Home শীর্ষ কাহিনি প্রচ্ছদ মুখ বাংলাদেশের প্রথম টিভি সিরিজ

বাংলাদেশের প্রথম টিভি সিরিজ

SHARE
Shat-Bhai-Chompa

ভাবা যায় একটি টিভি ধারাবাহিকের জন্য ১১ হাজার বর্গফুটের একটি সেট। ৫২টি জোন। দুই শতাধিক নবীন-প্রবীণ শিল্পীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম মেগা টিভি সিরিজ সাত ভাই চম্পা। অঙ্গ বঙ্গ কালিঙ্গ- তিন রাজ্যের পৌরাণিক গল্প নিয়ে তৈরি এই টিভি সিরিজটি চ্যানেল আইতে প্রতি সপ্তাহে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাত ৮টায় প্রচারিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ‘সাত ভাই চম্পা’ দেশের টিভি দর্শকের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাত ভাই চম্পা নিয়েই আমাদের এবারের শীর্ষ কাহিনী। লিখেছেন রেজানুর রহমান, সৈয়দ ইকবাল ও মোহাম্মদ তারেক

রানীদের বাহারী নাম

সাত ভাই চম্পায় রানীদের অনেকগুণের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। বড়ারানী গান জানেন। তাকে বলা হয় সুর সাগরের রাজকন্যা। মেজো রানীকে বলা হয় আলোর দেশের রানী। সেজো রানী হলেন প্রাসাদ সুন্দরী। সেজোর পরের জন জাদুতে পারদর্শী। তারপরের জন অঙ্গের রাজকুমারী। কারণ তিনি অঙ্গ থেকে এসেছে।

অনেক তারকার উৎসব

সাত ভাই চম্পায় নবীন-প্রবীণ ২০০ তারকার মহা সম্মিলন ঘটেছে। চলচ্চিত্রের খল নায়ক আহমদ শরীফ এই প্রথম দেশের কোনো টিভি নাটকে যুক্ত হয়েছে। আরও আছেন সংগীতশিল্পী শফি মÐল ও বিজ্ঞাপনের ভরাট কণ্ঠ মাজহারুল ইসলাম।

সাত ভাই চম্পার গল্প বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি মানুষের জানা। সাত ভাই চম্পার কাহিনী নিয়ে আমাদের দেশে একটি সিনেমা বানানো হয়েছিল অনেক বছর আগে। সেই সিনেমা দেখার জন্য দেশের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল সিনেমা হলে। যদিও তখনকার দিনে দেশের মানুষের বিনোদন মাধ্যম বলতেই ছিল সিনেমা। একমাত্র সিনেমাকেই আনন্দ-বিনোদনের খোরাক হিসেবে ভাবতো সবাই। তাই সিনেমা দেখা পারিবারিক একটা কর্মসূচিরও অংশ ছিল। আর সাত ভাই চম্পার কাহিনীতো পারিবারিকই। এমনিতেই রাজা-রানীর গল্প আমাদের দেশের মানুষকে অনেক টানে। কারণ দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষই নিজেকে রাজা-রানীর আসনে কল্পনা করে। সাত ভাই চম্পা’র কাহিনী দেশের মানুষকে জাদু-মন্ত্রের মতো সিনেমা হলে টেনে নিয়েছিল। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণে এক রানীর স্থান হয়ে ওঠে প্রাসাদের বন্দীশালায়। সাত ভাই হারিয়ে যায়। তাদেরকে খুঁজে পাবার জন্য বোন চম্পার জীবন সংগ্রাম এতটাই করুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যে তা দেখার জন্য দলে দলে দেশের মানুষ সিনেমা হলের দিকে যেতে থাকে। তখনকার দিনে তো আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এতটা প্রভাব ছিল না। মোবাইল ফোন তো দূরের কথা, ল্যান্ড ফোনও সহজলভ্য ছিল না। কিন্তু সাত ভাই চম্পার কাহিনী ছড়িয়েছিল মুখে মুখে। যেন বাতাসের বেগে এই মুখ থেকে সেই মুখে হাওয়ার বেগে ছুটছে একটি সিনেমার সংবাদ। চলো যাই সাত ভাই চম্পা দেখে আসি।

