ফারিয়া বড় পর্দার নতুন তারকা

ফারিয়া বড় পর্দার নতুন তারকা

4674
SHARE

প্রীতি ওয়ারেছা: মেয়েটি দেখতে অপরূপা অথচ মন খারাপ করলে নাকি তাকে আরো বেশি সুন্দর দেখায়। এমনটিই জানালেন সঙ্গীত শিল্পী কনা। সম্প্রতি মেয়েটি ‘আশিকী’ ছবির মাধ্যমে এপার-ওপার দুই বাংলায় ঝড় তুলেছেন। দুই বাংলার ঝড় না থামতেই মেয়েটি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলিউড মুভিতে। ছক্কা হাঁকানো সেই মেয়েটির নাম নুসরাত ফারিয়া। একটি আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে অনেক তারকাদের ভীড়ে আনন্দ আলোর কথা হয় নুসরাতের সাথে। আক্ষেপের সুরে এবং কিছুটা জিজ্ঞাসার ভঙ্গিতে উপস্থিত সবার কাছে নুসরাত জানতে চাইলেন, কলকাতার লোকজন আমাকে নুসরত বলে কেন? নুসরাত কেন বলে না? আমার নুসরাত বানানে ডাবল এ আছে তারপরেও তারা নুসরাত উচ্চারণ করতে পারে না। বলে নুসরত। নামের এই করুণ উচ্চারণ শুনলে আমারতো দুঃখে কান্না চলে আসে! আমার দুঃখের কথা জেনে এক শুভাকাঙ্খী আমাকে সান্ত¡না দিয়ে বলেছেন – শুকরিয়া করো যে তারা ফারিয়াকে ফরিয়া উচ্চারণ করে না। তাহলে তুমি হয়ে যেতে নুসরত ফরিয়া। শুনে উপস্থিত সবাই হো হো করে হেঁসে উঠলেন। একপর্যায়ে সঙ্গীতশিল্পী কনা নুসরাতের কাছে মন খারাপের অভিনয় করে দেখানোর জন্য আবদার ধরেন। নুসরাতও সাথে সাথে ভ্র“ ভাঁজ করে কনাকে মন খারাপ করে দেখান। পাশ থেকে বিষয়টা খেয়াল করে চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলে উঠেন, অভিনয়ের প্রথম দিকে আমি যখন কান্নার অভিনয় করতাম সবাই বলতো এটাতো হাঁসি হয়ে গেল। কান্নার অভিনয়টা কিছুতেই কান্নার মত হলনা।’ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে নুসরাতের প্রথম ছবি ‘আশিকী’ মুক্তি পেয়েছে এবারের ঈদুল আযহায়। চলচ্চিত্রে অভিষেকের ক্ষেত্রে নুসরাত বড় একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন, সেকারণে নিজেকে প্রচণ্ড ভাগ্যবতী বলে স্বীকারও করলেন। মেধাবী, সাবলীল বাচনভঙ্গী, জড়তাহীন উচ্চারণ আর তুখোর স্মার্ট নুসরাতের মিডিয়ায় পদযাত্রা মাত্র তিনবছর। জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার ২০১০ ও ২০১১ সালের টানা চ্যাম্পিয়ন নুসরাত। দু’দফা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে কিছুটা পরিচিত মুখের নুসরাত আরটিভির ‘ঠিক বলছেন তো’ কুইজ শো’য়ে উপস্থাপনার সুযোগ পান। ধীরে ধীরে কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। খুব বেশি সময় লাগেনি নিজেকে প্রমাণ করতে, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে সম্মানজনক একটা উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। মিডিয়া জগতের যে কোন বড় ইভেন্টের উপস্থাপনা মানেই এখন নুসরাত ফারিয়ার নাম অনায়াসে চলে আসে। ‘বিউটি উইথ দ্য ব্রেন ইজ আ রেয়ার কম্বিনেশন’ বাক্যটা নুসরাতের ক্ষেত্রে খুব একটা সঠিক নয়। উপস্থাপনা, মডেলিং, অভিনয়, স্টেজ পারফর্মেন্স কি করেননি এই তিনবছর তিনি! গত বছর চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘চ্যানেল আই ইমামি ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম দ্য আল্টিমেট ম্যান-সিজন ২’ এর উপস্থাপক নুসরাতকে সবাই এক নামেই চেনে। মাত্র কয়েক মাস আগেও নুসরাত সপ্তাহের সাতদিন দাপিয়ে কাজ করেছেন টেলিভিশন, রেডিও, বিজ্ঞাপন আর স্টেজে। যদিও এখন বড় পর্দায় অভিনয়ের স্বার্থে ছোট পর্দা থেকে দূরে আছেন। উপস্থাপনা, মডেলিং, স্টেজ পারফর্মেন্স সবকিছু ছাপিয়ে নুসরাত সাম্প্রতিক সময়ের একজন সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তারকা বেস্টিত আড্ডামুখর এক পরিবেশে আড্ডাচ্ছলেই ‘আনন্দ আলো’র সঙ্গে কথা বলেন নুসরাত ফারিয়া..

