ভক্ত পাঠকের ভিড়ে মুখরিত হুমায়ূন মেলা

ভক্ত পাঠকের ভিড়ে মুখরিত হুমায়ূন মেলা

74
SHARE
Himu-Mela

মোহাম্মদ তারেক ও তন্ময় মাহমুদ

যদি বলি হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন মানেই বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রেরও জন্মদিন তাহলে কী খুব বেশি বলা হবে? বোধকরি না। কারণ আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আজকে এই যে এতবড় অর্জন তার অনেকটাই হুমায়ূন আহমেদের কৃতিত্ব। একজন হুমায়ূন আহমেদই বদলে দিয়েছেন আমাদের বাংলা সাহিত্যের দৃশ্যপট। বিশেষ করে বাংলা উপন্যাসের বিকাশমান ধারায় হুমায়ূন আহমেদের অবদান অনেক বেশি। একসময় এই দেশের মানুষ বাংলা উপন্যাসের ক্ষেত্রে কলকাতার লেখকদেরকেই বেশি গুরুত্ব দিত। ঘরে ঘরে শোভা পেতো কলকাতার বাঙালি লেখকদের বই। বলা যায় একক প্রচেষ্টায় এই পরিস্থিতি পাল্টে দিলেন আমাদের হুমায়ূন আহমেদ। শুধু তাই নয় টেলিভিশন নাটকেও তিনি পরিবর্তন আনলেন। বিটিভিতে তার লেখা অসংখ্য ধারাবাহিক নাটকের পাশাপাশি একক নাটকও এই পরিবর্তনের ধারায় গুরুত্ব ভূমিকা রাখলো। তখন ছিল বিটিভির একক রাজত্ব। বিটিভিতে একটি নাটক হিট হওয়া মানেই তার পরিচালক ও নাট্যকারের প্রতি বিপুল সংখ্যক দর্শকের আগ্রহী হয়ে ওঠা। আর তাই হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রতিও পাঠকের গভীর আগ্রহ দেখা দিল। একসময় চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করলেন হুমায়ূন আহমেদ। ‘আগুনের পরশমণি’ তাঁর প্রথম ছবি। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। দর্শক ফিরলো সিনেমা হলের দিকে। একসময় সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায়ই হুমায়ূন আহমেদের মেধার দ্যুতিতে উদ্ভাসিত হতে থাকলো। টিভি নাটক, উপন্যাস এবং চলচ্চিত্রে শুধুই একটি নাম হুমায়ূন আহমেদ। জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে উঠে গেলেন তিনি। বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলায় তাঁর বই কেনার জন্য পাঠকের দীর্ঘ লাইন পড়ে গেল। ভিড় ঠেকাতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থাও করা হলো। টিভিতে তাঁর নাটক থাকলে রাজপথ অনেকটাই ফাকা হয়ে যেতো। আর হুমায়ূন আহমেদের নতুন ছবি মানেই দেশের সৃজনশীল প্রতিটি পরিবারেই আনন্দ উৎসবের ঢেউ খেলে যাওয়া।

বাংলা সাহিত্যের জাদুকর, নির্মাণের মহান কারিগর হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে নেই। মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। ১৩ নভেম্বর ছিল তার ৬৯তম জন্মদিন। আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে ১০ নভেম্বর জাতীয় জাদুঘরে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ১১ নভেম্বর তৃতীয় বারের মতো প্রদান করা হয় এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার। ১৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রকাশকরা প্রতিবছরের ন্যায় শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের ৭ দিন একক বইমেলা শুরু করেছে। ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ হলে হুমায়ূন আহমেদের মঞ্চ নাটক ‘নৃপতি’ মঞ্চস্থ হয়।

বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে হুমায়ূন মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়। এসিআই পিওর সল্ট নিবেদিত চ্যানেল আই হুমায়ূন মেলা-২০১৭ পাওয়ার্ড বাই এনআরবি বাজার ও বাংলাপ্রকাশ। হুমায়ূন আহমেদ-এর সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সময়ের আলোচিত তরুণ লেখক, নাট্যকার, নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন-এর উপস্থিতি Himu-Mela-1মেলার আয়োজনে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম, নাট্য ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, এ. কে এম জাহাঙ্গীর, এসিআই সল্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর, এনআরবি বাজার স্কলার্স পাবলিশার্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ই চৌধুরী শামীম, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’র আন্তর্জাতিক পরিচালক বাংলাপ্রকাশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অমিকন গ্রæপ-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান, নারী উদ্যোক্তা কনা রেজা সহ অনেকে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা, কিরণ চন্দ্র রায়, তপন চৌধুরী, সেলিম চৌধুরী, ক্ষুদে গানরাজ খ্যাত স্মরণ, প্রান্তি, বাংলাগানের শারমীন, অংকন, খায়রুল, ইলমা বখতিয়ার, নাজমুল ও সেরাকণ্ঠের মনিরসহ আরো অনেকে। আবৃত্তি করেন সৈয়দ হাসান ইমাম। এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের লেখা গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে এক ঝাঁক শিশু শিল্পী। সবশেষে পরিবেশিত হয় ফ্যাশন শো। অংশ গ্রহণ করেন, ‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি পাওয়ার্ড বাই ইয়ামাহা’ প্রতিযোগিতায় সেরা ১৫ জন মডেল। এই মেলায় হিমু পরিবহনের সদস্যদের পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদের বিপুল সংখ্যক পাঠক, ভক্ত ও গুণগ্রাহী উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হুমায়ূন ভক্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ মেলায় যোগ দেন। আমীরুল ইসলাম এবং রাজু আলীম-এর তত্ত¡াবধানে অনুষ্ঠান প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন ইফতেখার মুনীম, অনন্যা রুমা এবং মুস্তাফিজুর রহমান নান্টু। উপস্থাপনায় ছিলেন অপু মাহফুজ ও দিলরুবা সাথী। চ্যানেল আই মেলার পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে।

হুমায়ূনের চায়ের কাপ!

Himu-Mela-3একটি চায়ের কাপও কি ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠতে পারে? হ্যাঁ পারে। সেই চায়ের কাপটির সঙ্গে যদি কোনো কিংবদন্তির যোগসূত্র থাকে তাহলে তো তারই ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার কথা। তেমনি একটি চায়ের কাপ ইতিহাস ছড়ালো চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হুমায়ূন মেলায়। আনন্দ আলোর স্টলে মধ্যমণি হয়ে বসেছিল কাচ ঘেরা একটি বাক্সে চায়ের কাপটি। বাক্সের এক পাশে লেখা ‘হুমায়ূন আহমেদ ব্যবহৃত চায়ের কাপ’।

এবার এই চায়ের কাপটির ইতিহাস তুলে ধরতে চাই। সবাই জানেন চ্যানেল আই পরিবারের সম্মানীয় সদস্য ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তিনি প্রায়শই চ্যানেল আই কার্যালয়ে আসতেন।  চা খেতে খেতে আড্ডা দিতেন। নতুন নাটক অথবা সিনেমার পরিকল্পনা করতেন। চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের নির্দেশে হুমায়ূন আহমেদের জন্য একটি পৃথক চায়ের কাপ কেনা হলো। এরপর থেকে তিনি যখনই Himu-Mela-2চ্যানেল আই কার্যালয়ে এসেছেন প্রতিবারই এই চায়ের কাপেই তাকে চা খেতে দেয়া হতো। তিনি চলে যাবার পর কাপটি ধুয়ে যতœ করে তুলে রাখা হতো। হুমায়ূন আহমেদ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তার ব্যবহার করা চায়ের কাপটি সযতেœ সংরক্ষণে রেখেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। এবারের হুমায়ূন মেলায় তিনিই আনন্দ আলোর স্টলে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা চায়ের কাপটি প্রদর্শনের সুযোগ দেন। এজন্য তাঁর প্রতি রইলো অনেক কৃতজ্ঞতা।

মেলায় যাইরে!

