা হবে আনন্দ আলোÑ শুনে বিন্দুমাত্র সংশয় ছিল না মনে। কারণ অর্থের সংকট হবে না। আইডিয়া আটকে যাবে না মাঝপথে। ঢাকায় পত্রিকা চালানো এখন বড় কঠিন। বিশাল বিশাল বাজেট ছাড়া পত্রিকা টিকিয়ে রাখা বড় মুশকিল। নিজে হারে হারে টের পাচ্ছি। এখন পালাতে চাই। সেই সুযোগ কি আছে? বলতে পারেন বাঘের পিঠে চড়ে বসেছি। যাই হোক, আনন্দ আলোর প্রাথমিক পরিকল্পনা শুনে খুশিই হলাম। তবুও কিছুটা সংশয়। কি আসছে। পাঠকরা কি নেবে পত্রিকাটি? ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে গেল পত্রিকাটি হাতে পেয়ে। চমৎকার ছাপা। গেটআপ- মেকআপ বিদেশি কোনো ম্যাগাজিনের মতো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিনোদনের খবরে ঠাসা। একবার হাতে নিলে শেষ না করে রাখার উপায় নেই।

একদম বাজিমাত। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ঝড় তুললো। গুলশান, বনানী, বারিধারার ড্রয়িংরুমে ঠাঁই পেলো। আনন্দ আলো সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও নজর কাড়লো। শুরুতেই চমক দেখিয়ে রেজানুরের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ আসলো। পত্রিকার মান কি ধরে রাখা যাবে? এ দেশে অনেক সংবাদপত্র শুরু থেকে শেষ অব্দি মান ধরে রাখতে পারেনি। পরিণতিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে। আনন্দ আলো এর ব্যতিক্রম। প্রকাশনার ১৩ বছরেও একই ধারা অব্যাহত রেখেছে। বিনোদনের পত্রিকা বলতে গেলেই এক নম্বরে আসে আনন্দ আলো। ব্যবসা সফল কিনা জানি না। তবে প্রতিষ্ঠিত একটি ম্যাগাজিন এটা বলা যায় এক বাক্যে। বাংলাদেশে বিনোদন এখন নানামুখী চাপের মুখে। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অবস্থা নেই। হল ভেঙে দোকান হচ্ছে। ভালো ছবিও তৈরি হচ্ছে না, দুএকটি ব্যতিক্রম ছাড়া। আকাশ সংস্কৃতি অনেক কিছু গ্রাস করে ফেলেছে। পরদেশি চ্যানেলের প্রতি দর্শকদের প্রচÐ আগ্রহ। সন্ধ্যা হলেই ভিনদেশি চ্যানেলে সিরিয়াল দেখার জন্য ড্রয়িংরুমে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। এ এক বিচিত্র দৃশ্য। ২৬টি চ্যানেল দর্শকদের ধরে রাখতে পারেনি। শুধু খবর দিয়ে তো দর্শকদের আটকে রাখা সম্ভব নয়। বিজ্ঞাপনের বাড়তি ঝামেলা তো আছেই। অনুষ্ঠানের মানও এখন নিম্নমুখী। দু’-একটা ভালো নাটক যে হয় না তা কিন্তু নয়। অন্য দেশের আগ্রাসী মার্কেটিংয়ের কারণে শুধু দর্শক না, বিজ্ঞাপনও চলে যাচ্ছে। বাস্তবে ক’টা টেলিভিশন চলতে পারে তা যাচাই-বাছাই না করেই অনেকে নেমে পড়েছেন। ব্যাংক ঋণেও তারা আটকা পড়েছেন। লাভের মুখ দেখছে না অনেক টিভি। তারপরও চালাতে হচ্ছে। শাকিব খান কেন্দ্রিক এফডিসি নয়া কোনো শিল্পী পয়দা করতে পারছে না। কিন্তু কেন? জয়া আহসান ঢাকায় কেমন ছিলেন? বিদেশে তিনি সফল। ঢাকায় বিনোদন জগৎ ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। সিনেমার নাকি স্ক্রিপ্ট লেখার লোক নেই। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এটা বিশ্বাস করি কীভাবে? এফডিসি কেন্দ্রিক হতে চান না শিল্পীরা। সেখানে নাকি কোনো আকর্ষণ নেই। ছোটপর্দায় কতটুকু আছে? মঞ্চ নাটকের অবস্থাও একই। বিনোদন যেখানে ছোট হয়ে আসছে সেখানে বিনোদন পত্রিকার ভবিষ্যৎ কি? জানি না রেজানুর কি ভাবছেন? এক ব্যাগ ভর্তি আনন্দ আলো আর ক’দিন তারা দিতে পারবেন?

শেষ কথা, বাংলাদেশের বিনোদনের ইতিহাস লিখতে হলে আনন্দ আলোকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। আর সেখানেই বোধকরি আনন্দ আলোর সার্থকতা। জয়তু আনন্দ আলো।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, মানবজমিন।