বদলে যাচ্ছে ধারাবাহিক জীবন!

বদলে যাচ্ছে ধারাবাহিক জীবন!

1268
SHARE

সৈয়দ ইকবাল: ঠিক কয়েক মাস আগেও ভাবেননি তাঁদের নিয়ে এতো আলোচনা হবে। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই তাদের ঘিরে ধরে মানুষ। সেলফি তোলা, অটোগ্রাফ নেয়া কিংবা কুশল বিনিময়- সবই করে তাঁদের ভক্তরা। আর সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে তাঁদের ফলোয়ার যেনো হুড়হুড় করে বাড়ছে দিনকে দিন। এতোকিছু সম্ভব হয়েছে দীপ্ত টিভিতে তাঁদের অভিনীত নাটক প্রচার হওয়ার মাধ্যমে হ্যাঁ, পাঠক নতুন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল দীপ্ত টিভিতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটক ‘অপরাজিতা’র মন্দিরা, ‘পালকী’ নাটকের পালকী ও সাবা এবং ‘খুঁজে ফিরি তাকে’র বনানী চরিত্রে অভিনয় করে তাঁরা আজ এই নামগুলোতেই পরিচিত।

শীতের এক সকালে দীপ্ত টিভির কার্যালয়ে পালকী নাটকের শুটিং সেটে উপস্থিত আনন্দ আলোর টিম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরই আড্ডাস্থলে এলেন ‘পালকী’ নাটকের পালকী। আড্ডার প্রথম সদস্য তিনি। নিজের অভিনীত চরিত্রসহ আলোচনা হলো এই নাটকটিতে অভিনয়ের নানান দিক নিয়ে। নাটকটিতে অভিনয়ের আগে এবং পরে কোন পার্থক্য কী চোখে পড়ছে? এমন প্রশ্নে পালকী বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এই নাটকে অভিনয়ের পর থেকে আমার নিজের নামটি হারিয়ে গেছে। আমাকে সবাই পালকী নামেই চেনে। কোথাও গেলে সবাই বলে উঠে- ‘ঐ যে পালকী’। তবে নিজের নাম হারিয়ে যাওয়া নিয়ে কোনো আফসোস নেই। আজ একটি মাত্র নাটকে অভিনয় করে সেটার যে চরিত্র হয়ে উঠেছি এটাইবা কম কিসে। সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে আমাকে মানুষজন পালকী নাটকের গেটাপে বাসত্মবেও দেখতে চায়। কিছুদিন আগে আমাদের পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে সাধারণ একটা সাজে যাই। সকলে বলাবলি করতে লাগলো- ‘না পালকী তুমি ঐ গেটাপে এলে ভালো হতো, তোমাকে ঐভাবে দেখতেই ভালো লাগে, তোমার চরিত্রের পালকীকে দেখতে চাই ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে কাজ করার অন্যরকম অভিজ্ঞতা হচ্ছে নাট্যশিল্পী হিসেবে মাসিক বেতনে কাজ করা। যা এই দেশে প্রথম। অভিনেত্রী  হিসেবে এটা বেশ ভালো অভিজ্ঞতা। কারণ এখানে নিজের পছন্দের বিষয়টি নিয়ে চাকরি করছি। অভিনয়ের জন্য মাস শেষে বেতনও গুনছি।’

পালকীর কথা শেষ হতে না হতেই আড্ডায় উপস্থিত হলেন- নাটকটির সাবা চরিত্রের মিষ্টিমুখের মেয়েটি এবং অপরাজিতা নাটকের মন্দিরা। নিজের অভিনীত চরিত্র নিয়ে খুবই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন সাবা। তার চোখেমুখে তখন কথার ফুলঝুরি। তাঁকে দেখেই মনে হচ্ছে অনেক কথা বলতে চান। বললেনও তাই। ‘আমি মিডিয়ায় খুব কাজ করেছি। কিছু টিভিসি এবং মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছি। তবে পালকী নাটকের সাবা চরিত্রে অভিনয় করে আমি এতোটা লাইমলাইটে আসবো চিনত্মাও করিনি। আজ আমাকে সবাই সাবা নামেই চেনে। এমনকি বিভিন্ন পত্রপত্রিকার সাংবাদিকরাও আমাকে সাবা নামেই চেনেন এবং ফোনে কথা বলেন। মনে হচ্ছে বাবা-মায়ের রাখা আসল নামটা হারিয়েই গেলো। এ নিয়ে অবশ্য একটুও আফসোস নেই। একটি নাটকের চরিত্রের নামে পরিচিতি পাওয়া তো বিশাল ব্যাপার। যেখানে আজকাল মানুষ টিভি নাটক দেখছেনই না। সেখানে আমাদের নাটক দেখে মানুষ মনে রাখছেন এটা অবশ্যই ইতিবাচক একটা দিক’- এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে গেলেন সাবা। তাঁর কথার রেশ ধরেই অপরাজিতার মন্দিরা বললেন, ‘আসলেই বিষয়টা সত্যি। খুব ভালো লাগে আমাদের নাটক দেখে যখন মানুষজন সেই চরিত্রে ডাকে এবং কথা বলে। আমাকে তো মানুষজন মন্দিরা নামে ডাকেই আমার বাবা-মাকে পর্যনত্ম অনেকে মন্দিরার বাবা-মা বলে থাকেন। এটা সত্যিই অনেক পাওয়া।’