আনন্দ আলো: নিজের অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পেল! অনুভূতি কেমন?

coverনুসরাত ফারিয়া: অনুভূতি যে কেমন সেটা সত্যিই বলে বোঝাতে পারবো না। আমি কৃতজ্ঞ ছবির পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক ও আমার ভক্ত দর্শকদের প্রতি। সামগ্রিক সাপোর্ট ছাড়া একটা চলচ্চিত্র কখনোই সফল হতে পারে না। ‘অশিকী’কে সফল করে তোলার জন্য প্রযোজনা সংস্থা ‘জাজ’ বিভিন্ন প্রচারণামূলক আয়োজন করেছে। আমি সেই আয়োজনগুলোতে অংশ নিয়ে মুগ্ধ। কখনো চিন্তাও করিনি দর্শকরা আমাকে এতটা ভালোবাসে।

আনন্দ আলো: ছবির প্রচারণার একটা অংশ ছিল ওপেন ইন্টারনেট চ্যাটিং। সেখানে মাত্র ১২ মিনিটে একটা রেকর্ড হয়েছে বলে জেনেছি। বিষয়টা একটু বলবেন?  ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় আমি আমার ফেসবুক পেজে এক আড্ডার আয়োজন করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল ‘আশিকী’ ছবি নিয়ে দর্শকদের জিজ্ঞাসা, মতামত, পরামর্শসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফেসবুক বন্ধু ও ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি জমজমাট এক আড্ডা দেয়া। আড্ডার ঘোষণা দেয়া মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে আমার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ২ হাজার ৬০০ কমেন্ট এবং ৫ লাখ ৩০ হাজার ভিউয়ার ঢুঁ মারেন। পরে শুনেছি এটা নাকি একটা রেকর্ড। আমি জানতাম দর্শকরা আমাকে ভালোবাসেন তবে এতো বিস্ময়কর সারা পাবো ভাবিনি। সময় স্বল্পতার কারণে সবার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি বলে ভীষণ খারাপও লেগেছে।

আনন্দ আলো: ‘আশিকী’ ছবিতে অভিনয় করার সময় কলকাতার চিত্রনায়ক অঙ্কুশের সাথে কোন মজার স্মৃতি জানতে চাই-

নুসরাত ফারিয়া: ছবির কাজের বাইরে তার সঙ্গে আলাদা করে সময় কাটানোর মত কোন সময়ই পাইনি। সবসময় কাজের ভেতরেই থাকতে হয়েছে যার কারণে কোন বিশেষ স্মৃতিময় মুহূর্ত তৈরি হয়নি (বলেই হাসি)।

আনন্দ আলো: অঙ্কুশের সাথে অভিনয় করতে কেমন লেগেছে?

