বন্ধুত্বের সহজ সরল সমীকরণ

বন্ধুত্বের সহজ সরল সমীকরণ

1217
SHARE

কথায় আছে সেই সবচেয়ে সুখি যার বন্ধু ভাগ্য ভালো। সত্যি কী তাই। দুই বন্ধু ফরীদি ও আফজাল হোসেনের এই যুগলবন্ধী সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হয়েছিল আনন্দ আলোর তৃতীয় বর্ষের সতেরতম সংখ্যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেই ১৯৭৭ সালে পরিচয়। অল্পদিনেই অনত্মরঙ্গ বন্ধুত্ব। একসঙ্গে থিয়েটার করা। টিভি নাটকেও পাশাপাশি অভিনয়। দুজনকে ঘিরেই দেশজুড়ে ক্রেজ। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে একজন হয়ে গেলেন নেপথ্যের কারিগর, অন্যজন ঝুঁকে পড়লেন বড় পর্দায়। দীর্ঘদিন পর টিভি-দর্শক দু’বন্ধুকে একসঙ্গে দেখেছিলেন ‘হিতঙ্কর’ নাটকে। তাও প্রায় আট বছর আগে। অতঃপর দুই সুপারস্টার আবারও আসছেন একই সাথে। ধারাবাহিক নাটক ‘আমাদের নূরুল হুদা’-এর স্যুটিংয়ে পাওয়া গেল তাদের। খ্যাতিমান দুই বন্ধু হলেন, এভারগ্রিন আফজাল হোসেন এবং ভার্সেটাইল হুমায়ুন ফরীদি…

যাপিত জীবনের ব্যসত্মতার শিকার দু’বন্ধু আফজাল হোসেন আর হুমায়ুন ফরীদি। দুজনের মধ্যে এখন কথা হয় সপ্তাহে বড়জোর এক-আধবার। তাও মুঠোফোনে। কোনো উপলক্ষ থাকলে দেখা-সাক্ষাৎ হয় মাসে-তিন মাসে। এত ব্যসত্মতা যে, দুজনের শিডিউল মিলিয়ে পাশাপাশি একসাথে অভিনয় করাটা ভীষণ কঠিন। ‘আমাদের নূরুল হুদা’ নাটকের দুই পরিচালক মাহফুজ আহমেদ ও অরণ্য আনোয়ার প্রায় ৬/৭ মাস ধরে চেষ্টা করছিলেন দুজনের শিডিউল মেলাতে। কিন্তু মিলছিল না কিছুতেই। একজন কমিটেড এই কাজে, অন্যজন কমিটেড সেই কাজে। হাল ছাড়লেন না নির্মাতাদ্বয়। প্রচেষ্টায় আনত্মরিকতা থাকলে কিনা হয়! গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে দু’বন্ধুকে একসাথে ক্যামেরার সামনে আনতে সমর্থ হন তারা। স্যুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে দু’বন্ধু জমিয়েছেন আড্ডা। মাহফুজ আহমেদসহ নাটকের অন্য অভিনেতারা দুই অগ্রজের কথোপকথন শুনেছেন মুগ্ধ হয়ে। জেনেছেন তাদের পথচলার বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। ইউনিটের সবাই রোমাঞ্চিত হয়েছেন হাই প্রোফাইল দুই অ্যাক্টরকে নিজেদের মাঝে পেয়ে। আনন্দ আলোকেও হেমনেত্মর বিকেলে কিছুটা সময় আলাদাভাবে দিলেন দুই বন্ধু। আসুন পাঠক, আফজাল হোসেন ও হুমায়ুন ফরীদির মুখোমুখি বসি। শুনি দুই বেস্ট ফ্রেন্ডের কথা।

