Home প্রতিবেদন অফ দ্য রেকর্ড বিচ্ছেদের পর…

বিচ্ছেদের পর…

SHARE
Talak

তারকার বিয়ে খুব ধুমধাম করেই হয়ে থাকে। কিন্তু বিচ্ছেদের খবরও কম গুরুত্ব পায় না পত্রিকার পাতাজুড়ে। অন্যদিকে বিচ্ছেদের পরও অভিনয়ে বেশি মনোযোগী হন অনেক তারকা। দাবি করেন সুখে কাটছে তাদের জীবন। বিচ্ছেদের পর এমন কিছু প্রিয় তারকার উপলব্দির গল্প নিয়ে এই প্রতিবেদন…
অপু বিশ্বাস: ‘ভুল করেছি, মাসুলও দিয়েছি। আর কোনো ভুল করতে চাচ্ছি না। এখন থেকে কাজ নিয়েই থাকতে চাই। ভক্তদের ভালো কিছু সিনেমা উপহার দিতে চাই। সব অভিনেতার বিপরীতেই অভিনয় করতে চাই।’ কথাগুলো অপু বিশ্বাসের। কথা শুনে বোঝাই যাচ্ছে বিচ্ছেদের পর সাবেক স্বামী শাকিব খানকে নিয়ে তিনি আর ভাবছেন না। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন শাকিব-অপু। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের ঘরে আসে ছেলে আব্রাম খান জয়। বিষয়টি জানাজানি হয় গত বছর ১০ এপ্রিল বিকালে। তার পর গত বছরেরই ২২ নভেম্বর অপু বিশ্বাসকে তালাক নোটিস পাঠান শাকিব খান। নিয়ম অনুযায়ী নোটিস পাঠানোর তিন মাস পর তালাক কার্যকর হয়। সেই হিসেবে চলতি বছরের ২২ ফেব্রæয়ারি থেকে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে শাকিব খানের তালাক কার্যকর হয়। অপু এখন কাজ করছেন নিয়মিত। চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২’ ছবিতে। পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস। বিপরীতে থাকবেন বাপ্পী চৌধুরী। এ ছাড়া রফিক শিকদারের নির্মিতব্য ‘ওপারে চন্দ্রাবতী’ ছবিতেও অভিনয় করবেন অপু বিশ্বাস। ছবিতে নায়ক চরিত্রে রয়েছেন সাইমন।
মিথিলা: ভালোবাসা দিবস এলেই বাড়ির দরজায় ফুল রেখে মিথিলাকে ফোন করতেন তাহসান। সে এক মধুর প্রেমের গল্প। আর এখন তারা থাকেন আলাদা! বেশ কিছুদিন আগে ডিভোর্স হয়েছে জনপ্রিয় এ তারকা জুটির। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট প্রেমের সম্পর্কের সকল ইতি টেনে বিয়ে করেন তারা। সংসারে যোগ হয় আইরা তাহরিম নামে তাদের একমাত্র কন্যা। দীর্ঘ ১১ বছর সুখে সংসার করলেও এর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল দূরত্বের বীজ। সংসার জীবনে অসুখী ছিলেন বলেই নিলেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত। এখন সুখেই আছেন মিথিলা। ব্র্যাকের হেড অব আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন করে আরেকটি ব্যস্ততা যোগ হয়েছে, রেডিও স্বাধীনে শিশুদের বিকাশ নিয়ে একটি অনুষ্ঠান শুরু করেছেন। আগের মতোই বিশেষ দিবসের নাটক-টেলিছবির কাজ করছেন।
সুজানা জাফর: ২০১৪ সালের ১ আগস্ট ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল তরুণ কণ্ঠশিল্পী হৃদয় খান ও মডেল সুজানার। তাদের দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। মাস তিনেক যেতে না যেতেই তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপড়েন শুরু হয়। একটা পর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করে। ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল বিচ্ছেদ হয় তাদের। দুই বছর একা থাকার পর হৃদয় খান আবার বিয়ে করলেও সুজানা এখনো একা। বলছেন, ‘সুখেই আছি। ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ততা আছে। এর ফাঁকে বিশেষ দিবসেরও কিছু ভিন্ন আয়োজনের কাজ করি।’
স্পর্শিয়া: শোবিজের তরুণ মডেল ও অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে বাগদান হয় ভিডিওচিত্র নির্মাতা রাফসান আহসানের সঙ্গে। ওই বছরেরই ১ অক্টোবর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। টেকেনি তাদের সংসারও। সংসার জীবনে অনেক ঝামেলার কথাই বিভিন্ন সময় বলেছেন স্পর্শিয়া। বিচ্ছেদের পর কাজে মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর থেকে আমি ভালো আছি। শান্তিতে আছি। অনেক কিছু শিখেছি এ ধাক্কা থেকে।’