নুসরাত ফারিয়া: তিনি গুণী একজন অভিনেতা এবং খুবই বন্ধুবৎসল। ছবিতে অভিনয়ের সময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে নিজেদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের জায়গাটা মজবুত করতে না পারলেও পরে সেটা পুষিয়ে নিয়েছি। এখন নিয়মিত ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের দু’জনের কথা হয়।

আনন্দ আলো: জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পূর্ণিমা আপনাকে একটি পরামর্শ দিয়েছেন? সেটি দেশের জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

নুসরাত ফারিয়া: আমি পূর্ণিমা আপার পরামর্শটি পড়েছি। তিনি আমাকে ছোট পর্দায় অভিনয়ের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তার কথা আমি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। পূর্ণিমা আপা দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র জগতে কাজ করছেন। এই জগতের ‘নাড়ি নক্ষত্র’ সবকিছুই তিনি জানেন এবং এখানে কিভাবে চলা উচিত খুব ভালোভাবে বোঝেন। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি যে আমার মত নবাগত অভিনেত্রীর জন্য তিনি আশির্বাদ বার্তা দিয়েছেন।

আনন্দ আলো: ভারতের বিশিষ্ট অভিনেতা ইমরান হাশমীর সঙ্গে বলিউডের ছবি ‘গাওয়া-দ্য উইটনেস’ মুভিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, টালিগঞ্জ থেকে কি কোন অফার পেয়েছেন?

নুসরাত ফারিয়া: ‘আশিকী’ ছবি করার সময়েই বলিউডের ‘গাওয়া-দ্য উইটনেস’ মুভিতে চুক্তিবদ্ধ হই। ছবিটির শুটিং শুরু হবে আগামী নভেম্বর মাস থেকে। এখন পর্যন্ত টালিগঞ্জ থেকে কোন অফার পাইনি। তবে যেহেতু ‘জাজ’ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় কাজ করছে তাই সামনে টালিগঞ্জে কাজ করা বিষয়গুলো ‘জাজ’ই দেখবে।

আনন্দ আলো: ‘গাওয়া-দ্য উইটনেস’ ছবিতে কিভাবে যুক্ত হলেন, গল্পটি জানতে চাই –

03_1নুসরাত ফারিয়া: কলকাতার কাস্টিং ডিরেক্টর অনন্যা দি একদিন আমাকে বললেন, বলিউডে নতুন একটি ছবি হবে। নাম ‘গাওয়া-দ্য উইটনেস’। এই ছবিটির জন্য তোর ছবি পাঠাতে চাই। আমি বললাম পাঠাও কিন্তু তারা কি আর আমাকে কাস্টিং করবে! অনন্যা দি বললেন, সে পরে দেখা যাবে, ছবি পাঠিয়ে দিলাম। অনন্যা দি ছবি পাঠিয়ে দিলেন মুম্বাইয়ের কাস্টিং ডিরেক্টর অপূর্ব জোষেফের কাছে। কিছুদিন পরে অপূর্ব দা ফোনে আমাকে তার প্রাথমিক সিলেকশনের কথাটি জানান। তবে আমার করা কোন ভিডিওচিত্র দেখতে চান। ঠিক এরই মধ্যে আমার করা ‘আশিকী’ ছবির ‘তোর আশিকী’- গানটি ইউটিউবে রিলিজ হয়। গানের ভিডিওচিত্রটি দেখে ‘গাওয়া-দ্য উইটনেস’ কর্তৃপক্ষ আমাকে চূড়ান্ডভাবে চুক্তিবদ্ধ করে।

আনন্দ আলো: অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী ইমরান হাশমীর ছবি মানেই অনিবার্য কিসিং মোমেন্ট। চুক্তিবদ্ধ ছবিতে এরকম দৃশ্য থাকলে কি আপত্তি করবেন?