সিনেমা হলে ঢুকেই দর্শক যেন সাত ভাই চম্পায় আচ্ছন্ন হয়ে যেতেন। সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরে চলতো ‘সাত ভাই চম্পা’ নিয়েই আলোচনা। আহারে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণে রানী মার কি করুণ দশাই না হলো। আর ছোট্ট মেয়েটিÑ চম্পা যার নাম। সাত ভাইকে খুঁজে বের করার জন্য কোথায় না ছুটছে সে। গাছের সাদা ফুল হয়ে আছে সাত ভাই। বোন চম্পা করুণ সুরে কেঁদে কেঁদে গাইছেÑ সাত ভাই চম্পা জাগো রে জাগো… দর্শকের মনেও তখন করুণ আকুতি-সাদা ফুল যেন মানুষে পরিণত হয়। চম্পা যেন তার সাত ভাইকে ফিরে পায়।

সাদা ফুলেরা মানুষে পরিণত হয়। চম্পা তার ভাইদেরকে খুঁজে পায়। প্রাসাদের বন্দীশালা থেকে মুক্ত করে দুখিনী রানী মাকে। অনাবিল এক আনন্দের মাঝে সাত ভাই চম্পার কাহিনী শেষ হয়। এই আনন্দ বার্তাই সাত ভাই চম্পাকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছিল দেশের মানুষের কাছে। তারপর সাত ভাই চম্পার কাহিনী নিয়ে যাত্রাপালা, মঞ্চ নাটক হয়েছে। বিভিন্ন ভাষায় ছবিও হয়েছে। পাশের দেশের, একটি বাংলা টিভি চ্যানেলে ‘সাত ভাই চম্পা’ নামে একটি টিভি ধারাবাহিকের প্রচারও শুরু হয়েছে। কিন্তু এসব খবরকে ছাপিয়ে বাংলাদেশে চ্যানেল আই-এর পর্দায় সাত ভাই চম্পা আবিভর্‚ত হয়েছে বিস্ময়কর এক উপস্থাপন ভঙ্গির মাধ্যমে। শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তির কারিগরি দক্ষতাই নয় আয়োজনের আন্তরিকতায় চ্যানেল আই-এর ‘সাত ভাই চম্পা’ শুরুতে এতটাই চমক ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়েছে যে, দেশের টিভি দর্শক একটু নড়ে চড়ে বসেছেন। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাত ভাই চম্পার তিনটি পর্ব দেখার পরই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দর্শকের আবেগ আপ্লুত মন্তব্য পেয়েছি আমরা। সকলেই প্রায় অভিন্ন সুরে মন্তব্য করেছেন, হ্যাঁ এবার জমবে মেলা। চ্যানেল আই-এর ‘সাত ভাই চম্পা’ এক কথায় অসাধারণ। শুধু তথ্যপ্রযুক্তির কারিগরি দক্ষতাই নয় শিল্পীদের অসাধারণ অভিনয়, আউট ডোরের শুটিং আয়োজন দেখে মনেই হচ্ছিল না এটি বাংলাদেশের টিভি সিরিয়াল। মনে হচ্ছিল বিদেশে নির্মাণ করা কোনো টিভি সিরিয়াল। যাক, ‘সাত ভাই চম্পা’ প্রমাণ করলো হ্যাঁ, আমরাও পারি… সাত ভাই চম্পাকে অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

Shat-Bhai-Chompaচ্যানেল আই-এর ‘সাত ভাই  চম্পা’ প্রথম সম্ভাবনার আলো ছড়ায় এফডিসি’র ফ্লোরে রাজপ্রাসাদ নির্মাণের পর। বাংলাদেশে কোনো সিনেমার জন্য তো নয়, এর আগে কোনো টিভি সিরিয়ালের জন্যও এতটা ব্যয় বহুল আয়োজনে রাজপ্রাসাদ নির্মিত হয়নি। কোটি টাকার রাজপ্রাসাদের গল্পও ছড়িয়ে যায় মুখে মুখে। শুধুমাত্র রাজপ্রাসাদটি দেখার জন্যই অনেকে এফডিসিতে এসেছে। সিনেমার প্রবীণ অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও রাজপ্রাসাদটি দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। অনেকের তাৎক্ষণিক মন্তব্য ছিল, এফডিসিতে রাজা-বাদশাহদের কাহিনী নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। কিন্তু এত সুন্দর রাজকীয় রাজপ্রাসাদ কেউ নির্মাণ করতে পারেনি। দেশের একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকের জন্য এত ব্যয় বহুল রাজপ্রাসাদ নির্মিত হয়েছে ভাবতেই আনন্দ হচ্ছে। হ্যাঁ, এবার সাহস পাচ্ছি। আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলায়…

