নায়ক বোধ হয় হাবা টাইপের!

নায়ক বোধ হয় হাবা টাইপের!

1209
0
SHARE

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রিতে নব জাগরন শুরু হয়েছে নতুন নির্মাতাদের হাত ধরে। নতুন গল্প, নতুন শিল্পী, কলাকুশলী আর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের বাংলাদেশের সিনেমা একটা শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করতে ইতিমধ্যে অনেক দুর এগিয়ে গেছে। সেই ধারাবাহিকতার প্রয়াস আইসক্রিম নামের একটি সিনেমা। অনেকেই ছবিটির নাম নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। এটা আবার কেমন নাম? ছবির নাম আইসক্রিম হয় নাকি? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ছবির পরিচালক রেদোয়ান রনি। তার মনত্মব্য- আইসক্রিম খেতে যেমন সুস্বাদু, মজার এ ছবির গল্পটিও তেমন। নতুন প্রজন্মের ত্রিভূজ প্রেমের রসায়ন আছে। আইসক্রিম যেমন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় না রাখলে গলে যায়। ছবিতে প্রেমের গল্পটিও তেমন। একেবারে সহজ সরল সমীকরনের প্রেমের গল্প। আইসক্রিম মুক্তি পেয়েছে গত ২৯ এপ্রিল। ইতিমধ্যে ছবিটি ভালো সাড়া পেয়েছে দর্শকদের কাছে। ৮ মে বিকেলে রেদোয়ান রনি তার আইসক্রিম ছবির প্রধান তিন অভিনেতা অভিনেত্রী লাক্স চ্যানেল আই তারকা নাফিজা দুই নায়ক কুমার উদয় ও রাজকে নিয়ে আনন্দ আলোয় এসেছিলেন। ব্যস জমে ওঠে এক আনন্দ আড্ডা। লিখেছেন জাকীর হাসান।

ফটো সেশনের ফাঁকে ফাঁকে পরিচালক রেদোয়ান রনি বললেন, ওরা তিনজন একেবারেই আনকোরা। এই ছবির আগে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায়নি কখনো। আমার গল্প অনুযায়ী ওদেরকে প্রস্তুত করতে হয়েছে।

আনন্দ আলো: (তিন অভিনেতা অভিনেত্রীর প্রতি) প্রথম ছবিতে অভিনয় করে কেমন অভিজ্ঞতা হলো?

নাফিজা: আমি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি আইসক্রিম ছবিতে। আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জ ছিল। ভয় ছিল, উত্তেজনা ছিল। শেখার প্রচন্ড আগ্রহ ছিল। সব কিছু বোধকরি ওভারকাম করতে পেরেছি বেশ ভালো ভাবে। বড়দের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাদের সঙ্গে নানা বিষয় শেয়ার করেছি। আশাকরি পরবর্তীতে এই অভিজ্ঞতা অনেক কাজে লাগবে।

কুমার উদয়: আমি মূলত একজন র‌্যাম্প মডেল। কখনো অভিনয় করিনি, ক্যামেরার সামনেও দাঁড়াইনি। এই প্রথম অভিনয় করলাম। তাও আবার বড় পর্দায়। আমরা একটি পরিবারের মতো মায়া মমতায় জড়িয়ে এ ছবিতে কাজ করেছি। আমাদের কখনো বুঝতে দেয়া হয়নি কঠিন কোনো কাজ করছি। সব সময় হাসি খুশি ভাবে কাজ করেছি। তবে সব কিছু হয়েছে একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে। এই নিয়মটাই আমার কাছে বড় অভিজ্ঞতা মনে হয়েছে। প্রত্যেকটা কাজে একটা পরিকল্পনা থাকে নিয়ম থাকে সেটা আইসক্রিম ছবিতে ছিল।

রাজ: আমাদের একটা টিমওর্য়াক ছিল। যাই হতো টিমের সবার তাতে সহযোগিতা থাকতো। আমি অভিনয়ে একেবারেই নতুন। আমি মূলত র‌্যাম্প মডেল। এর আগে কখনোই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইনি। কিন্তু আমার মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস ছিল, সুযোগ এবং সহযোগিতা পেলে কোনো কাজই কঠিন নয়। দীর্ঘ একটি বছর আইসক্রিম ছবির টিমের সঙ্গে কাটিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি সেটা আগামীতে কাজে লাগবে।

আনন্দ আলো: পরিচালকের কাছে প্রশ্ন- ছবিতে দর্শকের প্রত্যাশা কী পূরণ করতে পেরেছেন?

