প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতা-২০১৬ পুরস্কার পেলেন ১৩ আচার শিল্পী

প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতা-২০১৬ পুরস্কার পেলেন ১৩ আচার শিল্পী

SHARE
Pran-Achar

মোহাম্মদ তারেক

দেশ বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরা ছিলেন অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি। বক্তৃতা দেয়ার সময় অভিভূত তিনি। মুখে মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে বললেনণ্ড প্রাণ এমন একটি নাম যা পুরো বাংলাদেশের প্রাণকে এক সূত্রে বেঁধেছে। শুধু কী দেশেই প্রাণের ব্যাপ্তি? তা নয় বিশ্বজুড়ে প্রাণ গাইছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের গান। প্রাণের সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয়েছিল ‘প্রাণ ১৭তম জাতীয় আচার প্রতিযোগিতা। শহরকেন্দ্রিক নয় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নারীরাও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। একজন নারীকে উৎসাহিত করা মানেই একটি পরিবারকে এগিয়ে নেয়া। প্রাণের সৃজনশীল এই উদ্যোগের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য নারী সৃষ্টিশীল কাজে আগ্রহী হচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে নারী। এজন্য প্রাণ গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

হ্যাঁ, আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে আমরাও প্রাণ গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই তার সৃষ্টিশীল নানামুখি সামাজিক উদ্যোগের জন্য। বিশেষ করে নারীদেরকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে প্রাণ গ্রুপ বিশেষ ভাবে প্রশংসা পাবার যোগ্য।

আচার প্রতিযোগিতার কথাই যদি ধরি। কেউ কি ভেবেছিল আচার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কোনো নারী  ২ লাখ টাকার পুরস্কার জিতে নিবে। পুরস্কারের ক্ষেত্রে টাকার অঙ্কটাই বড় কথা নয়। বড় কথা হলো স্বীকৃতি। হ্যাঁ আমিও পারিণ্ড নারীর মনে এই যে সাহস যোগানো এই কাজটিই করছেন প্রাণ গ্রুপ। এবার প্রাণণ্ডএর উদ্যোগে আচার প্রতিযোগিতার ১৭ তম আসরে সারাদেশ থেকে ৪ হাজার ৭১০ জন প্রতিযোগিনী তাদের বানানো প্রায় ৭ হাজার আচার পাঠিয়েছিল। বিচারকদের রায়ে ১৩টি আচারকে পুরস্কৃত করা হয়। ২০১৬ সালের বর্ষসেরা আচার বানিয়ে ঢাকায় শাহনাজ শারমিন জিতে নিয়েছেন দুই লাখ টাকার পুরস্কার।

একথা বোধকরি সবাই স্বীকার করবেন বাঙালি নারী মানেই এক একজন আচার শিল্পী। বিশেষ করে শীত মৌসুমে প্রায় প্রতিটি পরিবারে আচার বানানোর হৈ চৈ পড়ে যায়। অনেকে শীতের মিষ্টি রোদে শুকাতে দেন আচারের বৈয়ম। প্রতিটি বৈয়মে থাকে নারীর মায়াময় স্পর্শ। সেদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাণের ১৭ তম জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ছিল এমনই মায়াময় পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপণ্ডএর পরিচালক (করপোরেট ফিন্যান্স) উজমা চৌধুরী। তিনি বলেন, একটানা ১৬ বছর ধরে প্রাণ দেশের আচার শিল্পীদের পুরস্কৃত করে আসছে। দেশীয় আচারের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই প্রাণের এই সৃজনশীল উদ্যোগ। তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তা প্রাণ আর  এফ এল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মেজর জেনারেল (অব) আমজাদ খান চৌধুরীকে।

অভিনয় শিল্পী নওশীনের মনোজ্ঞ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। কখনও নাচ, কখনও গান আবার কখনও মুকাভিনয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন হাবিব ওয়াহিদ, মাসুম, রেশমি, সুকন্যা ও রাজু। নৃত্য পরিবেশন করে ঈগল ডান্স কোম্পানি। একটি বিশেষ পর্বে অংশ নেন অভিনয় শিল্পী ইমন ও নিপুণ।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ নিসাত পারভিনের নেতৃত্বে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে আলোচিত ১০ নারী। বিভিন্ন বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেনণ্ড টক: ঢাকার মিনারা খাতুন, নাছরিন আক্তার ও বরিশালের শারমিন সুলতানা। মিষ্টি: ঢাকার ফরিদা পারভিন, নাজমা রহমান ও আনিকা তাবাসসুম। ঝাল: সুনামগঞ্জের আয়েশা খাতুন, ঢাকার হাফসা খান ও ময়মনসিংহের কমল। অন্যান্য: বরিশালের আমেনা বেগম, ঢাকার তাছনুভা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শামসুন্নাহার হক।

বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিযোগিতার গণমাধ্যম সহযোগী চ্যানেল আইণ্ডএর নির্বাহী পরিচালক ইসরারুল হক, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী, পরিচালক উজমা চৌধুরী, প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা, নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ, কক্তশিল্পী সুজীত মোস্তফা, অভিনেতা আজিজুল হাকিম ও নাট্যকার জিনাত হাকিম, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ নিসাত পারভিন এবং কণ্ঠশিল্পী লিনা তাপসী। নগরীর বিভিন্ন সেক্টরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী, সাহিত্যিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।