বিক্রমপুরের পোলা আশি টাকা তোলা!-রফিকউল্লাহ সেলিম

বিক্রমপুরের পোলা আশি টাকা তোলা!-রফিকউল্লাহ সেলিম

901
SHARE
rofiqullah

মোহাম্মদ তারেক:

আনন্দ আলো: আপনি কি সেলিম?

রফিকউল্লাহ সেলিম: হ্যাঁ। আমি সেলিম। রফিকউল্লাহ সেলিম। বিক্রমপুরের পোলা আশি টাকা তোলা।

আনন্দ আলো: আপনি কত তোলা?

রফিকউল্লাহ সেলিম: তোলা তো নয় আগুনের গোলা।

আনন্দ আলো: এত কিছু থাকতে অভিনয়ে এলেন কেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: ভুল হয়ে গেছে ভাই, মাফ কইরা দেন।

আনন্দ আলো: জীবনের  মোড় ঘুরিয়ে দেয় যে কাজ অর্থাৎ নাটকটি?

রফিকউল্লাহ সেলিম: আমার অভিনীত প্রথম নাটক ইমদাদুল হক মিলনের ‘বারো রকমের মানুষ’ এবং ‘রূপনগর’ নাটক দুটির চরিত্রই আমার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আনন্দ আলো: লটারীতে ১ কোটি টাকা পেলেন। তখন কী করবেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: কি কয়? পয়লাই বন্ধু-বান্ধব লইয়া ফুর্তি ফার্তার মধ্যে নাইমা যামুগিয়া।

আনন্দ আলো: একদিন হঠাৎ দেখলেন আপনি ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে গেলেন। তখন কী করবেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: আইজ পর্যন্ত মাইয়াগো কাছ থেইকা যে ধরনের সুখ-দুঃখ পাইছি। সেটা দেয়ার চেষ্টা করুম।

আনন্দ আলো: দেশের টিভি দেখেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: আমাগো দেশের টিভি দেখুম না মানে। এইডা কি কন। একশবার দেখি।

আনন্দ আলো: ধরা যাক কোনো গ্রামে আপনি শুটিং করতে গেলেন। ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশন বলার সঙ্গে আপনার সামনে বনের রাজা সিংহ হাজির হয়ে গেল, তখন আপনি কী করবেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: সিংহ ভাই আপনি আমার অভিনয় দেখতে আইছেন। খুবই ভালো করছেন। দাঁড়ান আগে আপনার লগে একটা সেলফি তুইলা লই।

আনন্দ আলো: আপনাকে একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয়া হলো। প্রথমে কোন কাজটি করবেন?

 

রফিকউল্লাহ সেলিম: প্রথমে যে কাজটি করবো সেটা হচ্ছে অন্যায়টাকে কীভাবে রোধ করা যায় সেটা চেষ্টা করব।

আনন্দ আলো: বেশির ভাগ নাটকে আপনাকে দুষ্ট চরিত্রে দেখা যায় কেন?

rofiqullah-1রফিকউল্লাহ সেলিম: এ সমাজ থেকে দুষ্ট চরিত্রের লোকরা যেন বিতারিত হয় সেটার কারণে আমি দুষ্ট লোকের চরিত্রে অভিনয় করে থাকি।

আনন্দ আলো: আপনার অভিনয় দেখে অনেকে বিনোদন পান। আপনার বিনোদন কীসে?

রফিকউল্লাহ সেলিম: কেউ যখন আমার অভিনয় দেখে রাস্তায় আমার সঙ্গে অভিনয় করে, মজা করে সেটাতেই আমি বিনোদন পাই।

আনন্দ আলো: আবার যদি তরুণ বয়স ফিরে পান তখন কী করবেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: তরুণ বয়স ফিরে ফেলে জীবনটাকে নতুন করে সাজাবো।

আনন্দ আলো: যে  প্রশ্ন শুনতে শুনতে ক্লান্ত?

রফিকউল্লাহ সেলিম: ভাই, আপনাকে নাটকে দেখি না কেন?

আনন্দ আলো: হঠাৎ ছিনতাইকারীর কবলে পড়লে কী করবেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: ফুটা কইরা দিমু।

আনন্দ আলো: সিনেমায় নায়ক চরিত্রে প্রস্তাব পেলে কী করবেন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: ডিরেক্টর ভাই, আমাকে মাফ করেন।  আমি নায়ক হতে চাই না। ভিলেন হয়ে থাকতে চাই।

আনন্দ আলো: আপনার পাঁচটি ভালো গুণের কথা বলুন ?

রফিকউল্লাহ সেলিম: আমি সত্যিকার অর্থে একজন ভালো মানুষ। সৎ মানুষ। মানুষকে খুব সহজেই বিশ্বাস করি। মানুষের কাছ থেকে যখন আঘাত পাই তখন তাকে কিছু বলতে পারি না। আমি মানুষকে ভীষণ ভালোবাসি।

আনন্দ আলো: আপনার  পাঁচটি খারাপ গুণের কথা বলুন?

রফিকউল্লাহ সেলিম: সহজে কাউকে অবিশ্বাস করতে পারি না। কাউকে ঘৃণা করতে পারি না। মাঝেমধ্যে সবার সঙ্গে মিশতে পারি না। ভালোবাসার ক্ষেত্রে বলতে পারি না আমি তোমাকে ভালোবাসি। খাওয়ার প্রতি একেবারেই রুচি নাই।

আনন্দ আলো: বন্ধুরা যে কারণে সবচেয়ে বেশি খ্যাপায়…

রফিকউল্লাহ সেলিম: এই ব্যস্ত মানুষ আইছে রে, ব্যস্ত মানুষ আইছে। ওর লগে কথা কম কয়।

আনন্দ আলো: শুটিংয়ের সময় যে জিনিসটি সঙ্গে থাকে?

রফিকউল্লাহ সেলিম: মোবাইলের চার্জার।

আনন্দ আলো: যে খাবারটা দেখলে চোখ চক চক করে?

রফিকউল্লাহ সেলিম: আমি খুব টক পছন্দ করি। টক খাবার দেখলেই আমার জিহ্বায় জল চলে আসে। আর চোখ চক চক করে।