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে ‘সাত ভাই চম্পা’র একটানা শুটিং হয়েছে। চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষের উদারতায় পরিচালক রিপন নাগ ‘সাত ভাই চম্পা’য় কোনো কিছুতেই চুল পরিমাণ ছাড় দেন নাই। শুধুমাত্র অভিনেতা অভিনেত্রীদের পোশাক ও কস্পিউমের ব্যাপারেই তিনি খুঁতখুঁতে ছিলেন না, রাজপ্রাসাদের করিডোরে কোথায় কি প্রপস ব্যবহার করলে কাহিনীর বিশ্বস্ততা বাড়বে। তাও তার চিন্তায় গুরুত্ব পেয়েছে। এফডিসির ফ্লোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিদিন সাত ভাই চম্পার শুটিং হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। নাটকটির প্রপস এবং পাত্র-পাত্রীদের পোশাকের জন্য এফডিসির ফ্লোরে দুটি বিশাল রুম রাখা হয়েছে। রুম দুটিতে ঢুকলেই বিস্ময় ছড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে প্রপস রাখার রুমটিতে ঢুকে সবাই অবাক হবেন। পুরনো আমলের রাজপ্রাসাদে যা যা থাকতো তার সবকিছুই সংগ্রহে রাখা হয়েছে এই রুমে। পোশাক রাখার রুমটি আরও বিস্ময় ছড়াবে সবার কাছে। সাত ভাই চম্পায় যারা অভিনয় করছেন তাদের সবার পোশাক দর্জির মাধ্যমে বানানো হয়েছে। পাত্র-পাত্রীরা নিজেদের কাপড় পরে শুটিং স্পটে আসেন। তারপর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মীরা নির্ধারিত পোশাক তাদের হাতে তুলে দেন। পোশাক বদলের পৃথক পৃথক রুম আছে। পাত্র-পাত্রীরা চরিত্র অনুযায়ী পোশাক বদলে শুটিং-এর জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। ঘড়ির কাটা মেনেই শুরু হয় শুটিং। ঘড়ির কাটা মেনেই শুটিং শেষ হয়।

হ্যাঁ, চ্যানেল আই-এর সাত ভাই চম্পা শুধু টিভি পর্দায় চমক দিয়েছে তা নয়। দেশের টিভি নাটকে নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষা ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ব্যাপক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সাত ভাই চম্পা’র জন্য রয়েছে একটি বিশাল টিম। প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ করা আছে। ঘড়ির কাটায় সকলেই যার যার দায়িত্বের প্রতি সচেতন হয়ে ওঠেন। যার ফলে দেশের টিভি নাটকে চমক জাগানিয়া সংবাদের উৎস হয়ে উঠেছে সাত ভাই চম্পা। প্রথম তিন পর্ব প্রচারের পর পরই দেশের টিভি দর্শক নড়ে চড়ে বসেছেন। অনেকে ইতোমধ্যে মন্তব্য করেছেন, সাত ভাই চম্পার মতো অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলে আরও কিছু ধারাবাহিক নাটকের প্রচার শুরু হলে বিদেশি টিভি সিরিয়ালের দৌরাত্ম্য আর থাকবে না।

আমরাও সেটাই মনে করি। চ্যানেল আই-এর সাত ভাই চম্পা শুরুতেই যে বার্তা দিয়েছে তা হলো আন্তরিকতা থাকলে আমাদের দেশেও বিশ্বমানের টিভি সিরিয়াল নির্মাণ করা সম্ভব। পাত্র-পাত্রীদের অভিনয়ের পাশাপাশি সাত ভাই চম্পার মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে এই নাটকে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। কাহিনীকে বিশ্বস্ত করে তোলার জন্য তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকতম সকল সুযোগ সুবিধাই কাজে লাগানো হচ্ছে। আউটডোরে শুটিং করার পর শিল্পীরা ডাবিং এ অংশ নিচ্ছেন। কোনো কিছুতেই এক চুল পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ।

