বসনত্মময় ভালোবাসার পোশাক!

বসনত্মময় ভালোবাসার পোশাক!

1194
SHARE

সৈয়দ ইকবাল: বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি বসনেত্মর প্রথম দিন। এর একদিন পর ভালোবাসা দিবস হওয়ায় দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে এখন চলছে বসনত্ম আর ভালোবাসা দিবসের পোশাকের নানা আয়োজন। ফ্যাশন হলো সময়ের বাহন। সময়ের হাওয়ায় ফ্যাশন বদলাতে থাকে নিত্যনতুন আঙ্গিকে। আধুনিক তারুণ্যের মধ্যে যারা বর্ণিল রঙে যুগপৎ রাঙাতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই ফ্যাশন ডিজাইনাররা যুগলবন্দি পোশাকের ডিজাইন করেছেন এবার। এতে পরিবারের সকলের উপযোগী করে পোশাকের উপস্থাপনায় আনা হয়েছে মেলবন্ধন। সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি কিংবা শাড়ি সবকিছুইতেই থাকছে ফেব্রিক, ডিজাইন বা মোটিফের যুগল উপস্থাপনা। সালোয়ার-কামিজ আর কুর্তার প্যাটার্নে এবার থাকছে লং এবং গাউন স্টাইল, কিছু কাটিংয়ে থাকছে ঘের এবং বডি ফিটিংস। মূলত ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে পোশাক ডিজাইনাররা যুগল আর পরিবারের সদস্যদের কথা চিনত্মা করে একই রঙের পোশাক বানানো শুরু করেন। অঞ্জন’স-এর শীর্ষ নির্বাহী ও ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘বিশেষ দিন কিংবা উৎসবে মূলত প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই একই রকম পোশাক পরতে চায়। সে কারণে অঞ্জন’সের পোশাকগুলো একটু গর্জিয়াসভাবে তৈরি করা হয়। এসব পোশাকে একই রকমের এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপ্লিকসহ মিক্সড মিডিয়ার কাজ থাকে। বিভিন্ন রেঞ্জে আমরা এসব পোশাক তৈরি করি যাতে সবাই কিনতে পারেন। এবছর ভ্যালেন্টাইন ডে এবং ফাল্গুনের জন্য বেশকিছু নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে। পোশাকের প্যাটার্ন এবং রঙেও রয়েছে ভিন্নতা।

রঙ-বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘যেকোনো বিশেষ দিন কিংবা উৎসবে কালারফুল ডিজাইনের পোশাক পরতে চায় সকলে। তাই তো আমরা রঙ-বিশ্বরঙ ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে ভিন্ন টাইপের কিছু পোশাক এনেছি। ফাল্গুনের শাড়িতে বাসনত্মী ও হলুদ রঙের আধিপত্য বেশি রয়েছে। নতুন পাতার রং সবুজও এসেছে শাড়ির ডিজাইনে। পাশাপাশি লাল-কমলা রঙেরও ব্যবহার রয়েছে। আর ভ্যালেন্টাইন ডে’কে মাথায় রেখে লাল রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ ও কুর্তি করেছি। এরমধ্যে কাপল ড্রেসও করেছি অর্থাৎ ছেলে এবং মেয়ের পোশাকে ম্যাচিং করে পোশাক ডিজাইন করেছি। এসব পোশাকে সুতি কাপড়ে কাজের মাধ্যম হিসাবে এসেছে টাই-ডাই, ব্লক, অ্যাপ্লিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিকসহ কারচুপি, হ্যান্ডিক্র্যাফট ও মেশিন এম্ব্রয়ডারির কাজ রয়েছে।’

ভালোবাসার দিন বলে কথা। যদিও একদিনের ভালোবাসায় বোধকরি অনেকেই বিশ্বাসী নয়। তারপরও একটি বিশেষ দিনে ভালোবাসার আলাদা একটা গুরুত্ব তো অবশ্যই থাকে। কেননা একটি দিন ভালোবাসার স্পেশাল দিন মানে প্রিয় মানুষটিকে চমকে দেয়ার বিষয় তো থাকেই। আর তাই তো নিজের প্রেজেন্টেশন কিংবা উপহার দিয়ে মুহূর্তেই প্রিয় মানুষকে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। তবে সবকিছুর আগে ভালোবাসা দিবসে নিজেকে পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে সবকিছুতেই একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন। আর তাই তো বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে পাবেন ভালোবাসার উপযোগী বিভিন্ন পোশাক। ভ্যালেন্টাইনস ফ্যাশনে লাল, নীলসহ উজ্জ্বল রংকে প্রাধান্য দিয়েছে ফ্যাশন হাউজগুলো। শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, শীতের শাল, ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি কাপড়। কাজ হয়েছে ব্লক,স্প্রে-বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট, টাই-ড্রাই, এম্বয়ডারী, এ্যাপলিক এর। সব পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভালোবাসার সমার্থক নানান মোটিফ। সুতরাং বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ক্রেতারা সহজেই প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেন এসব হাউজের পোশাকের মাধ্যমে।

