পর্দায় নিয়মিত থাকার জন্যই ধারাবাহিকে অভিনয় করি

পর্দায় নিয়মিত থাকার জন্যই ধারাবাহিকে অভিনয় করি

854
SHARE
urmila-srabanti-kar

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ ঊর্মিলা শ্রাবনৱী কর। গত ঈদে বেশকিছু ভিন্নধর্মী নাটকে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন শারদীয় দুর্গাপূজার নাটকে।

আনন্দ আলো: ব্যস্ততা কী নিয়ে?

ঊর্মিলা: ঈদের পর দুর্গাপূজার একটি নাটকে অভিনয় করেছি। সুমন ধরের পরিচালনায় ‘তিথির অতিথি’ নামের নাটকটিকে অভিনয় করে অন্যরকম লেগেছে। এছাড়াও কয়েকটি নাটক সামনে অভিনয় করার কথা রয়েছে।

আনন্দ আলো: ঈদের নাটকগুলোর কেমন সাড়া ফেলেন?

ঊর্মিলা: এবার ১২টি নাটকে অভিনয় করেছি। ভালো কিছু গল্পে কাজ করতে পেরে বেশ আনন্দিত আমি। এর মধ্যে-গৌতম কৈরীর ‘ফড়িং জীবন’, শিহাব শাহীনের ‘মেহমান’, মাহমুদ দিদারের ‘বৃষ্টির রং’, রেদওয়ান রনির ‘চলো সবে ডায়েট করি’, শিব্বির আহমেদ মান্নার ‘হারুন মিয়ার খোয়াব’ নাটকগুলোর ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।

আনন্দ আলো: পরিবার ও মিডিয়া দুটো জায়গা কীভাবে সামলে চলেন?

urmila-srabanti-kar1ঊর্মিলা: দুটো জায়গায় আমার খুব প্রিয়। ব্যস্ত থাকার কারণে আমার ওপর পারিবারিক কোনো বিষয় চাপ তৈরি করে না। কারণ পরিবারের সবার কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। বাবা-মার পাশাপাশি স্বামীও কাজের প্রতি বেশ উৎসাহ দেন। আমার বাবা আমার অভিনয়ের বড় একজন ভক্ত। আমার অভিনয় তিনি সবসময় মুগ্ধ হয়ে দেখেন।  বাবা ফেসবুকে আমার প্রতিটি নাটকের খবর শেয়ার করেন, দেখার অনুরোধ করেন। এমনকি আত্মীয়-স্বজনকেও ফোন করেন নাটক দেখার জন্য। তাই আমার প্রতিটি কাজের পেছনে বাবার প্রেরণা কাজ করে সবচেয়ে বেশি।

আনন্দ আলো: ধারাবাহিক না কি একক নাটক? কোন্‌টিকে এগিয়ে রাখবেন?

ঊর্মিলা: আমার মতে, একক নাটকগুলোর মাধ্যমেই দ্রুত দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। দর্শকও বেশি উপভোগ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই নাটকের শেষটা দেখা সম্ভব হয়। কিন্তু ধারাবাহিক নাটকগুলো নিয়ম করে বসে দেখার সময় অনেক দর্শকই পান না। তারপরও পর্দায় নিয়মিত থাকার জন্যই ধারাবাহিকে অভিনয় করি।

