বেশির ভাগ ধারাবাহিকই যত্ন নিয়ে নির্মিত হয় না

বেশির ভাগ ধারাবাহিকই যত্ন নিয়ে নির্মিত হয় না

132
SHARE
urmila-srabanti-kar1

ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর

টিভি নাটকে এখন তার উপস্থিতি বেশ জোরালোই বলা যায়। ধারাবাহিক কিংবা খÐ নাটক-সবখানেই সরব তিনি। গত বছর ঈদেও দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশকিছু ভিন্নধর্মী চরিত্রের নাটক। পাঠক, বলছি ঊর্মিলা শ্রাবন্তী করের কথা। ব্যস্ততম একজন অভিনেত্রী। নিত্য নতুন চরিত্রে ঊর্মিলাকে দর্শক গ্রহণও করছেন বেশ। বর্তমানে ঊর্মিলার ব্যস্ততা এবং টিভি নাটকের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দ আলোর সঙ্গে। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল।

আনন্দ আলো: বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে বলা যায়-

ঊর্মিলা: বলতে পারেন। ঈদের আগে বেশ কয়েকটি নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এখন আবার কোরবানি ঈদের কাজ নিয়েও রয়েছে ব্যস্ততা। শুটিং করছি দিন-রাত। তবে কাজের মধ্যে থাকতে ভালোই লাগে। আমি ব্যস্ততাটাকে বেশ ইনজয় করি। ভালোবাসা থাকলে কোনো কাজেই বিরক্তি আসে না। অভিনয় হলো আমার ভালোবাসার জায়গা। তাই এ ক্ষেত্রে চাপ থাকলেও নিজের মধ্যে কখনও বিরক্তি আসে না বরং ব্যস্ততা উপভোগ করছি।

আনন্দ আলো: আপনার কী মনে হয় না একজন অভিনয়শিল্পীর কাজের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোয়ালিটি রক্ষা করা কঠিন?

ঊর্মিলা: তা ঠিক। তবে আমি কাজ করার আগে গল্প এবং আমার নিজের চরিত্রটি নিয়ে বেশ ভাবি। একটা স্ক্রিপ্ট পেলেই আমি অভিনয় করার জন্য রাজি হই না। আগে গল্প এবং গল্পের সঙ্গে আমার মানিয়ে যাওয়ার বিষয়টা চিন্তা করি। তারপরই সিদ্ধান্ত নেই কাজটি আমার সঙ্গে যায় কি না। আরেকটি বিষয় না বললেই নয় তা হলো- নাটকের সংখ্যা বেশি হলেও মানের দিক থেকে কখনও আপস করিনি। গত ঈদেও দর্শক সমালোচনার মুখে পড়বে এমন গল্পে অভিনয় করিনি। প্রত্যেকটি নাটকে অভিনয়ের আগে স্ক্রিপ্ট নির্বাচনে চুজি ছিলাম এবং গল্পেও মনোযোগী হয়েছি। যার কারণে আমার প্রত্যেকটি কাজের জন্য বেশ ভালো রেসপন্স পেয়েছি।

আনন্দ আলো: আপনাকে ধারাবাহিক নাটকের চেয়ে খÐ নাটকেই বেশি দেখা যায়-এর কী কোনো কারণ আছে?

ঊর্মিলা: আসলে আমি ধারাবাহিক নাটকের চেয়ে খÐ নাটকের প্রতি বেশি দুর্বল বলতে পারেন। ধারাবাহিক নাটকে নির্দিষ্ট ই¤েপ্রশন বা ক্যারেক্টারের চাহিদা পুরোপুরিভাবে ধরে রাখা যায় না সবসময়। এটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যা কি না সিঙ্গেল নাটকেই কেবল সম্ভব হয়। তাছাড়া ধারাবাহিকে অনেক সময় কস্টিউম বা পোশাক-আশাকও কন্টিনিউ করা যায় না। কারণ সব প্রোডাকশন হাউস তো আর এক না। এখনকার সময়ে বেশিরভাগ ধারাবাহিক নাটকই বেশি যত্ন নিয়ে নির্মিত হয় না। গল্পের কন্টিনিটিও ঠিক মতো থাকে না। তাই ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে আনন্দ পাই না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে ধারাবাহিকের চেয়ে খÐ নাটকে দর্শক রেসপন্স তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। তখন নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করা যায়। তাই সবদিক থেকে বিবেচনা করে খÐ নাটকে কাজ করতেই বেশি ভালো লাগে আমার।

আনন্দ আলো: এই যে এত এত নাটক নির্মিত হচ্ছে- আপনার কী মনে হয়- দর্শক সব নাটক দেখছেন?

ঊর্মিলা: সব নাটক দর্শক দেখতে পারে বলে আমার মনে হয় না। কারণ এত চ্যানেল এত নাটক ফাঁকে কিন্তু অনেক ভালো নাটক চলে যায়। দর্শক তা দেখার সুযোগ পায় না। তবে এখনকার সময়ে কোনো নাটক টিভিতে প্রচারের সময় দেখার সুযোগ না পেলেও তা ইউটিউবে দর্শক ঠিকই দেখতে পারেন। সেই দিক থেকে বললে বলতে হয়- দর্শক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নাটক দেখতে পারছেন। আবার অনেক নাটক হওয়ার ফলে নিম্ন মানের নাটকও হচ্ছে বেশ। তবে যেই নাটকটা ভালো সেটা ঠিকই দর্শকদের কাছে যেভাবেই হোক পৌঁছে যায়। দর্শক আগের চেয়ে নাটক অনেক বেশি দেখে। কারণ নাটক দেখার অনেক মাধ্যম এখন আছে। যদি দর্শক না দেখেই থাকে তাহলে ইউটিউবে একেকটি নাটকের ভিউয়ারস লাখ লাখ হতো না।