চ্যানেল আইতে সাত ভাই চম্পার তিন পর্ব প্রচারের পর আনন্দ আলোর একজন পাঠক তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এভাবেÑ সাত ভাই চম্পা দেখবো বলে অপেক্ষায় ছিলাম। নাটকটির প্রমো দেখেই মুগ্ধ হয়ে যাই। মূল নাটক দেখার পর আনন্দে আমি অভিভ‚ত। ঘনগাছ পালা পেরিয়ে লংশটে যখন রাজপ্রাসাদটি দেখানো হলো তখনই বুঝে নিলাম ‘সাত ভাই চম্পা’ সত্যি সত্যি আমাদের টিভি নাটকের বন্ধ্যাত্ব ঘুচাবে। শিল্পীদের অভিনয়ের তুলনা হয় না। ক্যামেরার কাজ অত্যন্ত আধুনিক। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এই নাটকের সাউন্ড ও আবহসংগীত। এক কথায় অনবদ্য, অসাধারণ! জয়তু সাত ভাই চম্পা…

ঝলমলে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান

Shat-Bhai-Chompa-2সাত ভাই চম্পার প্রিমিয়ার উপলক্ষে ১৮ ফেব্রæয়ারি এফডিসিতে ঐতিহাসিক রাজবাড়ির সেটে এক প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, মূল স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ইমামী বাংলাদেশ লি: এর অ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার মার্কেটিং হাসান মাহমুদ এবং সাত ভাই চম্পার পরিচালক রিপন নাগসহ অভিনেতা, অভিনেত্রীরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সাত ভাই চম্পার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছাড়াও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

SAGOR-SIRসাত ভাই চম্পা নিয়ে আমাদের অনেক প্রত্যাশা

ফরিদুর রেজা সাগর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই

চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, চ্যানেল আই-এর মূল শ্লোগানÑ হৃদয়ে বাংলাদেশ, প্রবাসেও বাংলাদেশ। দেশের সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করার জন্যই আমরা সাত ভাই চম্পার মতো ব্যয় বহুল টিভি সিরিজ নির্মাণ করেছি। ইমামী বাংলাদেশ লিমিটেডসহ অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। সবাইকে ধন্যবাদ। দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের সাত ভাই চম্পা দেশের টিভি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিবে।

 

একটা প্রশংসনীয় কাজ হয়েছেInu

হাসানুল হক ইনু, তথ্যমন্ত্রী

সাত ভাই চম্পার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ধারায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। চ্যানেল আই-এর নতুন টিভি সিরিয়াল সাত ভাই চম্পার ভ‚য়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধারাবাহিক শুধু দেশে নয় বিদেশেও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিকশিত করবে। এ ধরনের মানসম্পন্ন টিভি সিরিয়াল নির্মাণের জন্য অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের প্রতিও তিনি আহŸান জানান।

Taranaভবিষ্যতে আমাদের টিভি সিরিজও বিদেশে প্রচার হবে

তারানা হালিম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সাত ভাই চম্পা টিভি সিরিজের প্রশংসা করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিদেশি ভাষার টিভি সিরিয়াল প্রচারের দিন বোধকরি শেষ হয়ে যাচ্ছে। চ্যানেল আই-এর সাত ভাই চম্পা দেখে মনে হলো ভবিষ্যতে আমাদেরকে আর বিদেশি টিভি সিরিজের প্রতি ভরসা করতে হবে না। সাত ভাই চম্পা দেখে মনে হলো আমাদের টিভি সিরিয়ালই ভবিষ্যতে বিদেশের টিভি চ্যানেলে রাজত্ব করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

Shyk-Sirajএকটা দায়িত্ব বোধ থেকে নিজেরা উদ্যোগী হলাম

শাইখ সিরাজ, পরিচালক ও বার্তা প্রধান, চ্যানেল আই

অনেক দিন ধরে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা করছি। সেখান থেকেই নিজেরা উদ্যোগী হলাম। টিভি নাটক থেকে দর্শক যখন ছুটে যেতে শুরু করল, আমরা তখন ৫১বর্তী করে দর্শক ফেরালাম। ফের এই প্রয়োজন বোধটা সামনে এলো। যখন নাটকে অস্থিরতা, বিদেশি সিরিয়াল আর ডাবিংয়ে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে সব, তখন চিন্তা করলাম, আমরা বাইরে থেকে না এনে নিজেরাই এমন কিছু তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। অনেকে মনে করেন, এতবড় বাজেট। এই বাজার থেকে সেটা তোলা সম্ভব? হান্ড্রেড পাসেন্ট সম্ভব। আমরা সেটা গবেষণা করেই মাঠে নেমেছি। তাছাড়া পুরনো কালজয়ী সেসব কাহিনি নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরারও একটা তাগিদ ছিল। তরুণ প্রজন্মও এটাতে আকৃষ্ট হবে বলে মনে করি। আমাদের ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে আসাও একটা লক্ষ্য।