‘খুঁজে ফিরি তাকে’র বনানী নিজের কথাটা বললেন একটু ভিন্নভাবে। ‘কাজটা করে অনেক মজা পাচ্ছি। আমি মিডিয়ায় আরো আগে থেকে কাজ করলেও এই নাটকটি করেই বেশি সাড়া পাচ্ছি। যদিও আমার চরিত্র এখনো ভালোভাবে পর্দায় ফুটে ওঠেনি তারপরও ফ্ল্যাশব্যাকে কিছু দৃশ্যে আমার আসা যাওয়া শুরু হয়েছে। আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও এতোটা সাড়া পায়নি। আসলে বর্তমানে নাটকের যে ফরম্যাট সেটার চাইতে একটু ভিন্নভাবে করলেই মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পায়। আর দীপ্ত টিভির তিনটি নাটকই সেই ফরম্যাটে নির্মিত’- বললেন বনানী।

এতো গেলো নাটক নিয়ে আলোচনার নানান দিক। এবার গল্প হলো মিডিয়ায় সকলের আসা নিয়ে কথোপকথন। শুরুতেই পালকী চরিত্রে অভিনয় করা মেয়েটির নাম স্নিগ্ধা মোমিন। ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে নাচের কোর্স শেষ করেন তিনি। ২০১২ সালে মিডিয়ায় ভালোভাবে কাজ শুরু করেন স্নিগ্ধা। এর আগে অবশ্য টুকটাক কিছু নাটক এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বেশকিছু নাটকে অভিনয় এবং স্টিল বিজ্ঞাপনে কাজ করে পরিচিতি পান। ২০০৮ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও সেখানে খুব বেশি এগুতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেন। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমি আসলে অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। মনেপ্রাণে চাই আমি একজন ভালো অভিনেত্রী হতে। এটা শুধু আমার চাওয়া নয়। আমার পরিবারের প্রতিটি সদস্য চায় আমি যেনো অভিনয় করি জনপ্রিয় হই। সেই পথেই এগুচ্ছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ স্নিগ্ধা মোমিন ভিকারুননেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এরপর ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ইংলিশ-এ অনার্স করার পর সেখানে মাস্টার্সের পঞ্চম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

পালকী নাটকের আরেক অভিনেত্রী সাবা’র আসল নাম রানী আহাদ। মালয়েশিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্টের উপর পড়াশুনা শেষ করে দেশে আসেন তিনি। এরপর বাবার ব্যবসা পরিচালনা করার মাঝে হুট করেই দীপ্ত টিভিতে একদিন আসার সুযোগ মেলে। পরবর্তী সময়ে পালকী নাটকে কাজ করা শুরু করেন তিনি। তাই মিডিয়ায় শুরু বলা যায় রানীর এই নাটকটির মাধ্যমেই। নাটকটিতে অভিনয়ের মাধ্যমেই ওয়ালটন ফ্রিজসহ বেশকিছু মিউজিক ভিডিও এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রানী বলেন, ‘অভিনয় করে দারুণ মজা পাচ্ছি। বেশ রেসপন্সও পাচ্ছি। তাই অভিনয় করছি।

Dripto-Adda‘অপরাজিতা’ নাটকের মন্দিরার আসল নাম নাইরুজ সিফাত। নিজের নাম নাইরুজ বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে তাঁকে এখন মন্দিরা নামেই মানুষ বেশি চেনেন। ‘অপরাজিতা’ নাটকে কাজ করার আগে পোলার আইসক্রিম ও প্যারাসুট নারিকেল তেলসহ বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে পারফর্ম করেছেন। অপরাজিতা নাটকে একেবারেই লক্ষ্মী মেয়ে তিনি। শানত্মশিষ্ট স্বভাবের। তবে বাসত্মবে একেবারেই ভিন্ন চরিত্রের মানুষ নাইরুজ। সদা হাস্যোজ্জল তিনি। পুরো শুটিং ইউনিট মাতিয়ে রাখার পাশাপাশি সেলফি তোলা, গল্প করা আর আড্ডা দেয়ার ক্ষেত্রে সেরা তিনি। বাসত্মবে এতো চঞ্চল মেয়েটি কিভাবে পর্দায় এতো শানত্মশিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করছেন? এমন প্রশ্নে নাইরুজ বলেন, ‘এটা আসলে চরিত্রটি অনুভব করার পর সম্ভব হয়েছে। আমি যখন মেকআপ নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই তখন অন্য কোনো কিছু আমার মনে থাকে না। মনে থাকে আমি এখন মন্দিরা। অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করি। এই নাটকটিতে অভিনয়ের আগে নাইরুজ বেশকিছু বিজ্ঞাপনে মডেলিং করেছেন। তবে নাটকে অভিনয় এটাই প্রথম। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নাইরুজ বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখার চাইতে স্বপ্নকে বাসত্মবে রূপ দিতে বেশি পছন্দ করি। সেভাবেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। নাইরুজ সিফাত ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কমপ্লিট করেছেন। এখন পুরোপুরি অভিনয় নিয়েই তাঁর ব্যসত্মতা।

‘খুঁজে ফিরি তাকে’ নাটকের বনানীর আসল নাম ফারজানা রিক্তা। তিনি এই নাটকটিতে অভিনয়ের আগে থেকেই টিভি পর্দার পরিচিত মুখ। বেশকিছু ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। ‘কার্তুজ’ ছবির নায়িকা হিসেবে পর্দায় এসেছিলেন তিনি। রিক্তা বলেন, ‘দীপ্ত টিভির আয়োজনটা পুরো পরিবারের মতো। এখানে একজন চুক্তিবদ্ধ শিল্পী টিভিটির বিভিন্ন ধারাবাহিকে কাজ করবে। বাইরে কাজ করা যাবে, তবে অন্য কোনও টিভির ধারাবাহিকে কাজ করতে পারবে না। কারণ আমরা চাই নাটকের চরিত্রটি প্রতিষ্ঠিত হোক।’