Home সাক্ষাৎকার দেশের উন্নয়নে কাজ করছে দেশবন্ধু গ্রুপ

দেশের উন্নয়নে কাজ করছে দেশবন্ধু গ্রুপ

SHARE
Golam-Rahman

গোলাম রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দেশবন্ধু গ্রুপ

কৃতিত্ব ও স্বীকৃতির সাথে সময়ের পথে কাজ করে চলেছেন গোলাম রহমান। বর্তমান সময়ের বিশিষ্ট উদ্যোক্তাদের একজন। আদর্শ উত্তম মুসলিম পরিবারে জন্ম। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিশ্রæতিশীল কর্মজীবন শুরু করেন। স্নাতক শেষ হওয়ার পরেই ব্যবসার জগতে তার প্রবেশ। বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিসিসিআই, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন এবং উত্তরা ধরলা স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন-এর সাথে জড়িত। আর বর্তমানে তিনি দেশবন্ধু গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। গোলাম রহমান ২০১৩ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সিআইপি স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার জীবন সংগ্রাম এবং বাণিজ্যিক যাত্রা বাধা মুক্ত ছিল না। কিন্তু অটুট লক্ষ্য, তীক্ষè দৃষ্টি ভঙ্গি ও দৃঢ় সিদ্ধান্তে কখনো হারিয়ে যাননি তিনি একটি মুহূর্তের জন্য ফোকাস থেকে। তাই আজ নিজেকে নিজের সময়ের সেরা উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশের ‘নাইট ইন শিনিং আর্মার’ খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব। দেশবন্ধু গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান তিনি। বড় ভাইয়ের অনুপ্রেণায় ছোট ভাই গোলাম রহমান সাফল্যের পথে হাটছেন। সফল এই উদ্যোক্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম।

 

 

আনন্দ আলো: দেশবন্ধু গ্রæপ-এর সামগ্রিক ব্যবসায়িক কর্মকাÐ সম্পর্কে জানতে চাই?

গোলাম রহমান: আমরা ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসা দেশবন্ধু সুগার মিল দিয়ে শুরু করি। ১৯৩৪ সালে দেশবন্ধু সুগার মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন এটি স্থাপন করেন। তিনি স্বদেশী ছিলেন। তারপরে কয়েকজন মালিক ঘুরে বর্তমানে এর দায়িত্ব আমাদের কাছে এসেছে সরকারের পলিসির আওতায়। আমরা এর দায়িত্ব নেয়ার পরে দেখলাম- ওই এলাকায় আখ হয় না। তাই আমরা এর সাবস্টিটিউট ’র ম্যাটেরিয়াল- যা ব্রাজিল, থাইল্যান্ড এবং ইন্ডিয়ায় হয়। ওইটা ইমপোর্ট করে ’র সুপার দিয়ে রিফাইন করে বাজারজাত করছি। এই রিফাইন সুগার আমরা দেশের চাহিদার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় রপ্তানি করছি। বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা রিফাইন সুপার এসোসিয়েশন-এর মেম্বার। বাংলাদেশে তথা এই উপমহাদেশে আমরাই প্রথম রিফাইন এসোসিয়েশন-এর মেম্বার। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনেক সমাদৃত এবং সেখানে ইবিএ কোটায় সুগার এক্সপোর্ট করি। এখন আমাদের বিএমআরই চলছে ৫০০ শত টন ক্যাপাসিটি এবং আগামী মাস থেকে ১৫০০ প্লাস টন প্রডাকশন হবে। অত্যন্ত অতি আধুনিক প্রযুক্তিতে আমরা এটি সম্পন্ন করছি। এর ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আমরা বিদেশে রপ্তানি আরও বাড়াতে পারবো। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি।

আনন্দ আলো: এছাড়া অন্য কি প্রোডাক্ট আসছে আপনাদের?

গোলাম রহমান: নতুন প্রোডাক্ট দেশবন্ধু বেভারেজ আসছে। এখন কোমল পানীয় প্রস্তুত করছি। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় আমরা এক লাখ বোতল উৎপাদন করতে পারবো। আপাতত লক্ষ্যমাত্রা আছে দেড় লাখ পর্যন্ত। দেশে আমরা বাজারজাত করছি আমাদের কোয়ালিটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন। ইতোমধ্যেই তা সমাদৃত হয়েছে। নতুন আরও প্রজেক্ট চলছে- দেশবন্ধু পলিমার। এটি একটি লিস্টেড কোম্পানি। সেকেন্ডারী মার্কেটে এর শেয়ার বেচাকেনা হয়।

আনন্দ আলো: দেশবন্ধু সিমেন্টের ক্ষেত্রেও কিন্তু খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং  অবকাঠামো উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখছে। এই সম্পর্কে কিছু বলুন?

গোলাম রহমান: বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় নর্থবেঙ্গল শিল্পায়নে পিছিয়ে আছে। আমার বাড়িও উত্তরবঙ্গে। তাই উত্তরবঙ্গের শিল্পায়নের জন্যে সিরাগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে আমাদের সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি করেছি। বর্তমানে ৫০০ টন সিমেন্ট উৎপাদন করছি এবং ২২ শত টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এগিয়ে চলেছে। জেনে খুশি হবেন শিল্প পার্ক বলতে আমরা এটি পিএসএফ ইন্ডাস্ট্রি করছি সিরাগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়টা থেকে বগুড়ার দিকে যেতে এক কিলোমিটার পরে পিএসএফ ফ্যাক্টরি করছি। পিএসএফ মানে পলিস্টার স্টাপল ফাইবার- এটি গার্মেন্টস শিল্পের একমাত্র ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ পলিস্টার ফ্রেব্রিকস এর জন্যে। বাংলাদেশে এটির কোনো ইন্ডাস্ট্রি নেই। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জার্মান টেকনোলজিতে আমরা এই ফ্যাক্টরি স্থাপন করছি। আগামী বছরে এর কার্যক্রম শুরু হবে।