Home আরোও বিভাগ ইভেন্ট প্রসঙ্গ: ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতা

প্রসঙ্গ: ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতা

SHARE
Mis-University

নমপেন সিটি কম্বোডিয়া থেকে ফিরে রাজু আলীম: স্থান কম্বোডিয়ার নমপেন সিটি খো পিক থিয়েটার হল সারাবিশ্বের হাজারো দর্শক অপেক্ষা করছেন। একে একে ঘোষণা আসছে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার বিজয়িনীদের নাম। সবারই চোখে মুখে বিস্ময় ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। উৎকণ্ঠা কাজ করছে কম্বোডিয়া প্রবাসী বাঙালি এবং বাংলাদেশ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত  আয়োজকদের ভেতরেও। পারবে কি বাংলাদেশের প্রতিযোগী জিতে নিতে কোনো একটি বিশেষ অ্যাওয়ার্ড? বিশ্বের ৮৩টি দেশ বিশেষ করে এশিয়ার পরাক্রমশালী ভারতের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে পারবে কি বাংলাদেশ জিতে নিতে কোনো অ্যাওয়ার্ড? খো পিক হল জুড়ে রুদ্ধশ্বাসপূর্ণ উত্তেজনা। অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! মঞ্চ থেকে আসে সেই ঘোষণা- এবারের ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস মিস মেসনেট নিউজ অ্যাওয়ার্ড জিতেছে  প্রতিযোগিতায় ৪৪ তম দেশ হিসেবে অংশ নেয়া বাংলাদেশের প্রতিযোগিনী তাহমিনা পিংকি। ঘোষণার সাথে সাথে হল জুড়ে হর্ষধ্বনি কম্বোডিয়া প্রবাসী বাঙালি এবং বাংলাদেশের আয়োজকদের মাঝে। উল্লাসে মেতে ওঠেন সবাই। উড়তে থাকে বাংলাদেশের পতাকা। মিস মেসনেট নিউজ এর শ্ল্যাষ পরিয়ে দেয়া হয় তাহমিনা পিংকিকে। এভাবেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত¡ বিভাগের ছাত্রী তাহমিনা পিংকি হয়ে ওঠেন এবারের ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতার মিস মেসনেট নিউজ। এর আগে এই প্রতিযোগিতার বাংলাদেশের পর্বে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড প্রেজেন্টস ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন তাহমিনা। বাংলাদেশ থেকে পঁচিশ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর ক্রাউন জিতে নিয়েছিলেন তাহমিনা। বাংলাদেশের আলোচিত এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছিল সাউথ ইউনিভার্সিটি এর ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী তাহসিন ওয়াজেদ এশা আর দ্বিতীয় রানার আপ বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি এর ছাত্রী ফাতেমা ইয়াসমিন লিয়া। এছাড়া বেষ্ট লুক স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি এর ফারহানা ইয়াসমিন আনিকা, বেস্ট স্মাইল শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি এর অনিন্দিতা মিমি, বেস্ট হেয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ফরিদপুর এর শারমিন হেনা, বেস্ট স্কিন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এর নূসরাত জাহান খন্দকার মেঘনা, বেস্ট পার্সোনালিটি ঢাকা সিটি কলেজ এর বিবিএ এর ছাত্রী আয়শা নূদরাত, মোস্ট স্টাইলিশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এর বিবিএ মার্কেটিং এর শিক্ষার্থী সাদিয়া সামাদ শর্মি এবং মিস কনজিনিয়ালিট ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এর প্রীতি আহাদ। বাংলাদেশ থেকে তাহমিনা পিংকি বিজয়ী হয়ে সারা বিশে^র ৮৩টি দেশ থেকে নির্বাচিত ৮৩ জন মিস ইউনিভার্সিটি সাথে চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নেন। আর এই ৮৩ সুন্দরীদের নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রæমিং হয় কম্বোডিয়ায়। কম্বোডিয়ায় যাওয়ার জন্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়া প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে পনের জনকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেখান