দেশ ও জনগণের কল্যাণেই আমাদের যত উদ্যোগ

দেশ ও জনগণের কল্যাণেই আমাদের যত উদ্যোগ

239
0
SHARE
salah-uddin

-সালাউদ্দিন আহমেদ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ

দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও উন্নয়ন উদ্যোগের ক্ষেত্রে পরিচিত নাম সালাউদ্দিন আহমেদ। ৩ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পরিবহন সেবা খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসএ পরিবহনের মাধ্যমে যোগাযোগ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে চলেছেন। এছাড়া এসএ কুরিয়ারের মাধ্যমে প্রথম শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া। এসএ পার্সেল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে নিরন্তন সেবা প্রদান করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এসএ গ্রুপ বিদেশেও তাদের ব্যবসার একাধিক শাখা স্থানান্তর করেছে। তবে এসএ গ্রুপ-এর সফলতার তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এসএ টেলিভিশন। বেসরকারি খাতের সম্পূর্ণ এইচডি এই স্যাটেলাইট টিভি সম্প্রচারের শুরু থেকেই ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। সম্প্রতি দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন সালাউদ্দিন আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম

আনন্দ আলো: পরিবহন ব্যবসা থেকে শুরু করে অনেক ধরনের ব্যবসার সঙ্গে আপনি সম্পৃক্ত। পরিবহন খাতের অবস্থা কেমন? আপনারা কীভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলেন?

সালাউদ্দিন আহমেদ: প্রত্যেক মানুষই নিজের ব্যবসা বা উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে আগ্রহী হন। যখন আমার কিশোর বয়স সেই ১৯৮২ সাল থেকে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তখন থেকেই আমি ব্যবসার পাশাপাশি পরিবহন ব্যবসাকে মূল্যায়ন করেছিলাম। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের যোগাযোগ মাধ্যম ছিল অত্যন্ত দুর্বল। রাস্তাঘাটও খুব প্রশস্ত ছিল না। স্বাধীনতার পরে ৮০-র দশকে আমি চিন্তা করি পরিবহন সেক্টরে প্রথম শ্রেণি কেন নেই? লঞ্চ, ষ্টিমার, প্লেনে আছে? তখন প্রথম শ্রেণির কোচ সার্ভিস দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা অঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বড় বড় বিভাগীয় শহরে আমরা প্রথম শুরু করি। প্রথম কোচ সার্ভিস তার পরে এসেছে কুরিয়ার সার্ভিস। ৮০-র দশকের আগে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কুরিয়ার সার্ভিসের ডকুমেন্ট, ডাক এইগুলো বহন করা হতো। এই কাজে তাদের জবাবদিহিতার ঘাটতি ছিল। তবে আমাদের উদ্যোগকে সবাই স্বাগত জানায়।

আনন্দ আলো: আপনারা কি প্রথম কুরিয়ার সার্ভিস চালু করেন?

সালাউদ্দিন আহমেদ: কুরিয়ার সার্ভিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক, ডকুমেন্ট, পার্সেল শুরু করি। মানুষ একজন সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে কিন্তু ডাক পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সময় আমরা শুরু করে দিয়েছিলাম কুরিয়ার এবং পার্সেল সার্ভিস। জবাবদিহিতার ভেতরে নিয়েই ১৯৮২ সালে এই ব্যবসা আমরা শুরু করি। শুরুর পরে আমরা কতটা কি করতে পেরেছি তার মূল্যায়ন করবেন এই দেশের মানুষ। যারা নিয়মিত আমাদের সেবা গ্রহণ করেন।

আনন্দ আলো: ডিজিটাল বাণিজ্য করতে গেলে দ্রব্য সময় মতো পৌঁছানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কুরিয়ার সার্ভিসের এখানে ভ‚মিকা রয়েছে। আপনার কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান কেমন চলছে?

