তৌকীরের নতুন ছবি হালদা

তৌকীরের নতুন ছবি হালদা

1053
SHARE

সৈয়দ ইকবাল: তৌকীর আহমেদ পরিচালিত চতুর্থ ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’র আমেজ কাটতে না কাটতেই পরিচালক তার পঞ্চম ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। অভিনেতা হিসেবে তৌকীর আহমেদের যেমনি রয়েছে জনপ্রিয়তা, তেমনি চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও রয়েছে তার দক্ষতা। তার প্রমাণ অবশ্য তিনি সর্বশেষ ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’য় দিয়েছেন। বিশ্বের নামিদামি সব ফেস্টিভ্যাল থেকে ছবিটি পুরস্কার ছিনিয়ে আনছে। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘অজ্ঞাতনামা’ কান চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়। কয়েক মাস আগে দেশে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকদের নজরও কাড়ে বেশ। আর তাই তো সম্প্রতি নগরীর একটি ক্লাবে তৌকীর আহমেদ তার পরিচালিত পঞ্চম ছবি ‘হালদা’র ঘোষণা দেন। এই ছবিতে তৌকীর আহমেদ জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম ও তিশাকে এক ফ্রেমে বাঁধতে যাচ্ছেন। সঙ্গে আরো থাকবেন ফজলুর রহমান বাবু, শাহেদ আলী সুজন ও রুনা খানসহ অনেকে। ‘অজ্ঞাতনামা’য় ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁর ভক্তরা। ‘হালদা’য় তার চরিত্রের নাম মনু মিয়া। তিনি হাসুর বাবা। লোকটা জেলে। অন্যদিকে বড়পর্দায় পাঁচ বছর আগে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘প্রজাপতি’ ছবিতে তারা প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেন। জাহিদ ও মোশাররফকে আবার রূপালি পর্দায় একফ্রেমে নিয়ে এসেছেন তৌকীর আহমেদ। তার পরিচালিত ‘হালদা’ ছবিতে দেখা যাবে এই দুই তারকাকে। সঙ্গে আছেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। টিভি অঙ্গনের তুমুল জনপ্রিয় এই তিন তারকাকে এবারই প্রথম কোনো ছবিতে পাওয়া যাবে। ছবিটিতে জাহিদের চরিত্রটির নাম নাদের। লোকটা বনেদি। তার বড় ব্যবসা আছে। তিনি বললেন, ‘নাদের চরিত্রটি একটু জটিল। এক ধরনের জটিলতা আছে তার মধ্যে। মানুষ সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে, এখানে সেভাবে পাওয়া যাবে না। সম্ভবত দর্শকের রাগ হবে আমার প্রতি! তৌকীরের পরিচালনায় এবারই প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ করতে যাচ্ছেন জাহিদ। তিনি বললেন, ‘তৌকীর ভাই আমাদের নিজের মানুষ। আমরা নাট্যকেন্দ্রে একসঙ্গে নাট্যচর্চা করেছি। তিনি আমাকে ডেকেছেন। আমারও ইচ্ছা হয়েছে কাজটা করার। এ ছবি সম্পর্কে গবেষণা হয়েছে, গল্পটা ভালো। সব মিলিয়ে ভালো কিছুর সঙ্গে থাকলে ভালো বিষয় তৈরি হবে বলে আমি মনে করি।’

মোশাররফকে দেখা যাবে বদিউজ্জামান চরিত্রে। তিনি জেলে সম্প্রদায়ের লোক। তিনি বললেন, ‘তৌকীর ভাইয়ের আগের চার ছবিতেই ছিলাম। এর মধ্যে ‘অজ্ঞাতনামা’য় প্রচুর পরিশ্রম করেছি। এর পান্ডুলিপি হাতে পেয়েই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। মনে হচ্ছিল এটা দারুণ কাজ হবে। ‘হালদা’ও অসাধারণ হবে আশা করি। কাজটা ভালো হলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আরেকটা ভালো কাজ যুক্ত হবে।’

