Home আরোও বিভাগ ইভেন্ট বিটিভির জন্মদিনে চ্যানেল আই-এর কৃতজ্ঞতা

বিটিভির জন্মদিনে চ্যানেল আই-এর কৃতজ্ঞতা

SHARE
BTV

রেজানুর রহমান: আমরা অনেকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না। ব্যক্তি পর্যায়ে হউক অথবা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েই হউক কারও না কারও পথ অনুসরণ করে অথবা কারও না কারও সহযোগিতায় আমরা সাফল্য লাভ করি। কিন্তু অনেকেই পেছনের সেই ইতিহাস বেমালুম ভুলে যাই অথবা ভুলে থাকার অভিনয় করি। অথচ কাউকে সম্মান দিলে নিজের সম্মানও বাড়ে। একথাতো সত্য শেকড়কে যদি কেউ গুরুত্ব না দেয় তাহলে তো তার অস্থিত্বই থাকে না।

আমাদের গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিভিশন অর্থাৎ বিটিভির কথাই যদি ধরি ক’জন মনে রেখেছেন বা রাখেন এই প্রতিষ্ঠানটির অবদান? বিটিভি পৃথিবীতে বাংলা ভাষার প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল। সে কারণে বিটিভিকে তো বলতেই পারি বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলের বাতিঘর। বাংলাদেশে এই যে এতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল তার উৎস মুখ তো বিটিভিই। বিটিভি ছিল বলেই দেশে নতুন নতুন টেলিভিশন চ্যানেল সৃষ্টির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। এক অর্থে বিটিভি ছিল আমাদের একান্নবর্তী পরিবার। পরিবার বড় হলে সবাই এক সঙ্গে থাকে না। ছেলে-মেয়েরা সংসার সাজিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একটি পরিবার থেকে অনেক পরিবারের জন্ম হয়। টেলিভিশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশেও তেমনটাই ঘটেছে। একটা সময় বিটিভি ছিল আমাদের একটাই টিভি চ্যানেল অর্থাৎ একান্নবর্তী পরিবার। সময়ের বিবর্তনে সেই পরিবার থেকে সৃষ্টি হয়েছে একাধিক পরিবার। অর্থাৎ একাধিক বেসরকারি টিভি চ্যানেল। কিন্তু বিটিভির অবদানের কথা কি আমরা সবাই স্মরণ করি? দেশের প্রায় প্রতিটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে নেতৃত্ব পর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের অনেকেই একটা সময় বিটিভিতে কাজ করেছেন। বিটিভির অভিজ্ঞতাই নতুন টেলিভিশন চ্যানেল করার অনুপ্রেরণা ছিল তাদের কাছে। কাজেই বিটিভির প্রতি তো সবার বিশেষ করে মিডিয়া কর্মীদের কৃতজ্ঞতা অনেক।

প্রশ্ন উঠতে পারে এই যে কৃতজ্ঞতার কথা উঠলো তা প্রকাশের উপায় কী? সহজ উত্তর আপনি যদি কাউকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান তাহলে তার সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখবেন। তার ভালো কাজের প্রশংসা করবেন। বিপদে অবশ্যই তার পাশে দাঁড়াবেন। সবচেয়ে ভালো হয় তার জন্মদিনে কোনো না কোনো উপায়ে তাকে চমকে দেয়া। তাকে বুঝিয়ে দেয়াÑ বন্ধু, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

BTV-1এই ভালোবাসার কথা বলতেই প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল টেলিভিশন মাধ্যম চ্যানেল আই বেশ ঘটা করেই বিটিভির জন্মদিন পালন কলে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২৫ ডিসেম্বর বিটিভির জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই এক অনিন্দ্য সুন্দর মিলন মেলার আয়োজন করে। চ্যানেল আই-এর চেতনা চত্বরে ব্যাপক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান গানে গানে সকাল শুরুর সেদিনের পর্বটি বিটিভির জন্মদিন উপলক্ষেই সাজানো হয়েছিল। দেশখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শিল্পী, কলাকুশলী ও টেলিভিশনের কারিগরি পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন-অর-রশিদ, বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ মোস্তফা জামান আব্বাসীকে সঙ্গে নিয়ে রবীন্দ্র সংগীত কন্যা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও তার সংগীত শিক্ষালয় সুরের ধারার শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে যখন দেশের গান গেয়ে ওঠেন তখন দেশ মাতৃকার প্রতি অপূর্ব এক মায়ার দ্যুতি ছড়িয়ে যেতে থাকে। আসলে আমাদের প্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিতো এরকম মায়ার বন্ধন সৃষ্টি করেই দেশের জন্য সম্ভাবনার আলো ফেলেছে। সেই আলোয় পথ খুঁজে আমরা প্রতিদিন অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

চ্যানেল আই-এর চেতনা চত্বরে সেদিনের অনুষ্ঠানে বিটিভির একক যুগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা ও কারিগরি পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শীতের পিঠা, গরম পরাটা, মিষ্টি ও আলুরদম খেতে খেতে অতিথিরা গুণী শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সাদী মুহম্মদের গান শুনেছেন। বিটিভির একক যুগের অতীত স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে প্রায় সকলেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। সবার কণ্ঠে ছিল চ্যানেল আই-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু স্বয়ং চ্যানেল আই-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন বিটিভির জন্মদিনে চ্যানেল আই প্রতিবছর যে ভাবে সম্মান দেখায় তা সত্যিই প্রশংসার। কৃতজ্ঞতা জানানোর এই সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করার জন্য তিনি সকলকে আহŸান জানান। বিটিভির জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই-এর এবারের অনুষ্ঠান যেন ইতিহাসের এক স্বচ্ছ আয়না হয়ে উঠেছিল। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর বক্তৃতার এক পর্যায়ে বলেন, আমি একটা ব্যাপারে চিন্তা করছিলাম… ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বড় দিন। পাকিস্তানিরা এই দিনটিকে কেন টেলিভিশনের যাত্রা শুরুর দিন হিসেবে বেছে নিয়েছিল?

BTV-2তথ্যমন্ত্রীর কথার প্রেক্ষিতে চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, যতদূর জানি… তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন ছিল জাপানের এনইসি প্রজেক্টের আওতাভুক্ত ছিল। প্রজেক্টের শর্ত অনুযায়ী ২৫ ডিসেম্বর ছিল টেলিভিশনের যাত্রা শুরু করার শেষ কাজের দিন। তখনকার দিনে ২৫ ডিসেম্বর বড় দিনে কোনো সরকারি ছুটি ছিল। কাজেই প্রজেক্টটা যাতে বন্ধ হয়ে না যায় সেজন্যই ২৫ ডিসেম্বর জামিল চৌধুরী সাহেব বাধ্য হয়েই টেলিভিশনের যাত্রা শুরু করেন। চ্যানেল আই-এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান চ্যানেল আই-এর পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু, নারী উদ্যোক্তা কনা রেজা, বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসীসহ অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মৌসুমী বড়ুয়া। সার্বিক নির্দেশনা ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন আমীরুল ইসলাম।