একে অন্যের বিপরীত তবুও…

দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও হুমায়ুন ফরীদি। কথাবার্তা, আচার-আচরণ এবং পেশা দুজনের আলাদা। হুমায়ুন ফরীদি কথা বলেন দ্রুত ভঙ্গিতে। বেফাঁস কথাও মুখে আটকায় না। কথায় কথায় তার রসিকতা। আর আফজাল হোসেন কথা বলেন ধীরস্থির ভঙ্গিমায়। অনেকটা মেপে মেপে। হুমায়ুন ফরীদি এক্সট্রোভার্ট প্রকৃতির। যেখানেই যান জমিয়ে ফেলেন মুহূর্তেই। হয়ে ওঠেন ঠাট্টা তামাশার মধ্যমণি। অন্যদিকে আফজাল হোসেন পুরোপুরিই ইনট্রোভার্ট। কাজ আর নিজের মধ্যেই নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। সব জায়গায় বেশ সিরিয়াস। মোটকথা দুজনের ব্যক্তিত্ব আর চরিত্রের ধরনটাই আলাদা। অভিনয় করাটাই হুমায়ুন ফরীদির প্রধান পেশা। মাঝে মধ্যে অবশ্য নির্মাণের কাজও করে থাকেন। আফজাল হোসেনের প্রধান পেশা বিজ্ঞাপনী ব্যবসা। অ্যাকটিং ও ডিরেকশন তার সাইড প্রফেশন। ছবি আঁকেন, গল্প, উপন্যাস লিখেন। একসময় টিভি নাটকও লিখেছেন বেশ ক’টি। সবদিক থেকেই সম্পূর্ণ দুই রকম মানুষ আফজাল হোসেন ও হুমায়ুন ফরীদি। অথচ তাদের মধ্যে গাঢ় বন্ধুত্ব। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বন্ধু তারা। এটা কী করে হলো? হুমায়ুন ফরীদি বললেন, আমাদের বন্ধুত্বটা অবিশ্বাস্য। কীভাবে যে এটা হলো, আমি নিজেও জানি না। আমি ঠোঁটকাটা লোক। মুখে যা আসে তাই বলি। কল ইন টু নেমস, মানে গালিগালাজ না করলে আমি কথা বলে মজা পাই না। আফজাল খাঁটি ভদ্রলোক। তার সবচেয়ে বড় গালি হচ্ছে শালা মদন। কথায় কথায় আমি খেপে যাই। ঝগড়াঝাঁটি করতেও আমি ওসত্মাদ। আর আফজাল তো ঝগড়াঝাঁটি করতেই জানে না। কারো ওপর মেজাজ খারাপ হলে সে কখনোই সেটা প্রকাশ করে না। আমি তো চেঁচামেচি করে চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়ি। আফজালকে কোনোদিন আমি ক্ষিপ্ত হতে দেখেনি। উই আর কোয়াইট অপজিট। তারপরও আমাদের বন্ধুত্ব হয়েছে এবং সেটা ত্রিশ বছর ধরে টিকে আছে। হুমায়ুন ফরীদি আরো বললেন, হয়তো অনেকেই বিশ্বাস করবেন না যে এই দীর্ঘ ত্রিশ বছরে আমাদের মধ্যে কখনো ঝগড়া হয়নি। ঝগড়াঝাঁটি তো দূরে থাক, মন কষাকষিও হয়নি। এটা সত্যিই মিরাকল। আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন, শোনো সবার সাথে চিরকাল বন্ধুত্ব থাকে না। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের একজন নিঃস্বার্থ বন্ধু দরকার। এরকম বন্ধু পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমি ভাগ্যবান, কারণ একজন নিঃস্বার্থ বন্ধু আমার আছে। তার নাম আফজাল হোসেন। কেবল ত্রিশ বছর নয়, আমার মনে হয় আমাদের বন্ধুত্বটা চিরস্থায়ী।

ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার…

এবার আফজাল হোসেনের বলার পালা। নাট্যকার সেলিম আল দীন জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথম দেখায় আর কথাবার্তায় ফরীদিকে মনে হয়েছিল ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার। আফজাল হোসেন বললেন, ফরীদির সঙ্গে কখন যে আমার এতটা গাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে উঠল তা আমি বলতে পারব না। আমরা তো একসঙ্গে ঢাকা থিয়েটার করতাম। প্রতিদিন অনেকটা সময় গ্রুপের বন্ধুদের সঙ্গে কাটাতাম। আসলে তখন আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে একমাত্র আমিই আয়-রোজগার করতাম। ফরীদিসহ অন্য সবাই ছিল বেকার। আমি আলাদা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতাম। আমার ফ্ল্যাটই হয়ে উঠেছিল সব বন্ধুর আসত্মানা। আড্ডা মারা, হৈচৈ করা, খাওয়া-দাওয়া আর মাঝে মধ্যে রাতে থেকে যাওয়া সব আমার ফ্ল্যাটেই হতো। কখন যে অন্য সবার চেয়ে ফরীদির সঙ্গে সম্পর্কটা আলাদা হয়ে উঠল টের পাইনি। সে এমন একটা লোক যে কিনা মুহূর্তেই অন্যের এটেনশন নিজের দিকে টেনে নিতে পারে। আর ফরীদির মাথায় সবসময় কিছু না কিছু খেলতে থাকে। মজার মজার অভিনব সব আইডিয়া। হয়তো পকেটে পয়সা নেই বলে রাতে আমরা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারলাম না। ফরীদি ফট করে বলে বসল, চল পেটে খিদে নিয়ে সারারাত আমরা হাঁটাহাঁটি করি। তাহলে খিদে ভুলে থাকা যাবে। হাঁটতে হাঁটতেই আবার বলল, আচ্ছা এই যে আমরা খিদে ভোলার জন্য হাঁটছি। এটা নিয়ে একটা নাটক করলে কেমন হয়? ফরীদি একেকটা প্রসত্মাব দেয় আর আমিও তা নিয়ে ভাবতে শুরু করি। একবার ঢাকা থিয়েটারের একটি নাটক নিয়ে চট্টগ্রাম গেলাম। আমি আর সুবর্ণা টিভি নাটকে অভিনয় করায় তখন মোটামুটি পরিচিত। সবাই আমাদের আলাদা খাতির-যত্ন করে। আমাদের জন্য আলাদা গাড়ি। থাকা-খাওয়ার স্পেশাল এরেঞ্জমেন্ট। ফরীদি কাঁচুমাচু মুখ নিয়ে আমাদের কাছে এসে মজা করেই বলল, আমি তো খাতির-যত্ন পাচ্ছি নারে। আমাকে তোদের মতো টেলিভিশন স্টার হতে হবে। ব্যস আমার মাথায় ঢুকে গেল, ফরীদির যে প্রতিভা তার মূল্যায়ন হচ্ছে না। ফরীদির যে যোগ্যতা তার তো স্টার হওয়া উচিত। তারপর একটা নাটক লিখলাম ওর সঙ্গে শেয়ার করে। তাতে ছিল দুটো প্যারালাল ক্যারেক্টার। একটাতে অভিনয় করলাম আমি, আর আরেকটাতে ফরীদি। আফজাল হোসেন আরো বললেন, আসলে বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক কখনো প্ল্যানিং করে গড়ে ওঠে না। আমার আর ফরীদির বন্ধুত্বে পরিকল্পিত কিছু ছিল না। এটা হয়ে গেছে। দুজন দুরকম হলেও আমরা একে অন্যকে ভালো বুঝতে পারি। আমাদের সম্পর্কে আজ পর্যনত্ম কোনো চির ধরেনি। অনেক উসকানি আর প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের বন্ধুত্ব সহজ-সাবলীল আছে। আর তাই বিশ্বাস করি, এটা আজীবন ঠিক থাকবে।

মিডিয়া ও থিয়েটার…

আফজাল হোসেন জানালেন, সুবর্ণা মুসত্মাফাকে কেন্দ্র করে একসময় মিডিয়ায় তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরানোর জন্য কেউ কেউ কৌশলেরও আশ্রয় নিয়েছিলেন। একটি ম্যাগাজিন ফরীদি ও সুবর্ণাকে নিয়ে কাভার স্টোরি করেছিল। সেখানে লেখা হলো, ওদের দুজনের সম্পর্ক গড়ে ওঠায় আফজাল হোসেন আশাহত ও মর্মাহত। তিনি এতটাই হতাশ ও বিরহে কাতর যে, ঢাকায় থাকবেন না বলে সিদ্ধানত্ম নিয়েছেন। শিগগিরই আফজাল হোসেন স্থায়ীভাবে তার দেশের বাড়ি সাতক্ষীরা চলে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি চিংড়ির ঘের করবেন। অথচ এ ধরনের ভাবনা কখনো মাথায় আসেনি তার। হুমায়ুন ফরীদি আর সুর্বণা মুসত্মাফা বিয়ের আগে যেমন আফজাল হোসেনের বন্ধু ছিলেন, বিয়ের পরও তাই আছেন। হুমায়ুন ফরীদি জানালেন, এখনও তারা তিনজন একসাথে বসলে আগের মতোই উচ্ছলতায় মেতে ওঠেন। মনে পড়ে যায়, তারুণ্যের সেই টগবগে দিনগুলোর কথা। ঢাকা থিয়েটার নিয়ে সেই সীমাহীন আবেগের কথা। থিয়েটার নিয়ে এখন অবশ্য ভাবতে মোটেও রাজি নন হুমায়ুন ফরীদি। বললেন, ধুর আমাদের দেশে এখন থিয়েটার বলে কিছু আছে নাকি? গ্রুপ থিয়েটারগুলো এখন ফ্যামিলি থিয়েটার হয়ে গেছে। বাপ-মা, ভাই-বোন আর শ্যালক-শ্যালিকার বৃত্তে বন্দী হয়ে গেছে বেশিরভাগ নাটকের দল। চেতনার জায়গাটা ন্যাকড়া হয়ে গেছে। থিয়েটার আমাকে মোটেও টানে না। ফেরার আর ইচ্ছে নেই। ব্যতিক্রম আফজাল হোসেন। থিয়েটার নিয়ে এখনো কিছুটা আবেগ তার হৃদয়ে আছে। তিনি বললেন, থিয়েটার আমি মিস করি। আর মিস করি বলেই থিয়েটারে ফেরার ইচ্ছে আছে। থিয়েটারে নাটক নির্দেশনা আমি দিতে পারব না। আগে যে কাজটা করেছি, অভিনয় আর সেট ডিজাইনিংয়েই আমাকে দেখা যাবে।