Imamiআমাদের ও ভালো নাটক আছে

হাসান মাহমুদ, অ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার, ইমামী বাংলাদেশ লি:

আমাদের টেলিভিশনে প্রতিদিন অনেক নাটক প্রচারিত হয়। অথচ আমরা গর্ব করে দুই, তিনটা নাটকের কথাও বলতে পারিনা। কিন্তু চ্যানেল আই-এর সাত ভাই চম্পা শুরুতেই আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। হ্যা, এবার বোধকরি গর্ব করে বলা যাবে আমাদেরও সাত ভাই চম্পার মতো ভালো নাটক আছে। নাটকটির সাথে ইমামী থাকতে পেরে গর্বিত মনে করছে।

 

Nagআমরাও ভালো নাটক বানাই তা প্রমাণ করতে চাই

রিপন নাগ, পরিচালক

সাত ভাই চম্পার পরিচালক রিপন নাগ বললেন, কাহিনীর বিশ্বস্ততা রক্ষায় আমরা কোনো কিছুতেই ছাড় দিচ্ছি না। আমরা সাত ভাই চম্পার মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই আমাদের পক্ষেও ভালো নাটক বানানো সম্ভব। এই প্রজেক্টটি সফল হলে আমার ধারনা ভবিষ্যতে এমন আরও প্রজেক্ট হবে। নাটকের বাজেট কম বলে অনেক পরিচালক অভিযোগ করেন। এই সিরিজের পর তাদের অভিযোগ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল সমূহে ইদানিং বাংলায় ডাবিং করা একাধিক টিভি সিরিয়াল চলছে। আমাদের বিশ্বাস জন্মেছে সাত ভাই চম্পাও একদিন বিদেশের টেলিভিশনে প্রচার হবে।

এক মহারাজার গল্প!

Rajaচ্যানেল আইয়ের মেগা সিরিজ এর ‘সাত ভাই চম্পা’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে মহারাজা। প্রমো, বিলবোর্ড কিংবা পর্দায় তাকে দেখলে যে কারো চোখ কপালে উঠতে পারে, তিনি যেন অবিকল ‘সিনবাদ’! আলোচনায় রয়েছেন এই মহারাজা। রাশভারি, সুঠাম দেহ, ছয় ফুট উচ্চতা, লম্বা চুল, বাঁকানো গোঁফ! সবকিছুতেই মহারাজার খানদানি স্টাইল। মহারাজার ইশারায় চলে পুরো স¤্রাজ্য। তিনি হেঁটে গেলে রাজপ্রাসাদ কেঁপে ওঠে। দস্যুদের ঘায়েল করতে তলোয়ার চালাতে জুড়ি নেই মহারাজার। কে এই সুদর্শন মহারাজ? তিনি কি বাংলাদেশি নাকি বিদেশি? পর্দার বাইরে মহারাজার নাম অমিত সিনহা। জন্ম-বেড়ে উঠা কুমিল্লা জেলায়। ২০১০ সালে ৩৩ তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু কোথাও চাকরি করেননি। অমিত সিনহা বলেন, ২০০৫ সাল থেকে মিডিয়ায় টুকটাক কাজ করি। আমি ছিলাম মূলত র‌্যাম্প মডেল। বিভিন্ন র‌্যাম্প মডেলিংয়ে স্টপার হিসেবে কাজ করেছি। ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কাজ করেছি। এরপর আর কোনো কাজ করিনি। ২০১৪ সালে খিজির হায়াত খানের একটি ছবিতে আমি অভিনয় শুরু করি। ওই ছবিটি ৩০ শতাংশ শুটিং এর পর থেমে যায়। ওটাই ছিল মিডিয়াতে কামব্যাকের প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, চ্যানেল আইতে সাত ভাই চম্পার মতো এতবড় একটা সিরিয়াল হতে যাচ্ছে আমি জানতাম না। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড অভিনেত্রী নওশাবা আমাকে জানায়। এরপর আমি অডিশন দিতে আসি। তখন এই সিরিয়ালের বড় বড় চরিত্রগুলো সিলেক্ট হয়ে ছিল। আমি কোনো লিস্টেই ছিলাম না। এই সিরিয়ালের পরিচালক রিপন নাগ আমাকে দেখে পছন্দ করেন। সাত ভাই চম্পার জন্য আমি অডিশন দেই ২০১৬ সালের শেষের দিকে। চারবার অডিশন নিলেন। আমি টিকে গেলাম। মহারাজ চরিত্রের জন্য আমাকে কিছু প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে। ঘোড়া চালানো, তলোয়ার চালানো সবকিছু শিখতে হয়েছে। আগেই আমি আট মাস ধরে মার্শাল আর্ট শিখেছিলাম। ওটা এখানে কাজে লেগেছে।

