বিবির বাড়িতে একদিন…

বিবির বাড়িতে একদিন…

1328
0
SHARE

বিবি রাসেল নামটির সাথে ফ্যাশন শব্দটি বেশ মানানসই। বিবি রাসেলের এই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারটি আনন্দ আলোর তৃতীয় বর্ষের চব্বিশতম সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছিল।

অভিজাত এলাকা গুলশানের মাঝারি আয়তনের একটি ফ্ল্যাট। খোলা জানালায় দাঁড়ালে লেক থেকে উঠে আসা মৃদুমন্দ হাওয়া গায়ে মিষ্টি পরশ ছুঁয়ে দেয়। পুরো ফ্ল্যাটটিই ভিন্নরকম মোটিভে সাজানো। একটা দামি ফার্নিচার চোখে না পড়লেও গৃহসজ্জাকে গর্জিয়াস বলতেই হবে। এই ফ্ল্যাটেই থাকেন আনত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মডেল ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল। আসুন পাঠক, তাঁর সত্যিজীবনে চোখ রাখি।

দেশবরেণ্য একজন সেলিব্রিটি হিসেবে বিবি রাসেল বহুবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন, ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং সেশনেও অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এবারের ব্যাপারটা একেবারেই অন্যরকম। মতিঝিলের বিবি প্রোডাকশনের অফিস নয় কিংবা অন্য কোনো ভেন্যু নয়। এবারই প্রথম কোনো সাংবাদিকের মুখোমুখি বসলেন নিজের বাসায়। লিভিং রুম থেকে বেড রুম, প্যাসেজ থেকে ডাইনিং স্পেস এমন কি কিচেনেও হয়েছে তার ফটোসেশন।

বিবি রাসেল মনে করেন, প্রতিটা মানুষের জন্য তার বাসাটা হলো একানত্ম নিজের জায়গা। সারাদিনের কাজ শেষে বাসায় এসে মানুষ রিলাক্স হন। প্রশানিত্মর নিঃশ্বাস ফেলেন। কর্মব্যসত্ম মানুষদের জন্য রাতের ঘুমটা খুব ইম্পর্টেন্ট। কারণ সেখান থেকেই পরের দিন আবার কাজের শক্তি ও উদ্দীপনা নিতে হয়। বাসায় তিনি পেশাগত জীবনের কাজ করতে রাজি নন। অফিস আর বাসা, দুটো তার কাছে দুই ভুবন। বাসায় বড়জোর কাজের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তার মতে, কাজের কথা ভেবে টেনশন করে ঘরোয়া শানিত্ম নষ্ট করা মানে হলো বোকামি।

বিবি রাসেলের দীর্ঘদিনের অভ্যাস খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা। দেশের বাইরে যখন ছিলেন তখনও আর্লি রাইজার ছিলেন। ১৩ বছর ধরে দেশে বাস করছেন। এখানেও সেই অভ্যাস বজায় রেখেছেন। তিনি বললেন, কখনো বেলা ৯টা/১০টা পর্যনত্ম ঘুমিয়েছি বলে মনে করতে পারছি না। আমি যখন লন্ডনের কলেজে পড়তাম, আমাদের ক্লাস শুরু হতো পৌনে ৯টায়। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি যে চাকরি করতাম, সেই পোস্ট বিলির কাজটা করতে আমাকে খুব ভোরে উঠতে হতো। কাজ শেষে কলেজে ছুটতাম। পড়াশোনা শেষে ফুলটাইম প্রফেশনাল লাইফে গিয়েও ৮টা বাজার আগেই আমি অফিসে ঢুকতাম। কোনোদিন কেউ বলতে পারবে না যে, বিবি দেরি করে এসেছে। আসলে বিদেশের মাটিতে আমরা যে কাজটা করতাম, সেক্টরটা ছিল খুব কমপারেটিভ। দিনের শুরুতেই যদি কর্মক্ষেত্রে যেতে দেরি করে ফেলি, তাহলে সব কাজেই পরে দেরি হয়ে যায়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশে আমার অফিসেও আমি খুব কড়া। নির্ধারিত সময়ে আমি যেমন অফিসে পৌঁছাই বিবি প্রোডাক্টের কর্মীরাও সেটা অনুসরণ করে। তাছাড়া কাজের প্রয়োজনে আমাকে ইদানীং প্রায়ই গ্রামে যেতে হয়, যেদিন গ্রামে যাব, সেদিন অন্ধকার কাটার সাথে সাথেই বিছানা ছাড়ি। ভোরের জার্নিটা আমার খুব ভালো লাগে। ঢাকার বাইরে যেতে হলে তাই খুব ভোরেই রওনা দেই।

