ব্রণ থেকে মুক্তির সহজ উপায়!

ব্রণ থেকে মুক্তির সহজ উপায়!

SHARE
Bron

রূপা সাদেক
মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে একটা ছোট গল্প শোনাই আপনাদের। শহরের রাস্তায় সামনে পিছনে দুটো রিকশা চলছে। সামনের রিকশায় একটি মেয়ে বসা। পিছন থেকে মেয়েটির মাথার লম্বা চুল দেখে পুরুষটির খুব ইচ্ছে হয় তার মুখটি দেখার। রিকশাওয়ালাকে বলে ভাই একটু জোরে চালাও তো…
রাস্তায় যানবাহনের ভিড়। রিকশা জোরে চালানো যাচ্ছে না। মাঝে মাঝেই মনে হচ্ছে মেয়েটি চোখের পলকে হয়তো হারিয়ে যাবে। আহারে! মেয়েটির মুখ দেখা হলো না। মেয়েটি না জানি কত সুন্দর। ভিড়ের চাপে মেয়েটির রিকশা সত্যি সত্যি চোখের আড়াল হতে যাচ্ছিল। হঠাৎ সামনে এক সিগন্যালে রাস্তার যানবাহন দাঁড়িয়ে যায়। আর তক্ষুণি দুটো রিকশা পাশাপাশি হয়। পুরুষটি বেশ খুশি। এবার মেয়েটির মুখ দেখতে পাবে সে। কিন্তু হঠাৎ কী যে হলো মেয়েটির মুখ দেখার পর পুরুষটি যারপরনাই চমকে উঠল। তার কেন যেন মনে হলো মেয়েটির মুখ না দেখলেই ভালো হতো। ঘটনা কি? মেয়েটির মুখে কি হয়েছে? কেন তার মুখ দেখে পুরুষটি আঁতকে উঠল?
ঘটনা হলো মেয়েটির সারা মুখে ব্রণের ছড়াছড়ি। ব্রণের কারণে তার মুখ সৌন্দর্য হারিয়েছে। মেয়েটির প্রতি পুরুষটির খুব মায়া হলো। পাশাপাশি রিকশায় বসা দুজন। একবার বলতে ইচ্ছে করছে অ্যাই মেয়ে মুখে এত ব্রণ নিয়ে বাইরে বের হও কি করে? তুমি কি জান তুমি কত সুন্দর। পরীর মতো একটি মেয়ে শুধু মুখে ব্রণের কারণে… তুমি কি জান না সহজেই মুখের ব্রণ দূর করা যায়? শোনো তোমাকে একটা পথ বাতলে দেই…
মেয়েটিকে এসব কিছুই বলা হলো না। ট্রাফিকের হাতের ইশারা পেয়ে মেয়েটির রিকশা যেন দৌড় প্রতিযোগিতায় নেমে গেল… পুরুষটির মনের ভেতর একটা হাহাকারÑ আহারে শুধু ব্রণের কারণে মেয়েটির সুন্দর মুখ নষ্ট হয়ে গেছে। এ নিয়ে মেয়েটির নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট।
হ্যাঁ, মেয়েদের ক্ষেত্রে মুখের অবাঞ্ছিত ব্রণ খুবই কষ্টের। কাউকে মুখ দেখানো যায় না। সারাক্ষণ মুখ লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে। অথচ মানুষের মুখই হলো আসল। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে মুখের সৌন্দর্য অনেক ভ‚মিকা রাখে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কী নারী, কী পুরুষ আমরা সবাই প্রথমে মুখের দিকে তাকাই। মুখের সৌন্দর্যেই পরষ্পরের প্রতি আকৃষ্ট হই। সেই মুখ অনেক সময় অবাঞ্ছিত ব্রণের কারণে অন্যের কাছে আকর্ষণ হারায়। শুধু ব্রণের কারণে অনেক মেয়ে সীমাহীন দুঃখবোধ আর হীনমন্যতায় ভোগে। নিজেকে অসুন্দর ভেবে সহজে কারও সামনে যেতে চায় না। সারাক্ষণ মুখ ঢেকে রাখে। অথচ একটু নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত করা খুবই সহজ।
তার আগে আসুন আমরা জেনে নেই ব্রণ আসলে কী? ব্রণ হলো মুখে ভেসে ওঠা একধরনের ফুসকড়ি। যা অনেক সময় পুঁজে পূর্ণ থাকে। ব্রণের কারণে মুখের কোমল ত্বকে ক্ষত, প্রদাহ হয়। মুখের ত্বকে কালো দাগ দেখা দেয়। ব্রণ নানা চেহারায় মুখের ঔজ্জ্বল্য নষ্ট করে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী অনেক ব্রণে ময়লা পুঁজ জমে ছিদ্র বন্ধ হয়ে কালো বা সাদা মাথা বিশিষ্ট গোটার মতো আকার ধারণ করে। যে কারণে মুখের সৌন্দর্য সহজেই নষ্ট হয়।
কেন মুখে ব্রণ ওঠে আমরা কি তা জানি? এ ব্যাপারে সচেতন থাকা খুবই জরুরি। ব্রণ যদি হয় মুখের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা তাহলে কেন কীভাবে এই সমস্যার সৃষ্টি হয় তা জানাও জরুরি। কারণ সমস্যা জানলেই তা সমাধানের পথ সহজে খুঁজে নেয়া সম্ভব।
