Home প্রতিবেদন পবনের স্থাপত্য  ভাবনা

পবনের স্থাপত্য  ভাবনা

SHARE

দেশপ্রেম, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে স্থাপত্য শিল্পে যারা দেশের জন্য কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্যে স্থপতি মোহাম্মদ রফিকুল হাসনাইন পবন অন্যতম। বুয়েটে পড়াশোনা করেছেন। বুয়েটের পড়াশুনা শেষ ২০০৩ সালে তিনি যোগ দেন ‘রাইমন’ নামের একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্মে। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন পুলিশ থানা সহ বিভিন্ন স্থাপনার ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন। ছবি আঁকাআঁকি ছিল তার পছন্দের বিষয়। স্কেচেও পারদর্শী ছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত স্থাপত্য অধিদপ্তরে সহকারি স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়েই প্রতিবেদন। লিখেছেন-মোহাম্মদ তারেক

স্থপতি মোহাম্মদ রফিকুল হাসনাইন পবনের জন্ম ঢাকার খিলগাঁও-এ। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। বাবার নাম মৃত: পেয়ার আহমেদ। মা হাসিনা আক্তার সিদ্দিকা। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে পবন সবার ছোট। রফিকুল হাসনাইন পবনের ছবি আঁকাআঁকির বীজটা ছোটবেলা থেকেই রোপন হয়েছিল। স্কুল জীবন থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ছবি আঁকা ও স্কেচ করার প্রতি ছিল তার নেশা। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছেছিল চিত্রশিল্পী হওয়া। কিন্তু স্কেচ করতে করতেই আজকে তিনি হয়েছেন একজন সফল স্থপতি। মায়ের উৎসাহ থেকেই আর্কিটেক্ট হওয়া তার।  মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ১৯৯২ সালে। ১৯৯৪ সালে নটরডেম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। তার সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে আছেন স্থপতি মারুফ, অনিক, বিপ্লব ও শিরোনামহীন ব্যান্ডের ভোকালিষ্ট তুহিন। প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় আছেন স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, মুস্তাফা খালিদ পলাশ ও শাহেদা রহমান।  স্থপতি মোহাম্মদ রফিকুল হাসনাইন পবন বুয়েট থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন ২০০৩ সালে। পাস করে বের হওয়ার পরই যোগ দেন ‘রাইমন’ নামের একটি ফার্মে। সেখানে তিনি দুই NCCOM-Centre,Dhakaexono-3

বছর চাকরি করেন। ২০০৫ সালে স্থপতি রফিকুল হাসনাইন যোগ দেন স্থাপত্য অধিদপ্তরে। সেখানে তিনি সহকারি স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  ইতিমধ্যে রফিকুল হাসনাইন দেশের নামকরা পুলিশ সদর দপ্তর, ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট অফিস, পুলিশ ফাঁড়ি, জিমনেশিয়াম ও বিভিন্ন থানা সহ অসংখ্য ভবনের কাজ করেছেন। তার উলে­খযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় পুলিশ দপ্তরের এম কম সেন্টার, ঢাকার পুলিশ সুপারের বাসভবন, রাজশাহীর পুলিশ কমিশনারের বাসভবন, রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনা পুলিশ থানা, চাঁদপুরের সদর থানা, ওয়ারির পুলিশ ফাঁড়ি, ঢাকা ক্লাবের ইন্টেরিয়র, উত্তরা থানা, ধানমন্ডি থানা, চট্টগ্রামের প্রতেঙ্গা থানা, কাওরান বাজারের এম জি এইচ এর ইন্টেরিয়র, সেন্টমার্টিনের পুলিশ ফাঁড়ি এবং পর্যটন কেন্দ্র, ফুলবাড়িয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ, রাজশাহীর নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের জিমনেশিয়াম সহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন। এছাড়া বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন রফিকুল হাসনাইন। সে গুলো হলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় ২২টি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট, ইউএনডিপি এর অর্থায়নে পিআরপি প্রকল্পের আওতায় গোটা বাংলাদেশে ১১টি থানা ভবনের আধুনিকায়ন ইত্যাদি। রফিকুল হাসনাইন তার সব ধরনের কাজ স্থাপত্য নীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন। ২০০৫ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম নাদিয়া রহমান। তিনি ইউল্যাবের ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এই দম্পতি এক সন্তানের জনক-জননী। ৭ বছরের মেয়ের নাম উনাইসা রাইকা। রফিকুল হাসনাইন বলেন, একজন স্থপতি হিসেবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমূহের ডিজাইন করার জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরে যোগদান করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। এ অধিদপ্তরে কাজ করার মাধ্যমে দেশ ও জনগনের সেবা করার স্পৃহা সব সময় কাজ করে আমার মধ্যে। বাংলাদেশের সরকারি ভবন গুলো তৈরি করতে মূলত বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিভাগ, পরিদপ্তর, বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদাকে মাথায় নিয়ে আমাদের অগ্রসর হতে হয়। সরকারের সীমিত অর্থকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক নির্মাণ শৈলী, নান্দনিকতা আর কাব্যিকতাকে এক সুতোয় বেঁধে স্থাপত্য নকশা তৈরি করে থাকি। সরকারি দায়িত্ব পালনে পেশার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে স্থপতি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে চেষ্টা করি।  বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি মোহাম্মদ রফিকুল হাসনাইন। স্থাপত্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমূহের নকশা সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিয়মের মাঝে থেকেও ব্যতিক্রম করে কার্যকর ও নান্দনিক ভাবে জনগনের সামনে তুলে ধরা এবং কাজের মাধ্যমে স্থাপত্য অধিদপ্তরের জন্য সম্মান বয়ে আনা।