দূরত্ব বাড়বে না ভালোবাসায়

দূরত্ব বাড়বে না ভালোবাসায়

1253
SHARE

নাজমা জামান ভেবে পান না তার আদরের বউমা ফোনে এতো কি কথা বলে? ছেলে থাকে ভিনদেশে সাত সমুদ্দুর তের নদীর পাড়ে। অথচ বউমা তার সাথে যখন খুশি তখনই কথা বলে। একঘন্টা আগে কানের কাছে ফোন ছিল এখনো সেই ফোন ধরে আছে। নাজমা একবার ভাবেন বউমাকে জিজ্ঞেস করবেন- কি এতো কথা বল বউমা? পরক্ষণেই নিজেকে গুটিয়ে নেন। এখনইতো ওদের কথা বলার সময়। সংসার জীবনের শুরুর কথা ভাবেন নাজমা জামান। বিয়ের পরপরই স্বামী চলে যান শহরে। তারপর চাতক পাখির মতো স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতেন। স্বামী মাসে, দুই মাসে বাড়ি আসতেন। তবে চিঠি পাঠাতেন। সেই চিঠি আসতেও সময় লাগত কখনো ৭ দিন, কখনো ১০ দিন, কখনো তার চেয়েও বেশি। এক একটা চিঠি যেন এক একটা বড় উপন্যাস। চিঠি ছাড়া তখনকার দিনে যোগাযোগের আর কোনো মাধ্যম ছিল না। টিএন্ডটির টেলিফোন ছিল। কিন্তু সেটা ছিল বড়লোকদের জন্য। নাজমা জামান টেলিফোন দেখেছেন একবারই শহরে যাবার পর। আর এখন মোবাইল ফোন সাথে নিয়ে ঘুমায় লোকজন। যখন খুশি তখনই ফোনে কথা বলে। এ যেন বিস্ময়কর এক যাদু। ঘষা দেয়া মাত্রই দৈত্য এসে হাজির হয়। বলে- হুকুম করো মালিক।

ইদানিং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রায় একই ধরনের তিনটি বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে। নাজমা জামান যতবারই দেখেন ততবারই এই বিজ্ঞাপনগুলো তাকে বিস্মিত করে। দারুন এক প্রেমময় সম্পর্কের গল্প বলা হয়েছে বিজ্ঞাপনগুলোতে। জীবনের অনেক কিছুই মিলে যায়। পার্থক্যটা শুধু চরিত্রের ক্ষেত্রে। নাজমা জামানের বউমা বার বার তার স্বামীকে ফোন করে। আর বিজ্ঞাপনে স্বামী বার বার ফোন করে তার স্ত্রীকে। নাজমা জামান মনে মনে ভাবেন- যুগটা এখন কতো আনন্দের। দূরে থেকেও সংসারের মানুষগুলোকে অনেক কাছের মনে হয়। একটা মাত্র ফোন কত আপন করে রেখেছে দূরের মানুষকে। যখন খুশি ইচ্ছে প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলা যায়। আহারে! সেই তারুণ্যে নাজমা জামান যদি টেলিফোনের এই সুযোগটা পেতেন তাহলে কতইনা আনন্দের হতো।

রান্নাঘরে কি একটা কাজে ব্যসৱ ছিলেন নাজমা জামান। বউমা ড্রয়িংরুম থেকে চিৎকার দেয়- মা, ওমা জলদি আসেন… আপনার বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে।

দৌঁড়ে ড্রয়িং রুমে এসে হাজির হন নাজমা জামান। বিজ্ঞাপনে ছেলেটিকে দেখা যাচ্ছে। সে তার স্ত্রীকে ফোন করছে। মেয়েটি অনেক দূরে… ছবি তুলছে। নাজমা জামান বউমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলেন, ওদের সম্পর্কটা যেনো তোমাদের সাথে মিলে যায়। ওদের ক্ষেত্রে ছেলেটি মেয়েটিকে যখন খুশি ফোন করছে। আর তোমাদের গল্পে মেয়েটি অর্থাৎ তুমি বার বার ফোন করছো। সত্যিরে মা গ্রামীণফোনের মোবাইল থাকলে দূরত্ব বাড়বে না ভালোবাসার। দূরের মানুষ আরো কাছের মনে হয়।