বাঁধন: ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী সনেটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ছোটপর্দার অভিনেত্রী বাঁধন। পাঁচ বছরের মধ্যেই স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে যান এ অভিনেত্রী। একটা সময় ঘোষণা দিয়ে অভিনয় থেকে সরে গিয়েছিলেন শুধু স্বামী আর সংসারেরর জন্য। বিয়ের পর পরই বাচ্চা নিয়ে নেন। কন্যাসস্তান মিশেলের জন্মের পর তাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। দুবছরের বেশি সময় ধরে তিনি স্বামী সংসার ছেড়ে থাকেন বাবার বাড়িতে। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবেই বিচ্ছেদ হয়েছে বাঁধন ও মাশরুর সিদ্দিকীর। সেই ঝামেলা মিটিয়ে এখন তিনি নতুন করে মনোযোগী হয়েছেন ক্যারিয়ারে। অচিরেই নতুন করে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে তাকে দেখা যেতে পারে।
সোহানা সাবা: অভিনেত্রী সোহানা সাবা বিয়ে করেছিলেন পরিচালক মুরাদ পারভেজকে। ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর তাদের এক ছেলে জন্মগ্রহণ করে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পারস্পরিক সমঝোতায় বিচ্ছেদ হলেও তাদের ছাড়াছাড়ি নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠেছে মিডিয়াপাড়ায়। অনেকেই বলছেন, মুরাদ পারভেজের একাধিক নারী আসক্তির কারণে আগে থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন সাবা। এর পর মুরাদ পারভেজের জাতীয় পুরস্কার কেলেঙ্কারির ঘটনা এসে হাওয়া লাগায় পালে। অন্যদিকে বিচ্ছেদের জন্য সাবার উচ্ছৃঙ্খল আচরণকে দায়ী করেছেন মুরাদ। তাদের সম্পর্ক ভাঙার পেছনে যে কারণই থাকুক না কেন বিচ্ছেদের পর যেন হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন সাবা। যা দেখা গেল বিচ্ছেদের পর তার থাইল্যান্ড সফরে যাওয়ার পর। সেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দিন কাটিয়েছেন তিনি। ফেসবুকে নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে রিসোর্টের সুইমিংপুলের আনন্দদায়ক ভ্রমণের ছবিও পোস্ট করছেন নিয়মিত। এ ছবিগুলোই বলে দেয় সম্পর্কের ইতি টানতে পেরে কতটা ভারমুক্ত হয়েছেন সোহানা সাবা।
জাকিয়া বারী মম: জাকিয়া বারী মম বিয়ে করেন নাট্য পরিচালক এজাজ মুন্নাকে। সে সংসার বেশিদিন টেকেনি। সংসার থাকাকালে একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন মম। ব্যক্তিগত এসব সমস্যার কারণে অনেক দিন কাজের বাইরে ছিলেন তিনি। আবার কাজ শুরু করেছেন। এখন অবশ্য মম নিয়মিত। টিভি এবং সিনেমা দুই মাধ্যমেই মম এখন যথেষ্ট আগ্রহী আর সাহসী। ২০ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত নতুন ছবি ‘আলতাবানু’।
সালমা: ২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর ভেঙে যায় ক্লোজআপ তারকা সালমা ও জাতীয় সংসদের দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিকের সংসার। প্রায় ছয় বছরের বিবাহিত জীবন ছিল তাদের। বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে এসে মনোমালিন্য চরমে পৌঁছায়। সেই জের ধরে প্রায় ছয় মাস আগেই স্বামীর বাড়ি ছেড়ে সালমা মা-বাবার মোহাম্মদপুরের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। বিচ্ছেদের পর সালমা বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই গান ও লেখাপড়া বন্ধ করার জন্য তার স্বামীর দিক থেকে চাপ ছিল। এমনকি বাবা, মা, ভাই ও মামার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলা হয়েছে বারবার। বিয়ের পর প্রায় চার বছর নিয়মিত গান করিনি। সংসারের জন্য সবকিছুই বিসর্জন দিয়েছি আমি। মুখ বুজে অনেক কিছুই মেনে নিয়েছিলাম।’ আর বিচ্ছেদের পর নিয়মিত কাজ করছেন সালমা।
সারিকা: ২০১৪ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী মাহিম করিমের সঙ্গে হঠাৎ করেই বিয়ের কাজটি সেরেছিলেন সারিকা। বিয়ের এক বছরের মাথায় সারিকার কোল জুড়ে আসে কন্যাসন্তান। আর ২০১৬ সালে হয় তাদের বিচ্ছেদ। আর তার দাবি বিচ্ছেদের পরেই সুখে আছেন তিনি।
মোনালিসা: ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফাইয়াজ শরীফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মোনালিসা। বিয়ের দুই বছর পর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিয়েটা ছিল আমার জীবনের একটা বড় দুর্ঘটনা। বিয়ের দুই বছর পরই আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আবার বিয়ে করব কিনা ভাবছি। ভয় হয়। কাকে বিশ্বাস করব? একা আছি, ভালোই আছি।’