সকালে অফিসে ঢোকার আগে বিবি রাসেল নিজের কোনো কাজ থাকলে সেরে নেন। একবার অফিসে ঢোকার পর সহজে তিনি বাইরে বের হন না। সেই রাত পর্যনত্ম একটানা কাজ করতে পছন্দ করেন।

অন্যসব বিষয়ের মতোই খাওয়া-দাওয়াতেও বিবি রাসেল সবসময় পরিমিতি বজায় রাখতে চান। সকালের ব্রেকফাস্ট বলতে তেমন কিছু না, মৌসুমী ফলের এক গ্লাস জুস আর কাপভর্তি ধোঁয়া ওড়া চা বা কফি। দুপুর লাঞ্চটা নিজের অফিসেই সারেন। এখানেও ভারি কিছু নয়। সবজির সালাদ বা ফল-ফলাদিই হলো তার দুপুরের মেন্যু। ভরপেট খান শুধু ডিনারে। সেখানেও সালাদের প্রাধান্য থাকে। পাঠকের কাছ কানে কানে এখানে একটা কথা। বিবি রাসেলকে তো দেখেছেন, এই বয়সেও কত  িম ফিগার। নাহ্‌, কখনো কোনোদিন তিনি জিমে যাননি। জগিং বা ওয়াকিং কোনোটাই করেন না। ডায়েট মেনে চলাটাই তার হালকা-পাতলা স্বাস্থ্যের গোপন রহস্য।

কথায় আছে কাউকে ধরতে হলে তার বাড়িতে গিয়ে ধরতে হবে। বিবি রাসেলের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে কেউ বাসায় আসেন না। কারণ সবাই জানেন, বিবিকে বাসায় পাওয়া যাবে না। বিবিকে ধরতে হলে অফিসে গিয়েই ধরতে হবে। অফিসটা তার আরেক বাড়ি। কর্মীরাও সবাই থাকেন ঘরোয়া আমেজে। বিবি প্রোডাক্টকে প্রত্যেকেই তারা মনে করেন নিজের প্রতিষ্ঠান। আর এ কারণেই বিবি রাসেলকে খুব একটা খবরদারি করতে হয় না। গ্রাম থেকে বিভিন্ন হসত্ম ও কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর অর্ডার নিতে এবং প্রোডাক্ট সাপ্লাই দিতে অনেক মেয়েই অফিসে আসেন। অফিসে তারা খাওয়া-দাওয়া করেন। স্টাফদের সঙ্গে আড্ডা দেন। গ্রামের মেয়েরা তাদের জড়তা কাটানোর গ্রুমিংটা পান বিবি রাসেলের কাছ থেকে। তিনি তাদের বোঝান, কেন মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন? বিকল্প উপার্জনের জন্য ঘরে বসেই কী কী করা যেতে পারে? সাশ্রয়ী ও সঞ্চয়ী হওয়ার যুক্তি বিবিই তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। মেয়েরাও সুখ-দুঃখের কথা বিবির সঙ্গে শেয়ার করতে পছন্দ করেন। এই কাজ সেই কাজ করতে করতে তার প্রতিদিনই ৮/৯টা বেজে যায়। বাসায় ফিরতে ফিরতে বাজে রাত ১০টা। কোনো কোনোদিন মিটিং বা কাজের চাপ এত থাকে যে, অফিস ছাড়তেই রাত ১১টা বেজে যায়।