থেকে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একজনের মাথায় তুলে দেয়া হয় ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর মুকুট। ১৭ নভেম্বর, শুক্রবার, সন্ধ্যা ০৬ টায় চ্যানেল আই ভবনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত হন বিজয়ী তাহমিনা। চূড়ান্ত পর্বে কম্বোডিয়ায় অনুুুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি-২০১৭ এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে  মেসনেট নিউজ নির্বাচিত হয়ে তিনি সারা বিশে^ জাতিসংঘের প্রতিনিধি হয়ে ছড়াবেন শান্তির বার্তা। জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার বসেছিল প্রতিযোগিতার ২৮ তম আসর। জাতিসংঘ সারাবিশে^র শান্তি বিষয়ে কাজ করে। তাই তাদের পিস কিপিং প্রজেক্টে সারাবিশে^র বিশ^বিদ্যালয়ে পডুয়া মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্যে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হয় এমন একজনকে যিনি শুধু সৌন্দর্যেই বিচারেই নয়  সেই সাথে পড়াশোনা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও স্বাক্ষর রাখবেন নিজের মেধার। বাংলাদেশে এবারের প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল অপূর্ব ডটকম। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আলোকচিত্র শিল্পী অপূর্ব আবদুল লতিফ। আয়োজন সম্পর্কে বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রজেক্ট হওয়ায় এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা বিজয়ী নির্বাচিত করতে পেরেছিলাম এবং আমাদের নির্বাচিত বাংলাদেশের প্রতিযোগী তাহমিনা মিস মেসনেট নিউজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে তাই আমরা সত্যিই গর্বিত।’ বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে প্রধান বিচারক ছিলেন এয়ার লাইন্স ব্যক্তিত্ব হানিফ জাকারিয়া, অপূর্ব আবদুল লতিফ, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান, ফ্যাশন ডিজাইনার তামিমা শামস, ফ্ল্যাগ গার্ল প্রিয়তা ইফতেখার, ২০১৫ এর ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি মুনজেরী অবনী এবং আবৃত্তি শিল্পী রুপা চক্রবর্তী।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড ফিনালের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী মিস মেসনেট নিউজ নির্বাচিত হওয়ায় তাহমিনা পিংকিকে আন্তরিক অভিবাদন জানান। তিনি  প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের মেধা দিয়ে বিশ^জয় করবে। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী মুক্তির বিশ^দরজা খুলে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘তাহমিনা খুবই ট্যালেন্ট। মিস মেসনেট নিউজ নির্বাচিত হয়ে সে তার প্রমাণ দক্ষতায় রেখেছে। বাংলাদেশের নারীরা সব জায়গায় এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।’

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন বাংলাদেশের মেয়েদেরকে বিশ^দরবারে তুলে ধরার এই প্রতিযোগিতার প্রশংসা করেন।

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর দিলীপ কুমার আগারওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়ে তাহমিনা সুন্দরী মিস মেসনেট হয়ে বিশ^ শান্তি মিশনে জাতিসংঘের হয়ে কাজ করবে এটি সবার জন্যে আনন্দের।’

এবারের ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার অন্যতম স্পন্সর ইয়ামাহা এসিআই মোটরস-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, ‘পিংকি মিস মেসনেট নিউজ নির্বাচিত হয়ে এটি আমাদের জন্যে আনন্দের সংবাদ। ইয়ামাহা সবসময় তারুণ্যের প্রতীক। তাই ইয়ামাহা সবসময়ই তরুণদের সাথে থাকবে।’ বইবাজার-এর সিইও রেজাউল করীম মিস মেসনেট নিউজ তাহমিনা পিংকি এর জন্যে তাদের প্রকাশিত বইয়ের ওপরে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন।