টেলিভিশন ক্রেজ…

টিভি নাটক আগের মতো জনপ্রিয় হচ্ছে না। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেরিয়ে আসছে না আফজাল, ফরীদি, সুবর্ণার মতো ক্রেজ সৃষ্টি করা স্টার। জাহিদ হাসান, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, মাহফুজ আহমেদ, বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার, তারিনদের পর এক বিশাল শূন্যতা। পরের প্রজন্মের অভিনেতা অভিনেত্রীদের ঘিরে সেরকম ক্রেজ তৈরি না হওয়া প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বললেন, স্টার শব্দটি অতি ব্যবহারে এখন জীর্ণ হয়ে গেছে। আকাশের তারা তো ধরা যায় না। ছোঁয়া যায় না। ঠিক তেমনি টিভি পর্দায় যারা যায়, তারাও থাকে ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে। এক স্বপ্নের জগতের বাসিন্দা। এই স্বপ্নের জগতের বাসিন্দাদের মধ্যে যদি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কিছু না থাকে, তাহলে তো চলে না। যাদের মধ্যে ইন্টারেস্টিং কিছু নেই, তাদের স্টার বা তারকা বলা যুক্তিসঙ্গত নয়। অথচ মিডিয়ায় তাদের ঢালাওভাবে স্টার বলা হচ্ছে। দর্শকের কাছে তাই স্টারইজমের ভ্যালু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া একই মুখ যেভাবে বার বার স্ক্রিনে আসছে, তার প্রতি দর্শকের আগ্রহের জায়গা, তাকে দেখার আকাঙক্ষার জায়গা গড়ে উঠতে পারছে না। একই প্রসঙ্গে হুমায়ুন ফরীদি বললেন, টিভি নাটকই এখনকার দর্শক ঠিকমতো দেখে না, স্টার ভ্যালু গড়ে উঠবে কী করে! একটা নাটকের মধ্যে এত বেশি বিজ্ঞাপন ঢুকে যাচ্ছে যে, দর্শক বিরক্ত হয়ে নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। দর্শকের হাতে আছে রিমোট কন্ট্রোল। কাজেই এই চ্যানেল থেকে ওই চ্যানেলে মুহূর্তেই শিফট করছে।

টিভি নাটকে জীবন…

Faridi-1এ সময়ের টিভি নাটক থেকে জীবন হারিয়ে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে হুমায়ুন ফরীদি বললেন, টিভি নাটকে জীবন কখনোই ছিল না। নাটক আর জীবন সবসময়ই আলাদা। টিভি নাটকের মতো কনটেম্পোরারি জায়গায় জীবনের খোঁজ করাটাই বোকামি। বড়জোর এটা বলা যায়, টিভি নাটকে আগের মতো প্রাণ নেই। এত নাটক হচ্ছে যে, কোনো নাটকে প্রাণ থাকলেও দর্শক তা টের পাচ্ছে না। আমাদের দর্শক রুচির সাথে ডেইলি সোপ আর মেগাসিরিয়াল কতটুকু যায়? এ প্রশ্নের উত্তর দিলেন আফজাল হোসেন। তিনি বললেন, এ দেশে ভিসিআর যখন আসে তখন এটার খারাপ প্রভাবকেই অনেকে বড় করে দেখেছেন। কিন্তু এই যন্ত্রটি আসায় কাল যে ছবিটি অস্কার পেয়েছে, আজ তা ঘরে বসে দেখার সুযোগ পাচ্ছি। সবকিছুরই এরকম ভালো-মন্দ দুটো দিক আছে। ডেইলি সোপ আর মেগা সিরিয়ালের ব্যাপারটাও তেমনি। এদেশে টিভি মিডিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আবার এ ধরনের নাটক দর্শক দেখছে কিনা সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ফর্ম হিসেবে ডেইলি সোপ ও মেগাসিরিয়াল এদেশে খুব বেশিদিন হলো আসেনি। কাজেই দর্শক রুচির সঙ্গে এগুলো কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ বা দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে কিনা তা বিচার করার সময় আসেনি।