Fashion-Corner-1-2বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ঘুরে দেখা গেছে, এ বছরও তারা ক্রেতাদের জন্য ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রং-বেরংয়ের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন। সেগুলোর মধ্যে আবার ‘জুটি’ ড্রেসও রয়েছে। যেমন শাড়ির সঙ্গে পাঞ্জাবি কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গে সালোয়ার কামিজের কম্বিনেশন। ভালোবাসার রং যেহেতু লাল তাই পোশাকের ডিজাইনে লাল রংয়ের প্রাধান্যই বেশি। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালোবাসা দিবসের আগের দিন পহেলা ফাল্গুন হওয়ায় তারা ঐ দিনের জন্যও পোশাক তৈরি করেছেন। তবে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউজ তাদের একটি পোশাকেই দুটোর সম্মিলন ঘটিয়েছে। মানে পোশাকটিতে ভালোবাসা ও ফাল্গুন- একসাথে দু’টোকেই পাবেন। ভালোবাসা দিবসের পোশাক নিয়ে কথা হয় ক’জন ফ্যাশন ডিজাইনারের সঙ্গে। কথায় কথায় তারা জানান, কালো, নীল, মেরুন- সব রঙের সমন্বয়ে লাল রঙ। ভালোবাসার সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অনুভূতি প্রকাশ করার একমাত্র রঙ হচ্ছে লাল। এ জন্য লাল রঙকেই ভালোবাসার রঙ হিসেবে মনে করা হয়। আর তাই তো সব পোশাকেই লাল রঙের একটা কম্বিনেশন রয়েছে।

অনেক ফ্যাশন হাউজ ঘুরে দেখা গেছে, শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজের সঙ্গে পাঞ্জাবির কম্বিনেশন। এগুলোকে ফ্যাশন হাউজগুলো ‘কাপল’ ড্রেস বলে উল্লেখ করেন। আড়ং, অঞ্জন’স, রঙ-বিশ্বরঙ, বাংলারমেলা, প্রবর্তনা, নগরদোলা, নিপুণ, বিবিআনা, নিত্য উপহার, অন্যমেলা, এড্রয়েট, ফড়িং, ইন্ডিগো, এমপ্রেসসহ বেশকিছু হাউজের আউটলেটে আপনি পাবেন ভালোবাসা দিবসের চমৎকার সব পোশাক। এছাড়াও আজিজ সুপার মার্কেটে বেশকিছু দোকানেও পাবেন এই স্পেশাল দিনের নানা রঙের পোশাক। সুতি কাপড়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, সিকোয়েন্সের মিশেলে ফ্লোরাল ও ঐতিহ্যবাহী আল্পনার মোটিফে তৈরি হয়েছে পোশাকগুলো। প্রতিটি পোশাকে উজ্জ্বল রঙ প্রাধান্য পেয়েছে। মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি। এসব পোশাকের বেশিরভাগই সুতি। শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, শীতের শাল ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি কাপড়। কাজ হয়েছে ব্লক, স্প্রে-ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, টাইডাই, অ্যাম্ব্রয়ডারি ও অ্যাপলিকের। সব পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভালোবাসার সমার্থক নানা মোটিফ। ফ্যাশন হাউজগুলোতে পোশাকের পাশাপাশি পাবেন নানান ধরনের গিফট বক্স। সাধারণত আপনি ১২ শ টাকা থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে চাইলেই নিজের পছন্দমতো পোশাকটি বেছে নিতে পারবেন এসব হাউজগুলো থেকে। আর আজিজ সুপার মার্কেটে গেলে আরো কমেও কিছু পোশাক পেয়ে যাবেন। আর কেউ কাপল পোশাক কিনলে বিভিন্ন ডিজাইনের উপর দাম নির্ভর করবে। তারপরও ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে আপনি ‘কাপল’ পোশাক কিনতে পারবেন।

ভালোবাসা দিবসে সারাদিন ঘোরাঘুরি বা লং ড্রাইভে যেতে মেয়েরা জিন্সের সঙ্গে লাল টপস কিংবা কামিজ পরতে পারেন আর ছেলেরা জিন্স-ফতুয়া পরলে ভালোই লাগবে। যদি ঠাণ্ডা কম থাকে তাহলে সাদা বা হাল্কা রঙের কোনো টপস-এর উপর জড়িয়ে নিতে পারেন লাল স্কার্ফ। তবে ভালোবাসা দিবস বলে শুধু লালেই আটকে থাকবেন না। যেকোনো উজ্জ্বল রঙই এই সময়ের জন্য এবং প্রেমের জন্য ভালো। পছন্দমতো হালকা গোলাপি, উজ্জ্বল হলুদ, পার্পল, সুন্দর নীল যেকোনো রঙের পোশাকই আপনি পরতে পারেন। তার সঙ্গে মানানসই জুতো, ব্যাগ, অ্যাক্সেসরিজ নিলেই সাজ সম্পূর্ণ। যদি দু’জনে শুধু সন্ধ্যায় রোম্যান্টিক ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে যাওয়ার কথা ভাবেন তাহলে শাড়িই হবে সেরা পোশাক। আর ছেলে পরবেন পাঞ্জাবি। অবশ্যই নিজেকে যেটা পরলে এবং যেভাবে সাজলে সুন্দর ও কমফোর্ট লাগবে সেটাই বেছে নিন। দেখবেন বেশি সাজতে গিয়ে নিজেকে যেনো বেখাপ্পা না লাগে। সাজের ক্ষেত্রে সিম্পল ভাবটা অবশ্যই বজায় রাখবেন।