Home এক্সক্লুসিভ দর্শক শাকিব ও অপুকে অনেক ভালোবেসেছিল!

দর্শক শাকিব ও অপুকে অনেক ভালোবেসেছিল!

SHARE
Shakib-Apu

তানভীর তারেক: ২০১৭ সালে শোবিজ অঙ্গনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চর্চিত হয়েছে, তা হলো শাকিব-অপুর গোপন বিয়ে ফাঁস, সন্তান ও পরবর্তীতে সংসার-বিচ্ছেদ। চলচ্চিত্র সাংবাদিকদেরও এ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

আমার সাথে ব্যক্তিগতভাবে শাকিব খান-অপু বিশ্বাস দুজনার সাথেই সমান শখ্যতা। সেক্ষেত্রে প্রভাবিত খবর প্রকাশের কাজটি আমি কখনও করিনি বা করবো না।

নিউজ টুয়েন্টি ফোর এ অপু বিশ্বাসের সেই ঐতিহাসিক লাইভ প্রচারের পর বিনোদন সাংবাদিকরা স্বাভাবিক কারণেই শাকিব খানের স্টেটমেন্ট খোঁজার জন্যই আকুল হয়েছিলেন। এক্ষেত্রেই দুভাগ হতে থাকে বিনোদন সাংবাদিকদের মতামত। আর এর জন্য পরোক্ষভাবে হলেও দায়ী তারকারাই। কারণ গোটা ২০১৭ জুড়ে কোনো কোনো গণমাধ্যমে অপু বিশ্বাসের পক্ষে  মতামত বেশি ছাপা হয়েছে, কোনো কোনো পত্রিকায় শাকিব খানের। শুনতে মন্দ শোনালেও এটিই সত্য যে শাকিব খান অপু বিশ্বাস সবার সাথে সমান ভাবে গণমাধ্যমে যোগোযোগ রাখেননি। তাদের নিজস্ব মোবাইলে কোনো সাংবাদিক, প্রডিউসার, পরিচালকদের নাম্বার বøক রাখতে দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ অপু বিশ্বাস শোবিজের যাকে যাকে বন্ধু ভেবে মিশেছেন শাকিব খান তাকে যে কোনো মূল্যে বন্ধু ভাবতে পারেননি। অপু বিশ্বাসের বেলাতেও একই ঘটনা। এরফলে একটি টিভি টক শোতে সিনিয়র জার্নালিস্ট শ্যামল দত্ত এক তথাকথিত প্রডিউসারকে বলেই দিয়েছেন ‘আপনি তো শাকিবের  বন্ধু, তাই শাকিবের পক্ষেই সাফাই গাইবেন।’

যেহেতু এই জনপ্রিয় জুটিকে নিয়ে বহুল চর্চা হয়েছে, সে কারণে তাদের বিভাজনটি নিয়েও একটি বড় পক্ষ-বিপক্ষ মত তৈরি হয়েছে।

এক্ষেত্রে একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। অপু বিশ্বাসের লাইভের পরদিন আমরা ক’জন এফডিসিতে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ করেই অচেনা একটি নাম্বার থেকে শাকিব খানের ফোন। কারণ শাকিব মিডিয়ার যন্ত্রনায় তার নিজের সেল ফোন বন্ধ রেখেছে। রাতে গুলশানের এক রেস্তারায় দেখা করতে চায় সে। আমার ঐদিন রাতে একটি এফএম স্টেশনের লাইভ প্রোগ্রাম ছিল। সেদিনের জন্য পূর্বনির্ধারিত গেস্ট ছিল তরুন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ। অপু বিশ্বাসের লাইভ ইস্যুটি সারাদেশে তোলপাড় হয়ে যাওয়ায় তৌসিফ নিজেও খানিকটা হতাশার সুরে বললেন,‘আজ শাকিব-অপু ছাড়া কারো কথা শুনবেনা ভাই। আপনি বরং শাকিবের দাওয়াতটা অ্যাটেন্ড করে আসেন। আমি খানিকক্ষণ স্টুডিওতে ওয়েট করি।’