আনন্দ আলো: এখন কোন্ কোন্ কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

ঊর্মিলা: কোরবানি ঈদের জন্য বেশকিছু নাটকের শুটিং করছি। পাশাপাশি প্রচার চলতি ধারাবাহিকের কাজও করছি। আমার অভিনীত বিভিন্ন চ্যানেলে ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে আরটিভিতে ভ্যাগাবন্ড, এনটিভিতে ‘সানফ্লাওয়ার’, চ্যানেল নাইনে ‘টাইম’সহ বেশকিছু ধারাবাহিক। আরো রয়েছে এজাজ মুন্নার ‘আস্থা’ এবং ‘সোনার শেকল’ ধারাবাহিক দুটির কাজ।

আনন্দ আলো: পরিবার এবং শুটিং- দুটোকে সমন্বয় করেন কীভাবে?

ঊর্মিলা: সবদিন শুটিং না থাকলে একেবারেই বাসা থেকে বের হই না। শুধু তাই নয়, শুটিং শেষ করে সোজা বাসায় চলে আসি। ফলে শুটিং-এর বাইরে সংসারকে সময় দেই। আর আমার কাজের ব্যাপারে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বেশ সহযোগিতা করেন। বিশেষ করে আমার স্বামীর কাছ থেকে সহযোগিতা না পেলে এই পর্যন্ত আসা সম্ভব হতো না। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে-বিয়ের পরই সবচেয়ে বেশি কাজ করছি। অনেক ভালো ভালো কাজ বিয়ের পরই প্রচার হয়। আসলে সবদিক ম্যানেজ করাটাই হলো বিষয়। আমি কাজের বাইরে পরিবারকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। সবাই দোয়া করবেন এভাবে যেন কাজ করে যেতে পারি।

আনন্দ আলো: সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা নেই?

urmila-srabanti-karঊর্মিলা: নাটকের অনেকেই হয়তো সিনেমায় কাজ করেন। কিন্তু এ মুহূর্তেই আমি বড় পর্দায় কাজ করার কথা ভাবছি না। কারণ সিনেমায় কাজ করা অনেক বড় ব্যাপার। আগে অভিনয়টাকে নিজের মধ্যে আরও ভালোভাবে রপ্ত করতে চাই। তারপর যদি মনে হয় আমি সিনেমায় অভিনয় করার মতো যোগ্যতা অর্জন করেছি, তখন সে খাতায় নিজের নাম লিখব। এ মুহূর্তেই নয়।

আনন্দ আলো: শুরুর দিনগুলোর কথা মনে পড়ে?

ঊর্মিলা: অবশ্যই মনে পড়ে। শুরুর দিনগুলোর স্ট্রাগলের কথা কখনোই ভুলবো না। ২০০৯ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখি। সে বছর এই প্রতিযোগিতার টপ সিক্সে ছিলাম আমি। প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে বেশকিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করি।

আনন্দ আলো: আপনি একসময় গান গাইতেন। গানের দিকে ক্যারিয়ার না গড়ে অভিনয়ে এলেন কেন?

ঊর্মিলা: এই ব্যাপারটি নিয়ে আমি নিজেও মাঝে মাঝে অবাক হই। ছোটবেলা থেকেই আমি রবীন্দ্রসংগীতের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিলাম। ছায়ানট থেকে রবীন্দ্রসংগীতের উপর ডিপ্লোমাও করেছি। কিন্তু অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে গানটা আর করা হলো না। তবে ইচ্ছে আছে গান নিয়ে আমার কিছু একটা করার। এটা আমার অন্যরকম এক ভালোলাগার বিষয়।

আনন্দ আলো: প্রতিটি শিল্পীরই সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। আপনি কোন দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করেন?

ঊর্মিলা: দেখুন, আমি বিশ্বাস করি- যেকোনো সামাজিক স্লোগান কিংবা কোনো সচেতনতামূলক কাজ একজন সাধারণ মানুষ বললে যতটা সমাজে প্রভাব পড়বে তার চেয়ে মিডিয়ার একজন মানুষ বললে তা সরাসরি সমাজে এফেক্ট করবে। এজন্য আমি নিজেও চেষ্টা করি আমার কাজের মাধ্যমে সমাজে কোনো ইতিবাচক প্রভাব রাখতে। আমি অনেক নাটকই করেছি যেগুলো সমাজের কোনো না কোনো অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজের দায়বদ্ধতার কথা বারবার মনে পড়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমি আরো অনেক কাজ করতে চাই। এজন্য অবশ্য সবার সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করছি।

আনন্দ আলো: কিছুদিন আগে আপনি অভিনয় সংঘ নির্বাচনে প্রচার সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। সংগঠনটি নিয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনার কথা বলবেন-

ঊর্মিলা: এত তাড়াতাড়ি কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবো- এটা চিন্তা করিনি। তবে এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করছে। আমার জীবনের অনেক কিছুই হুট করে হয়েছে। বলতে পারেন এই নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং সেখানে জয়লাভ করা সেটাও অনেকটা হুট করেই হয়েছে। তবে ইচ্ছে আছে ভালো কিছু করার। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই।

আনন্দ আলো: নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

ঊর্মিলা: আমি আসলে ভালো কাজের পক্ষে। সেজন্য চেষ্টা থাকে ভালো কিছু করার। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন এদেশের মানুষ শুধু আমাদের নাটক-সিনেমা দেখবেন এবং আমাদের শিল্পীদেরই গান শুনবেন। এজন্য আমাদের সকলের এক হয়ে কাজ করতে হবে।