নিজের কাজ সম্পর্কে বিবি রাসেল বললেন, আমি একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারি না। আমার ভিশন একটাই। আমি একটা দিকেই ফোকাস। আমার মনে হয়, আমি যে এম্বিশন নিয়ে কাজ করছি সেটা চালিয়ে যেতে পারলে গ্রাম-বাংলাকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে পারব। গ্রামের সহজ-সরল ও নির্যাতিত মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড় করাতে পারব। উপার্জনের পথ খুঁজে পেলেই আমাদের মেয়েরা স্বনির্ভর হতে পারবে। আমি সেই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলার জন্য জীবনের শেষদিন পর্যনত্ম কাজ করে যাব। বিশ্বখ্যাত নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফারদের সঙ্গে কাজ করে আনত্মর্জাতিক অঙ্গনে মডেল হিসেবে বিবি রাসেল অর্জন করেছেন ব্যাপক পরিচিতি। সেই খ্যাতি থেকেই বর্তমানে ইউনেস্কোর বিশেষ দূত মনোনীত হয়েছেন। কাজেই বছরে দু’তিনবার তাকে দেশের বাইরে যেতে হয়। যে দেশেই যান না কেন, সবসময় তিনি চেষ্টা করেন বাংলাদেশকে তুলে ধরার। বিবি রাসেলের তৎপরতায় ইউরোপে তৈরি হয়েছে আমাদের তাঁতের কাপড়, জামদানি, গ্রামীণচেক প্রভৃতির চাহিদা। পাশাপাশি তার উদ্যোগে ইউরোপের বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে আজকাল বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের হসত্মজাত সামগ্রী। যার মধ্যে রয়েছে- পাটের তৈরি ব্যাগ ও কার্পেট, শীতল পাটি, নকশি কাঁথা, বেতের মোড়া, কাঁসার থালাবাটি, মাটির গয়না, পুতুল, মুখোশ ইত্যাদি।

তবে অবাক করা ঘটনা হলো দেশের বাইরে বিবি প্রোডাক্ট গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা পণ্য পৌঁছে দিলেও বাংলাদেশে তাদের কোনো শোরুম নেই। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিবি রাসেল বললেন, অনেকেই দূর থেকে অনেক কিছু মনে করেন। অনেকের ধারণা বিবির না জানি কত ক্যাপিটাল। কিন্তু আসল খবর হলো, ঢাকা শহরে বিবি প্রোডাক্টের একটা শোরুম খোলার মতো আমার আর্থিক অবস্থা নেই। খুবই সামান্য কমিশন হাতে রেখে আমরা গ্রামবাংলার হেরিটেজ এক্সপোর্ট করি। শোরুম খোলার টাকা কোথায় পাব? একবার ব্যাংকের কাছে গিয়েছিলাম এজন্য লোন পেতে। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, তারা মর্টগেজ ছাড়া আমাকে ঋণ দিতে অপারগতা জানাল। আমার তো মর্টগেজ রাখার মতো কিছু নেই। যে ফ্ল্যাটে থাকি সেটা ভাড়া। আমার গয়নাগাটি সবই মাটির, কাঠের, কাচের বা কাপড়ে তৈরি। রুপা বা পিতলের গয়নাও কয়েকটি আছে। কিন্তু কোনো স্বর্ণালঙ্কার নেই। কাজেই মর্টগেজ কী রাখব? গুড উইলের ভিত্তিতে বিদেশে ঋণ পেতে দেখেছি। আমাদের এখানে গুড উইলের কোনো মূল্য নেই। বিবি রাসেল খানিকটা দুঃখ নিয়ে বললেন- লন্ডন, প্যারিস, দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতাসহ বিশ্বের বড় বড় শহরে আয়োজিত হেরিটেজ বা ফ্যাশন ওরিয়েন্টেড যেকোনো ইভেন্ট হলে আমাকে গেস্ট হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমি বেছে বেছে কয়েকটা ইভেন্টে প্রতিবছরই যাবার চেষ্টা করি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোনো অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র আজ পর্যনত্ম আমার কাছে পাঠানো হয়নি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিবি পেয়েছেন গ্রামের মেয়েদের ভালোবাসা। রাষ্ট্র বা সরকার তাকে স্বীকৃতি জানানো তো দূরে থাক, জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর সৌজন্যতা রক্ষা করে না। তাই বলে তিনি হতাশ বা লক্ষ্যচ্যুত হতে রাজি নন। এগিয়ে যেতে চান আপনগতিতে।