নুসরাত ফারিয়া: আমি চিত্রনাট্য পড়েছি, সেইরকম কোন দৃশ্য সেখানে নেই বলেই জেনেছি। তারপরেও ছবির শৈল্পিকতার স্বার্থে চুম্বন দৃশ্যের প্রয়োজন পড়লে আমার সেখানে কোন আপত্তি থাকবে না। তবে আপত্তি থাকবে তখনই যদি আমার অভিনয়ের বাইরে বিষয়টাকে আরো অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়।

আনন্দ আলো: ‘গাওয়া-দ্য উইটনেস’ ছবির কাহিনী কি? একটু জানাবেন?

নুসরাত ফারিয়া: ‘গাওয়া-দ্য উইটনেস’ ছবিটি পরিচালনা করছেন বিষ্ণু দত্ত। এটা একটা থ্রিলিং স্টোরি। আমার চরিত্রটি হল মুম্বাইয়ের একজন সাধারণ মেয়ের। সে একজন ডিটেকটিভের প্রেমে পড়ে। ডিটেকটিভের চরিত্রে অভিনয় করবেন ইমরান হাশমী। গাওয়া ছবিতে আরেক জুটি আছেন নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী এবং পায়েল সরকার। এই দুই জুটির মুম্বাই ট্রাভেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবির কাহিনী এগিয়েছে।

আনন্দ আলো: মুম্বাইয়ের ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় আপনি বাংলাদেশের প্রথম অভিনেত্রী যিনি মুম্বাইয়ে অভিনয় করছেন। বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?

নুসরাত ফারিয়া: আমি চলচ্চিত্রের এই ইতিহাসগুলো সম্মন্ধে তেমন অবগত নই। কাজেই আমার আগে মুম্বাইয়ের ছবিতে বাংলাদেশের কেউ অভিনয় করেছেন কিনা সঠিক বলতে পারবো না।
আনন্দ আলো: পশ্চিমবঙ্গের ‘এবেলা’ পত্রিকায় আপনার একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আপনি মন্তব্য করেছেন- ‘বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি বলতে কিন্তু মূলত টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকেই বোঝায়। ওখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার কত ফলোয়ার সেটা দেখে বিচার করা হয় কে স্টার আর কে স্টার নয়!’ আপনার এই মন্তব্য নিয়ে বেশ সমালোচনা চলছে। ব্যাপারটিকে কিভাবে দেখছেন?

02_2নুসরাত ফারিয়া: আমার মনে হয়েছে আমি হয়তো আমার বক্তব্যকে তাদের কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারিনি। তারা আমার বক্তব্যকে মিসরিড করেছে। আমি কোনভাবেই আমার দেশকে খাটো করে কথা বলিনি। আমি নিজের মাধ্যমে আমার দেশ বাংলাদেশকেই প্রতিনিধিত্ব করি।

পুরো নাম: নুসরাত ফারিয়া বাবার নাম: মাযহারুল ইসলাম মায়ের নাম: ফেরদৌসি বেগম জন্মদিন: ৮ সেপ্টেম্বর রাশি: কন্যা উচ্চতা: ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি ভাই-বোন: দুই বোন, এক ভাই। ফারিয়া মেজো। দেশের বাড়ি: কুমিল­া প্রিয় রঙ: লাল প্রিয় পোশাক: সালোয়ার কামিজ পড়ালেখা: বিবিএ পড়ছেন এআইইউবি-তে লক্ষ্য: উচ্চ শিক্ষা অর্জন এবং গ্রেট পারফর্মার হওয়া প্রিয় মডেল: তানিয়া আহমেদ প্রিয় অভিনেতা: শাওন মিডিয়ায় প্রথম কাজ: কুইজ শো- ঠিক বলছেন তো! মিডিয়ায় যাত্রা শুরু: নভেম্বর ২০১২