সালাউদ্দিন আহমেদ: এখন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এমনকি কিছু কিছু জেলায়ও আমাদের কুরিয়ার সার্ভিস-এর সেবা রয়েছে। এই সব জায়গায় এককভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠান সার্ভিসগুলো দিয়ে থাকে। ২০ বছর ধরে আমরা নানা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আপনার জিনিস পেয়ে টাকা পরিশোধ করতে পারছেন। এইটা আমরা ওই পদ্ধতিতে করেছি। আর বর্তমানে বিকাশে যে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি চালু হয়েছে তা কিন্তু প্রথমে আমরাই করেছি। বাংলাদেশে বর্তমানে ৮০ টিরও বেশি শাখা প্রশাখা আমাদের রয়েছে। আর বর্তমানে আমরা বিদেশেও এই সার্ভিস চালু করেছি। অলরেডি সিঙ্গাপুরে আমাদের অফিস চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়াতে অফিস আছে। আর হংকংয়ে অফিস রেনোভেশনের কাজ চলছে।

আনন্দ আলো: বিদেশের ক্ষেত্রে কি কার্গো সার্ভিস নাকি কুরিয়ার?

সালাউদ্দিন আহমেদ: এটি পার্সেল সার্ভিস। ফেডেক্স ও ডিএইএল এর মতো।

আনন্দ আলো: বাংলাদেশে কেউ কি আগে করেছে?

সালাউদ্দিন আহমেদ: না, বাংলাদেশে কেউ করেনি। এটি আমরাই প্রথম করছি। দুইটা চারটা দেশ দিয়ে হবে না। আমরা চাচ্ছি ইউকে, লন্ডন, সৌদি আরবসহ দশ পনেরটা দেশে যদি আমরা কাভার করতে পারি তাহলে তখন আমরা এয়ার কার্গো চালু করবো। আর যা হবে এই সার্ভিসের মাদার অর্গানাইজেশন। যদিও এই সার্ভিসে আমাদের দেশে যারা এসেছেন, তারা বিদেশী এজেন্ট। আমরা চেষ্টা করছি এই সার্ভিসকে আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে দিতে। সততার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা এই কাজে সফল হব।

আনন্দ আলো: টেলিভিশন চ্যানেলে কীভাবে এলেন?

সালাউদ্দিন আহমেদ: আমি পরিবহন সেক্টরের মানুষ হলেও ভেতরে ভেতরে আমি লালন করেছি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সাহেব-এর আদর্শ। তিনি আমাদের খুব আস্থা ভাজন ছিলেন। তাঁর খুব স্নেহধন্য ছিলাম আমি। তাঁর কাছে একদিন টেলিভিশন চালু করার ইচ্ছের কথা বলি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলে টেলিভিশন চ্যানেল চালু করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সম্পূর্ণ এইচডি ফরমেটে এখন টেলিভিনটা আমরা পরিচালনা করছি জনগণের কল্যাণে। পাশাপাশি আমাদের যে অন্য ব্যবসাগুলো আছে সেগুলো, আমরা তো মালিক হিসেবে চাই সেবা দিতে। গণমাধ্যম হিসেবে দেশের এবং জনকল্যাণে কাজ করে চলেছি।

আনন্দ আলো: আপনারা শুরু করেছিলেন টাকা লেনদেন এর মাধ্যমে। সেই সূত্র ধরে বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের অতি সাধারণ মানুষের কাছে। তারপরে এজেন্ট ব্যাংকিং চলে এসেছে। আপনাদের কি কোনো চিন্তা ভাবনা আছে এই দিকে যাওয়ার?

সালাউদ্দিন আহমেদ: এজেন্ট ব্যাংকিং যেটা ব্যাংকের মাধ্যমেই সবকিছু হবে। আমরা শুরু করেছি আশি দশক থেকে। তখন মোবাইল ব্যাংকিং ছিল না।

আনন্দ আলো: মোবাইলই ছিল না, মোবাইল ব্যাংকিং কীভাবে থাকবে?

সালাউদ্দিন আহমেদ: অফিস কিংবা মানুষের অন্য কোনো ঠিকানা ছিল না। আমাদের ৯৫ শতাংশ পার্সেল হলো টু পে পদ্ধতির। এটা হলো শর্তসাপেক্ষ।

আনন্দ আলো: ৯৫ শতাংশ?