এফএম লাইভের সময় পিছিয়ে আমি শাকিবের নৈশভোজে অংশ নিলাম।গুলশানের রেস্তোরায় মাঝরাতে এলে শাকিবকে খানিক এলোমেলো লাগলো। রেস্টুরেন্টের সীটে বসে খানিকক্ষণ কাঁদলেন। ক্যামেরার সামনে বেশ কিছু দৃশ্যে দেশের সেরা এই সুপারস্টারকে কাঁদতে দেখলেও এই প্রথম এক অন্যরকম দৃশ্য দেখলাম।

কান্নাকাটির ভেতরেই ওকে জিজ্ঞেস করলাম যে, কেন এতবছর গোপন করতে গেলে? আমার কী দোষ তানভীর ভাই। সবকিছুই ওর প্ল্যানেই তো করেছি। আজ হঠাৎ এভাবে আমাকে ধ্বংস করতে লাইভে বসবে। এটা কি ঠিক?

রেস্টুরেন্টে কথাবার্তার ভেতরেই একাত্তর টিভি থেকে ফোন এসেছে, মিথিলা ফারজানা’র উপস্থাপনায় লাইভ অনুষ্ঠানে কথা বলতে হবে। সেই অনুষ্ঠানে ফোন এ যোগ দিলেন। শাকিব বললেন,‘আপনি একটু বুঝিয়ে দেন, কি বলবো। আমার মাথা ঠিক নাই। আমি বললাম, ঠান্ডা মাথায় তুমি শুধু তোমার প্রকৃত অবস্থানটা ক্লিয়ার করো।’

আমি এবং যুগান্তরের এফ আই দীপু.. সেদিন রাতে শাকিব খানের ইন্টারভিউ নিলাম। প্রায় সারারাত ধরে শাকিব আমাদের রাখতে চায়। অনুরোধ করে বললো, ‘আজ আমাকে ছেড়ে যাবেন না প্লিজ। আমি আমার রেডিও লাইভের কথা বলে বিদায় নিলাম ভোর রাতে।

পরদিন পত্রিকায় সেই ইন্টারভিউ ছাপা হলো। আমরা প্রমানসহ জানি যে, শাকিব আর কোনো প্রেসমিট বা সাংবাদিকদের সাথে দেখা-কথা বলেনি। কিন্তু পরদিন আমাদের বাইরেও অন্য সবকটি দৈনিকে শাকিব খানের কথা ছাপা হলো। আমি বিষ্ময় গুনলাম। আমার লেখা ইন্টারভিউ এর সাথে সেই সব বানোয়াট কথা গুলোর কোনো মিল নেই!

এরপর থেকে অপু বিশ্বাস এবং শাকিব খানের বিষয়টিই চলে এসেছে পুরো পুরি আধা বাস্তব আধা বানোয়াট। সকালে শাকিব বললেন, ‘তানভীর ভাই আমার পুরনো নাম্বার বন্ধ। আপনাদের দুজনার বাইরে আমি কারো সাথে কথা বলিনি। অথচ এতগুলো স্টেটমেন্ট কিভাবে এলো বলুন তো!’

অপু বিশ্বাস বললেন,‘আপনি আর দীপুই তাহলে শাকিবের প্রধান উপদেষ্টা!