প্যারিসের চিঠি

সাগরে নিখোঁজ নাট্যকার ফারুক হোসেনের লেখা একটি নাটকের চিত্রায়ণ হয়েছে ফ্রান্সের প্যারিসে। ৩২ পর্বের  ধারাবাহিকটির নাম ‘প্যারিসের চিঠি’। এটি পরিচালনা করছেন ‘লাল টিপ’ ও ‘পরবাসিনী’খ্যাত পরিচালক স্বপন আহমেদ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ১৭ দিন নাটকটির চিত্রায়ণ হচ্ছে প্যারিসের বিভিন্ন বাড়ি, রেসেৱারাঁ, বুটিকস, কমিউনিটি মিলনায়তন, মেট্রোসহ বিভিন্ন জায়গায়। নাটকটিতে ইমনের সঙ্গে অভিনয় করছেন ‘সেরা নাচিয়ে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া হৃদি শেখ। হৃদি অবশ্য প্যারিসেই থাকেন বছরের বেশিরভাগ সময়। এতে আরো অভিনয় করছেন অভিনেতা সোহেল খান। প্যারিস শহরের প্রবাসী বাংলাদেশি তিন তরুণী এবং ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদকেও দেখা যাবে এতে। ‘প্যারিসের চিঠি’ তৈরি হচ্ছে চ্যানেল আইতে প্রচারের জন্য।

 ইউটিউব বাস্তবতা

সব চ্যানেল ঈদ উৎসবে ভালো মানের নাটক প্রচারের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু দীর্ঘ বিজ্ঞাপন বিরতি এবং প্রায় একই সময়ে সব চ্যানেলের নাটক প্রচার হওয়ার ফলে দর্শক ঠিক মতো নাটক দেখতে পারেন না বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। শুধু তাই নয়- অনেকের মুখেই শোনা যায় টিভি নাটকের দর্শক কমে গেছে। বস্তুত পক্ষে বিষয়টা তা নয়। টিভি চ্যানেলের বিকল্প মাধ্যম ইউটিউবে একেকটি নাটকের লক্ষ লক্ষ ভিউয়ারস দেখা যায়। জনপ্রিয় তারকাদের নাটকের মধ্যে কোনো কোনোটি কোটির ঘরও ছাড়িয়েছে। তাই অনেক নির্মাতা এবং সিনিয়র শিল্পীদের মতে, নাটকের দর্শক কমেনি। টেলিভিশন ছেড়ে ইউটিউবকে এখন নাটক দেখার বিকল্প উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকে। বিরতিহীনভাবে দেখা যায় বলে খুব দ্রুতই এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গত কয়েক বছর ধরে চ্যানেলে নাটক প্রচার হওয়ার পর সেটা সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেয়ার রীতি চালু হয়েছে। সেখানেই দর্শক নাটকের ভালো-মন্দ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন।

অনলাইনে নাটক উন্মুক্ত করার বিষয়ে তরুণ নির্মাতা মাহমুদ দিদার বলেন, ‘চ্যানেলের মতো ইউটিউব হচ্ছে আরেকটি মাধ্যম। চ্যানেলগুলো কিন্তু ইউটিউবে নাটক আপলোড করছে। এতে যারা নাটকটি দেখতে পারেননি, তারা দেখতে পারছেন। সেই সঙ্গে যারা বিজ্ঞাপন এড়িয়ে যেতে চান, তারা ইউটিউবে চলে আসেন। এতে করে নাটকের দর্শকসংখ্যা বাড়ছে। তাই আমাদের উচিত এখন ইউটিউবের মাধ্যমে কীভাবে টাকা পাওয়া যায় সেভাবে কাজ করা। এতে করে একটি নাটকের দুইভাবেই আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে নাটকের মিউজিকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মৌলিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ স্টক মিউজিকের নাটক ইউটিউবে আপলোড হলে কোনো টাকা পাওয়া যায় না।’ এ বিষয়ে আরেক তরুণ নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘এখনো নাটক দেখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো-টিভি চ্যানেল। এটা স্বীকার করতেই হবে। পরিবার নিয়ে টেলিভিশনের সবাই একসঙ্গে নাটক দেখা উৎসবের বড় অংশ। কিন্তু এখন মানুষ ইউটিউবের দিকে ঝুঁকছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বিজ্ঞাপনের আধিক্য। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পরিবর্তন হতে হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই দর্শকের কাছে যত সহজে আমাদের পৌঁছানো যাবে ততই ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হবে। এখন তো ইউটিউবে নতুন নাটক রিলিজও দেয়া হচ্ছে। ’