বড়রানী শানু

Boro-Raniবঙ্গ রাজ্যে যে ক’জন রানী আছেন, সবার বড় হচ্ছেন শানারে দেবী শানু ওরফে ‘বড়রানী’। রানী মহলে সবাই তাকে মানেন। ভেতরে ভেতরে অনেকেই হিংসা করলেও সামনা-সামনি সবাই ভীষণ শ্রদ্ধা করেন। শুধু তাই নয়, মহারাজার কাছে বড়রানীর আলাদা কদর রয়েছে। রাজা সবসময় মনে করেন, বড়রানী যদি পাশে থাকে, একহাত ধরে রাখে তবে পৃথিবী জয় করা সম্ভব। এমনটাই দেখা যাচ্ছে, পৌরাণিক গল্পে চ্যানেল আই-এর মেগা টিভি সিরিজ ‘সাত ভাই চম্পা’তে। যেখানে বড়রানী হয়ে হাজির হয়েছেন লাক্স-চ্যানেল আই তারকা শানু। তিনি বলেন,  বড়রানী হচ্ছে রাজার একটা মানসিক শক্তি, অনুপ্রেরণার উৎস। রাজা নিজের মুখে এটা বলেছেন, বড়রানী তুমি আমার একহাত ধরে থাকলে আমি পৃথিবী জয় করতে পারব। সেজন্য মহারাজ যখনই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, বড়রানী হয়ে রাজাকে শক্তি দেই। সাত রানী রঙধনুর সাত রঙে রাঙানো। এরমধ্যে আমি বড়রানী অল্পভাষী। তার মধ্যে কিছু দুঃখ আছে। কারণ, রাজ্যের ভবিষ্যৎ জন্ম দিতে হবে, যার জন্য অন্যান্য রানীরাও আছে। মহারাজের সব রানীদের মধ্যে যে সন্তান জন্ম দেবে তিনি হবেন ‘পাট রানী’। এছাড়া গল্প আরো অনেক টুইস্ট রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এটি আমাদের দেশীয় প্রোডাকশন।’ এই ধরনের চরিত্রে কাজ করার ব্যাপারে শানু বলেন, ‘মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। আর যখনই সেটে মেকআপ, গেটআপ, অলঙ্কার নিয়ে ক্যামেরার সামনে আসতাম তখনই নিজের কাছে রানী মনে হতো। তাছাড়া যে সেটে কাজ করা হয়েছে সেটা রাজ দরবারের মতো। সবাই সেটে যে চরিত্রে কাজ করছে তাকে সেই নামে ডাকা হয়। এটা সত্যিই অন্যরকম একটা ব্যাপার। আমি মিডিয়ায় অনেকদিন ধরে কাজ করছি। তবুও এই সিরিজে কাজ করার জন্য অডিশন দিয়ে হয়েছিল। কয়েক দফায় অডিশন দিয়েছি। তারপর নিয়মিত ওয়ার্কশপ হয়েছে। সব মিলিয়ে অনেক গোছানো এবং পরিপাটি একটি কাজ এই ‘সাত ভাই চম্পা’।