চলচ্চিত্রে ফারিয়ার ভবিষ্যৎ অনেক ভালো-আব্দুল আজিজ

আশিকী যৌথ প্রযোজনার একটি ছবি। আশিকীর বাংলাদেশ অংশের প্রযোজক ও পরিচালক জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার মোঃ আব্দুল আজিজ। আশিকীর ব্যবসায়িক সফলতা এবং নবাগত নায়িকা হিসেবে নুসরাত ফারিয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রযোজক ও পরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, আমার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে আশিকী। আমি সত্যি ভাবতেও পারিনি আশিকী এতোটা সফল হবে। ছবিটি দুই বাংলাতেই সাড়া ফেলেছে। যার কারণে আমিও দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছি সামনে আরো ভালো ভালো কাজ করার জন্য। নিজস্ব প্রযোজনার পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার কাজও নিয়মিত করার উৎসাহ পাচ্ছি। আর নবাগত নায়িকা নুসরাত ফারিয়া এককথায় অসাধারণ একজন অভিনেত্রী। মেধাবী এবং পরিশ্রমী। চলচ্চিত্রে তার ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। আমাদের চলচ্চিত্র জগতে তিনি শক্ত জায়গা করে নেবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। আর তিনি যথেষ্ট যোগ্য বলেই কিন্তু বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নুসরাত ফারিয়া সামনে অন্য কোনো ছবিতে অভিনয় করবেন কীনা জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ বলেন, অবশ্যই করবেন। ইতোমধ্যে আমাদের পরবর্তী ছবি প্রেমী ও প্রেমীতে ফারিয়াকে ফাইনাল করা হয়েছে। বলিউডে বাংলাদেশী অভিনেতা অভিনেত্রীরা!

গাওয়াহ্ দ্য উইটনেস; নামের একটা ছবিতে, ইমরান হাশমির বিপরীতে বলিউডে অভিনয় করতে যাচ্ছেন হালের আলোচিত চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। এর আগেও বাংলাদেশী স্বণামধন্য বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী বলিউডের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা, ববিতা এবং শাবানাও বলিউডে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে ভারত বাংলাদেশ ও কানাডার যৌথ প্রযোজনায় ‘গেহরি চোট’ নামে একটি ছবি মুক্তি পায়। যেটি হিন্দি ও বাংলা দুটি ভাষায় মুক্তি পেয়েছিল, যেখানে নাদিম বেগ এর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন জনপ্রিয় নায়িকা ববিতা। এই ছবিটিতে শশী কাপুর, পারভিন ববি ও শর্মিলা ঠাকুরের মত স্বণামধন্য শিল্পীরা অভিনয় করেছিলেন। ১৯৮৫ সালে হিন্দি ছবির পরিচালক শক্তি সামন্ত মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে ‘অর পার’ নামক একটি ছবি বানান। সে ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী রোজিনা। এ ছবিটি বাংলা ভাষায় ডাব করা হয়েছিল ‘অন্যায় অবিচার’ নামে। বাংলাদেশ থেকে বলিউডে প্রথম অভিনয় করেন রোজিনা। ১৯৮৬ সালে বলিউডে প্রথম বাংলাদেশি অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন শাবানা। প্রমোদ চক্রবর্তীর ‘শত্র“’ সিনেমায় সুপারস্টার রাজেশ খান্নার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ঐ সিনেমায় গোলাম মোস্তাফাও একজন অসৎ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও ছিলেন সৈয়দ হাসান ইমাম। বাংলাদেশের নায়কদের মধ্যে রিয়াজও ইংরেজি ভাষায় নির্মিতবলিউডের একটা ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সুস্মিতা সেন। চিত্রনায়ক ফেরদৌস ২০০১ সালে ইকবাল দুড়ানি পরিচালিত ছবি ‘মিট্টি’তে অভিনয় করেন। ছবিটি বলিউডে বেশ দর্শক নন্দিত হয়।