সালাউদ্দিন আহমেদ: ৯৫ শতাংশ হলো কন্ডিশনাল।

আনন্দ আলো: তার মানে প্রাপক জিনিসটা পাবে, তারপরে আপনাকে টাকা দেবে?

সালাউদ্দিন আহমেদ: দ্রব্য ডেলিভারির সময় টাকাটা নেব, পার্সেলটা দেব। এটাই আমাদের সেবার বৈশিষ্ট্য। মনে করেন, দিনাজপুর থেকে চাল আনলেন। টেলিফোন করে দিলেন। চাল এসে গেল। টাকাটা দিয়ে চাল ডেলিভারি নিয়ে গেল।

আনন্দ আলো: এর ভেতরে কি সময় ক্ষেপণের ব্যাপার আছে?

সালাউদ্দিন আহমেদ: খুব সময় ক্ষেপণ হয় না। একেবারে ওয়ান টু ব্যাপার। আমরা প্রায় ৩৫ বছরের মতো এই সেবা দিচ্ছি। মোবাইল তো এলো কয়েক বছর হলো। তিনটা সার্ভিস আমরা একসঙ্গে দিচ্ছি। তাই মনে করি বাংলাদেশের সবশ্রেণির মানুষ ৩৫ বছর ধরে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে জানে। বিদেশে গেলেও অনেকে শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের কথা বলেন যে, এই সেই পরিবহন যাত্রীদের সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে হোক, পার্সেল পাঠিয়ে হোক। এই যে একটা পরিচিতি এইটাই আমাদের অর্জন বলে আমি মনে করি। এটাই আমাদের সফলতা এবং সারা বাংলাদেশে এমনকি বিদেশেও। বিদেশে আমরা যে কোম্পানি করতে যাচ্ছি তাও কোনো এজেন্টের মাধ্যমে করছি না। সেখানে বিদেশের একজন ডিরেক্টর নিয়োগ করছি। ডিরেক্টর ছাড়াতো কোম্পানি করা যায় না তাই। আমরা চাই বাংলাদেশের কেউ যদি সেখানে বসবাস করেন তাকে সেই পদে রাখতে।

আনন্দ আলো: টেলিভিশন মিডিয়ার রূপান্তর ঘটছে। মানুষ টিভি বাদ দিয়ে ইউটিউব দেখছে? এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন কীভাবে?

সালাউদ্দিন আহমেদ: টেকনোলজি দিনদিন আপডেট হচ্ছে। আমরা যদি না করি তারা দেখবে কোথা থেকে? আমাদের ঘটনাই তারা মোবাইলে বা বিভিন্নভাবে দেখছে।

আনন্দ আলো: তার মানে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে?

সালাউদ্দিন আহমেদ: এটাকে একেবারে বাদ দিলে চলবে না। আগে তো বিটিভি ছিল- আমাদের প্রাইভেট টেলিভিশন, বিটিভির সময় যে প্রসার ছিল তারচেয়ে বর্তমানে অনেকগুণ বেড়েছে এই প্রাইভেট টেলিভিশন আসার পরে। চ্যানেল আই, এটিএন একেবারে প্রথম দিক থেকেই ছিল। পরে অনেকগুলো টেলিভিশন চ্যানেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, এরপরে কিন্তু গ্রামগঞ্জে গেছে।

আনন্দ আলো: সরকার শুরুটা করে দেবে, তা এগিয়ে নেবে প্রাইভেট সেক্টর?

সালাউদ্দিন আহমেদ: আমার কিন্তু এগ্রিকালচার সম্পর্কেও ধারণা আছে এবং পশু পালন বা লাইভস্টক সম্পর্কেও ধারণা আছে।

আনন্দ আলো: আপনার কি ইচ্ছা আছে- এই ব্যবসায় আসার?

সালাউদ্দিন আহমেদ: আছে, আমি অলরেডি- এগ্রোবেজড একটা ফিড মিল্ক করতে যাচ্ছি মিঠাপুকুরে। এটি আন্তর্জাতিক মানের একটা ফিড মিল্ক হবে।