তিশার চরিত্রের নাম হাসু। খুব সাহসী একটি মেয়ে। অনেক প্রতিকূলতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলে সে। তিনি বললেন, ‘নতুন নতুন চরিত্রে অভিনয় করা বা কাজকে গ্রহণ করা ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া আমাদের কাজ। কারণ দর্শকরা আমাদেরকে চ্যালেঞ্জিং কাজে দেখতে পছন্দ করে। এজন্য আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে সাহস পাই। পান্ডুলিপি থেকে র যে লোকেশনে আমরা কাজ করবো, যার পরিচালনায় কাজ করবো, মানুষের প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি থাকবে, সুতরাং এটাও চ্যালেঞ্জই হয়ে গেল।’

গল্পে নাদেরের প্রথম স্ত্রী জুঁইয়ের ভূমিকায় আছেন রুনা খান। গ্রামের খুব সহজ-সরল একজন নারী সে। খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয় তার। জুঁই পরিবারে স্বামীর মাধ্যমে নির্যাতিত হয়। আবার একটা পরিস্থিতিতে গিয়ে সেও নির্যাতনের শিকার করে অন্যকে। তৌকীরের পরিচালনায় তিনিও প্রথমবার কাজ করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘আজকের প্রধান অতিথি হালদা। তাকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজন। ১৯৫৮ সাল থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে হালদাকে চিনি। নদীটার ওপর যখন সেতু হলো- সেটার নির্মাণ দেখেছি। ওই সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে এসেছি। সুযোগ পেলে ছবিটা দেখার চেষ্টা করবো। হালদার মধ্য দিয়ে নদীটাকে রক্ষা করার একটা বার্তা দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছি। পরিবেশ ও নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে ছবিটি ভূমিকা রাখবে, এ কামনা করি। কেননা নদী ও পরিবেশকে বিষাক্ত বর্জ্যমুক্ত রাখতে এবং রাজনীতি ও সমাজকে জঙ্গিমুক্ত রাখতে চলচ্চিত্রের ভূমিকা রাখার জায়গা আছে। চলচ্চিত্র যে ভূমিকা রাখবে তা চলমান রাজনীতিকে আরও গভীর, গতিশীল ও সুন্দর করবে। হৃদয়ের ময়লা দূর করতে হলে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক চর্চা বেগবান করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অভিনেতা-নির্মাতা আবুল হায়াত, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, নির্মাতা সামিয়া জামান, চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক নাসিরউদ্দিন দিলু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির যুগ্ম-আহ্বায়ক খোরশেদ আলম খসরু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুুরুল কিবরিয়া, প্রযোজক সমিতির পক্ষে আরও বক্তব্য রাখেন শামসুল আলম। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ। বক্তব্য প্রদান শেষে ছবিটির একটি গান গেয়ে শোনান সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ। এর কথা-সুরও তার। গানটির কথা এমন- ‘দেখি কত ডুবে হায়/স্বপ্ন সাগরে ভাসাই/পোড়া বাঁশির মতো  প্রেম আমারে জ্বালায়/প্রেমের আগুন কি সবারে পোড়ায়।’ পিন্টুর সঙ্গে অনুষ্ঠানে বাজিয়েছেন সংগীতশিল্পী রোকন ইমন। ‘হালদা’ প্রযোজনা করছে আমরা ক’জন। ছবিটির গল্প লিখেছেন আজাদ বুলবুল। চিত্রনাট্য লিখেছেন তৌকীর নিজেই। উল্লেখ্য, ‘হালদা’ পরিচালক হিসেবে তৌকীর আহমেদের পঞ্চম চলচ্চিত্র। এর আগে ‘জয়যাত্রা’, ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘অজ্ঞাতনামা’ নামে চারটি ছবি পরিচালনা করেন তিনি। সবগুলোই ইমপ্রেস-এর ছবি।