আনন্দ সংবাদ। দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানী গ্রামীণ ফোন সবচেয়ে পাওয়ারফুল থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু করেছে গ্রাহকদের জন্য। তারই গল্প নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলোতে এখন প্রচার হচ্ছে সম্পর্কের বন্ধন নিয়ে হৃদয়ছোয়া গল্পের অনিন্দ্য সুন্দর তিনটি গল্প। ভিন্নভাবে দেখলে মনে হবে গল্প তিনটি। কিন্তু একসাথে দেখলে মনে হবে সদ্য বিবাহিত এক দম্পতির বর্তমান জীবনের একটি ধারাবাহিক গল্পকে ৩টি পর্যায় পর্দায় দেখানো হচ্ছে।

Tahsan-Mim-(1)এই বিজ্ঞাপনগুলোতে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন জনপ্রিয় গায়ক, মিউজিশিয়ান ও অভিনেতা তাহসান খান, যিনি সম্প্রতি দুই বছরের জন্য গ্রামীণফোন এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আর তার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। গল্পে তাহসান একজন মিউজিশিয়ান, আর মিম প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। যার যার পেশায় তারা বেশ সফল। তাইতো পেশার তাগিদেই মিম একাই জার্নি শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রত্যনৱ জায়গার উদ্দেশ্যে। কিন্তু থ্রিজি নেটওয়ার্কের বিসৱৃতির কারনে তাহসান যখন ইচ্ছা মিমের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন নির্বিঘ্নে। দূরত্ব তাদের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়াতে পারে না। বহুদূরের জার্নিতেও ভালোবাসা, খুনসুটি, অভিমান, আগলে রাখা সম্পর্কের এই গভীর অনুভূতিগুলো একই আবেগে তাদের জুড়ে রাখে সবসময়। তাহসান আর মিমের দারুণ যুগলবন্দীতে বিজ্ঞাপনগুলো বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রদর্শিত হওয়ার পর থেকেই বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

গ্রামীণফোন এই নেটওয়ার্ক ক্যাম্পেইন নিয়ে প্রায় দুমাস আগে আলোচনা শুরু করে তাদের ক্রিয়েটিভ এজেন্সি গ্রে ঢাকার সাথে। শুরু থেকেই তাদের ইচ্ছে ছিলো খুব সহজ একটা গল্প বলতে হবে। যে গল্পের সাথে মানুষ খুব সহজেই একাত্ম হতে পারবে এবং একই সাথে গ্রামীণফোন এর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যও পেয়ে যাবে। অনেক ভাবনা, আলোচনা, তর্ক শেষে সিদ্ধানৱ নেয়া হয় সদ্য বিবাহিত এক জুটির সাময়িক বিচ্ছেদের গল্প বলা হবে। ডায়লগ, এক্সপ্রেশন আর সম্পর্কের রসায়ন মিশিয়ে বেশ নাটকীয় আবহে তৈরি হলো তিনটি গল্প। কিন্তু কারা হবেন সেই জুটি? অভিনয়, দর্শকপ্রিয়তা, জুটি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা, গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড ইমেজ সব মিলিয়ে তাহসান এবং মিম উঠে এলেন পছন্দে তালিকার শীর্ষে।

শুরু হয়ে গেলো প্রিপারেশন। নির্মাতা হিসেবে দায়িত্ব পড়লো এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ঘাড়ে। তিনি এবং তার প্রডাকশন হাউজ রানআউট ফিল্মস গ্রামীণফোন আর গ্রের সাথে কোমর বেধে নেমে পড়লেন শুটিং এর প্রস্তুতিতে। ক্যামেরার পেছনে ছিলেন দেশের শীর্ষ সারির সিনেমাটোগ্রাফার কামরুল হাসান খসরু। লোকেশন ঠিক করা হলো বান্দরবানের কিছু প্রত্যনৱ জায়গায়, যেখানে মিম যাবেন ফটোগ্রাফির জন্য এবং তাহসানের সাথেও নির্বিঘ্নে যোগাযোগ রাখবেন গ্রামীণফোন এর থ্রিজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। নির্দিষ্ট দিনে দলবেধে পুরো ইউনিট রওনা হলো বান্দরবান। চিম্বুক, সাঙ্গু নদীসহ বেশ কিছু নয়নাভিরাম লোকেশনে টানা দুদিন চললো বিজ্ঞাপনের বেশির ভাগ অংশের শুটিং। চট্টগ্রাম ফিরে একদিনের ব্রেক। তারপর সুবর্ণ এক্সপ্রেস-এ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরতে ফিরতে ট্রেন জার্নির শুটিং। ঢাকায় ফিরে আরো একদিন শুটিং হলো তাহসানকে নিয়ে।

১২ জুন প্রথম বিজ্ঞাপনটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রদর্শিত হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের আনৱরিক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে প্রদর্শিত হচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজ্ঞাপন দুটি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিজ্ঞাপনগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে তিনটি ভিন্ন গল্প হিসেবে মনে হয়। আবার একসাথে দেখলে মনে হয়, যেন একটি আরেকটির সাথে যুক্ত অনেকটা ধারাবাহিক নাটকের মতো। গল্পের সহজাত ধারা, নির্মাণে মুন্সিয়ানা আর পরিবেশনে নতুনত্ব এ সবকিছুই বিজ্ঞাপনগুলোকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। দর্শকরাও তাই অসংখ্য বিজ্ঞাপনের ভীড়ে আলাদা করেই দারুন উপভোগ করছেন গ্রামীণফোন এর এই নেটওয়ার্ক বিজ্ঞাপনগুলো।

একটা অন্যরকম কাজ করেছি

-বিদ্যা সিনহা মিম

ক্যারিয়ারে অনেক ধরনের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। তবে গ্রামীণফোনের এই বিজ্ঞাপনটির মতো রেসপন্স কোনোটিতে পাইনি। খুবই মজার এবং আনন্দের ছিল পুরো জার্নিটা। বিশেষ করে এই বিজ্ঞাপনের লোকেশন, নির্মাণ কৌশল, সংশ্লিষ্ট সকলের আনৱরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়, সাঙ্গু নদীসহ রেলগাড়িতে স্যুটিং করার সময় খুবই আনন্দ পেয়েছি।

এর আগে গ্রামীণ ফোনের আরো একটি বিজ্ঞাপনে যমজ বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। সেটিও ছিল বেশ আনন্দের। এবারের বিজ্ঞাপনে অভিনয় করা ছিল আরও আনন্দের। টিভিতে বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছি। ভক্তরা বেশ পছন্দ করেছে বিজ্ঞাপনগুলো। অনেকেই এখন আমাকে ফটোগ্রাফার বলে ডাকে। তখন বেশ আনন্দ পাই।

ভক্তদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি

-তাহসান

গ্রামীণ ফোনের এবারের বিজ্ঞাপনের আইডিয়াটাই আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। বিজ্ঞাপনে আমার অধিকাংশ  কাজ ছিল ঢাকায়। তবুও আমি টিমের সাথে চিম্বুক পাহাড়, সাঙ্গু নদীসহ বান্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত ছিলাম। সাথে আমার স্ত্রী ও সনৱানও ছিল। বেশ মজা করেছি।

গ্রামীণ ফোনের এবারের বিজ্ঞাপনগুলোতে সদ্য বিবাহিত এক দম্পতির প্রেম ভালোবাসা, একাকিত্ব সব মিলিয়ে হৃদয়ছোয়া কিছু গল্প আছে। ৩টি বিজ্ঞাপন আলাদা করে দেখলে মনে হবে পৃথক গল্প। আবার একসাথে দেখলে মনে হবে ৩টি গল্পই একটি গল্প। নির্মাণও বেশ ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রামীণ ফোনের এবারের বিজ্ঞাপনে কাজ করতে পেরে বেশ ভালোই লেগেছে। টিভিতে অনএয়ারের পর থেকে ভক্তদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।