Mis-University-1তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর আয়োজক এবং প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সত্যিই আমি গর্বিত। আগামীতে বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা। ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড একটা প্রোগ্রাম। সারা বিশ্বব্যাপি এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ বছর ধরে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতা এর আগে দুইবার অনুষ্ঠিত হয়েছে অনলাইন ভিত্তিক। জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া এবং মুনজেরী অবনী ২০১১ এবং ২০১৪ সালে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চ্যাম্পিয়ান হয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। এই বছর যখন ২০১৭ সালে যখন অপূর্ব ডট কম এই প্রতিযোগিতার লাইসেন্স পার্টনার  হিসেবে আয়োজন করছিল তখন আমাকে আমন্ত্রণ জানালো হলো যে, ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা হচ্ছে এই জায়গায় আপনার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে জানানো হলো আমাকে। আমি মিস ওয়ার্ল্ড বা মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা বিশ্বব্যাপী খুব নাম করেছে বলে জানতাম কিন্তু মিস ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতা এত পরিচিত ছিল না বাংলাদেশে। অপূর্ব আবদুল লতিফ যখন আমাকে বললো এই প্রতিযোগিতায় আপনি আমাদের সাথে থাকেন। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতায় আমি থাকবো এটি শুনতে ভালোই লাগলো। কারণ ইউনিভার্সিটির শিক্ষিত মেয়েদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতা। তাই আমার মনে হলো এই প্রতিযোগিতা বড় আকারে করা যায় বাংলাদেশে। আর আমি এতে সম্পৃক্ত থাকতে পারি। তাই আমি অপূর্ব এর সাথে এই ইভেন্টে যুক্ত হলাম। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আমরা গ্রæমিং শুরু করি। ২৫ হাজারের মতো মেয়ে এই প্রতিযোগিতার জন্যে এন্ট্রি করে। ২৫ হাজার থেকে ৫০০ তারপরে ১০০ এরপরে ৪০ পরে ২৫ এর পরে টপ ফিফটিন সিলেকশন করি। এরপরে বাংলাদেশে যারা এডুকেশন বেজড কাজ করেন তাদেরকে এই প্রতিযোগিতার সাথে সম্পৃক্ত করি। কারণ এটি শুধুমাত্র একটি বিউটি কনটেস্ট না, এটি একটি এডুকেশন প্ল্যাটফর্মও বটে। বিশ্বব্যাপী এরা কাজ করবে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষিত মেয়ে যাবে। তাই এদের গ্রæমিং এবং টিচিং ইন্সট্রাকটর হিসেবে কাজ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান, কম্বোডিয়ায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর ইংরেজি নিউজ প্রেজেন্টার রওনক জাহান, বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী রূপা চক্রবর্তী, আনন্দ আলো  সম্পাদক রেজানুর রহমান, ডান্স কোরীয়গ্রাফার পূজা সেনগুপ্ত, ফ্ল্যাগ গার্ল প্রিয়তা ইফতেখার, হানিফ জাকারিয়া, তামিমা শামস মিতুয়াসহ আরও অনেকে ছিলেন। প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে এই প্রতিযোগিতার সাথে আমি কাজ করা শুরু করি। ফাইন্যান্সিয়ালসহ নানা বিষয়ে আমি কো- অপারেশন করেছি। পরে যুক্ত হয় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। প্রতিযোগিতার নাম হয় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। পাওয়ার্ড বাই ইয়ামাহা, ওয়্যারড্রব পার্টনার ছিল প্রেম কালেকশন, বই বাজার, বাংলাপ্রকাশ, এনআরবি জবস এবং পারসোনা। গ্রান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে আসেন প্রধানমন্ত্রীর মাননীয় তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সেক্রেটারী ফরিদা ইয়াসমিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি এর উপাচার্য ড. হান্নান চৌধুরী, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর দিলীপ কুমার আগারওয়ালসহ অন্যরা। প্রেস কনফারেন্সে ছিলেন অমিকন গ্রæপ অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট-এর চেয়ারম্যান মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-এর অন্যতম আয়োজক ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান। এই ইভেন্টে ডিজিটাল মিডিয়া পার্টনার ছিল সময় টিভি। এছাড়া অন্যসব টিভি চ্যানেলগুলোর সহযোগিতাও আমরা পেয়েছি।