অপুর এই কথায় অবাক হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকলো না। ঠিক এর এক সপ্তাহ পরেই দৈনিক প্রথম আলোকে দেয়া এক্সক্লুসিভ ফটোশুটে সোনারগাঁ এ এলেন তারা। দুজনার হাসিমুখ। মূলত সেদিন থেকে অপু বিশ্বাস একজন নারী হিসেবে হয়তো বুঝেছিলেন যে স্বামী শাকিব তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়েছে।

কিন্তু মূলত অপুর টিভি লাইভের পর থেকেই শাকিব খান অপু থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পণ করেছিলেন। কারণ দুজনার তখন এক ইগো দ্ব›েদ্বর খেলা শুরু হয়ে গিয়েছিল।

এরসাথে যোগ হয়েছিল গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিমূলক খবর।

একইসাথে তাদের সংসার ও বিচ্ছেদের কারণ খোঁজাটা সংবাদকর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কিনা সেটি একটি বড় প্রশ্ন। কিন্তু সবাই এর সমাধান খুঁজতে শুরু করলেন। এটি যে তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়, সেটি ভুলে গিয়ে বাজারের হটকেক হিসেবে টিভি স্টেশনের পলিটিক্যাল টকশোর ¯øটেও আলোচ্য বিষয় হয়ে গেল শাকিব অপু ইস্যুটি। এমনকি ২০১৭ তে গুগল সার্চের বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সার্চ করা বিষয় হলো শাকিব-অপু। এছাড়া এই শাকিব অপু ইস্যুর ডামাডোলে পড়ে অভিনেতা বাপ্পীও আলোচনায় আসে। অপু বিশ্বাসের কথিত প্রেমিক চরিত্রে!

তবে এই সাংসারিক খুটি নাটি গল্প প্রকাশের মাধ্যমে আমরা মূলত শাকিব অপু বিশ্বাসের নয়, গোটা ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির প্রতি একটি এক ধরণের নতুন বিভাজন তৈরি হয়েছে।

শাকিব-অপু বিশ্বাসের সংসারের এই জটিলতায় কে দায়ী সেই প্রশ্নও করেছে অনেকে। অনেকে তুলনা করতে চেয়েছেন যে কে বেশি দোষী? শাকিব খান না অপু বিশ্বাস?

এদিকে ক্যারিয়ারের দিক দিয়ে বা চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে যে বিয়ে বা সন্তানের খবরে নায়িকাদের ক্যারিয়ারে প্রভাব পড়ে সেটিও প্রমানিত হলো। কারণ এত কিছু খবর-বেখবরের পরও শাকিব খান দাপিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে ঢালিউডে একক দাপটের জায়গায় তেমন কেউ দখলে আনতে পারেনি। ‘নবাব’ ছবির সুপারহিট সাফল্য, শিকারী ছবিটির অ্যাভারেজ ব্যবসার কারনে এবছরও শাকিব খানের দখলে। ঢাকা অ্যাটাকের সাফল্য আরেফীন শুভ’কে শাকিবের পরপর ভাবা হলেও পরবর্তী ছবির চাহিদা বা ডিরেক্টর প্রডিউসার ডিমান্ড অনুযায়ী আরেফিন শুভ’র সেই চাহিদা বাড়েনি। সেদিক বিচার করলে এবছরও শাকিব-অপু বিশ্বাস ছিল আলোচনায়। তবে সিনোর বাইরে। তেমনি বছরের শেষ দিকে ডিভোর্স লেটার পাঠানোর পর এই যাত্রায় শাকিব খানের ইমেজ কোথায় ঠেকবে তা বলা মুশকিল। কারণ বিভিন্ন অনুসন্ধান ও তত্ত¡ তালাশে এটিও প্রমানের অপেক্ষায় এখন যে, আদৌ কি তাদের বিয়ে হয়েছিল? কারণ তাদের বিয়ের কাবিননামার তথ্যে দুজনারই কিছু কিছু ভুল বের হচ্ছে।

সে যাই হোক-সংসারটাতো তাদের দুজনারই করতে হবে। বিচ্ছেদ হলেও তাই। তবে কৌতুহলের চুড়ান্ত অবস্থানই প্রমান করে দর্শকেরা শাকিব-অপুকে কি পরিমান ভালোবেসে ফেলেছিল!

লেখক : উপস্থাপক, সঙ্গীত পরিচালক ও সংবাদকর্মী