মেঝো রানী চৈতী

Mejo-Raniপ্রাসাদের দ্বিতীয় রানী চৈতী। সব সময় ¯িœগ্ধ চাহনী আর কোমল কথাবার্তায় চরিত্রটি মাতিয়ে রাখে সবাইকে। এই সিরিজে কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন? এমন প্রশ্নে চৈতী বলেন, ‘রিপন নাগের সাথে বেশকিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। তিনিই আমাকে সিরিজটিতে অভিনয় করার কথা বলেন। পুরো আয়োজনের কথা শুনে আমি খুব ইনটারেস্ট ফিল করি। এরপর অডিশন নেয়া হয়। অডিশনে সিলেক্ট হওয়ার পর চলে আমাদের ওয়ার্কশপ। যেখানে আমাদের চরিত্র আর পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে ধারণা দেয়া হয়। বেশ কয়েক মাস ওয়ার্কশপের পর আমরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই। এখন প্রচারে আসার পর এত সাড়া পাচ্ছি যে, আসলেই এত কষ্ট করে কাজটা করে বেশ শান্তি লাগছে। একজন শিল্পীর জন্য এটা সত্যিই অনেক বড় পাওয়া।’ চৈতীর মিডিয়ায় পথচলা শুরু ২০০২ সালে লাক্স ফটোজেনিক-এর মাধ্যমে। সেই সময়ে তিনি বেশকিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেন, র‌্যাম্পেও হাঁটেন। বিসি রাসেলসহ অনেক নামিদামি ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাথে কাজ করেছেন তিনি। এরপর নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেন। জনপ্রিয় এই নির্মাতার ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ চলচ্চিত্রেও দেখা যায় তাকে। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক। তবে ‘সাত ভাই চম্পা’ সিরিজটি নিয়েই তিনি বেশি উচ্ছ¡সিত। কথায় কথায় বললেন, ‘আমাদের টিভি মিডিয়ায় সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং আলোচিত একটি টিভি সিরিজে কাজ করতে পেরে সত্যিই আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করছি। চারদিকে সিরিজটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তাই কাজের আগ্রহ আরো বেড়ে যাচ্ছে।’

প্রাসাদ রানী দোয়েল!

Prashad-Raniসাত ভাই চম্পা সিরিজের প্রাসাদ রানী নামে যাকে দেখা যাচ্ছে তার নাম দোয়েল। যিনি রাজার তিন নাম্বার রানী। এই সিরিজে সম্পৃক্ত হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে বলেন, ‘বছর দেড়েক আগে এই সিরিজের প্রোমোতে কাজ করেছিলাম। যেখানে আমি হলুদ রানীর চরিত্র করি। তাই পরবর্তীতে যখন এই প্রোজেক্টটা ফাইনাল হয় তখন পরিচালক রিপন ভাই আমাকে বললেন এটাতে কাস্ট দেয়া হয়েছে। তারপর কয়েক বার অডিশন নেয়া হলো। অডিশনের পর চললো ওয়ার্কশপ। ফাইনালি যেদিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম সেদিন সত্যি সত্যি রানী মনে হয়েছে। আমাকে একদম হলুদ রানী-ই মনে হয়েছে।’ এই সিরিজে কাজ করার আগে দোয়েল বেশকিছু ফ্যাশন হাউজের কাজ করেছেন। মডেলিং করেছেন কিছু টিভিসিতেও। দোয়েল মূলত টিভি মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন ২০১৪ সাল থেকে। কিছু পত্রিকার লাইফস্টাইল পেইজে মডেলিং করাসহ র‌্যাম্পে হেঁটেছেন তিনি। ‘আলফা’ নামের একটি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন এই রানী। সর্বশেষ বেঙ্গল ক্রিয়েশনস-এর ব্যানারে নির্মিত ‘চন্দ্রাবতীর কথা’ শিরোনামের চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। এছাড়াও করেছেন কিছু শর্ট ফিল্মের কাজ। বর্তমানে ‘সাত ভাই চম্পা’ মেগা সিরিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।

 

 

 