ঢাকার বড় বড় রাসত্মা থেকেই এখন রিকশা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজধানীকে রিকশামুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিবি রাসেল এটা সমর্থন করেন না। রিকশা তার প্রিয় যানবাহনের মধ্যে একটি। যানজটের যন্ত্রণা না থাকলে হয়তো রিকশায় চড়ে অফিসে যেতেন। এই রিকশাপ্রীতিই বিবির বাসার মোটিভে উঠে এসেছে, বললে ভুল হবে না। রিকশার একটা হুড বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে আছে লিভিংরুমের। রিকশার পেছনে এনামেল পেইন্টে আঁকা রঙচঙে ছবি যে ক্যানভাস হিসেবে দেয়ালে টানানো যেতে পারে, তা বিবির বাসায় প্রথম চোখে পড়ল। বাসায় আছে একাধিক শোকেস, আলমিরা, ওয়াবড্রব, বক্স ইত্যাদি। প্রতিটির গায়েই রিকশার মতোই রঙচঙে নকশা। বিবির বাসায় জানালার পর্দার কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গামছা। টেবিল ক্লথ হলো নকশিকাঁথার। আছে বেতের সোফা, বেতের মোড়া। পুরনো শাড়ির পাড়, একটার সঙ্গে অন্যটা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বেডশিট। শোপিস হিসেবে ঘরের এখানে সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কৃষকের বর্ষাতি বা মাথাল, মাটির কলস, হুক্কো, ঘণ্টি, মাছ ধরার খাচি, বিভিন্ন পুতুল ও মূর্তি। বিবি রাসেলের বাসায় অবাক  হতে হলো এক অদ্ভুত সহাবস্থান দেখে। দেয়ালের একপাশে টানানো আছে কাচের উপর আঁকা আরবি হরফের ক্যালিওগ্রাফি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং অন্যপাশে ঝুলছে গণেশের পোট্রেট। এ যেন বাঙালির হাজার বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতিচ্ছবি।

বিবি রাসেলের বাসায় কোনো বাড়তি কাজের লোক নেই। একজন ছোটা ঝি এসে ঘর-টর পরিষ্কার করে দেন। মা শামসুন্নাহারের মৃত্যুর পর বিবি রাসেল পুরো ফ্ল্যাটে একাই থাকেন। নিজের কাজ নিজেই করতে তিনি পছন্দ করেন। বংশপরম্পরায় তিনি জমিদার পরিবারের মেয়ে। ঢাকার শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে বিবি রাসেলের বাবা প্রয়াত মোখলেসুর রহমান ওরফে সিধু ভাই ছিলেন খুব পরিচিত মুখ। তাদের পুরনো বাড়ি ৩১, র‌্যাংকিন স্ট্রিট, ওয়ারীতে জ্ঞানী-গুণী অনেক মানুষই আসতেন। এই বাড়িতেই প্রথম ছায়ানট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এক শিল্পমনা ও উদার পরিবারেরই বিবি বড় হয়ে ওঠেন। ৫ ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান ৩য়। ভাইবোন প্রত্যেকেই ব্রিলিয়ান্ট ও দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। ছোটবেলায় একাডেমিক পড়াশোনা তার মোটেও ভালো লাগত না। পড়ায় ফাঁকি দেয়ার জন্যই সেলাই বা এই জাতীয় কাজে নিজেকে ব্যসত্ম রাখতেন। ক্লাস ফোরে উঠেই তিনি নিজের পোশাক নিজেই সেলাই করে পরতে শুরু করেন। এটা দেখে তার বাবা ১০ বছর বয়সেই তাকে সেলাইয়ের একটি মেশিন কিনে দেন। ঢাকার হোম ইকোনোমিক্স থেকে গ্রাজুয়েশন শেষে বিবি লন্ডন যান এবং লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন থেকে ডিগ্রি নেন। লন্ডনেই ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল হিসেবে তিনি হয়ে ওঠেন সেলিব্রিটি। আশির দশকে ইউরোপের টপ মডেলদের মধ্যে বিবি রাসেল একজন। বিদেশের মাটিতেই ভালোবেসে তিনি বিয়ে করেছিলেন এক ভিনদেশী পুরুষকে। বিবি রাসেলের দুই ছেলে বিকি ও ওমর, দুজনই লন্ডনে গ্রাজুয়েশন করছে। ফোনে প্রতিদিনই মায়ের সঙ্গে তাদের কথা হয়। বছরে অনত্মত একবার বিবি ছেলেদের সঙ্গে লন্ডন গিয়ে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন।