Home আরোও বিভাগ ক্রীড়া বিনোদন বিপিএল মানেই মাশরাফি!

বিপিএল মানেই মাশরাফি!

SHARE
mashrafi

ভাগ্যে তিনি প্রবল বিশ্বাসী। ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে জেনে গেছেন, ভাগ্য সহায় থাকলে সাতবার অস্ত্রোপারের টেবিলে যাওয়ার পরও খেলা যায় ক্রিকেট। বিপিএলের পাঁচ আসর সেই ভাগ্যেরই আরেকটি হাসিমুখ চেহারা দেখিয়েছে তাঁকে। নয়তো চারবারই কী করে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি ওঠে তাঁর হাতে!

বিপিএল যেন মাশরাফি বিন মুর্তজারই টুর্নামেন্ট। প্রথম দুবার জিতেছেন ঢাকা গø্যাডিয়েটরসের হয়ে, তৃতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে। এবার রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএলের চতুর্থ শিরোপা হাতে নিয়ে কৃতজ্ঞতার মালা ভাগ্যকেই পরিয়েছেন মাশরাফি, ‘ভাগ্য সহায় না হলে কিছুই সম্ভব নয়। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। ভাগ্য সহায় ছিল তাই পেরেছি।’

ভাগ্যের সঙ্গে এবার মাশরাফির হাতে ছিল টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় দুই অস্ত্র ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। শুরুতে নামের সঙ্গে সুবিচার করতে না পারলেও শেষ চারের লড়াইয়ে এসে জ্বলে উঠেছেন দুজনই। ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে রংপুর অধিনায়ক বারবারই বললেন তাঁদের কথা, ‘আমরা জানতাম, আমাদের দুই-তিনজন বড় খেলোয়াড় আছে। তারা যদি তাদের কাজটা ভালোভাবে করতে পারে, তাহলে অন্য দলের পক্ষে জেতা কঠিন। ওরা সেটাই করেছে। আমরা যা চাচ্ছিলাম তারা সেটাই করেছে।’ গেইল-ম্যাককালাম-জনসন চার্লসের ঠিক সময়ে ফর্মে ফেরাতেও ভাগ্যের ছোঁয়া দেখেন রংপুর অধিনায়ক, ‘টি-টোয়েন্টিতে তাদের মতো ক্রিকেটার দলে থাকলে যেকোনো দলের জন্যই বিরাট শক্তি। আমাদের সৌভাগ্য যে, তারা সঠিক সময়ে ফর্মে এসেছে।’

গেইল-ম্যাককালামের মতো ব্যাটসম্যানদের বলে দিতে হয় না মাঠে কী করতে হবে। রংপুরের হয়েও পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়েই খেলেছেন টি-েেটায়েন্টির এই দুই মহাতারকা, ‘গেইল-ম্যাককালামকে বলা ছিল, যেহেতু তোমরা শট খেলতে পছন্দ করো, তাহলে সেটাই করো। গো অ্যান্ড প্লে। ফাইনালে যদিও দশ ওভার পর্যন্ত ওরা অনেক দেখেশুনে খেলেছে। সেট হওয়ার পর ওরা ওদের পরিকল্পনামতো খেলেছে।’

রংপুর রাইডার্সের সাফল্যের আরেকটা কারণ মোটামুটি অপরিবর্তিত দল নিয়েই একটার পর একটা ম্যাচ খেলে যাওয়া। মাশরাফি বলেছিলেন, ‘আমরা গ্রæপ পর্ব থেকে দল বেশি পরিবর্তন করিনি। দুই-একটা করেছি, যেটা আমাদের দরকার ছিল। গ্রæপ পর্ব পার করার পর চতুর্থ দল হিসেবে যখন উঠলাম, তখন আমাদের একটাই বার্তা ছিল যে আমরা যে সুযোগটি পেয়েছি সেটা কাজে লাগাতে হবে।’

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও অধিনায়কত্ব এবং পারফরম্যান্সÑ দুটো দিয়েই মাশরাফি জানিয়ে দিয়েছেন, ওই বিদায়টা হয়েছে অকালে। তাই বলে ছেড়ে দেয়া জায়গায় আবার ফেরার কোনো ভাবনা নেই তাঁর, ‘ফেরার কথা চিন্তা করছি না। আমার কোনো আজে বাজে জেদও নেই। আমি যখন খেলছি এটা সম্প্রচার হচ্ছে, অনেক মানুষ দেখছে। আমি টি-টোয়েন্টি পছন্দ করি, এগুলো চিন্তা করলে আমার দলের জন্যই খারাপ। যারা তরুণ ক্রিকেটার আছে তারা ভুল বার্তা পাবে।’

যেহেতু তিনি একজন ক্রিকেটার, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পরও খেলাটা মাশরাফির পেশা, জীবিকাও। তা ছাড়া শুধু ওয়ানডে খেললে ম্যাচ প্র্যাকটিসটাও হবে কম। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে সে কারণেই যত দিন পারবেন খেলবেন। বিপিএলের চার আসরের শিরোপাজয়ী অধিনায়কের সেই যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার নিশ্চয়ই কেউ নেই।

ভাগ্য সেদিন মাশরাফি-সাকিবের সঙ্গে দুই রকম খেলাই খেলেছে। মাশরাফি তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ভাগ্যকেও ধন্যবাদ দিচ্ছেন, সেখানে সাকিব হয়তো দূষছেন সেই ভাগ্যকেই। ব্যক্তিগত ২২ রানের সময় ক্রিস গেইলের দেয়া ক্যাচটা তিনি নিতে পারলে ম্যাচের ফল অন্য রকমও হতে পারত! সংবাদ সম্মেলনে এসে ঢাকার অধিনায়ক তাই শুরুতেই নিজের কাঁধে দায় নিলেন। হারের কারণ জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘আমার ক্যাচ মিস।’