এ যেন সেই গানের ভাষার মতোই আনন্দ মুখর পরিবেশ। হুমায়ূন মেলায় শুধু ঢাকা শহর নয় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হুমায়ূন ভক্তরা এসেছিলেন। মূল মঞ্চে গানের পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন স্টলের সামনে শ্রোতা ও ক্রেতার ভীড় ছিল দেখার মতো। এন আর বি বাজার, বাংলা প্রকাশ, টুংকেল বেবি ডায়াপার, পানসুপারি, আনন্দ আলো, ইমপ্রেস অডিওভিশনসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের পন্য নিয়ে হাজির হয়েছিল মেলায়। ছিল মুড়ি মুড়কি ও বাতাসার দোকানও। শহুরে পরিবেশে গ্রামীণমেলার আদলেই সেজেছিল হুমায়ূন মেলা। মেলায় রণ পা সহ দুজন তরুণ রঙিন সাজে এসেছিল। তাদের ব্যাপারে বিপুল আগ্রহ ছিল দর্শনার্থিদের।

হুমায়ূনের সাহিত্যকর্মকে আরও এগিয়ে নিতে চাই

ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলা প্রকাশ

বাংলা প্রকাশের মাধ্যমে আমরা নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একাধিক বই প্রকাশের সুযোগ পেয়েছিলাম। এটা আমাদের জন্য এক আনন্দময় স্মৃতি। হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্মকে পাঠকের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমরা বদ্ধপরিকর। সেজন্য চ্যানেল আই  আয়োজিত হুমায়ূন মেলার অংশ নিয়েছি। এই সুযোগটি করে দেবার জন্য চ্যানেল আই কতৃপক্ষকে অনেক ধন্যবাদ। প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে অশেষ শ্রদ্ধা জানাই।

বাবা চাইতেন আমি যেন আমার মতো কাজ করি!

নুহাশ হুমায়ূন

Nuhash-Humayonযেন বাবারই আদল। বাবার মতোই চাহনি। মুখের হাসিটাও বাবারই মতোন। বাবা যেমন একটু ঝুকে এগিয়ে গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে হাত মিলাতেন, কুশল বিনিময় করতেন… অবিকল তেমনই সবকিছু। কখনো কখনো মনে হচ্ছিল, আরে হুমায়ূন আহমেদই বুঝি সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাসছেন, কথা বলছেন। ভ্রম কাটতে একটু সময় লাগলো। হুমায়ূন আহমেদ নেই কিন্তু নুহাশ হুমায়ূনতো আছেন। বাবার যোগ্য উত্তরসূরি। সুহাশই যেন হুমায়ূন আহমেদ হয়ে উঠলেন। তাই তো হবার কথা। ছেলেতো বাবার মতোই হবে। কিন্তু সব ছেলে কি বাবার মতো হয়? এটা অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমরা নুহাশ হুমায়ূনের কথায় আসি। চ্যানেল আইতে প্রতিবছরই হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে ‘হুমায়ূন মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবারই ভিন্ন ধরনের আয়োজন থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল হুমায়ূনপুত্র নুহাশের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি। বাবাকে নিয়ে এ ধরনের বড় কোনো আয়োজনে এই প্রথম নুহাশকে সরব থাকতে দেখা গেল। পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে হুমায়ূন মেলার উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উদ্বোধন মঞ্চে সবার মধ্যমণি হয়ে উপস্থিত ছিলেন নুহাশ হুমায়ূন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নুহাশ তেমন কোনো কথা বলেননি। তবে মেলা চলাকালে অনেকটা সময় ধরে চ্যানেল আই চত্বরে সময় কাটিয়েছেন। তাকে দেখার জন্য অনেকে ভিড় করে। সেলফি তোলে অনেকে। এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নুহাশ বলেছেন, বাবার নামে মেলা হচ্ছে। অনেক ভালো লাগছে। বাবার সঙ্গে আসতে পারলে আরো ভালো লাগতো। এক প্রশ্নের জবাবে নুহাশ বলেন, বাবা চাইতেন আমি যেন আমার মতো করেই কাজ করি। আমিও তাই করছি। বাবাকে ঘিরে অনেক পরিকল্পনা আছে। দেখা যাক ভবিষ্যতে কি হয়…।