পরিচালক রেদোয়ান রনি: আমি ছবিতে একটি প্রেমের গল্প বলতে চেয়েছি এই তিন জনের মাধ্যমে। যে গল্পটি দর্শকরা সিনেমা হলে কানেক্ট করবে। গল্পটি লেখার সময় ভেবেছি দশর্করা এই জায়গায় হাত তালি দিবে, এই জায়গায় হাসবে। ছবিটি রিলিজের সময় হলে বসে দেখেছি আমার ধারনা সত্যি হয়েছে। এদিক দিয়ে বলব আমার প্রত্যাশা মোটামুটি পূরণ হয়েছে।

নাফিজা: সিনেমার প্রতি আমরা অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সিনেমায় অভিনয় করার একটা পরিকল্পনা ছিল। এই ছবির মাধ্যমে সেই প্র্যাতাশা পূরন হয়েছে। এই ছবিটি যখন শুরু করি তখন নিজের মধ্যে একটা ভয় কাজ করেছে তাহলো ভালো করতে পারব তো? ছবিটি যখন শেষ হলো আমরা একসঙ্গে বসে দেখলাম তখন মনে হয়েছে হ্যা আমি পেরেছি। আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পেরেছি।

কুমার উদয়: আমি একটু অন্যভাবে বলতে চাই। যাদের টার্গেট করে এই ছবিটি বানানো হয়েছে সেই তরুণ প্রজন্ম কিন্তু খুবই আগ্রহ নিয়ে ছবিটি দেখছে। আমি বলব আমরা অনেকটাই সাকসেস।

রাজ: ছবি মুক্তির পর যে ভাবে সাধারন মানুষ আমাদের বরণ করে নিয়েছে। তারা যে ভাবে আমাদের কাছে টেনে নিয়েছে তাতে আমি অভিভূত। ছবি মুক্তির আগে এটা কল্পনা করিনি। ছবি মুক্তির আগে ভেবেছিলাম প্রথম ছবি, জীবনে কখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইনি কি না কি হবে। কিন্তু না আমরা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছি। তবে আগামী তে এর চেয়েও ভালো করতে হবে সেই দায়িত্ব কাঁধে চেপেছে।

রেদোয়ান রনির কাছে প্রশ্ন এই তিন নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়ে ঢাকা শহরের প্রতিটি সিনেমা হলে দশর্কদের সঙ্গে বসে ছবি দেখেছেন, কথা বলেছেন। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ গিয়েছিলেন। এরপর গিয়েছেন কুমিল্লা আর চট্টগ্রামে। অভিজ্ঞতা কেমন?

রেদোয়ান রনি: সবার ওই একই প্রশ্ন ছবির নাম কেন আইসক্রিম? আপনার প্রথম ছবি চোরাবালী ছিল তারকায় ঠাসা এই ছবিতে কেন আনকোরা সব নতুন মুখ?

নাফিজা: আমরা তো দশর্কদের সঙ্গে সরাসরি বসে ছবি দেখেছি। যে দৃশ্যটি তাদের ভালো লেগেছে তারা হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে যে দূশ্য ভালো লাগেনি তখন চিৎকার চেচামেচি করেছে। একটি গল্প বলি- ময়মনসিংহে হলে বসে দশর্কদের সঙ্গে ছবি দেখছি। ছবির একটি দৃশ্যে আমি নায়ক রাজের বাসায় যাবো। দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে ভাবি যাব কি যাব না। এমন সময় চিৎকার দিয়ে দর্শকরা বলতে থাকে খবরদার বাসায় যাবি না। খবরদার! এরকম নানা কমেন্ট করেছে দর্শক। শুনতে বেশ ভালোই লেগেছে। সিনেমা হলের বাইরে আসার পর মোবাইলে সেলফি তুলতে তুলতে প্রায় পাগলের মতো অবস্থা হয়েছিল।

কুমার উদয়: ছবিতে নায়িকা আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে আমিও তাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমার মধ্যে একটু লজ্জা, ভয় কাজ করে। ছবিতে এসব দেখে দশর্করা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে নায়ক বোধ হয় একটু হাবা টাইপের। তাছাড়া ছবিতে আমার যত ডায়ালগ সে গুলো আমাকেই বলতে থাকে তারা। আইসক্রিমের বেশির ভাগ দর্শক তরুণ। তারা আমাদের সামনা সামনি দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছে। প্রত্যেকেই সেলফি তুলেছে। কেউ কেউ আবার ফোন নম্বর নিয়েছে।

আড্ডার শেষ দিকে রেদোয়ান রনির কাছে প্রশ্ন ছিল- আপনি বলেছেন আইসক্রিম ছবিতে তিন নতুন তারকা দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে। তাদেরকে দর্শক গ্রহনও করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- আগামীতে কী এই তিনজনকে নিয়ে কাজ করবেন?

উত্তরে তিনি বলেন- ওরা তিন জন সত্যিই ভালো অভিনয় করেছেন। দর্শকও ওদেরকে পছন্দ করেছে। আমার আগামী ছবিতে ওরা থাকবে কিনা সেটা সময় বলে দিবে। গল্পে যদি ওদের ডিমান্ড করে তবে অবশ্যই ওরা থাকবে।