নানা কারণে মুখে ব্রণ দেখা দেয়। প্রথম কারণ হলো মুখ অপরিষ্কার রাখা। অনেকে আছে বাইরে বেরিয়েছে। এখানে সেখানে দিনমান অনেক ঘোরাঘুরিরর পর বাসায় ফিরে মুখ না ধুয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। অথবা মুখ ধুলেও যতœ করে ধোয় না। এর ফলে মুখ জুড়ে কোমল ত্বকে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে এবং তা একসময় ব্রণে পরিণত হয়। ত্বকের ছিদ্র পথে চর্বি আটকে অথবা ময়লা ধুলোবালি জমে যাবার কারণেও মুখে ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার দাবারে যারা অভ্যস্ত তারাও ব্রণে আক্রান্ত হতে পারেন। পানির অপর নাম জীবন। পর্যাপ্ত পানি পান না করার ফলেও অনেক সময় মুখে ব্রণের সৃষ্টি হয়। আবার বংশগত কারণেও মুখে ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে।
সাধারণত উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা মুখে ব্রণের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। এই সময়ে দেহে অনেক হরমোনাল পরিবর্তন দেখা দেয়। যা মুখে ব্রণসহ অন্যান্য উপসর্গে চরম বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। তবে একটু নিয়ম মেনে চললেই মুখের ব্রণ ও মেছতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
Bron-1আসুন কয়েকটি সহজ পদ্ধতির কথা জেনে নেইÑ যদি কারো মুখের ত্বকে হঠাৎ ব্রণ দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে সে প্রতিদিন ভালোভাবে মুখের যতœ নেয় না। বাইরে থেকে বেড়িয়ে এলে সঠিক উপায়ে যতœ নিয়ে মুখ পরিষ্কার করে না। ভালো মানের ফেইস ক্লিনজার দিয়ে দিনে কমপক্ষে দুইবার সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তবে বাইরে থেকে কিংবা অফিস থেকে বাসায় ফিরে অবশ্যই যতœ করে মুখমÐল ধুয়ে ফেলবেন। এর ফলে আপনার মুখের কোমল ত্বকে অতিরিক্ত তেল, ময়লা আর ধুলাবালু জমে ত্বকের ছিদ্র পথ বন্ধ করার সুযোগ পাবে না। ফলে ত্বকে ছোপ ছোপ কালো দাগও হবে না। মুখের যতেœ নিয়মিত ভালোমানের ফেইস ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ভালোমানের সাবানকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত। অনেকে বাইরে থেকে এসে জোরে জোরে ডলে বা ঘষে মুখের ত্বক পরিষ্কার করেন। ভাবটা এমন জোরে ডললেই মুখের ময়লা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের ভাবা উচিত মুখের নরম ত্বক নরম নরম যতœ চায়। মুখে ভালোমানের সাবান অথবা ফেইস ক্লিনজার মেখে কুসুম কুসুম গরম বা হালকা গরম পানি দিয়ে আলতোভাবে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখবেন। এতে মুখের ত্বকের ছিদ্রপথ পরিষ্কার হবে। মুখের চামড়ায় জমে ওঠা অতিরিক্ত নিঃসরিত তেল বাইরে বেড়িয়ে যাবে। মুখের ত্বক পরিষ্কার হবে। মুখে ব্রণ মেছতা হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।
সৌন্দর্য সচেতন নারীর জন্য রয়েছে অসংখ্য বিউটি পার্লার। নামকরা ও বিশ^স্ত পরিবেশের বিউটি পার্লারে গিয়েও ব্রণের যতœ নিতে পারেন। তবে দশ কথার সারমর্ম হলো নিজেকে কেমনভাবে গড়ে তুলব সেটা নির্ভর করে নিজেরই ওপর। যেমন অনেকে বালিশ কভার বিছানার চাদর নিয়মিতভাবে ধোয় না। ময়লা বালিশ, ময়লা চাদর ব্যাকটেরিয়ায় বংশ বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক। তেমনি ময়লা তোয়ালেও ব্যাকটেরিয়ার উত্তম আবাসস্থল।
তাই জরুরি সতর্কবাণী খবরদার কখনই ময়লা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছবেন না। কারণ এতে করে আপনার মুখের ত্বকের কালো দাগ, ব্রণ কিংবা প্রদাহ আরো বেড়ে যেতে পারে।
মোটকথা মুখের অবাঞ্ছিত ব্রণ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলেও ব্রণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। কিন্তু আমরা কজন এটা মেনে চলি। সবাই কি দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাই? আজ থেকে এই নিয়মটাই পালন করতে শুরু করি। তারপর ধাপে ধাপে এগিয়ে যাব। তারপর দেখি মুখে ব্রণ কীভাবে জগায়?