সিনেমা বনাম ছিঃনামা

আফজাল হোসেন অভিনয় করেছেন হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি ছবিতে। আর হুমায়ুন ফরীদি তো কোমর বেঁধেইে ফিল্মে নেমেছিলেন নব্বই দশকের শুরুতে। টানা এক দশক কেটেছে তার দারুণ ব্যসত্মতায়। এরপর ধীরে ধীরে মূলধারার চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। মাঝে ‘ব্যাচেলর’ ও হালে ‘আহা!’ ছবিতে অবশ্য অভিনয় করেন। মেইনস্ট্রিম ফিল্ম থেকে দূরে সরে আসা প্রসঙ্গে হুমায়ুন ফরীদি বললেন, অশ্লীলতা নামক ব্যাধিই আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফিল্ম থেকে বের করে দিয়েছে। আসলে ভালগারিটির সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি বলেই চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে আসি। তাই বলে আজীবনের জন্য দূরে সরে আসা নয়। আমি সিনেমায় অভিনয় করতে চাই, ছিঃনামায় নয়। আমাদের মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র যদি তার সঠিক গনত্মব্যে ফিরে আসে তাহলে অবশ্যই আবারও সেখানে দেখা যাবে। বর্তমানে সুবাতাস বয়ে যাওয়ার লক্ষণ শুধু টের পাচ্ছি। চলচ্চিত্রে অভিনয় করা সম্পর্কে আফজাল হোসেনের মনত্মব্য হলো, কখনোই আমি চলচ্চিত্রে স্থায়ী হতে চাইনি। এক ধরনের শখ থেকে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছি। ভবিষ্যতে আবার শখ হলে অভিনয় করব। শখ আছে চলচ্চিত্র নির্মাণেরও। তবে কাজটি শুরু না করা পর্যনত্ম বাড়তি কিছু বলতে চাই না। আমাদের চলচ্চিত্র এখন একটা টার্নিং পয়েন্টে আছে। কিছু কিছু ভালো ছবি তৈরি হচ্ছে। আসলে মন্দ কিছু বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।

তুমি বন্ধু কেমন বন্ধু

দুই বন্ধু আফজাল হোসেন ও হুমায়ুন ফরীদির কাছে সবশেষে আনন্দ আলো জানতে চেয়েছিল বন্ধুত্বের সংজ্ঞা। আফজাল হোসেন বললেন, বন্ধুত্ব হলো নিঃস্বার্থ ও নিঃশর্ত সম্পর্ক। যার সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করা যায়। কিছু কিছু সময় সব মানুষ তার আশপাশে এমন কাউকে চায় যে বিশ্বসত্ম, যার ওপর নির্ভর করা যায়। শোবিজ মিডিয়ায় এমন বন্ধু আমার একজনই আছে। তার নাম নিশ্চয়ই আর বলতে হবে না। হুমায়ুন ফরীদি বললেন, বন্ধুত্ব হলো পারস্পরিক নির্ভরতা। যেমন- রাত একটার সময় আফজাল আমাকে ফোন করে বলল, তার এক লাখ টাকা দরকার। কেন দরকার, কী করবে? এটা জানার আমার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি আমার কাছে টাকাটা থাকে তাহলে তার কাছে তা পাঠিয়ে দেয়াটাই আমার দায়িত্ব। নির্ভরতার সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস। মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে একটু সমস্যা আছে। মিডিয়ায় আমি সবাইকে বন্ধু ভাবি। বন্ধু ভাবলে ক্ষতি কম হবে, শত্রু ভাবলে ক্ষতি বেশি হবে। আফজালের ব্যাপারে আমি এটুকুই বলব, একমাত্র তার সাথেই ত্রিশ বছর ধরে আমার বন্ধুত্বটা টিকে আছে। এর বেশি নিশ্চয়ই আর কিছু বলতে হবে না।