‘ন’ রানী ঝুমুর

N-Raniহিমালয়ের কন্যা ঝুমুর বঙ্গ রাজ্যের ‘ন’ রানী। তিনি ভেষজ বিদ্যায় পারদর্শী। আরেকটা বিশেষ গুণ হচ্ছে, ‘ন’ রানী ঝুমুর জাদুবিদ্যা জানেন। যে কাউকে জাদু দিয়ে বশে আনতে পারেন! যে জন্য রানী মহলের অন্য রানীরা ঝুমুরকে একটু ভয় পান! তবে ঝুমুর সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করেন, তিনি কারো ক্ষতি করেন না। এই সরলতার সুযোগে ঝুমুরকে অন্য রানীরা ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। চ্যানেল আই-এর মেগা টিভি সিরিজ ‘সাত ভাই চম্পা’য় এমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভিট তারকা ঝুমুর। নিজের চরিত্রের বিশ্লেষণ এভাবেই জানালেন তিনি। ঝুমুর বলেন, ‘পৌরাণিক এসব গল্প ছোটবেলা থেকে পড়তে খুব ভালো লাগতো। কিন্তু এখন যখন স্ক্রিনে সবাই দেখবে। এটা খুবই আনন্দের। আর যেভাবে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে। একটা কাজ তখনই ভালো হয়, যখন দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়। অন্য নাটক বা সিরিয়ালের চেয়ে টিভি সিরিজ ‘সাত ভাই চম্পা’য় কাজ করার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। কারণ, আমি প্রথমবার রানীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। প্রতিটি দৃশ্য যতœ নিয়ে করা হয়েছে। কখনও এমন হয়েছে, সংলাপ বলতে গিয়ে, আমি আমার মতো করে বলেছি, কিন্তু পরিচালক বলেছেন রানীর মতো করে বলতে হবে। ঝুমুর বলেন, ‘সাত ভাই চম্পা’ একবার দেখলে চোখ সরানো যাবে না। কারণ, এতবড় বাজেটে এর আগে এমন কোনো টিভি সিরিজ বা সিরিয়াল নির্মিত হয়নি। ক্যামেরা, পোশাক সবকিছু আধুনিক। এখানে সবকিছুই উন্নত, সাজানো গোছানো। আর নাটকটিতে আমি কাজ করার আগে কয়েকবার অডিশন দিতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়- কয়েক দফায় ওয়ার্কশপ করে তবেই আমরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়েছে।’

কনে রানী দীপা!

KOne-Raniপাঁচ রানীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট রানী অর্থাৎ পাঁচ নাম্বার রানী হচ্ছে দীপা। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৮ এর সেকেন্ড রানার আপ হয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে বেশকিছু নাটক-টেলিফিল্মে কাজ করেছিলেন তিনি। কিছুদিন শোবিজে কাজ করার পর তিনি একটা গ্যাপ নিয়েছিলেন। আবার ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন। বেশকিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেন তিনি। সাত ভাই চম্পা সিরিজে সম্পৃক্ততা কীভাবে হলেন? এমন প্রশ্নে দীপা জানান, ‘একদিন কোক স্টুডিওতে বিজ্ঞাপনের কাজ করার সময় সাত ভাই চম্পা সিরিজের কেউ একজন আমাকে দেখে এবং আমাকে এই প্রোজেক্টটার বিষয়ে জানায়। আমি তখন তেমন আগ্রহ দেখাইনি। তখন আমার ফোন নাম্বার নিয়েছিল কেউ একজন। হঠাৎ একদিন পরিচালক রিপন ভাইয়ের ফোন পেলাম। তখন উনি আমাকে পুরো বিষয়টি জানায় এবং অডিশনে যাওয়ার কথা বলে। সেখানে প্রোমোটা দেখে আমার কাছে নতুন কিছু মনে হলো। এরপর কয়েক দফায় অডিশন দেই এবং নিয়মিত ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করি। ওয়ার্কশপে যাওয়ার পর মনে হলো- দেশের টেলিভিশন নাটকের এক নতুন মাইলফলক হবে এই ‘সাত ভাই চম্পা’। এখন তো কয়েকটি পর্ব প্রচার হওয়ার পর সেটাই সত্যি হলো!’ দীপা বেশকিছু চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু গতানুগতিক বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় সে কাজ করতে আগ্রহী নন। বরং, ভিন্নধারার গল্প আর নতুন কোনো চরিত্র পেলে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। তবে বর্তমানে ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো এতবড় আয়োজনে কাজটি করে তিনি বেশ তৃপ্ত। কথায় কথায় বললেন, ‘এই নাটকে কাজ করে আমি যে সাড়া পাচ্ছি তাতে চলচ্চিত্র থেকে কোনো অংশে কম নয়। তাই আমি মনেকরি সামনের দিকে আমি ভালো কিছু করতে হলে এই টিভি সিরিজটি আমার ক্যারিয়ারের জন্য একটি নতুন দিক সূচনা করবে।’