উইনারকে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার ২০ দিন আগে ইন্টারন্যাশনাল গ্রæমিংয়ে অংশ নিতে হয়। এই কারণে তাহমিনা অথৈ পিংকি বিজয়ী হয়ে নভেম্বরে কম্বোডিয়ায় চলে যায় ডিসেম্বরের ২০ তারিখের ফাইনালের জন্যে নমপেন সিটিতে। তাহমিনা পিংকির পাসপোর্ট ছিল না। তার পাসপোর্ট হতে একটু দেরী হয়েছিল। পিংকিকে পাঠানোর পরে ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি এর অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান মিস্টার সিং মিন লি তার একটি আমন্ত্রণ পত্র আমাদেরকে পাঠান। এরপরে আমি আর অপূর্ব দুইজনে নমপেন সিটি কম্বোডিয়াতে যাই। প্রতিযোগিতা যেখানে হচ্ছে সেই জায়গায় হোটেলের সামনে গিয়ে দেখি বড় করে লেখা ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি। ৮৩ টি দেশের সুন্দরী মেয়েরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। তাই ৮৩ দেশের পতাকা ওখানে উড়ছে। বাংলাদেশের পতাকা ৮৩ দেশের সাথে একটি ফাইভ স্টার হোটেলে উড়ছে এটি দেখে ভালো লাগে। পিংকিদের তখন গ্রæমিং চলছিলÑ ১৮ দিন ধরে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কীভাবে গ্রæমিং হয় তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আমাদের গ্রæমিংয়ের তুলনায় ওইখানের গ্রæমিং পুরোই আলাদা। ৮৩ দেশ ৮৩ ভাষা ৮৩ দেশের মানুষ অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম! এটি কত বড় আয়োজন তা না দেখলে বোঝা যাবে না। কম্বোডিয়ার ইউনিভার্সিটি, রাজপ্রসাদ, পুরনো ঐতিহ্যসহ সব আকর্ষণীয় জায়গায় প্রতিযোগীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর সেরা সেরা এডুকেশনালিস্টরা প্রতিযোগীদের শিক্ষা দিয়েছে। আমরা জানলাম একসময় ৪০ লাখ মানুষ মেরে ফেলা হয়েছিল কম্বোডিয়ায়। সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটি। বাংলাদেশের সাথে কম্বোডিয়ার সম্পর্ক বন্ধু প্রতীম। সেই দেশে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি  রাস্তা হচ্ছে। আমাদের সুন্দরী প্রতিযোগিতার কিছুদিন আগেই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিধিদলসহ কম্বোডিয়া সফর করে এসেছেন। এই সফরের ফলে দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্য এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে- আমরা ওখানে গিয়ে তা উপলব্ধি করি। আমাদের দেশের একটি মেয়ে প্রতিযোগিতায় ওই দেশে গিয়েছে তাই ওখানকার বসবাসকারী বাঙালিরা খুব প্রাউড ফিল করছিল। খো পিক থিয়েটার হলে ওদের রিহারসেল দেখে আমরা খুব মুগ্ধ হয়েছি। এরপরে আন্তর্জাতিক কোনো ইভেন্ট করতে গেলে কীভাবে করতে হবে তা আমরা ওখান থেকে শিখলাম। তাহমিনা অথৈ ৮৩ দেশের ৮৩ ভাষার ৮৩টি মেয়ের সাথে মিশেছে। যা ওর জন্যে দারুণ অভিজ্ঞতা। এটি আমার ভালো লেগেছে এই রকম একটা প্রজেক্টের আমি প্রজেক্ট ডিরেক্টর। আর এই প্রজেক্টের মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই। আর কম্বোডিয়ায় ফাইনাল অনুষ্ঠান লাইভ দেখা গেছে সেই দেশের অপসরা টিভিতে। ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি এর পেজে গেলেই ইন্টারনেটে তা এখনো দেখা যাবে। এশিয়ার কোনো দেশের মেয়ে প্রতিযোগিতায় আমাদের মেয়ের সাথে পারেনি। এটি আমাদের বড় অর্জন। তাহমিনা অথৈ প্রতিযোগিতায় মিস মেসনেট নিউজ নির্বাচিত হয়। মেসনেট হলো কোরীয়ার বিখ্যাত পত্রিকা। ওদের স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে অথৈ। যখন ও এই পুরস্কার পেল তখন ওই হলে উপস্থিত বাঙালিরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। আমরা চেষ্টা করছি ভবিষ্যতে মিস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিিিট প্রতিযোগিতা বাংলাদেশে আয়োজনের। মিস মেসনেট নির্বাচিত হওয়ার পরে তাহমিনা পিংকির আনন্দ ছিল আমাদের জন্যে উৎসাহজনক। আবেগ আপ্লুত পিংকি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বলেন, ‘অনুভূতিটা অনেক বেশি আনন্দের। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এই প্রতিযোগিতায় গিয়ে আমি দেশের সম্মান বজায় রাখবো। আমি মনে করি তা করতে আমি পেরেছি মিস মেসনেট নিউজ অর্জন করে ৮৩টি দেশের মধ্যে আমি আমাদের সম্মান বজায় রাখতে পেরেছি। এই দিক দিয়ে আমি অনেক বেশি আনন্দিত এবং গর্বিত। শুরুতে আমি ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে জানতাম না। আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আমি প্রথম জানি। শুরুতে এটি অনলাইন প্রসেস ছিল। আবেদন করার পরে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করতে হয়েছে। অডিশনের জন্যে ভিডিও পাঠাতে হয়েছে। অডিশনের জন্যে ডাক পেলাম। জাজেস রাউন্ড ছিল। সবকিছু ধাপে ধাপে পার হওয়ার পর আমি টপ টেনে আসি এবং অবশ্যই উইনার হলাম। আমাকে হেল্প করেছে চ্যানেল আই। চ্যানেল আই-এর জন্যে এই ইভেন্ট নিয়ে প্রচারণা অনেক বেশি হয়েছে। তার আগে কিন্তু এত প্রচার পায়নি এই ইভেন্ট। জাতিসংঘের ইউএন-এর একটি প্রজেক্ট এটি। বিজয়ী হয়ে আমি চূড়ান্ত পর্বের জন্যে কম্বোডিয়াতে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। কম্বোডিয়াতে গিয়ে দেখলাম এর প্রসেস সেখানে আরও বেশি ক্রিটিক্যাল। যাওয়ার পরের দিন থেকেই আমাদের কাউন্ট শুরু হয়ে গেছে। স্টাডি বেজড বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছি। পিস ফোরাম, এনভায়রনমেন্ট ফোরাম, ইকনোমিক ফোরাম, ট্যুরিজম এইগুলো নিয়ে ক্লাস হয়েছে। ক্লাস শেষে দুই মিনিট করে সবাইকে একটা স্পিস দিতে হতো। ইমপ্রোভাইব্রেশন-এর কিছু টাস্ক ছিল। ইন্সট্যান্ট একটি বিষয় বলা হলো তার উপরে ১৫ সেকেন্ডের একটি স্পিস দিতে হবে। ১৫ সেকেন্ডের ভেতরে সেই ট্রপিকের বিষয় এবং নিজের পরিচয় তুলে ধরা টাফ। মিস মেসনেট নির্বাচিত হওয়ার আগে আমি যখন স্টেজে এতগুলো প্রতিযোগীর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম- খুব ভয় লাগছিল। কি হতে যাচ্ছে? আমি কী বাংলাদেশের সম্মান ধরে রাখতে পারব কি না? এতজন প্রতিযোগীর মধ্যে আমি কি কোনো অ্যাওয়ার্ড পাব? আমার নাম আসবে কি না, নানা উৎকণ্ঠা কাজ করছিল? ঠিক সেই মুহূর্তে বললো, ফরটি ফোর বাংলাদেশ। তখন আমি অবাক হয়ে যাই। এতগুলো দেশের মধ্যে বিশেষ করে এশিয়ার মধ্যে একমাত্র আমিই পেয়েছি অ্যাওয়ার্ড। সেই মুহূর্তের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। চোখে পানি চলে এসেছিল কিন্তু আমি মুখে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমাদের ন্যাশনাল ডিরেক্টর অপূর্ব আবদুল লতিফ এবং প্রজেক্ট ডিরেক্টর রাজু আলীম। তারা আমাকে সাহস দেয়ার জন্যে ফিনালের আগে কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন। তাদের দিকে আমি বারবার তাকাচ্ছিলাম যে, তাদের এক্সপ্রেশন কি? আমি মিস মেসনেট নির্বাচিত হলাম, তাদের অনুভূতি কি তা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। দেখলাম তারাও খুব উল্লসিত এবং খুশি। চিৎকার করছিল সবাই। কম্বোডিয়ায় প্রবাসী অনেক বাঙালি আছেন, তারাও চিৎকার করছিল বাংলাদেশ এবং আমার নাম ঘোষণার পর। এই সব বিষয় আমাকে সাহস এবং অনেক বেশি আনন্দ দিচ্ছিল ওই মুহূর্তে। এশিয়ার মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া এই সব দেশ ছিল। ভারত কিছুদিন আগে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে আমি কোনো অ্যাওয়ার্ড পাব কি না এ নিয়ে আমার ভেতরে সাসপেন্স কাজ করেছে খুব।’