হুমায়ূনের সকল বইয়ে ৩০% ছাড়

এম ই চৌধুরী শামীম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি বাজার

আমাদের প্রিয় মানুষ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে সবাইকে অভিনন্দন। আপনারা জানেন যে চ্যানেল আই নিয়মিতভাবে আমাদের দেশের যে সমস্ত সম্মানিত মানুষরা আছেন, গুণী মানুষরা আছেন তাদেরকে নানানভাবে সম্মান দেয়ার চেষ্টা করে। এটিও সে রকমই একটি আয়োজন। এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমরা গৌরববোধ করছি। এনআরবি বাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যা কিছুর প্রয়োজন হয় তার সবকিছু মিলে সারা পৃথিবীর একটি অনলাইন প্লাটফর্ম। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সকল বই ৩০% ছাড় দিয়ে ২২০টি আউটলেটে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের যে কোনো অঞ্চল থেকে তাঁর বই কিনলেই আমরা হোম ডেলিভারি দিচ্ছি। ঢাকা শহরে আমরা ক্যাশ অন ডেলিভারি করছি। অর্থাৎ আপনি যদি টেলিফোনে বা অনলাইনে অর্ডার করেন তাহলে আপনাদের বাড়িতে সেই বই পৌঁছে দেয়া হবে।

হিমু আর মিসির আলীই হুমায়ূন সাহিত্য নয়

ইমদাদুল হক মিলন, কথাসাহিত্যিক

imdadul-Haq-copyচ্যানেল আই আয়োজিত হুমায়ূন মেলায় বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক কালের কণ্ঠ-এর সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ আমাদের বাংলা সাহিত্যে সত্যিকার অর্থেই একটি পরিবর্তন এনেছেন। প্রসঙ্গক্রমে একটা কথা বলতে চাই অনেকে হুমায়ূন আহমেদের হিমু, মিসির আলী, রূপাসহ কয়েকটি চরিত্রের কথা তুলেই তাকে বিচার বিশ্লেষন করেন। কিন্তু হিমু আর মিসির আলীর মধ্যেই বাংলা ভাষার এই শ্রেষ্ঠ লেখককে আবদ্ধ করা ঠিক নয়। এর বাইরেও তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস আছে। সেগুলোও আলোচনায় আসা দরকার। এ ব্যাপারে বোদ্ধা পাঠক ও সুশীল সমাজেরও দৃষ্টি কামনা করেন ইমদাদুল হক মিলন।

 

হুমায়ূন আহমেদ আমাদের আত্মার আত্মীয়

ফরিদুর রেজা সাগর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই

SAGOR-SIRহুমায়ূন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন আমাদের আত্মার আত্মীয়। জীবদ্দশায় তিনি চ্যানেল আই-এর জন্য অনেক কাজ করেছেন। চ্যানেল আই-এর জন্য তিনি অসংখ্য নাটক নির্মাণ করেছেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর ব্যানারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিনেমাও নির্মাণ করেছেন তিনি। তিনি চ্যানেল আই-এর অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ক্ষুদে গানরাজ-এর প্রধান বিচারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার শুভ জন্মদিনে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রতিবছর  মেলার আয়োজন করা হয়। এবারও সেই মেলা অনুষ্ঠিত হলো। হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে আমাদের এ ধরনের আরও অনেক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। হুমায়ূন আহমেদের অগণিত পাঠক ও ভক্তদের প্রতি অনেক শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন সবাই।

এত বড় লেখক আর আসবে কিনা জানিনা

সৈয়দ আলমগীর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসি আই সল্ট লিমিটেড

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ। আমি মনেকরি হুমায়ূন আহমেদের মতো লোক মারা যেতে পারে না। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। শুভ জন্মদিনে তাঁর জন্য অশেষ অশেষ দোয়া। বাংলাদেশের সাহিত্যে এত বড় একজন লেখক আর কোনো দিন আসবে কিনা জানি না। চ্যানেল আইকে ধন্যবাদ জানাই হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি জাগ্রত রাখার জন্য। এসি আই এবং এসি আই সল্ট লিমিটেড এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করছে। সবাইকে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা।